Smiley face

চলচ্চিত্র পাঠঃ চারুলতা

image001
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্প অবলম্বনে সত্যজিত রায়ের ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রটির সুরতহাল করেছেন সাকিব মাহমুদ
১৮৭৯ সালের প্লট নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘নষ্টনীড়’ রচনা করেন ১৯০১ সালে, আর তারও ৬৪ বছর পর সে গল্পটি নিয়ে সত্যজিত রায় নির্মাণ করলেন তাঁর নিজের নিখুঁততম ছবিটি, নাম দিলেন ‘চারুলতা’।
প্রথমেই বোঝা যাচ্ছে, রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’ হয়তো শুধু কিছু চরিত্রকে নিয়ে পড়ে ছিল না,(আমি সাহিত্যবোদ্ধা নই) সবগুলো চরিত্র নিয়ে যে বাড়িটি, সেদিকেই বেশী আলোকপাত করেছে । কিন্তু সত্যজিত সে গল্পটিকে সাজিয়ে নিয়ে চারুলতাকে বসালেন প্রধান চরিত্রে । নাম চরিত্রে নিলেন মাধবী মুখার্জীকে । অমল চরিত্রে সৌমিত্র চ্যাটার্জী আর ভূপতি চরিত্রে শৈলেন মুখার্জীকে।
image003নষ্টনীড়ের শুরুটা হয় ভূপতির কাগজ ব্যবসা শুরু হবার ফিরিস্তি দিয়ে । ঘটনা বর্ণনায় আমরা বুঝতে পারলাম, ভূপতি বেশ পয়সাওয়ালা একজন লোক। তাঁর একজন স্ত্রীও আছেন, যিনি স্বামীর সংসারেই কৈশোর থেকে তারুণ্যে পদার্পণ করেছেন । কিন্তু স্বামীর কাজের ব্যস্ততায় তিনি তার স্বামীর সান্নিধ্য, নৈকট্য যা-ই বলি না কেন, কোনোটাই লাভ করার সুযোগ পান না । ফলে তার দিনগুলো কাটে একা একাই । আর এই একাকীত্বের পুরো ব্যাপারটাকে সত্যজিত তুলে আনলেন প্রথম দৃশ্যের ঐ লং সিকোয়েন্সটার মাধ্যমেই । আমরা যেখানে দেখি চারু সেলাইয়ের কাজ করছে, একটু পর বই পড়ছে, দূরবীন দিয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষজন দেখছে, আপনমনে গুণগুণও করছে কিন্তু দ্বিতীয় কোনো চরিত্রকেই দেখা যাচ্ছে না যার সঙ্গে সে একটু কথা বলতে পারে। তারপর যখন আমরা ভূপতির মগ্নতার সঙ্গে ঘরের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া দেখি আর চারুকে দেখি দূরবীন দিয়ে তার স্বামীকে দেখতে, আমরা টের পাই চারুর সঙ্গে তার স্বামীর অন্তর্বর্তীকালীন দূরত্বটা ।
আবার নষ্টনীড়ে ফিরে গিয়ে দেখি, অমল, যে কিনা ভূপতির পিসতুতো ভাই, তাকে গল্পে ভূপতির বাড়ির বাসিন্দা এবং চারুর গল্প করার সাথী হিসেবে দেখানো হলেও সত্যজিত কিছুটা দূরত্বে রেখেছেন । তিনি প্রথমে চারুর একাকীত্বটাকেই জোর দিয়ে দেখালেন, ফলে অমলকে একরকম বহিষ্কার করলেন শুরুর দিকটায় । পরে কোনো এক ঝড়ের দুপুরে অমলের সিনেমাটিক আগমন আর চারুর কাছে প্রথম জিজ্ঞাসা, “বৌঠান, আনন্দমঠ পড়েছ, আনন্দমঠ?”
সাহিত্যকে চলচ্চিত্রে রূপ দিতে গেলে অনেক দৃশ্য পরিবর্তন, পরিবর্ধন করার প্রয়োজন হয়, সেটা আমরা কমবেশী সবাই জানি । কিন্তু এই ব্যাপারটায় সত্যজিতের দক্ষতার হাত কতখানি সেটা  দৃশ্যে image002দৃশ্যে টের পাওয়া যায় এই ছবিটায় । নষ্টনীড়ে যেখানে অমল শুরু থেকেই থাকতো সে বাড়িটায়, সেখানে অমলকে সত্যজিৎ আনলেন এক ঝড়ের সিকোয়েন্সে, যেন ঝড়ের মতই অমলের আবির্ভাব! আবার অমল এসেই যে সংলাপটি বলল, তাতে এটাও স্পষ্ট হয়ে গেলো যে বৌঠানের সঙ্গে অমলের খাতিরটা আগে থেকেই আছে আর দুজনের সাহিত্যচর্চার ব্যাপারটাও বোঝা যায় ।
