Smiley face

Baaghi-ভালো লাগে তাই, বিদ্রোহী হতে চাই

12805971_972920459463130_107491795564548403_n

গত ২৯শে এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে সাব্বির খান পরিচালিত Baaghi। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন স্নিগ্ধ রহমান।

এক বর্ষার দুপুরে শ্রদ্ধা কাপুরকে বৃষ্টি ভিজতে দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় ভিলেন সুধীর (অবশ্য পাশে দাঁড়িয়ে টাইগার শ্রফও ভিজছিলো)। সুধীর থাইল্যান্ডের বিরাট ব্যবসায়ী প্লাস মাফিয়া ডন প্লাস মার্শাল আর্ট ফাইটার। শ্রদ্ধাকে সে কিডন্যাপ করে নিয়ে যায় থাইল্যান্ড। এখন টাইগারই একমাত্র ব্যক্তি, যে কিনা শ্রদ্ধাকে সুধীরের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারবে।
সাব্বির খানের প্রথম মুভি (Kambakkht Ishq) আমার জন্য খুবই পেইনফুল একটা এক্সপেরিয়েন্স ছিল। আল্লু আর্জুনের Parugu আর দেবের সেদিন দেখা হয়েছিলো, দুটো সিনেমাই দেখার পরেও Heropanti আমার চোখে অনেক ফ্রেশ আর পলিশড প্রোডাক্ট মনে হয়েছে। সে তুলনায় বাগী খুবই অ্যাভারেজ।
মুভির প্রি-প্রোডাকশনের সময় বলা হয়েছিল, এটা সালমানের বাগী সিনেমার রিমেক নয়; মৌলিক গল্পের ছবি। প্রথম কথাটি সত্যি হলেও, দ্বিতীয়টি সত্যি নয়। এটা মোটেও মৌলিক কোন গল্পের মুভি নয়। এটা আসলে এতগুলো জায়গা থেকে কপি করেছে যে, অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিনপ্লের জন্য পুরস্কার পাওয়া উচিৎ। মুভির 22-Baaghi-new-posterমূল গল্প (টাইগার-শ্রদ্ধার রোম্যান্স, বাবার ক্যারেক্টার, ভিলেনের ডিসিশনস, বৃষ্টির থিম) প্রভাষের প্রায় এক যুগ আগের একটা তেলেগু মুভি Varsham থেকে কপি করা। হু, কপিই বলছি। কারণ অনেক খুঁজেও এটা যে অফিসিয়াল রিমেক, এমন কোন তথ্য পেলাম না। টাইগারের মার্শাল আর্ট স্কুলে নৌকায় করে যাওয়া, আয়না ঘরের দৃশ্য অনেক করে মনে করিয়ে দিচ্ছিলো হংকং-এর ছবি Enter the Dragonকে আর হাড্ডি ভাঙার এক্স-রে ভিউ গাই রিচির Sherlock Holmesকে। ক্লাইম্যাক্সে বিল্ডিঙের প্রত্যেক ফ্লোরে অ্যাকশন সিকোয়েন্স রাখার আইডিয়াটা মনে হয় ইন্দোনেশিয়ান মুভি The Raid : Redemption থেকে নেওয়া। টাইগারের ট্রেনিঙের ব্যাপারটা তো পুরাই The Karate Kid মুভির ইন্সপাইরেশনে করা। তবে সবচে মজা পেলাম, মুভির ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে। এটা করা হয়েছে অ্যামেরিকান মুভি কুংফু পান্ডা (বা নায়লা নাইমের ভাষায় “পেন্ডা”) থেকে। মাস্টার শিফুর জায়গায় স্কুলের গুরুস্বোয়ামি, পো-এর জায়গায় টাইগার আর টাই লাং এর জায়গায় ভিলেন সুধীরকে বসিয়ে দিন। ব্যাস, পেয়ে গেলেন Baaghi।
মুভির ডায়ালগগুলো অসম্ভব আলসেমি করে লেখা। “ঘোড়া আর গাধার মাঝে তফাৎ আছে, চায়নিজ মাল বেশিদিন টিকে না, আমি তো কেবল শুরু করলাম” টাইপ পুরনো সব ওয়ান লাইনার দিয়ে পরিপূর্ণ। এক সময় তো শুনলাম, ২০০০ সালের অল্ম্পিক গোল্ড মেডেল জেতার পর মরিস গ্রীনের উইনিং স্পিচটাও জুড়ে দিয়েছেন।
ছবির কোন গানই ভালো লাগেনি। অ্যাভারেজ সব গান। গেট রেডি টু ফাইট ট্র‌্যাকটা ভালো ছিল। ভারতীয় 51396905মুভির Sound Engineering সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা ছিলো না। এই মুভিটা দেখে জানলাম আর অবাক হলাম। অনেক ইমপ্রুভব্‌ড, অলমোস্ট হলিউড স্ট্যান্ডার্ডের সাউণ্ড কোয়ালিটি। যেমন ছবিতে বেশ কয়েকবার বৃষ্টির দৃশ্য ছিলো। প্রতিটা বৃষ্টির ফোটার শব্দ যেন আলাদা করে বোঝা যাচ্ছিলো।
এই মুভির দু্ইটা জিনিস নজর কেড়েছে, এক-সিনেম্যাটোগ্রাফি। আর অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো। হিন্দি সিনেমার অন্যতম সেরা অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল এই সিনেমায়। কিন্তু সিকোয়েন্সগুলো এত ওয়েল কোরিওগ্রাফড আর আর ওয়েল রিহার্সড যে, দেখতে অনেকটা ব্যালে নাচের মতো লাগছিলো। আর খুব বেশি রিহার্সাল করলে দৃশ্য থেকে স্বতঃস্ফূর্ততা চলে যায়। এখানেও সেই সমস্যাটা ছিল।
টাইগার শ্রফ অ্যাকশন হিরো। তাই তার অভিনয়ের কথা বাদ থাকুক, ওটা একদমই এক্সপ্রেশনলেস। ফাইটিং সিকোয়েন্সগুলোতে তার কাজ দারুণ লাগলো। ভিলেন হিসেবে সুধীর বাবুকে ভালো লেগেছে। মুভি দেখার সময় দুষ্টুমি করে বলছিলাম সুধীর বাবু, মহেশ বাবুর আত্নীয়। পরে দেখলাম আসলেও তাই। শ্রদ্ধা কাপুরের অভিনয় অসম্ভব রকমের ক্লান্তিকর। সেই আশিকী ২ থেকে শুরু করে এক ভিলেন হয়ে বাগী। সেইম এক্সপ্রেশন্স, সেইম ফেইক ইনোসেন্স, ওভার দ্য টপ Bubbliness দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত, বিরক্ত। আমার আর কিছু বলার নাই। চালায় যান, আপা। আপনার জন্য থাকলো বিনম্র শ্রদ্ধা।
টাইগার কতটা বাগী (মানে বিদ্রোহী)? কুংফু পান্ডার পো যতখানি, ঠিক ততখানি। টাইগার নিজের প্রয়োজন ছাড়া আর কোথাও বিদ্রোহ করে না, এমন কি নিজের ভালোবাসার জন্যও না। পুরা ছবি দেখে সন্দেহ হলো, মুভির কেউ আদৌ বিদ্রোহী শব্দটার মানে জানে কিনা।
About

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com