Smiley face

উড়ে মুসাফির

13002604_1000808676706232_3076650264626000768_o

২২ এপ্রিল, ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছে আশিকুর রহমান পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্র “মুসাফির”। ছবির দুই গুপ্তঘাতকের ট্রাভেল জার্নাল লিখেছেন স্নিগ্ধ রহমান

 

ট্রেইলার অনেক সময়ই আমাদের ধোঁকা দেয়। দর্শক হিসেবে নিয়মিতই এ যন্ত্রণার (নাকি প্রতারণা বলবো) শিকার হতে হয়। তা সে ফিল্মটা যে দেশেরই হোক না কেন। তবে, বাংলাদেশি ছবির ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটা আশংকাজনকভাবে বেশি। আশিকুর রহমানের পূর্ববর্তী ছবির অভিজ্ঞতা বেশ পীড়াদায়ক ছিল। তাই  মুসাফিরের নজড়কাড়া ট্রেইলার দেখেও, প্রত্যাশার পারদটা জোর করেই নামিয়ে রাখতে হয়েছিল।কিন্তু শেষমেশ আশিকুর রহমানের মুসাফির সকল সংশয় ও দ্বিধা ভাসিয়ে দিয়েছে, উপহার দিয়েছে এক উড়ন্ত সূচনা।
বিনা অপরাধে দশ বছরের সাজা খাটছে সানি (শুভ)। এই দশ বছর সে বসে থাকেনি। নিজেকে তৈরি করেছে, যাতে জেল থেকে বের হয়েই প্রতিশোধ নিতে পারে। মুক্তি পাবার পর সানি একসময় কন্ট্র্যাক্ট কিলারের জীবন বেছে নেয়। কিন্তু একদিন ধরা পড়ে যায় সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তা আসাদের (মিশা সওদাগর) হাতে। এক শর্তে মুক্তি পাবে সানি। কিডন্যাপ করতে হবে কসমেটিক সার্জন স্ল্যাশ এজেন্ট যারাকে (মারজান জেনিফা)। কথামতো যারাকে কিডন্যাপও করলো সানি। কিন্তু বিপত্তি বাঁধল যখন যারাকে মারতে বিশাল কিলার গ্রুপ নিয়ে হাজির হলো তাবরেজ (টাইগার রবি)। সন্দেহ হল সানির, কেন যারাকে খুঁজছে বিপরীত মেরুতে থাকা দুটো গ্রুপ? টাইগার আর সিংহ (আসাদ শব্দের অর্থ) হাত থেকে বাঁচতে মারজানকে নিয়ে পালালো শুভ, শুরু হলো তাদের যাযাবর জীবন।
এই হলো মুসাফিরের প্রাথমিক অংশের গল্প। এটা স্রেফ প্রথম আধা ঘণ্টার বিবরণী।1174110599284a6649ee7d8ceee8424e-087A0306 পুরো ছবিটাই ঘটনাবহুল, বাঁকে পরিপূর্ণ। মুসাফিরের প্রযোজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশনোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক জোবায়ের আলম। কাহিনী, সংলাপ, চিত্রগ্রহণ, পরিচালনা সবকিছুর ভার একাধারে সামলেছেন আশিকুর রহমান নিজেই। হয়তো এতো দায়িত্বের প্রভাব তার কাজের ওপরও কিছুটা পড়েছে। ছবির গল্পটা মৌলিক আর বেশ ভালো। সিক্রেট সার্ভিস, অ্যাসাসিন, এসপিওনাজ এইসবের রূপদান যেহেতু দেশি সিনেমার পর্দায় খুব একটা আসেনা, তাই প্রথমে কিছুটা অসোয়াস্তি লাগে। সময়ের সাথে সাথে সেটা দূরও হয়ে যায়। স্ক্রীপ্ট অনেক ফাস্ট পেসড। গল্প একই জায়গায় বেশিক্ষণ আটকে থাকেনি, মুসাফিরের