rekhahyubby2
আধুনিক কম্পিউটারের রূপকার গণিতবিদ অ্যালান টুরিং ও তাকে নিয়ে নির্মিত ‘দ্যা ইমিটেশন গেম’ চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছেন তানজির ইসলাম বৃত্ত
‘Are you paying attention? Good. If you are not listening carefully, you will miss things. Important things. I will not pause, I will not repeat myself, and you will not interrupt me.’
এমন নাটকীয় শুরুয়াত হয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেই। আপাতত মনে পড়ছে ‘ইনসাইড জব’ এর কথা। ওপেনিং লাইনে দর্শক এটেনশন নিয়ে নেয়ার একটি অর্থ হলো, টানটান উত্তেজনার কোন গল্প শুরু হতে যাচ্ছে।
 
image001একজন অ্যালান টুরিং:
১৯১২ সালে লন্ডনে জন্ম নেয়া অ্যালান টুরিং-এর পূর্বপুরুষ উপমহাদেশের স্পর্শে ছিলেন অভ্যস্ত। টুরিং এর বাবা
বিহার, ওড়িষ্যা রাজ্যে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের হয়ে কর্মরত ছিলেন। তার বড়দাদা বেঙ্গল আর্মির জেনারেল ছিলেন। টুরিং এর মাতৃস্থানীয় পূর্বপুরুষও ছিলেন যোদ্ধা। রাজা চার্লস প্রথম এর হয়ে তারা যুদ্ধ করেন এবং তাদের আনুগত্যের জন্য চার্লস কর্তৃক ‘ব্যারনেট’ উপাধি পান।
সকল প্রতিভাবান উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, গবেষকের মত অ্যালান টুরিংও অল্প বয়সে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। এটা একটি অলিখিত সূত্রই বলা চলে জিনিয়াসদের জন্য, তারা জন্মগত ভাবে জিনিয়াস।
ক্রিস্টোফার:
১৩ বছর বয়সে শেরবোর্ন পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন টুরিং। স্কুলের প্রথম দিনে শহরে ধর্মঘট ছিলো, যানবাহন সব image002 (2)বন্ধ। সব কিছু ডিঙ্গিয়ে টুরিং সাইকেল নিয়ে ৬০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে স্কুলে পৌছায়। সেটা আবার স্থানীয় সংবাদপত্রে ছাপাও হয়েছিলো। যদিও তার গাণিতিক চিন্তা ভাবনা স্কুলের শিক্ষক-ছাত্র কারো কাছেই জনপ্রিয় ছিলো না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাই টুরিং-এর বাবা মাকে জানান, “টুরিং যদি শুধু বিজ্ঞান ঘাটতে আর গণিত করতেই থাকে, তবে তার এই স্কুলে পড়ার প্রয়োজন নেই। ‘উদ্ভাবক’ হতে গেলে টুরিং ‘শিক্ষিত’ হতে পারবে না।” তখন গ্রীক, রোমান ভাষা, ইতিহাস এবং সাহিত্য পড়াকেই আসল ‘শিক্ষা’ বলে বিবেচনা করা হতো। গণিত আর বিজ্ঞানকে টুরিং যেভাবে উপাস্য বলে বেছে নিয়েছিলেন, তা কারো পছন্দ ছিলো না। একটু বেশি চুপচাপ, ভাবুক, নিজের পৃথিবীতে মত্ত হয়ে উচ্চতর ক্যালকুলাস সমাধান করতে থাকা টুরিং সহপাঠীদের কাছে জনপ্রিয় তো ছিলেনই না, বরং বিদ্রূপের পাত্র হয়ে image003 (1)উঠলেন।
এমন একটি সময়ে তার বন্ধুত্ব হয় ক্রিস্টোফারের সঙ্গে। বন্ধুহীন টুরিং যাকে আঁকড়ে ধরে প্রচণ্ড আপনজনের মত। বলা হয় ক্রিস্টোফারই টুরিং এর প্রথম ‘ভালোবাসা’। ক্রিস্টোফারে সার্বক্ষণিক সঙ্গ তার পূর্ণবয়স্ক জীবনে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব ফেলেছিলো। ক্রিস্টোফার টুরিংকে পরিচয় করিয়ে দেয় সংখ্যাতত্ত্ব, ক্রিপ্টোগ্রাফি, এস্ট্রোনমির মত বিষয়ের সঙ্গে।
১৯৩০ সালে ‘বোভাইন টিউবারকুলোসিস’-এ ক্রিস্টোফারের মৃত্যু টুরিংকে এলোমেলো করে দেয়। শোক ভুলতে টুরিং ডুবে যায় তাদের অসম্পূর্ণ থাকা কাজ শেষ করায়। ক্রিস্টোফারের মাকে লেখা চিঠিতে টুরিং উল্লেখ করেন, ‘বেঁচে থাকলে ক্রিস্টোফার অবশ্যই আমার কাজে ব্যস্ত থাকাটাই দেখতে চাইতো।’
সময়ের পরিক্রমায় টুরিং কিংস কলেজে ভর্তি হন, যদিও এটা তার প্রথম পছন্দ ছিলো না। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিমুখ হবার কারণে তাকে এখানে ভর্তি হতে হয়। গণিতে ফার্স্ট ক্লাস অনার্সে উত্তীর্ণ হন এবং পরে কিংস কলেজে ফেলোশীপ পান।
টুরিং মেশিন:
image003
 
