Smiley face

বলিউডের সপ্ত সেনা : An era of bullshit movies

bollywood-1
বলিউডের 'বাজে মুভি'র সপ্তসেনার গল্প শোনাচ্ছেন ওয়াসিম আকরাম
বলিউড হতে পারে কোয়ান্টিটির দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি - but, is it world’s coolest film industry???
প্রতি বছর নাম জানা-অজানা প্রায় কোটিখানেক মুভি রিলিজ হয় এখান থেকে... ওয়ার্ল্ডক্লাস লেভেলের পোস্টার আর আকাশচুম্বী পাবলিসিটির মাধ্যমে দর্শকের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে, মিউজিক, ট্রেলার, কাস্টিং, স্টাইল সবদিক থেকেই মুভিগুলোর আউটলুক চোখ ধাঁধানো এবং প্রমিজিং...কিন্তু কয়টা মুভি ছাপ ফেলে দর্শকদের মনে?
As a developing nation, art in India is not basically created for art’s sake. এখানে আর্ট একটা প্রফেশন। একটা মুভি তৈরীতে যে খরচ, তা ব্রেক-ইভেন-পয়েন্টে নিয়ে আসা এবং ম্যাক্সিমাম রেভেন্যু আর্ন করাটাই এখানে মুখ্য। পালের হাওয়া বুঝে একদা ক্রিয়েটিভ পরিচালকেরাও তাদের মস্তিষ্কের ধূসর কোষগুলো স্যাক্রিফাইস করে দিলেন দর্শককে খুশি করতে। দর্শকেরাও নিজেদের অপরিপক্ব টেস্টের কারণে এই মুভিগুলোকেই বেশি এপ্রেশিয়েট করা শুরু করলো।
And thus started an era of Bullshit movies! ফ্যামিলি, রোম্যান্স, হরর, অ্যাকশন, কমেডি, মিউজিক, আইটেম সঙ, কনফ্লিক্ট, ক্লাইম্যাক্স অতঃপর হ্যাপি এন্ডিং - এই ফর্মুলাকে বেসিক ধরে ডিরেক্টররা হল মাতানো শুরু করলেন। দর্শকদের মনও মাতলো – একই ফর্মুলায় চলতে থাকলো মুভি মেকিং! এক বছর, দুই বছর, পাঁচ বছর, দশ বছর... একই মুলো বিভিন্ন পাত্রে পরিবেশন করে একই গতিতে আমাদের পেট ভরানোর প্রসেস চলল দুই দশক।
কিন্তু কতদিন? কত মাস? কত বছর? হ্যাঁ, এই সেইম ফর্মুলার মুভিগুলো একটা সময়ব্যাপী আমাদের নির্মল নির্ভেজাল আনন্দ দিয়েছে, মানছি। উদাহরণস্বরূপ, ইন্দ্র কুমারের ‘ইশক’, ‘মাস্তি’ এবং ‘ধামাল’, সুরাজ বারজাতিয়ার ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’, ‘হাম আপকে হ্যায় কউন’ এবং ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’, ফারাহ খানের ‘ম্যায় হু না’ এবং ‘ওম শান্তি ওম’, সাজিদ খানের ‘হেই বেবি’, রাম গোপাল ভার্মার ‘সত্য’, ‘রণ’, ‘রক্ত চরিত্র’, ‘কোম্পানি’, রাকেশ রোশানের ‘কোই মিল গ্যায়া’ এবং ‘কৃশ’ ইত্যাদি মুভিগুলো আমাদের মনে বেশ ভালই ছাপ ফেলেছে।
কিন্তু এখনকার ইমপ্রুভড মেন্টালিটির দর্শক এই সেইম বুলশিটের চক্করে ক্লান্ত হয়ে হলিউডগামী হবেনা, এটা ভাবাও কিন্তু এক ধরণের দুঃসাহস। এখনকার প্রজন্মের কাছে সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে ট্যাকি ডায়লগ ডেলিভারী মানেই ড্রামা নয়, ফুলদানী ভাঙ্গা আর ধোঁয়া বের হওয়া বন্দুক মানেই অ্যাকশন নয়, দুটো টেস্ট টিউবের ঠোকাঠুকি মানেই সাইন্স ফিকশন নয়। এই প্রজন্ম লজিক খোঁজে, এক্সপ্ল্যানেশন খোঁজে, সাটলিটি খোঁজে, সাররিয়েলিজম খোঁজে। তাই এই দশকে দাঁড়িয়ে সেই একই মুলো নতুন করে সার্ভ করাটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
অথচ আমাদের একসময়কার প্রিয় পরিচালকেরা সেই কাজটি করেই যাচ্ছে। এবং অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে। শুধু তাই নয়, স্পর্ধার সীমানা তারা আরেক ধাপ ক্রস করেছেন অ্যাডাপ্টেশন আর ইন্সপাইরেশনের মোড়কে, ভিনদেশী মৌলিক কনসেপ্টের মুভির সাথে নিজেদের সৃষ্টিশীলতার খিচুড়ি রেঁধে। তবে এই খিচুড়ি রান্নার প্রক্রিয়ায় সবাই যেভাবে স্ব-স্ব স্থান থেকে ভ্যারিয়েশন দেখিয়েছেন, তা একাধারে প্রশংসার দাবীদার ও উন্নয়নের ইন্ডিকেটর।

