Smiley face

সিনেমার কপিক্যাট ক্রাইম

Knife
অপরাধ, অপরাধী, খুন, খুনী এসব নিয়ে তো হরদম সিনেমা হচ্ছে, যার অনেকগুলো আবার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। কিন্তু মনে করুন, আপনি সিরিয়াল কিলার নিয়ে সিনেমা দেখছেন আর পর্দায় ভয়ংকর অপরাধটি দেখে মনে হলো, “Hey, that’s a cool idea!!!”  সিনেমা দ্বারা প্রভাবিত এইরকম কপিক্যাট ক্রাইম কিন্তু এই ধরাধামে আসলেই হয়েছে এবং এর সংখ্যাটা কিন্তু নেহায়েত কমও না। আর এমনই মোহাবিষ্ট কিছু হত্যাকাণ্ডের গল্প কলমে শাণ দিয়ে বডি ব্যাগে পুরেছেন আশিকুর রহমান তানিম
 
সিনেমা মানুষ কেন দেখে? এই প্রশ্ন আপনাকে করা হলে আপনি কি জবাব দেবেন? সিনেমা যেহেতু শিল্পের একটি মাধ্যম, আর শিল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য যেহেতু মানুষকে পরিশীলিত বিনোদন যোগানো, সেহেতু বেশিরভাগের কাছেই বোধহয় এই উত্তর পাওয়া যাবে যে, তারা সিনেমা দেখেন নিখাদ বিনোদনের জন্য। কেউ কেউ হয়তো সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করেন, কিংবা জীবিকা চালান বলে একটু-আধটু পড়াশোনার জন্য চেখে দেখতে হয়। কারো কারো কাছে সিনেমা হয়তো নেশার মত, তাই বেলা করে তাদের সিনেমার ডোজ নিতে হয়, কেন হয় সেটিও মনে হয় একটি পর্যায়ে গিয়ে উপলব্ধির বাইরে চলে যায়। কিন্তু, আসলে দর্শক শ্রেণী নির্বিশেষে সবার কাছেই সিনেমার অভিন্ন উদ্দেশ্য এক- বিনোদন, বিনোদন শুধু বিনোদন।
কিন্তু, পৃথিবীতে কেউ কেউ আছেন আপনাদের আমাদের মতোন সাধারণ দর্শকের কাতারের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তারা নিছকই সিনেমাখোর নন। সিনেমাটা বরংচ তারা চর্চা করেন(!), কিন্তু সেই চর্চার গতিপথটা একদমই ঋনাত্মক! আমরা যাদের কথা বলছি, তারা সব একেকজন অপরাধী! হ্যা, অপরাধটা তারা করেছেন ঠিক সিনেমার অবলম্বনে; হয়তো কোন চরিত্রের অনুকরণে অথবা সিনেমার কোন দৃশ্যপটের অনুকরণে, প্রভাবিত হয়ে। এইরকম অপরাধের একটা গালভরা নাম আছে, ‘কপিক্যাট ক্রাইম’; অবশ্য ফিকশন সাহিত্য অনুকরণে করা অপরাধকেও এই নামে ডাকা হয়। বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক ভয়ংকর অপরাধ বা অপরাধীদের নিয়ে পরবর্তীতে পর্দায় বানানো ছবির সংখ্যা অনেক। কিন্তু, সিনেমায় দেখানো কাল্পনিক অপরাধের বাস্তবরূপ পাওয়ার সংখ্যাটাও কিন্তু নেহায়েত কম না। এরকম কিছু ঘটনাই দেখা যাকঃ
ট্যাক্সি ড্রাইভারঃ
a92
মার্টিন স্করসেসির পরিচালনা ও রবার্ট ডি নিরো ও জোডি ফস্টার অভিনীত সর্বকালের অন্যতম সেরা সিনেমা ট্যাক্সি ড্রাইভার। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ফেরত এক ভেটেরান যুবক ট্র্যাভিস বিকলের মানসিক অস্থিরতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো এই সিনেমায়। সিনেমার এক পর্যায়ে
বিপর্যস্ত ট্র্যাভিস পরিকল্পনা করে বসে প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনের নমিনেশন পদপ্রার্থী প্যালেন্টাইন কে খুন করার। বাস্তবতা আর কল্পনার মাঝের সীমারেখা বুঝতে অক্ষম জন হিংকলে জুনিয়র নামের এক মার্কিন যুবকও ঠিক এরকম এক পরিকল্পনা করে বসে একদিন। কারণ, হিংকলে নিজেকে মনে করতো ট্র্যাভিস বিকলের অনুরূপ। আর সেই সুবাদেই, হিংকলে প্রেমে পড়েছিলো জোডি ফস্টারের। তার মনে হয়েছিলো, শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের বুকে গুলি চালিয়েই জোডি ফস্টারের মন পাওয়া সম্ভব! আর তাই ১৯৮১ সালের ৩০শে মার্চ, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটনে এক হোটেল থেকে বের হলে তার দিকে গুলি ছোড়েন এই ব্যাক্তি! রিগ্যান আর তার এক দেহরক্ষী আহতও হন এই ঘটনায়। পরবর্তীতে হিংকলে এই ঘটনাকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে অনন্য প্রেমের প্রস্তাব’ বলে অভিহিত করেন!
আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জঃ