 
 
১৯৩৬ সালে অ্যালান টুরিং বলেন, ‘যেকোন গণনাযোগ্য গাণিতিক সমস্যাই সমাধানযোগ্য, যদি তা এলগরিদমে দেয়া হয়’। এ সমাধানের জন্য তিনি একটি ‘হাইপোথেটিক্যাল’ যন্ত্রের প্রস্তাব রাখেন, যেটার নাম দেন ‘ইউনিভার্সাল টুরিং মেশিন’। এই টুরিং মেশিনের আধুনিক রূপই আজকের কম্পিউটার। প্রিন্সটন থেকে পিএইচ.ডি করার সময় অ্যালান টুরিং ‘ক্রিপ্টোলজি’ নিয়ে পড়াশোনা করেন।
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং কোডব্রেকিং:
১৯৩৯ সাল, অ্যালান টুরিং তখন ব্রিটিশ কোডব্রেকিং সংস্থার হয়ে কাজ করতেন। ঠিক এমন সময় পোলিশ সরকার নিয়ে এলো জার্মান সিক্রেট এবং কমপ্লেক্স মিলিটারি কোড প্রেরণকারী মেশিন ‘এনিগমা’র তথ্য নিয়ে। ১৯৩৯ সালে ব্রিটেন জার্মানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারপর পরই অ্যালান টুরিং রিপোর্ট করেন ব্লেচলি পার্কে, যুদ্ধকালীন কোডব্রেকিং কার্যালয়ে।
এনিগমাঃ
এনিগমা, একটি গোপনবার্তা প্রেরণকারী যন্ত্র, যার মাধ্যমে জার্মানরা দূর্বোধ্য কোডে সৈন্যদের কাছে আক্রমণের image004নির্দেশ পাঠাতো। কোডগুলো মিত্রবাহিনী পেলেও তা ব্রেক করতে পারতো না। এনিগমা তৈরি করেন জার্মান তড়িৎ প্রকৌশলী ‘আর্থার শেরবিয়াস’। তৈরির পর তার এই যন্ত্র তখন কেউ কিনতে রাজী না হলেও, জার্মানরা এনিগমার মূল্য বোঝে যুদ্ধের শুরুতে। এনিগমা ততদিনে আরও এনিগম্যাটিক মানে আধুনিক ও আরও কঠিন কোড পাঠাতে সক্ষম। ফলে এর মিলিটারি ব্যবহার শুরু হয়। সর্বপ্রথম পোলিশরা এই এনিগমা নিয়ে কাজ করতে থাকে। কারণ জার্মানদের প্রতিনিয়ত হুমকি, পোলিশদের মনে ভীতির উদ্রেক করেছিলো।
 