ওদিকে মন্দা বাড়িতে এসেছে আগেই, তার স্বামী উকিল উমাপদের সঙ্গে । উমাপদের জন্য নষ্টনীড়ে বরাদ্দ ছিল মাত্র তিনটি লাইন, আর কিন্তু তার কর্ম, ভূপতিকে বেশ বড় ধরণের ঝামেলায় ফেলে দিয়েছিল । সেটা বুঝেই সত্যজিত ভাবলেন উমাপদের চরিত্রটাকে ভালোমত প্রতিষ্ঠা করা দরকার আর সেটা তিনি করলেনও । আমরা চলচ্চিত্রে উমাপদের উপস্থিতি বেশ ভালোভাবেই দেখলাম আর উমাপদ নিজের বোনের বড়লোক স্বামীর ক্ষতি করে হলেও নিজের আখের গুছিয়ে নিতে চায় সেই ইঙ্গিতটাও পেয়ে যাই । যাইহোক, মন্দা কিন্তু বেশ বড় সময় ধরে থাকে নষ্টনীড়ে, আর সেটা সত্যজিতও তুলে ধরেন তার নির্দিষ্ট টাইমলাইনের মধ্যেই । বঙ্কিম নিয়ে আড্ডার সময় মন্দার ঘুমিয়ে পড়া, পত্রিকার নাম শুনে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করা, কিছু না বুঝেই অমলের জিজ্ঞাসায় সায় দিয়ে কথা বলে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি থেকে মন্দাকিনীর মূর্খ এবং মুখরা ভাব বেশ স্পষ্ট হয়েই ফুটে ওঠে ।
বাগানের মাঝে অমল আর চারুর কথোপকথনের সময় আমরা তাদের সাহিত্যচর্চার ব্যাপারে বিশদ ধারণা পাওয়া শুরু করি । চারু চাইতো অমল লিখুক, কিন্তু সঙ্গে এটাও চাইতো, এ লেখা কেবল তাদের নিজেদের মধ্যেই থাকবে । এ লেখাগুলো হবে তাদের একান্ত আপন, একেবারেই ব্যক্তিগত । অমলকেও সে এই নিয়ে রাজি করায় কিন্তু অমল পরবর্তীতে সে কথায় সায় না দিয়ে তার লেখা পাঠিয়ে দেয় পত্রিকায়, সে লেখা ছাপাও হয় । অমল যখন নিজের লেখা ছাপা হওয়ার খুশিতে যতটা ডগমগ, তখন আমরা চারুলতাকে দেখি ততটাই বিমর্ষ এবং তার দরজা বন্ধ করে কান্নার দৃশ্য ।  সত্যজিত এদিক দিয়ে পুরোপুরি নষ্টনীড়কেই তুলে এনেছেন, কিন্তু এরপর যখন আমরা চারুলতাকে লিখতে দেখি, সে প্রথমে লিখে ‘কোকিলের ডাক’ । তারপর তাতে সাহিত্যের ভাব আনার জন্য ডাক কেটে লিখে কোকিলের ব্যথা । কিন্তু তারপরও আর লেখা না এগোনোয় চারু ভাবতে থাকে আর সন্ধান পায় তার প্রকৃত রূপের, যা তার গ্রাম । চারু যে মূলত গ্রামের মেয়ে, প্রকৃতিরই সন্তান সেটা তার এই গল্প লেখার বিষয় নির্বাচন থেকেই বেশ বোঝা যায় । এরপর আমরা দেখি চারুর লেখা যখন পত্রিকায় ছাপা হল, সে তখন তার কপট রাগ প্রকাশ করলো অমলের সঙ্গে । চারুর গম্ভীর মুখে হাসি ফুটলো । সে আবার আগের মত করেই অমলের যত্ন নেওয়া শুরু করে, সেটা মন্দার কাছ থেকে পানের বাটা নিয়ে সাজানোর মাধ্যমেই বোঝানো হল । পরে যখন অমলের সঙ্গে কথা কথা হল, অমল চারুর লেখার প্রশংসা করতেই চারু ছুঁড়ে ফেলে দিলো তার লেখা । চারুর কাছে যে পত্রিকার লেখালেখির সম্মানটা কিছুই না, সেটা এখানেই দৃশ্যমান । চারু বরং ভাবছিলো তাদের ব্যক্তিগত লেখালেখির যে খেলাটা সেটা হয়তো আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে, অমল তার ভুল বুঝবে । আর সে দৃশ্যেই চারুর হুট করে অমলের বুকে আছড়ে পড়ার দৃশ্যে অমল হোঁচট খেয়ে গেলেও দর্শকরা সেরকম অবাক হন কী ?