স্ট্যানলি কুব্রিকের এই সিনেমা সিনেমার ইতিহাসেই এক অনন্য মাইলফলক। একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে এই ছবিটি ‘অ্যালেক্স’ নামের এক ‘ডেলিনকুয়েন্ট’ (কিশোর অপরাধী) কে a_clockwork_orange_58585-1600x1200উপজীব্য করে বানানো। এই ছবিতে ডিস্টোপিয়ান এক পৃথিবী দেখানো হয়েছে, যেখানে অ্যালেক্স তার আরো তিন বন্ধু নিয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ করে বেড়ায়।
১৯৭১ সালে এই ছবি মুক্তি পাওয়ার পর ততকালীন ব্রিটেনের অনেক হুডলামদের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা যায়। ১৯৭৩ সালেই এইরকম দুটি ঘটনা ঘটে যা হুবহু সিনেমা দ্বারা প্রভাবিত। ১৬ বছরের এক যুবক কোন কারণ ছাড়াই পিটিয়ে হত্যা করে এক বৃদ্ধকে। আবার একই বয়সের আরেক কিশোর ঠিক অ্যালেক্সের মতই পোশাক পরে তার চেয়ে ছোট আরেক ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে (ছবিতে বিলি-বয় এর সাথে মারামারির দৃশ্যের মত)। তার চেয়েও ভয়াবহ ব্যাপার ঘটে নেদারল্যান্ডস এ। একজন মহিলা গণধর্ষণের শিকার হয় এবং ধর্ষণকারীরা তখন অ্যালেক্সের মতই ‘সিংগিং ইন দ্যা রেইন’ গানটি গাচ্ছিলো! শেষমেশ অবস্থা এতোটাই বেগতিক হয়ে দাঁড়ায় যে কপিক্যাট ক্রাইম বন্ধের জন্য কুব্রিক বাধ্য হন এই ছবিটি ব্রিটিশ সার্কুলেশন থেকে উঠিয়ে নিতে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে, কুব্রিকের সেলফ-উইথড্রয়াল এর ২৫ বছর পরে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের আগ্রহে মুভিটির ডিস্ট্রিবিউশন আবার শুরু হয়!
দ্যা ডার্ক নাইটঃ
ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাটম্যান ট্রিলজির দ্বিতীয় ছবি দ্যা ডার্ক নাইট। এই ছবির অ্যান্টাগনিস্ট জোকারকে পাঁড় মুভিভক্তদের কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু dark-knight-shooting-2012-james-holmes1নেই। অসাধারণ অভিনয় দিয়ে হিথ লেজার জোকারকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়।
এরপরের তৃতীয় ছবি দ্যা ডার্ক নাইট রাইজেস মুক্তি পায় দ্যা ডার্ক নাইটের ৪ বছর পর ২০১২ সালে। ছবিটি ঐ বছর রেকর্ড পরিমাণ আয় করে। যদিও বেশ কিছু হলে পরিবেশকরা মুভিটির প্রদর্শন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। কারণ? সেই কপিক্যাট ক্রাইম! কলারাডোর এক থিয়েটারে দ্যা ডার্ক নাইট রাইজেস প্রদর্শন চলাকালীন হুবহু জোকারের মত সাজ নিয়ে জেমস ঈগান হোমস নামের এক ব্যাক্তি ১২ জনকে হত্যা করেন, আরো ৭০ জন হন আহত। গুলি শুরু করার আগে চিৎকার দিয়ে বলেন, “আই অ্যাম দ্যা জোকার!” পরে তাকে গ্রেফতার করে তার ঘরে ৩০ টি গ্রেন্যাড, বিপুল সংখ্যক বিস্ফোরক, গ্যাসোলিন ইত্যাদি সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়!
দ্যা ম্যাট্রিক্সঃ
ওয়াচোওস্কি ব্রাদার্স (এখন অবশ্য সিব্লিং) এর বানানো, কিয়ানু রিভস ও হুগো উইভিং এর tumblr_noelnkKpom1r8gw41o1_500বিখ্যাত সিনেমা দ্যা ম্যাট্রিক্স! বিশ্বাস করুন আর না করুন, এই ক্ল্যাসিক সাই-ফাই সিনেমাও বেশ কিছু হোমিসাইড বা খুনের জন্য দায়ী!
ম্যাট্রিক্স মুভিতে দেখানো হয়, আমাদের অস্তিত্ব আসলে কম্পিউটার জেনারেটেড এক সিম্যুলেশন প্রোগ্রামেই বিস্তৃত। আমরা যা কিছু করি, তার সবই সিম্যুলেটেড এক স্বপ্ন। ২০০২ সালে টণ্ডা আন্সলি নামের এক নারীকে তার বাড়িওয়ালাকে হত্যার দায়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। টন্ডা দাবী করে সে এই খুনটি করেনি, বরং পুরোটাই স্বপ্নের সিম্যুলেশনে ঘটেছিলো। পরবর্তীতে আরেকটি খুনেও একই সিনেমার প্রভাব দেখা যায় যখন অপরাধী পুলিশকে বলে তার মোটিভ বুঝার জন্য দ্যা ম্যাট্রিক্স ছবিটি দেখতে! এইরকম অপরাধ আরো সংঘটিত হতে থাকে; শেষমেশ আদালতে ‘দ্যা ম্যাট্রিক্স ডিফেন্স’ নামে একটা নতুন টার্মই যোগ হয় এইসব সাইকোপ্যাথ অপরাধীদের জন্য। আরো আজব ব্যাপার কি জানেন? উপরে বর্ণিত দুইজনই ইনস্যানিটির জন্য বেকসুর খালাস পেয়েছিলো!
 