অবশেষে এনিগমার জটিল কোড প্রথম ভাঙ্গেন পোলিশ গণিতবিদ ‘মারিয়ান রেজেস্কি’। কিন্তু দিন যেতে থাকে আর জার্মান মিলিটারি এনিগমাকে আরো উন্নত এবং কঠিন করে তোলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাত্মক রূপ দেখে পোলিশরা বাধ্য হয়ে ব্রিটিশদের কাছে এনিগমার সকল তথ্য সরবরাহ করে, সাহায্যের আশায়। ব্লেচলি পার্কে এসে ১৯৩৯ সালে অ্যালান টুরিং লেগে যান এনিগমার গোপন বার্তা উদ্ধারে।
বম্বে:
এনিগমার কোড ব্রেক করার জন্য একটি ইলেট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্রের দরকার, যার ধারনা এবং নাম দুটোই পোলিশদের সরবরাহকৃত তথ্য থেকে আসে। অ্যালান টুরিং এবং গর্ডন ওয়েলচ দুজনের চেষ্টায় তৈরি হয় ‘বম্বে’। সোজা ভাষায় বলতে, একটি বম্বে ৩৬টা এনিগমা বহন করতো, যার ১০ মাইল লম্বা ওয়াইয়ার থাকতো। ‘বম্বে’image005 মেশিনটি এনিগমার সকল কোডের ভেতর পরিচিত শব্দ খোঁজার চেষ্টা করতো। যেমন, একটা জার্মান কোডে ঝড় বাদলের দিনে অবশ্যই আবহাওয়া নিয়ে কথা থাকবে। যেটাকে একটি বম্বে খুঁজে বের করবে। এভাবেই চলতে থাকে, কিন্তু ১৯৪১ সালে ব্লেচলি পার্কের সবাই হতাশ হয়ে ওঠে। কারণ কম জনবল এবং কয়েকটা ‘বম্বে’ দিয়ে জার্মান এনিগমা ব্রেক সম্ভব না। তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য আবেদন করে কর্তৃপক্ষের কাছে, তাতেও কোন সাড়া মেলে না। অবশেষে তারা সব নিয়ম ভেঙ্গে চিঠি লেখেন চার্চিলকে। চিঠি পেয়ে চার্চিল তাৎক্ষনিক ভাবে নির্দেশ দেয় তার জেনারেলকে, “"ACTION THIS DAY. Make sure they have all they want on extreme priority and report to me that this has been done.” যার ফলাফল ছিলো তড়িৎ গতির। চার্চিল পরে বলেছিলো, “Turing made the single biggest contribution to Allied victory in the war against Nazi Germany”
যুদ্ধের শেষ দিকে ২০০ এর বেশি বোম্বে মেশিন চলমান ছিলো কোড ব্রেকে। সব কোড ব্রেক সম্ভব হলেও, জার্মান নেভির কোড ভাঙ্গা সম্ভব হচ্ছিলো না, যার দায়িত্ব অ্যালান টুরিং আগ্রহী হয়ে নেন। ১৯৪১ সালের জুনে প্রথম জার্মান নেভির কোড ব্রেক। ১৯৪২ সালে তিনি ইউএস নেভির সঙ্গে ‘বম্বে’ তৈরি এবং এনিগমা নিয়ে কাজ করেন। কিছুদিন তিনি বেল’স ল্যাবেও কাজ করেছিলেন।
১৯৪২ সালে অ্যালান টুরিং উদ্ভাবন করেন ‘টুরিঙ্গারি’, যা দিয়ে লরেনজ সাইফার ব্রেক করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জার্মান উচ্চ পদস্থ অফিসাররা, যেমন: হিটলার, জার্মানীতে বসে ইউরোপের কমান্ডারকে নির্দেশ পাঠাতো।
টুরিং টেস্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:
১৯৪৮ সালের দিকে অ্যালান টুরিং মেশিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স থাকার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। যার জন্য তিনি একটি পরীক্ষার প্রস্তাব করেন, যা ‘টুরিং টেস্ট’ হিসেবে পরিচিত।
টুরিং টেস্টের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অনুলিপিকরন পরীক্ষা অর্থাৎ ‘ইমিটেশন গেম’। ধরুন, পাশাপাশি দুটি রুম, একটি image011রুমে একজন মানুষ, আরেকটি রুমে একটি যন্ত্র রাখা। আপনাকে বের করতে হবে কোন রুমে যন্ত্র আছে, আর কোন রুমে মানুষ। আপনি যা জানতে চান, প্রশ্ন করতে চান, তা লিখে পাঠাবেন। এর জবাব ঐ দুই রুম থেকে লিখিত ভাবে আসবে। কোন ভাবেই শব্দ, কণ্ঠ, আওয়াজের ব্যবহার করা যাবে না। সব হবে লিখিত কমান্ডে। এর মাধ্যমে যাচাই হবে, যন্ত্রটি কতটুকু ইমিটেট অর্থাৎ অনুকরণ করতে পারছে মানুষকে। যন্ত্রটির উত্তর কতটা মানুষের মত। যদি যন্ত্রটি তা করতে পারে, ধরতে হবে তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে।
আমরা প্রতিনিয়ত টুরিং টেস্টের মুখোমুখি হই, যেমন ক্যাপচা রিকগনিশন করার সময়। আপনি রোবট না মানুষ তা পরীক্ষা হয় এই টুরিং টেস্টের মাধ্যমেই। যন্ত্র বা রোবট ক্যাপচা'র অক্ষরের ক্যাপিটাল লেটার, স্মল লেটার যাচাই করতে পারে না। একটি যন্ত্র বিভিন্ন ট্রিকি প্রশ্নের, যেখানে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন পড়ে, উত্তর দিতে পারেনা। যেমন: যদি জিজ্ঞেস করা হয়, চিনির স্বাদ কেমন? একটি যন্ত্র বা রোবট/বট কখনোই তার উত্তর ‘মিষ্টি’ লিখতে পারবে না। এর মাধ্যমেই মানুষ থেকে মেশিনের পার্থক্য করা হলো। টুরিং টেস্ট সেই হিসেবে আজও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোন যন্ত্র পায়নি।