image004

একটু পেছনে ফিরে যাই । বাগানে আড্ডার দৃশ্যে চারু দূরবীন দিয়ে দেখতে দেখতে হঠাৎ একটি বাচ্চা এবং তার মাকে দেখতে পায় এবং থমকে যায় । চারু তখন সাবধানে তাকায় অমলের দিকে। অমল তার দেবর হলেও দর্শকমাত্রই ঐ দৃশ্য দেখে বুঝতে পারেন, চারু হয়তো অমলের কাছ থেকে নির্মল ভালোবাসা চায়, পাশে থাকতে চায়, তাতে বাজে কিছু নেই ।
বলে রাখা ভালো, নষ্টনীড়ে চারুর ভালোবাসার কথা অমল টের পেয়েছিলো, এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই । কেবল চারুর ভালোবাসাটাই ছিল।
এরপর ঘটনাপ্রবাহে উমাপদের জোচ্চুরি বের হয়ে আসে । ভূপতির বাড়িতে আসতে দেরী দেখে চারুলতা ভয় পেয়ে অমলকে শপথ করায় যাতে অমল কোনোদিন তাকে ছেড়ে না যায় । কিন্তু ভূপতির মুখ থেকে উমাপদের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে শুনে আর ভূপতির সে বিষয় নিয়ে গভীর কষ্ট দেখে আমরা অমলকে দেখি এক ধরণের অস্বস্তির মধ্যে দিয়ে যেতে । যার ফলে পরদিনই অমলকে পালিয়ে যেতে দেখা যায় একটা চিরকুট রেখেই । সেখানে যদিও দাদার গলগ্রহ হয়ে থাকাটাই কারণ হিসেবে বলেছে অমল, কিন্তু দর্শক বুঝতে পারে এক ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত  অপরাধবোধ থেকে অমলের এই পালিয়ে যাওয়া ।
চারু অমলের এরকম প্রস্থানের খবর শুনেই দৌড়ে অমলের ঘরে গিয়ে দেখে তার নিজ হাতে বানানো চপ্পলজোড়া মেঝেতে পরে আছে । অমল যে চারুর কোনো স্মৃতিই আর রাখতে চায় না, এ কথা বুঝতে পেরে চারুকে ভেঙ্গে পরতে দেখি আমরা । কিন্তু তার পরেই আবার চারুকে দেখা যায় কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে, স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করতে । যার ফলে সে তার স্বামীর সঙ্গে সমুদ্র পাড়ে বেড়াতে যায় । কিন্তু বাড়ি ফিরে ভূপতির কাছ থেকে অমলের চিঠি নিতে গিয়ে আর চিঠি থেকে ভালো খবর শুনতে পাবে এরকম ‘আশংকায়’ আবারও ভেঙ্গে পরে । বাইরে ঝড় শুরু হয় । ঝড়ের মত করে চারুর জীবনে অমলের আগমন আর আরেক ঝড়ের মাধ্যমে চারুর জীবন থেকে অমলের (হয়তো) প্রস্থান । ঝড় শেষে প্রকৃতি যেমন নতুন করে সাজিয়ে নেয় তার চারপাশ, যাবতীয় ধ্বংসাবশেষকে সঙ্গে রেখেই, চারুকেও দেখা যায় ঠিক তেমনি করে নিজেকে আবার স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করতে । চারুর চোখেমুখে অবশেষে ফুটে ওঠে পরিপক্ক্বতা । ওদিকে অমলের নাম বলে বলে চারুর কান্না দেখে ভূপতি অবশেষে টের পায় অমলের প্রতি চারুর মমত্বটা নেহায়েত স্নেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না, তার পরিধি ছাড়িয়ে গেছে আরো অনেক দূর । ফলে সে যখন বাড়ি ফিরে আসে তখন চারুর বাড়িয়ে দেওয়া হাতের দিকে সংশয় নিয়ে নিজের হাত তুলে ধরে ভূপতি । শটটাকে ফ্রিজ শটে আটকে দেন সত্যজিত । যার মাধ্যমে এই চারু, ভূপতি, তাদের চাকর ব্রজ কিংবা এই পুরো বাড়িটার ভবিষ্যত কী হতে পারে তা নিয়ে গোটা অনিশ্চয়তাটাই তুলে ধরেন সত্যজিত ।