মতোই স্থান বদল করেছে। যেহেতু গল্পে টুইস্ট রাখা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই প্লটহোলের সম্ভাবনা থেকেই যায়। সেদিক থেকে আশিকুর রহমান চেষ্টা করেছেন যতটা সম্ভব ছিদ্রগুলো সংস্কার করতে। সেই সাথে সংলাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নেওয়া ছোট ছোট প্রশ্নগুলোর উত্তরও জুড়ে দিয়েছেন (যেমন : শুভ কেন তার নতুন কেনা মোবাইল ছুঁড়ে ফেলে বা দেবাশীষ কেন তার অসুস্থ মাকে নিয়ে বিরান এক এলাকায় থাকেন)।
ছবির প্রথমাংশে একটি মাত্র গান, অথচ দ্বিতীয়াংশে ছিল তিনটি গান। যদিও গল্পের প্রয়োজনেই গান এসেছে, কিন্তু ইন্ট্যারভালের পর দর্শক আরো জমাট গল্প আশা করে। সেখানে হঠাৎ করে একটা গানের আবির্ভাব কাজ করে ডিস্ট্র্যাকশন হিসেবে। একটি গান আবার ছিল মারজান তার কাছের একজনের মৃত্যু সংবাদ জানার চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে। গল্পে আমরা ভয়ানক তিন ভাড়াটে খুনিকে দেখি। এই চরিত্র তিনটির ব্যাকস্টোরি ছিলো চমকপ্রদ। একজন কসাই, একজন নার্স আর আরেকজন এতটাই ভয়ানক যে পুলিশের কাছে তার ছবিটা পর্যন্ত নেই। আশিক এত চমৎকার তিনটি চরিত্র তৈরি করলেন, অথচ তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দিলেন না। জাদু আজাদের অংশটা ঠিক ছিল, ট্রেনের বগির মাঝে ফাইটিং (শুধু ভিএফএক্সটা মেরে দিয়েছে)। সিন্ডি রোলিং-এর অংশটা তো শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে গেল। শিমুল খানের ইন্ট্রোডাকশনটা ছিল চমৎকার। দেবাশীষের বাসায় তার সিকোয়েন্সটার অভিনয়, ক্যামেরাওয়ার্ক, এক্সিকিউশন সব ছিলো অসাধারণ! কষ্ট লাগলো যখন দেখলাম, এত রুথলেস একটা কিলারকে যেন খুব সহজেই হার মানিয়ে দেওয়া হলো। ছবিতে মারজানের ক্যারেক্টারটা ছিল এক এজেন্টের। তার ফিজিকের কথা তো বাদই দিলাম, গল্পের প্রয়োজনে বা তার পোর্ট্রেয়ালের কোন অংশ দেখে, তাকে অ্যাসাসিন বলে মনে হয়নি (হ্যান্ডকাফের দৃশ্যটা বাদে)। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে তাকে ট্রেইন্ড অ্যাসাসিনের চেয়ে ড্যামজেল ইন ডিসট্রেস বেশি লেগেছে। অন্তত: সিন্ডি রোলিং-এর সাথে তার একটা ক্যাটফাইট রাখাই যেত। আর পুরো ছবিতেই এত বাহারি অ্যাকশনের পর, শেষের অ্যাকশন কিছুটা মেলো, অলমোস্ট অ্যান্টি-ক্লাইম্যাটিক লাগলো।