প্রথমে টুরিং টেস্টের উদ্দেশ্য ছিল, “কোন যন্ত্র কি চিন্তা করতে পারে?? (Can Machines think??”) এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা। টুরিংয়ের ‘ইমিটেশন গেম’ বা অনুলিপিকরণ পরীক্ষা বর্ণনা করার পর টুরিং টেস্টের প্রশ্নটা একটু অন্যভাবে করা হল-“Can machines play the imitation game? অর্থাৎ কোন যন্ত্র কি ইমিটেশন গেম-এ অংশ নিতে পারবে??” সে কি মানুষকে অনুকরণ করে প্রশ্ন এবং উত্তর দিতে পারবে? যদি পারে, তবে তার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আছে।
১৯৪৮ সালে টুরিং একটি দাবা খেলার প্রোগ্রাম তৈরি করেন তার প্রাক্তন এক কলিগের সঙ্গে। এমন এক প্রোগ্রাম, যা ইন্সটল করার মত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার সে সময়ে ছিলো না। তবুও, তা ফেরান্টি মার্ক-১ (পৃথিবীর সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার)-এ প্রতিস্থাপনে ব্যর্থ হন।
সমকামিতার অপরাধ, বিচার এবং কেমিক্যাল ক্যাসট্রেশন:
টুরিং এর প্রসিকিউশন হয়। যেহেতু সে সত্যিকার অর্থেই সমকামি ছিলো, তাই সে আনীত দোষ স্বীকার করে। মারিয়াকে লেখা টুরিং এর পাজল সলভের চিঠিআদালত তাকে কারাভোগ অথবা কারাভোগের বদলে ‘ক্যামিকেল ক্যাসট্রেশনের’ সুযোগ দেয়। এখানেক্যামিকেল ক্যাসট্রেশন নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। সে সময় সমকামিতা রোগ হিসেবে গণ্য করে এবং চিকিৎসা হিসেবে হরমোনাল থেরাপি শরীরে প্রয়োগ করা হতো। উদ্দেশ্য ছিলো, ‘রোগীর’ যৌন ক্ষমতাকে কমানো, যাতে সে অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট না হতে পারে। এই থেরাপি টুরিংকে ‘ইমপটেন্ট’ করে দেয়, ভুগতে শুরু করেন বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গে।
তার মানসিক উপসর্গ দেখা দিলে, তখন তিনি এক ইহুদি সাইক্রিয়াট্রিস্টের কাছে যান। সেই ডাক্তার পরিবারের ছোট্ট একটি মেয়েকে টুরিং প্রতিদিন পাজল নিয়ে বসে থাকতে দেখতেন। একদিন ছোট্ট মেয়েটির কাছে একটি চিঠি আসে। সেখানে টুরিং বাতলে দেন, কিভাবে পাজল সলভ করা যায় খুব সহজেই।
সোভিয়েত স্পাই সন্দেহ:
১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্র টুরিং-এর ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সরকারের ‘ক্রিপ্টগ্রাফার’ হিসেবে বিশেষজ্ঞ পদ হারান। ব্রিটেনে সে সময় সোভিয়েত স্পাই কর্তৃক সমকামিতার বিষ ছড়ানোর কথা বাতাসে ভাসছিলো। এর কারণ ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির দুজন সদস্য রাশিয়ান স্পাই হিসেবে ধরা পড়ে। টুরিং কখনোই গুপ্তচরবৃত্তির জন্য বিচার অথবা অভিযোগে গ্রেফতার হননি। কিন্তু তারপরও তার প্রতি ছিলো সবার সন্দেহমূলক দৃষ্টি।
মৃত্যু এবং বিখ্যাত আধ খাওয়া আপেল:
অপরাধের শাস্তি ভোগ করে, ১৯৫৪ সালে, জন্মদিনের ঠিক ষোল দিন আগে অ্যালান টুরিংকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তার কক্ষে। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ময়না তদন্তে সায়ানাইড পয়জনিং মৃত্যুর কারণ হিসেবে বের হয়।
টুরিং এর মাথার কাছে একটি আধ খাওয়া আপেল পাওয়া যায়। সন্দেহ করা হয় তাতেই সায়ানাইড মেশানো ছিলো। একটি মজার প্রচলিত মিথ আছে যে, এই আধ খাওয়া আপেলটিকেই স্টিভ জবস তার কোম্পানির লোগো হিসেবে বেছে নিয়েছিলো। আধুনিক কম্পিউটারে জনক অ্যালান টুরিংকে সম্মান জানানোর একটি প্রয়াস ছিলো বলে সবার ধারনা, যদিও এর কোন যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
অ্যালান টুরিং-এর বায়োগ্রাফার এন্ড্রু হজ টুরিং এর মৃত্যুকে আত্মহত্যাই মনে করেন। টুরিং এর প্রিয় ফেয়ারি টেইল ছিলো স্নো হোয়াইট, যা থেকে সে আপেলে বিষ মেশানোর আইডিয়া পান বলে তার বিশ্বাস। তার মৃত্যু নিয়ে image006পর্যাপ্ত তদন্ত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। টুরিং লাফ দিয়েই আত্মহত্যা করেছেন, ময়নাতদন্তকারী এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। এমনকি তার মাথার কাছে আপেলটিতে সায়ানাইড ছিলো কিনা তাও পরীক্ষা করা হয়নি।
ক্ষমা ঘোষণা এবং ইতিহাসের দায়মুক্তি:

বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তিত্ব সোচ্চার হন নির্দোষ টুরিং এর অপরাধ মওকুফ করার জন্য। ৩৭,০০০ লোক পিটিশনে সাক্ষর করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠায়, যেখানে স্টিফেন হকিং এর আবেদনও ছিলো। অবশেষে, মৃত্যুর ৬২ বছর পর, রানী এলিজাবেথ ২০১৩ সালে রাজকীয় ক্ষমার দলিলে সাক্ষর করেন এবং ২০১৪ সালে সেটি অফিশিয়ালি ঘোষণা দেন।

 
চলচ্চিত্রের কথা:
এন্ড্রু হজের অ্যালান টুরিং: দ্য এনিগমা বইয়ের এডাপটেশনে ‘দ্যা ইমিটেশন গেম’ এর জন্য ওয়ার্নার ব্রোস সাত অঙ্কের একটি সংখ্যার বিনিময়ে চিত্রনাট্যটি কিনে নেয়। ‘ইমিটেশন গেম’ এর আগে ২০০৮ এর একশন-থ্রিলার ‘হেডহান্টারস’ বানিয়ে ব্যাপক সাফল্য পান মরটন টিলডাম। ‘ইমিটেশন গেম’ ইংরেজী ভাষায় পরিচালিত তার প্রথম চলচ্চিত্র। যদিও ‘এপোলো-১৩’, ‘দ্যা ভিঞ্চি কোড’ খ্যাত রন হাওয়ার্ড এবং শেষের চারটি হ্যারি পটার মুভির পরিচালক ডেভিড ইয়েটসকে পরিচালক হিসেবে চিন্তা ভাবনা চলেছিলো।

 

image007
 

 

 