Cool-Bolly-Wasim-Akram_files

রাম গোপাল ভার্মা- RGV-এর ‘আগ’, ‘সরকার’, ‘সরকার রাজ’ – নিজ ইন্ডাস্ট্রির মুভি ও অন্য ইন্ডাস্ট্রির মুভি, কোনটাই তার এক্সপেরিমেন্টেশন হাত থেকে রেহাই পায়নি । মুভির কেন্দ্রটা ঠিক রেখে তার চারদিকে টাপোরি ল্যাঙ্গুয়েজ, দেশী পোশাক, গোলাগুলি আর বলিউড আইকন – এই হচ্ছে তার রেসিপি।
রাকেশ রোশানের কৃশ ৩ – চরম যুক্তিহীন বিজ্ঞান, আননেসেসারি ড্রামা, ভয়াবহ সব প্লটহোল, অযাচিত রোমান্স, বিশ্রী সাউন্ডট্র্যাক আর হৃত্বিক রোশান, ব্যস তৈরী হয়ে গেল রোশান পরিবারের খিচুড়ি।
ইন্দ্র কুমার – ইনি ক্যারিয়ার থেকে রিটায়ার না করলেও, রিটায়ার করেছেন রোমান্স বেজড মুভি মেকিং থেকে। এর বদলে তিনি যা করেছেন তা আরো ভয়াবহ। নিজের তৈরী মুভিগুলোকেই সিক্যুয়েলের নামে প্রচণ্ড যন্ত্রণা দিয়ে মিউটিলেট করেছেন, সাথে অ্যাডাপ্ট করেছেন হলিউডের ‘আমেরিকান পাই’ কালচার। উপহার দিয়েছেন ‘গ্র্যান্ড মাস্তি’, ‘ডাবল ধামাল’ ও ‘ড্যাডি কুল’ নামের আনপ্যারালেল নোংরামী।
ডেভিড ধাওয়ান – বাচ্চাকালে ওনার কাতুকুতু দেয়া কমেডি ফিচারগুলো দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যেত। কালের বিবর্তনে আমরা বড় হয়েছি, সমৃদ্ধ হয়েছে আমাদের মস্তিষ্ক, কিন্তু সমৃদ্ধ হয়নি ওনার কমেডির ঝুলি। আর তাই হলিউডি কমেডি সিরিজ থেকে ধার করা জোকসে পরিপূর্ণ ওনার ‘রাসক্যালস’, ‘চশমে বাদ্দুর’, ‘ম্যায় তেরা হিরো’ নামক মুভিগুলো কারও রিসাইক্যাল বিনেও ঠাই পায় না।
সাজিদ-ফারাহ-শিরিষ – সাজিদ, ফারাহ, শিরিষ এনারা মূলত একটা টিম। যাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বিশ্বব্যাপী সিনেমাখোরদের টার্গেট করে সিনেমার প্রতি একটা জঘন্যরকম অরুচি সৃষ্টি করা। যদি লক্ষ্য তাকে অটুট...ধুরো কি বলি! এবং এই লক্ষ্য তারা ক্লোজ-আপ হাসি নিয়ে বিজয়ী হয়ে বসে আছে। এদের পরিচালিত মুভিগুলোর মধ্যে ‘জোকার’, ‘তিস মার খান’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’, ‘হামশাকালস’, ‘হাউজফুল ১ ও ২’ এবং ‘হিম্মাতওয়ালা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এনাদের মুভি দেখলে আপনার মনে হবে, সিনেমা নামক আর্টকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই ত্রয়ীর ধরিত্রীতে আগমন।
সুরাজ বারজাতিয়া – ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ এবং ‘হাম আপকে হ্যায় কউন’ এর মত ক্ল্যাসিক রোমান্টিক ড্রামার পরিচালক এই ব্যক্তি কিভাবে ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ এবং ‘ম্যায় প্রেম কি দিওয়ানি হু’ এর মত এক্সট্রাঅর্ডিনারি লেইমনেসের জন্ম দিতে পারেন, তা আজও এক রহস্য। বিশেষজ্ঞ লেভেল থেকে ধারণা করা হয়, দু’খানা ক্ল্যাসিক মুভি ডিরেক্ট করার পর। উনার ‘আমি কি হনু রে’ এটিচিউডই এই জাতীয় লেইম মুভির জন্য মূলত দায়ী।