পরিচালনার কথা বলি। মুসাফিরের কাজ বেশ গোছানো ছিল। তৃতীয় ছবিতে এসে অনেক, অনেক ইমপ্রুভ করেছেন আশিক। খুব দ্রুত শিখছেন তিনি, pothআগামীতে তার নির্মাণে একটু স্থিরতা আশা করছি। যেমন : টাইগারের বাসার দৃশ্যগুলো অনেক দ্রুত ছিল। বুঝতেই পারছিলাম না কি হচ্ছে। ছবিতে ছোটখাটো অনেক ভুল থাকলেও, খুব বড় মাপের বেশি ত্রুটি নেই। অনেকে বলছিলেন, সীমান্ত থেকে শুভ এত দ্রুত কিভাবে মারজানকে যেখানে বন্দী রাখা হয়েছে, সেখানে চলে আসলেন? একটু চিন্তা করলেই এর ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব। শুভর আর মারজানের হাতের ক্ষতের স্থান পরিবর্তন, পরিবর্ধন অথবা গায়েব হয়ে যাওয়াটাও প্রশ্নের জন্ম দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কন্টিনিউয়িটি এররকে, তেমন কোন ত্রুটি হিসেবে আমল না দিলেও চলে। তবে দুটো বিষয় বেশ খুঁচিয়েছে। যেহেতু মুসাফিরে রোড মুভির ফ্লেভার আনা হয়েছে, সেহেতু জিওগ্রাফিক্যাল এররগুলো এড়িয়ে গেলে ভালো হতো। বলা হচ্ছে চরিত্রটি যাবে একদিকে, অথচ দিন শেষে যাচ্ছে অন্য দিকে আর যানবাহন ব্যবহার করছে, পথ দেখানো হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন রুটের। আর দ্বিতীয় বিষয় হল মারজান জেনিফার অভিনয়। হুঁ, জানি তিনি নবাগতা। কিন্তু অন্তত: দুটো ইমোশনাল দৃশ্যে তার অভিনয় দেখে দর্শক কষ্ট পাওয়ার বদলে হাসি শুরু করেছে। গানগুলোতো তার কাজ দেখে মনে হলো, তার নড়তেও কষ্ট হচ্ছে। এজন্য তাকে ড্যান্স মুভসের বদলে জামা ধরে নড়াচড়া করতেই বেশি দেখলাম। তাকে আরেকটু ট্রেইন আপ করলে ভালো হতো।
মুসাফিরের অ্যাকশন এক কথায় টপ ক্লাস। নতুন নতুন সব অ্যাকশন, লোকেশনে ভিন্নতা মুসাফিরকে নিয়ে গেছে এক অন্য উচ্চতায়। দেশি মুভিতে তো দূরের কথা, (Banlieue 13, Casino Royale, বর্ন ট্রিলজির মতো দুয়েকটা ব্যতিক্রম ছাড়া) পশ্চিমা ছবিতেও parkour-এর খুব একটা দেখা মিলে না। মুসাফিরে এই চেজ সিকোয়েন্সটা দারুণ ছিল! বিশেষ করে পুরান ঢাকার অলি-গলিকে চেজ সিকোয়েন্সের লোকেশন হিসেবে ব্যবহার করার আইডিয়াটার জন্য একটা হাততালি। আরো ছিল নাইফ ফাইটিং, স্নাইপার, হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট!
কয়েকটা বিষয় যোগ করছি, যেগুলো মেজর কোন সমস্যা না; কিন্তু এদের এড়ালে ছবিটা আরো নিখুঁত হতো। কমেডি সিকোয়েন্সে গ্যাগ সাউন্ড না থাকলেই ভালো। 1431793670_7c8b91b336f36b5fa8562e25e6f14a68-0581780_0কিছু সংলাপ যেমন অনেক সুন্দর ছিল, আবার কিছু সংলাপ একটু বেশিই ফিল্মি লেগেছে। যেহেতু, তিনি এখনো শিখছেন, আশা করি আগামীতে সংলাপ আর চিত্রনাট্য রচনায় কোন সহযোগীর সহায়তা নিবেন। আশিকুর রহমানের ক্যামেরার কাজ দেশের প্রতিষ্ঠিত অনেক চিত্রগ্রাহকের চেয়ে ভালো। কিন্তু তার ক্যামেরা এত অস্থির কেন! একই কথা এডিটিঙের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেহেতু অ্যাকশনই তার ছবির প্রাণ, অ্যাকশন সিকোয়েন্সে শেকি ক্যাম কিংবা হ্যান্ডহেল্ড ক্যাম ব্যবহার না করলেই চলতো। এত ওয়েল কোরিওগ্রাফড অ্যাকশন সিকোয়েন্সে ক্যারেক্টারের মাথা কিছুটা কাটা পড়লে অথবা শট ইনকমপ্লিট থাকলে মজাটা পূর্ণ হয় না।