‘শার্লক’ খ্যাত বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের ছোট পর্দার সাফল্যের মত, বড় পর্দায়েও তার ব্যপ্তির জন্য সবাই মুখিয়ে ছিলো। যদিও লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও শুরুতে ব্রিটিশ গণিতবিদের ভূমিকায় অভিনয়ের আগ্রহ দেখান। পরে তা হয়ে ওঠেনি। কেরা নাইটলিকে ‘মিস জোয়ানা ক্লার্ক’ এর ভূমিকায় দেখা মেলে, যদিও আসল জোয়ানা ক্লার্ক খুবই সাদাসিধে ছিলেন। চলচ্চিত্রের ভেতর রোমান্টিসিজম আনতেই কেরা নাইটলিকে নেয়া বলে টুরিং এর বায়োগ্রাফার এবং পরিবারের মন্তব্য ছিলো। চলচ্চিত্রের নামকরণ করা হয় অ্যালান টুরিং এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মাপবার পরীক্ষার নামে : ‘দ্যা ইমিটেশন গেম’।
২০১৪ সালে মুক্তি পায় ‘দ্য ইমিটেশন গেম’। ১৪ মিলিয়ন ডলার বাজেটের চলচ্চিত্রটি ২২৭.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে বিশ্বব্যাপী। ২০১৪ সালের সর্ব্বোচ্চ আয় করা ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্মের খেতাম নিয়ে ঘরে ফেরে ‘দ্য ইমিটেশন গেম।’ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার নমিনেশন পেয়েছিলো এবং সেরা এডাপটেড স্ক্রিনপ্লের জন্য গ্রাহাম মুর অস্কার জেতে।
 
বেজড অন এ ট্রু স্টোরি?!?:
সত্য ঘটনা অবলম্বনে বলা হলেও অসংখ্য ভুলে ভরা মুভির বিভিন্ন দৃশ্যপট। তারপরও সবাইকে অবাক করে সেরা এডাপটেড স্ক্রিনপ্লে’র জন্য অস্কার ঘরে নিয়ে গেছে চলচ্চিত্রটি। কয়েকটি ভুলের নমুনা-
 
সালগত ভ্রান্তি:
১৯৫১ সালের প্রেক্ষাপটে টুরিং গল্প শুরু করে। সেখান থেকে চলে যায় জীবনে বিভিন্ন সময়ে। এখানে সালের বিশাল গড়মিল। কারণ টুরিং এর ঘরে ডাকাতি ১৯৫১ সালে হয়নি, হয়েছিলো ১৯৫২ সালে।
 
‘বোম্বে’ মেশিনের নাম ‘ক্রিস্টোফার’:
 
এনিগমার কোড ব্রেকিং মেশিনের নাম চলচ্চিত্রে ‘ক্রিস্টোফার’ বলে উল্লেখ করা হলেও এটার নাম ক্রিস্টোফার ছিলো না। বরং এর নাম ছিলো ‘ভিক্টরি’, যার মূল ধারনা এসেছে প্রথম এনগিমা কোড ব্রেক করা পোলিশ ক্রিপ্টান্যালিস্ট মারিয়ান রেজেস্কির কাছ থেকে।
 