কিন্তু এই সপ্তরত্নের বাইরেও অনেক পরিচালক আছেন – এবং বেশ দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই বারজাতিয়া সাহেবের মতই নিজেদের পূর্ববর্তী মুভির সাফল্যে অন্ধ হয়ে ভেবেছেন, উনাদের লেভেল থেকে ওনারা যা-তা কিছু একটা রান্না করলেই তা পরিবেশনের যোগ্য হয়ে যাবে। এই কাতারে ফেলা যাবে সুভাষ ঘাই, প্রিয়দর্শন, রোহিত শেঠী, প্রভুদেবা, ভিকাস ব্যাহল, আব্বাস মাস্তান, করণ জোহর মত প্রিয় ব্যক্তিত্বদেরকেও।
এবং তারচেয়েও বড় দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তাদের এই অখাদ্য রেসিপিতে স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন বলিউডের এমন কিছু অ্যাক্টরস, যাদের কাছ থেকে আমরা কখনোই ভাল বৈ খারাপ কিছু আশা করতে পারি না। অক্ষয় কুমার আমাদের সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র, কারণ তিনি বছরে চারটে পর্যন্ত মুভিতে অভিনয় করে থাকেন, যার তিনটি কমার্শিয়াল হলেও অন্তত একটিতে অভিনয় দিয়ে তিনি আমাদের মন কেড়ে নেন। জন আব্রাহাম, শাহরুখ খান, সালমান খান, সাইফ আলী খান – এনারা যতটা না অভিনেতা তারচেয়ে বেশী এন্টারটেইনার। আর অর্জুন রামপাল, ক্যাটরিনা কাইফ, ইমরান খান, সোনাম কাপুর - এনাদের তো বিধাতা অভিনয় করার ক্ষমতা দূরে থাক, মুখে কোন মাসল ছাড়াই দুনিয়াতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আড়াই-তিন ঘণ্টার মুভি শেষ হয়ে যায়, মাগার তাদের মুখের একটা পেশী নড়ে না, এক্সপ্রেশন তো আরো পরের জিনিস। তাই ওনাদের বুলশিট পারফরম্যান্সও আমরা অম্লান বদনে ক্ষমা করে দিতে পারি। কিন্তু কষ্টে মাথা নত হয়ে আসে, যখন অমিতাভ বচ্চন, নাসিরুদ্দিন শাহ, অজয় দেভগন, রণবীর কাপুর, রাণী মুখার্জি, বিদ্যা বালানের মতন অবতারেরাও কালেভদ্রে দু-চারটা অখাদ্য মুভির স্টারকাস্টে চলে আসেন।
অতঃপর যতই গালমন্দ করি না কেন, দিনশেষে আমরা এদেরই ফ্যান। এদের পচা কাজগুলোর সমালোচনার অধিকার এই আমাদেরই, আমরা যারা এদের ভাল কাজকে এপ্রেশিয়েট করি। আর তাই সব সময় প্রত্যাশা, রাজকুমার হিরানি, অনুরাগ কাশ্যপ, বিশাল ভরদ্বয়াজ, রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা, আদিত্য চোপড়া, ইমতিয়াজ আলী, ফারহান আখতার এবং আরও গুটিকতক আর্টিস্টের ছোঁয়ায় তাদের ক্যারিয়ার সমৃদ্ধি পেতে থাকুক, আমরা সারপ্রাইজড হতে থাকি আর হিমেশ রেশামিয়ার ‘দ্য ক্রনিকলস অফ সুরুর’ কখনো আলোর মুখ না দেখুক।

 

 
লেখক পরিচিতি :
ফার্মাসির ছাত্র ওয়াসিম আকরামের কাছে সময় কাটানোর আদর্শ দাওয়াই হলো বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি আর মুভি গেলা। সিনেমার ক্ষেত্রে তার সবচে ভালো লাগে ড্রামা আর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। তবে পর্দাটা আরেকটু ছোট হলে, মানে টিভিতে আসলে সেটা হয়ে যায় ফ্যান্টাসি। সোজা কথায় গেম অফ থ্রোনস। কলম বা কি-বোর্ড ধরলে স্যাটায়ার লিখতেই বেশি ভালো লাগে তার।

 

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com