 
ফাইট ক্লাবঃ
ডেভিড ফিঞ্চারের পরিচালনায় ব্র্যাড পিট ও এডওয়ার্ড নর্টন অভিনীত সিনেমা ‘ফাইট ক্লাব’ কাল্ট সিনেমা হিসেবে খুব সম্ভবত ১ নাম্বারেই। ফাইট ক্লাবের আদলে কতশত ক্লাব তৈরি alg-court-shaw-jpgহয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এইরকম ধ্যানধারণার অনুসারীও ছিলো অসংখ্য! কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার ঘটে ২০০৯ সালে, কাইল শ নামের এক টিন-এজার প্লাস্টিক বোতল, আতশবাজি আর ইলেকট্রিক টেপ ইউজ করে বানানো এক বোম দিয়ে যখন নিউইয়র্কের স্টারবাকস কফির এক ফ্র্যাঞ্চাইজি উড়িয়ে দেয়। তার ভাষায়, এটা তার নিজস্ব ‘প্রজেক্ট ম্যাহেম’। তার পরিকল্পনা ছিলো আরো বিশাল! কাইল শ ছিলো ফাইট ক্লাবের মাত্রাতিরিক্ত ভক্ত। সে তার বন্ধুদের অস্তিত্ববাদ নিয়ে বিশাল বিশাল লেকচার দিতো। কেউ ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি, এই ছেলে একদিন পুরো নিউইয়র্ক গুড়িয়ে দেয়ার প্ল্যান করবে! যাই হোক, ২০১২ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তার সাড়ে ৩ বছরের জেল হয়।
 