‘বোম্বে’ তৈরিতে টুরিং এর একক পরিশ্রম:
চলচ্চিত্রে ‘বোম্বে’ মেশিন বানানো বিরুদ্ধে সবার অবস্থান দেখানো হলেও তা মোটেও আসল ঘটনা ছিলো না। টুরিং এনগিমা কোড ভাঙতে যে ডিজাইন তৈরিকরেছিলো, তার বেশির ভাগ ছিলো গণিতবিদ গরডন ওয়েলচের। যার image017নাম উল্লেখ করা হয়নি চলচ্চিত্রে কোন কারণে। বরং তার সফলতার ভাগ দেয়া হয়েছে হিউ আলেকজেন্ডারকে।
পিটার হিলটন এবং তার ভাই:
দেখানো হয়, এনগিমার একটি গুপ্ত আক্রমণের মেসেজ ব্যবহার করা না করা নিয়ে অ্যালান টুরিং আপত্তি। ফলাফল পিটারে ভাই মারা যায় সেই জার্মান আক্রমণে। সত্যিকার অর্থে পিটারের কোন ভাই ছিলো না। আর মেসেজ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার ডিসিশান কোডব্রেকারদের ওপর নির্ভর করতো না, করতো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর।
চার্চিলকে লেখা চিঠি:
চার্চিলকে শুধু টুরিং একা নয়, হিউ আলেকজেন্ডার, গর্ডন ওয়েলচ একসঙ্গেই চিঠি পাঠিয়েছিলো। যার জবাব তাৎক্ষনিক ভাবেই চার্চিল দিয়েছিলো। আর তারা তা কখনো টের পাননি। আর চার্চিল মোটেও টুরিংকে দলের প্রধান বানাননি।
জোয়ান ক্লার্কের পাজেল সলভ:
৫.৩৬ সেকেন্ডে জটিল পাজল সমাধান। না, বাস্তবে এটা হয়নি, গরডন ওয়েলচ জোয়ান ক্লার্ককে নিয়োগ দিয়েছিলো তার প্রতিভার কারণেই। কোন পাজেল সলভ করে নিয়োগ পাননি মিস ক্লার্ক।
এমআই-সিক্স এজেন্ট এবং টুরিং সখ্যতা:
মেজরের সঙ্গে টুরিং এর কখনো দেখা হয়েছে বলে কোন রেকর্ড নেই। এভাবে ব্রিটিশ স্পাই চারিদিক ঘুরে বেড়ানো সহ চার্চিলকে চিঠি পৌঁছানোরও কোন রেকর্ড নেই।
পার্সোনাল ট্রেইটস:
image016যতটা ‘এরোগ্যান্ট’ দেখানো হয়েছে টুরিংকে, সে তা মোটেও ছিলো না। বরং লাজুক স্বভাবের ছিলেন, সোশ্যালি অকওয়ার্ড ছিলেন। মতভেদ আছে, তিনি অগোছালো, তোতলাতেন বটে; কিন্তু একেবারে বেরসিক ছিলেন না আর সহকর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিলো তার। টুরিং মোটেও কাউকে বরখাস্ত করেননি, ভিনগ্রহের প্রাণীর মত কথোপকথনে অংশ নেননি।
কমান্ডার ডেনিসটন:
কমান্ডার ডেনিসটন ২০ বছর ধরে তার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি মোটেও অ্যালান টুরিংকে গণিতবিদ বলে কটাক্ষ কিংবা বিদায় করতে চাননি। ডেনিসটন জানতেন এনিগমা ভাঙ্গতে কি ধরনের লোক প্রয়োজন। তিনি ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড থেকে মেধাবী গণিতজ্ঞদের ব্লেচলি পার্কে নিয়োগ দিতেন এবং যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই টুরিং, ওয়েচম্যান তার হয়ে পার্ট-টাইম কাজ করতো। আর কমান্ডার ডেনিসটন সবার প্রধান ছিলো, এনিগমা ব্রেকিং এর খবর তার কাছ থেকে লুকানোটাও ঠিক অস্বাভাবিক এবং অসম্ভব। তাহলে ব্রেক করা কোড গুলো তারা কাকে দিতো, কার মাধ্যমে দিতো?
‘টুরিং মেশিন’ এবং ‘বোম্বে’:
টুরিং মেশিন এবং বোম্বে পুরোই ভিন্ন দুটি মেশিন। ইউনিভার্সাল টুরিং মেশিন একটি এবস্ট্রাক্ট, হাইপোথেটিক্যাল image018মেশিন। আর বোম্বে পোলিশ বম্ব শব্দ থেকে এসেছে। এনিগমার কোড ডিসাইফার ‘বম্বে’ মেশিন দিয়েই করা হয়, যা চলচ্চিত্রে টুরিংকে বানাতে দেখা গেছে। টুরিং এর বোম্বে’ মেশিনের পুরো প্যাটেন্ট তার নয়, এটা পোলিশ গণিতবিদ মায়ান রেজেস্কির ডিজাইনকৃত যা টুরিং উন্নত করেন মাত্র।
 
ইতিহাসগত ভুল নিয়ে পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার:
এক চলচ্চিত্র বোদ্ধার মন্তব্য, "I discovered that The Imitation Game takes major liberties with its source material, injecting conflict where none existed, inventing entirely fictional characters, rearranging the chronology of events, and misrepresenting the very nature of Turing's work at Bletchley Park"
 