আমাদের দেশে সিনেমায় ভিএফএক্সের জন্য যথেষ্ট বাজেট থাকে না। যতদিন না পর্যন্ত মানসম্পন্ন ইফেক্টস দেখানো যাচ্ছে, তার আগ পর্যন্ত এসব অ্যাটেম্পট না করা ভালো (যেমন : জাদু আজাদের সাথে ট্রেনের দৃশ্যটা। ট্রেনের উপর অ্যাকশন সিকোয়েন্স খুব চমৎকার একটা কনসেপ্ট। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সিকোয়েন্সটা কার্টুনিশ হয়ে গিয়েছে)। মাজল ফ্ল্যাশ, এক্সপ্লোশন বা রক্তপাতের ক্ষেত্রে ভিএফএক্স এর সীমিত ব্যবহার দেখলাম। দেশের দর্শকরা কিন্তু একটু গোরি (gory) অ্যাকশন সিকোয়েন্সই পছন্দ করে।
মুসাফিরের প্রাণ ছিলেন শুভ। “ছুঁয়ে দিলে মন” দেখার পর আমি কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম। কারণ ভালোবাসা জিন্দাবাদ থেকে ছুঁয়ে দিলে মন পর্যন্ত শুভর কাজে খুব বেশি ইমপ্রুভমেন্ট পাইনি। যদিও মুসাফিরের ট্যাগলাইন “টেল অফ টু অ্যাসাসিনস”, আসলে শুভ একাই ছবি টেনে নিয়েছেন। অভিনয়, কমিক টাইমিং, সাবলীল নাচ, অ্যাকশন, সর্বোপরি একটা ড্যাম কেয়ার অ্যাটিচুড দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শুভ। আর চরিত্রের জন্য যে তিনি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেল শুভর কাজে, প্রতিটা সিকোয়েন্সে।
মিশার অভিনয় ভালো ছিল। টাইগারের অভিনয়ে কোন উন্নতি নাই, করলে ভালো লাগতো। কারণ দেশীয় ছবিতে ম্যাসকুলার ভিলেন প্রায় নেই বললেই চলে। ছবির কিছু জায়গায় মিশা সওদাগরের, টাইগার রবির অভিনয় আর সংলাপ প্রক্ষেপণ ওভার দ্য টপ লেগেছে। টাইগারের ভাইয়ের চরিত্রে যিনি ছিলেন (তার নামটা মনে হয় সোহেল মন্ডল), তার কাজ ইন্টারেস্টিং ছিল। সিক্যুয়েলে হয়তো তাকে আরো স্ট্রং কোন চরিত্রে দেখা যাবে। আফজাল হোসেনকে তার প্রথাগত চরিত্রের বাইরে দেখে ভালো লাগলো। ইলিয়াস কোবরার চরিত্রটা হঠাৎ এসে আবার হাওয়া হয়ে গেল। প্রসূন কি এই ছবির সারপ্রাইজ কাস্ট মেম্বার ছিলেন? মুসাফিরে তিনি আছেন, জানতাম না। যাই হোক, ছবির শুরুতে কল্পনার মারিয়া হিসেবে দারুণ অভিনয় করেছেন। বান্টি চরিত্রে হারুন রশিদকে সিন স্টিলার বলা চলে। উনি যতবার স্ক্রীনে এসেছেন, দর্শকদের তুমুল হর্ষ ধ্বনি শোনা গেল। এটাই প্রমাণ করে তার ছোট্ট ছোট্ট উপস্থিতি সবাই কতটা উপভোগ করেছে ।