 
দ্যা বাস্কেটবল ডায়েরিজঃ
লিওন্যার্দো ডি ক্যাপ্রিও অভিনীত ও স্কট কালভার্ট পরিচালিত এই সিনেমাটিও বেশ দর্শকনন্দিত। সিনেমাটিতে লিওন্যার্দোকে দেখা যায় এক কমবয়সী বাস্কেটবল খেলোয়াড় downloadচরিত্রে, যার প্যাশন বাস্কেটবল। সে চায় বিখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড় হতে। কিন্তু স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে আসে হেরোইন আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপার টা। এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো। গোল বাধে সিনেমার ক্ষুদ্র একটা দৃশ্য নিয়েই। তাও এক স্বপ্নের দৃশ্য বা ড্রিম সিক্যুয়েন্স নিয়ে। ঐ দৃশ্যে দেখা যায় লিওন্যার্দো ক্লাসে ব্ল্যাক একটা রেইনকোট আর হাতে শটগান নিয়ে ঢুকে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ঠিক তেমনি, মুক্তির পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৬ সালেই, ব্যারি লুকাইটিস নামের এক স্কুলছাত্র তার ক্লাসে ঢুকে ঠিক একই বেশভূষায় ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর হিস্টিরিয়াগ্রস্তের মত বলতে থাকে, “That sure beats hell out of Algebra. Doesn’t it?”
 
 
 
দ্যা টাউনঃ
বেন অ্যাফ্লেকের অস্কার মনোনীত ক্রাইম ড্রামা ফিল্ম দ্যা টাউন দেখেছেন? ছবিতে ব্যাংক ডাকাতিকে দেখানো হয়েছে বেশ রোমাঞ্চকর হিসেবে। একটা চার্চের নানের রোব পড়ুন, মুখোশ লাগান, আর বন্দুক নিন হাতে- ব্যাস; হয়ে গেলেন কুল ব্যাংক ডাকাত! ছবিটি এক the-town-robbersব্যাংক ডাকাত আর তার ব্যাংক ডাকাতির সাক্ষী একজনের প্রেমে পড়ে যাওয়া নিয়েই।কিন্তু, ছবির স্ক্রিপ্ট যে বাস্তবেও অভিনীত হবে, তা বেন অ্যাফ্লেক বেচারা নিজেও বোধহয় কল্পনা করেনি! নিউ ইয়র্কের একদল ডাকাত ছবির ক্রাইম কপিক্যাট করে ৬২ টি (হুম, ঠিকই পড়েছেন!) ডাকাতি করেছে, মোট ২ লাখ ১৭ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের সম্পদ ছিনিয়েছে। একদম ছবির মতই তারা ঢুকেই বিদ্যুতের লাইন কেটে দিতো, এরপর খনিশ্রমিকদের মত লাইট ওয়ালা হেলমেট পড়ে ডাকাতি করতো, আর শেষে ব্লিচ ব্যাবহার করে মুছে দিত ওদের ডিএনএর ছাপ। শেষমেশ ধরা পড়ার পর স্বীকার করে, এই সিনেম্যাটিক পদ্ধতিতেই ওরা ৬২ টি ডাকাতি করেছে! ইলিনয়েস ও নেব্রাস্কায়ও এরকম একদল ধরা পড়েছিলো।
 