যদিও ‘দ্যা ইমিটেশন গেম’ চলচ্চিত্রের হিস্টোরিক্যাল ইনএকুর‍্যাসি নিয়ে পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার দুজনেই বেশ সোচ্চার।
পরিচালক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বেশির ভাগ ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র দেখলে মনে হয় পর্দায় উইকিপিডিয়ার পেজ পড়ছি, মনে হয় আওড়ে চলছি, ‘সে এটা করেছে, তারপর সেটা করেছে, তারপর সে আরেকটা জিনিষ করেছে’। সব কিছুর সংমিশ্রণে বিশাল হিট যেন। কিন্তু আমরা চেয়েছি চলচ্চিত্রটাকে ইমোশনাল এবং প্যাশোনেট করতে। আমাদের লক্ষ্য ছিলো, ‘অ্যালান টুরিং কে কেমন লাগে?’ ‘অ্যালান টুরিং এর গল্প কেমন লাগে’ ‘অ্যালান টুরিং এর মত হলে কেমন লাগে’ তা বোঝানো।
চিত্রনাট্যকার বলেন,
আপনি যখন একটি চলচ্চিত্রে ‘তথ্য যাচাই’ শব্দটি ব্যবহার করেন, আমার মনে হয় আপনি তখন ফান্ডামেন্টালি শিল্প কিভাবে কাজ করে তাই বুঝতে পারেন না। আপনি মনে’র ‘ওয়াটার লিলি’র তথ্য যাচাই করবেন না। ওয়াটার লিলি দেখতে অমন না, এটা শুধু মাত্র ওয়াটার লিলির ছোঁয়া অনুভব করতে কেমন লাগে তার প্রকাশ। এটাই চিত্রকর্মটির লক্ষ্য।
যদিও তাদের বক্তব্য আত্মরক্ষার চেষ্টা বলেই মনে হয়। যেহেতু চলচ্চিত্রের শুরুতে ‘বেজড অন ট্রু স্টোরি’ দেখানো হয়েছে, দর্শক একুর‍্যাসি চাইতেই পারে। আর কোন জিনিস একুরেট হলে তার আবেগ, প্যাশন, অনুভূতি কমে যায় না।
 
শেষ কথা:
কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধারনার জনক অ্যালান টুরিং এর জীবন এবং কর্ম গোপন নথিতে আটকে ছিলো বহু বছর। অপরাধী হিসেবে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অপরাধী ছিলেনও মৃত্যুর ৬২ image002বছর পর্যন্ত। তার ডিসাইফার করা বার্তার অবদানে যুদ্ধের সময়সীমা ২ বছর কমে গিয়েছিলো। যা হলে ফলে মারা যেতে পারতো আরও ১৪ মিলিয়ন মানুষ এবং এই তথ্যগুলোও গোপনে রাখা হয়েছিলো। সেই রহস্যময় ব্যক্তিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার কাজটি একটু কঠিনই বটে। তথ্যগত ভুলগুলো বাদ দিলে, চলচ্চিত্রটি দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবদান এবং ‘গ্রস ইনডিসেন্সির’ অপরাধে অন্ধকূপে নিক্ষিপ্ত হওয়া। পরিচালক দুটোকে ভালোই সামলানোর চেষ্টা করেছেন বলা যায়, যদিও অনেকে মনে করেন তার উদ্ভাবনী প্রতিভা, গাণিতিক মেধা ফিকে হয়েছে ‘সমকামিতার’ দিকটায় প্রাধান্য দেয়াতে। তৎকালীন রক্ষণশীল লন্ডনে অপরাধী কিন্তু আধুনিক সময়ে নিরপরাধ হওয়ার একটি মেসেজ, যে সময়ের বিবর্তন, তাও দেখার বিষয়। সর্বোপরি, বায়োগ্রাফিক্যাল চলচ্চিত্রের জন্য ‘দ্যা ইমিটেশন গেম’ নতুন কিছুর সূচনা হয়ে থাকবে। শেষ করছি প্রিয় লাইনটি কোট করে :
 
Do you know why people like violence? It is because it feels good. Humans find violence deeply satisfying. But remove the satisfaction, and the act becomes... hollow.
 

 

 

 

 লেখক পরিচিতি:
আসল নাম তানজির ইসলাম বৃত্ত হলেও, লেখালেখির শুরু সিডাটিভ হিপনোটিক্স নামে। অগোছালো এলোমেলো জীবনে একমাত্র গুছিয়ে মুভিটাই দেখেন। প্রতিদিন একটি মুভি দেখে থাকেন বলে গুজব আছে। তার কাছে ফ্রি প্যারিস ঘুরতে যাবার থেকে কফি খেতে খেতে ‘মিডনাইট ইন প্যারিস’ দেখা বেশি রোমাঞ্চের। প্রিয় পরিচালক ডেভিড ফিঞ্চার। প্রিয় অভিনেতা এন্থনি হপকিন্স। গল্প নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, আনাড়ি হাতে স্ক্রিপ্টও লিখেন। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা এবং বার্সেলোনা।
9 replies