ছবির গানগুলো ভালো, বেশ ভালো। পথ জানা নেই, আলতো ছোঁয়া গানদুটো বেশি ভালো লেগেছে। সবসময় রোম্যান্টিক গান করতে থাকা তাহসানকে, Capture2এমন রক গানে (পথ জানা নেই) পেয়ে ভালো লাগলো। রং গানটার কোরিওগ্রাফি আর কালার কারেকশন ভালো ছিল। আবার ইমরানের গানটার কালারের কাজ বেশ খারাপ ছিল। এখানে একটা কথা বলে রাখি, ইমরান দেখি আজকাল আরিজিৎ সিং-এর ভালো “ভক্ত” হয়ে উঠেছেন। টাইটেল ট্র্যাকের rap পার্টটুকু ছিল সুপার্ব । অ্যাকশন সিকোয়েন্সে এই rap শুভ’র লিটমোটিফ (leitmotif) হিসেবে রাখলে দারুণ লাগতো। Rap গানে Materialism বেশ ভালোভাবে প্রকাশ পায়। টাইটেল  ট্র্যাকেও আমরা তেমনি আরব্যানিটি, ম্যাটেরিয়ালিস্টিক অহম আর গরিমা পেয়েছি (যেন আমিই শ্রেষ্ঠ, শুধু আমিই সঠিক)। কোন গানেই খুব জমকালো লোকেশন ব্যবহার করা হয়নি। হয়তো বাজেট স্বল্পতা ছিল। যদিও এই স্বল্পতাকে বেশ স্মার্টলি হ্যান্ডেল করেছেন পরিচালক।
বাংলাদেশের ছবি আসলে এখন এক সন্ধিস্থলে আছে। ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা বাজেটের ছবি এখন আমাদের থেকে স্রেফ এক ক্লিক দূরে থাকে। তাই ঐ ১০০০ কোটি টাকার উপকরণ যখন ঠেসে-ঠুসে ১ কোটি টাকার প্রোডাকশনে ভরা হয়; তখন সেটা আমাদের ততটা টানে না, হাসিও লাগে। বলিউডও হরর ছবি বানাতে গিয়ে এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের ১০-৩০ কোটি রূপী দিয়ে কম্পিট করতে হয় ৮০ কোটি টাকার হলিউডি হররগুলোর সাথে। যার ফলে ঐসব মুভিকে হরর নয় কমেডি মুভির মতো লাগে।
এক হাতে পদার্থ বিজ্ঞানের আরেক হাতে যুক্তিবিদ্যার বই নিয়ে অ্যাকশন মুভি দেখার চিন্তাটা হাস্যকর। সর্বকালের সেরা অ্যাকশন মুভি Die Hard, Léon: The Professional, বন্ড সিরিজ, মিশন ইম্পসিবল সিরিজ কিন্তু কম-বেশি অবাস্তব। সর্বকালের সেরা (অথবা অন্যতম সেরা) অ্যাকশন মুভি ডিরেক্টর হিসেবে যার নাম প্রথমবারেই আসে তিনি হলেন John Woo। টারান্টিনোর ভাষায় জন উ হলেন অ্যাকশন মুভির মাইকেলেঞ্জেলো। তার অলটাইম ক্ল্যাসিক হিসেবে বিবেচিত তিনটি ছবিতে (Hard Boiled, The Killer, A Better Tomorrow) হাস্যকর সব ভুল আছে। কিন্তু ছবিগুলোকে অ্যাকশন মুভির বেদ হিসেবে ধরা হয় এর স্টাইলিশ মেকিঙের জন্য। বাংলাদেশে স্বল্প বাজেটে (পর পর দুটো ক্র্যাপ বানানোর পর) আশিকুর রহমানের মানসম্মত আউটপুট দেখে মুগ্ধ হতে হয়।
মুসাফির কি ফ্ললেস কোন প্রোডাকশন? না। কিন্তু এটা ট্রেইলারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক ভালো মুভি। আজ যদি আশিকুর রহমানের ছবিতে ১০১টা ভুল থাকে, দর্শকরা ধরিয়ে দিলে কাল সেটা ৮১তে এসে নামবে। কিন্তু কেউ না দেখলে তারা হারিয়ে যাবেন। এরা সিনেমায় এসেছেন ভালোবাসা থেকে, প্যাশন থেকে; নিত্য-নতুন পট বয়লার বানানোর উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। আশিকুর রহমান, বাংলা ছবিতে আপনার পদচারণ হোক মুসাফির নয়; স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে।

 

About

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com