image005

গল্পের শেষের দিকের এই লম্বা অংশের মূল অংশটা নষ্টনীড়ের সঙ্গে ঠিক রেখে সত্যজিত অনেকাংশেই ইম্প্রোভাইজের আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেটা অসাধারণ ভাবে উতরে গিয়েছে । রবি ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ যেমন সাহিত্য হয়ে উঠেছে, সত্যজিতের ‘চারুলতা’ও তেমনি একটি চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছে । সত্যজিত তাঁর চলচ্চিত্রে সাহিত্য চর্চা করতে আসেন নি বলেই চলচ্চিত্রটি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেছে । আর তাই সব মিলিয়ে ‘নষ্টনীড়’ আর ‘চারুলতা’র গল্প এক হলেও প্রেজেন্টেশনের ভিন্নতায় দুটোই তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রাখতে পেরেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো গল্পের এরকম অসাধারন চলচ্চিত্রায়ন সত্যজিত রায় করতে পেরেছেন বলে মুক্তির এতো বছর পরও এই ‘চারুলতা’ ছবিটির আকর্ষণ এখনো একই রকম রয়েছে এবং ভিন্ন ভিন্ন দেশের নানা ভাষাভাষীর মানুষজনকে আকর্ষণ করে যাচ্ছে ।
‘চারুলতা’ নিয়ে কিছু  তথ্যঃ
১) চলচ্চিত্রটিতে যে বাড়িতে শুটিং হয়, সেটি মূলত মাটি থেকে তিন-চার তলা উঁচু হতে নির্মিত এক তলা একটি সেট । বংশী চক্রবর্তীর সেট নির্মাণে মুন্সিয়ানার পরিচয়!  দোতলার আদল দেখানোর জন্য বাড়ির বারান্দা থেকে কোনো হাই এঙ্গেল শটের ব্যবহার হয়নি । সবই সুব্রত মিত্রর ক্যামেরার কেরামতি!
২) মাধবী মুখার্জীকে অভিনয়ে নিতে গিয়ে খানিকটা ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল, কারণ উনার দাঁত। মাধবী মুখার্জীর পান খাওয়ার বদ অভ্যাসের ফলে দাঁতে প্রায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া দাগ আর রবি বাবুর চারুর দাঁত তো আর এক না । ফলে সুব্রত মিত্রর ক্যামেরার কেরামতি, মানে ডায়লগের সময় আই লেভেলের চেয়ে কিছুটা উঁচু থেকে শট নেওয়ার ফলে মাধবীর দাঁতের দাগ লুকানো সম্ভব হয়েছিলো ।
তথ্যসূত্রঃ
* নষ্টনীড় – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* বিষয় চলচ্চিত্র – সত্যজিত রায়
* Satyajit Ray : Inner Eye –Andrew Robinson
 
 
লেখক পরিচিতিঃ
সাকিব মাহমুদ পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন এন্ড ফিল্ম স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টে। কলেজে জীবনে চলচ্চিত্রের নেশা এমনভাবে ঢুকে গিয়েছিল যে, সেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। তিনি চেষ্টাও করেননি খুব একটা। প্রিয় পরিচালক ঋত্বিক নাকি সত্যজিত তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে এখনো। প্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চ্যাটার্জি, প্রিয় দল আর্সেনাল এবং ব্রাজিল। স্বপ্ন আছে, বাংলাদেশের মানুষকে আবারও সত্তর বা আশি'র দশকের দর্শকদের মত সিনেমা নিয়ে আগ্রহী করে তুলবেন।

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com