শুধু কি সিনেমা? এ তালিকায় আছে টিভি সিরিজও!
ডেক্সটারঃ
ডেক্সটার! মায়ামি শহরের স্বল্পভাষী এক যুবক। টিভির এই বিখ্যাত সিরিয়াল কিলার
(ক্রমিক খুনী) তাদেরকে রাতের বেলা মেরে ফেলতো, যারা আইনের গলে বেরিয়ে যেত। ২০০৯ সালে ১৭ বছরের এক কিশোর অ্যান্ড্রু কনলি তার ১০ বছর বয়সী ছোটভাইকে ht_andrew_conley_photo_ll_110317_wmainশ্বাসরোধে মেরে ফেলে। তার প্রসিকিউটর পরবর্তীতে বলেন, অ্যান্ড্রু পরবর্তীতে স্বীকার করে যে, ডেক্সটার দেখে দেখে সে মানুষ মারার ব্যাপারটা ফ্যান্টাসাইজ করেছে অসংখ্যবার! সে আদালতে জবানবন্দীতেও বলেছে, “ডেক্সটার দেখেছেন? সে খারাপ মানুষদের মারে। আমিও ওর মত অনুভব করি”। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরও ডেক্সটারের প্রতি এই অবসেশন যায়নি অ্যান্ড্রুর। ভিজিটিং আওয়ারে দেখা করতে আসা বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছে, “ডেক্সটার কি ট্রিনিটিকে মেরে ফেলেছে? ডেক্সটার কে কি পুলিশ গ্রেফতার করেছে?” এরকম সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কপিক্যাট ক্রাইমের উদাহরণ আছে ভুড়ি ভুড়ি। যেমন স্ক্রিম, স, মানি ট্রেইন, ন্যাচারাল বর্ন কিলার্স, চাইল্ড’স প্লে সিরিজ, ডিয়ার হান্টার ইত্যাদি সিনেমা আর ব্রেকিং ব্যাড, সিক্স ফিট আন্ডার, জেরিকো ইত্যাদি টিভি সিরিজের প্লট নকল করেও ঘটানো হয়েছে অপরাধ!
 
এখন কথা হচ্ছে, এই অপরাধের মূল কারণ আসলে কি? জানি, অনেকেই দোষ চাপাবেন সিনেমার উপর। হয়তো বলবেন, অতিরিক্ত সহিংসতা দেখানোই এসবের মূল কারণ। কিন্তু, সিনেমা তো একটা গল্পই, তাই না? গল্পের প্রয়োজনেই সহিংসতা আর সেটা অস্বীকার করার কোন উপায় তো নেই। আবার এরকম অপরাধও সংঘটিত হয়ে আসছে বছরের পর বছর। মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত কেউ এসব সিনেমা দেখে হয়তো বাস্তবজ্ঞান হারিয়েই এসব দুর্ঘটনা ঘটায়! তাই, এ তর্কের আসলে শেষ নেই, কারণ কোন জিনিস কখন কাকে কোন অবস্থায় ট্রিগার করবে গাণিতিক সূত্র দিয়ে সেইটা পরিমাপ করা যায় না। এই প্রসংগে জোকারের একটা উক্তিই যথার্থ বলে মনে করি, “Madness is like gravity. All you need is just a little push.” এখন আপনিই বলুন, এই যে পড়ে যাওয়া- দোষটা অভিকর্ষকে দিবেন না ধাক্কা কে?
পুনশ্চঃ বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের অনেকেরই আফসোস, বাণিজ্যিক ধারার সিনেমাগুলো ঠিক বাস্তবসম্মত না। ভাগ্যিস, সিনেমা গুলো এরকম অবাস্তব। খুব বেশি বাস্তব হলে, ঈশ্বর না করুক, কেউ কেউ হয়তো বাস্তব আর ফিকশন গুলিয়ে ফেলে ভিলেনের মত ‘সানডে মানডে কোলোজ কইরা দিমু’ টাইপ ডায়লগ দিয়ে দু-চারটা খুন করে ফেলতো! সেই দিন আমাদের দেশে না আসুক!
 
 লেখক পরিচিতি :
আশিকুর রহমান তানিম পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে। পড়ার বিষয় ব্যবস্থাপনা হলেও মাথায় অবিন্যস্ত সব চিন্তা খেলা করে। সিনেমা দেখতে আর সিনেমা নিয়ে লিখতে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন বই পড়তে, ঘুরে বেড়াতে। একটা রুম (টুয়েলভ অ্যাংরি মেন) কিংবা ট্রেইনে (নায়ক) আস্ত একটা সিনেমা শেষ হতে দেখে এতোটাই মুগ্ধ হন যে, এখনও প্রিয় পরিচালক বলতে সিডনি আর সত্যজিতের নামটাই সবার আগে মনে পড়ে। প্রিয় অভিনেতা পাচিনো, প্রিয় ক্লাব রিয়েল মাদ্রিদ আর ফ্রান্স। স্বপ্ন দেখেন চলচ্চিত্র নির্মাণের।

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com