Smiley face

Lagaan-Rebel with a cause

image001
 লাগান বললে প্রথমে আমাদের চোখে কি ভেসে ওঠে? আমির খান আর ক্রিকেট! সোজা কথায় ভারতের সবচে সফল দুই উপকরণের সম্মিলন। ২০১৬ সালে পূর্ণ হচ্ছে লাগানের পনেরো বছর। এত বছর পর, লাগান স্রেফ একটা ভালো মুভি হিসেবে পরিগণিত হয়। কিন্তু এই সিনেমার বক্তব্য আর নির্মাণের গল্প, দুই জায়গাতেই যে কতটা সংগ্রাম লুকিয়ে আছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সেই বৈপ্লবিক নির্মাণের কথা জানিয়েছেন স্নিগ্ধ রহমান।
 
গল্পের শুরুর গল্প
 ১৯৯৬ সালের অক্টোবর মাস। পর পর দুটো মুভি (Pehla Nasha, Baazi) বানানোর পর স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকার। মুভিগুলো দর্শক-সমালোচক কোন মহলেই সমাদর পায়নি। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি নিজেই ছবি দুটো নিয়ে সন্তুষ্ট নন। আশুতোষ ঠিক করলেন, এমন মুভি বানাবেন যেটার উপর তার নিজের বিশ্বাস থাকবে। নির্বাসনের অবসরে আশুতোষ বসে বসে বিমল রায়, কে.আসিফ, গুরু দত্তের বিভিন্ন ছবি দেখতেন। তিনি অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন, কলকাতার এক ঋণগ্রস্ত রিকশাচালক (Do Bigha Zameen) বা এক স্বপ্নাতুর কবিকে (Pyaasa) নিয়ে নির্মিত ছবিও ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। অথচ এগুলো ছিল প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বিপরীতমুখী গল্প। আশুতোষ বলার মতো নতুন গল্প খুঁজছিলেন। এভাবেই একদিন তার মাথায় লাগানের আইডিয়াটা এলো। আশুতোষের প্রথম দুই ছবির ব্যর্থতা এখানে এক অর্থে শাপে-বর হয়ে দাঁড়ালো। কারণ ঐ ছবিগুলো সফল হলে, তার মাঝে হয়তো নতুন কোন গল্প বলার প্রয়োজনই জন্ম নিতো না।
আশুতোষ তার প্রাথমিক আইডিয়াটা জানালেন বন্ধু আমির খানকে। আমির শুনে বললেন : ফালতু আইডিয়া। image002বাসায় যাও আর ট্রাই টু মেক সামথিং সেফ। আমিরের কথায় আশুতোষের আরো জেদ চেপে বসে। মাস পাঁচেক পর আবার হাজির হন, হাতে স্ক্রীপ্ট। আমির সাফ জানান দেন, এটা যদি সেই ক্রিকেট নিয়ে গল্পের স্ক্রীপ্ট হয়, তো তিনি শুনবেন না। আশুতোষ জোর করেই গল্পটা আমিরকে শোনান। গল্প পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয়বারের মতো না করে দেন আমির। আশুতোষ গল্পটা নিয়ে বিভিন্ন প্রযোজকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। কিন্তু কেউই প্রযোজনা করতে রাজি হয়নি।
এমন সময় আমির আশুতোষকে তৃতীয়বারের মতো গল্পটা শোনাতে বলেন। এবার সাথে আমিরের বাবা, মা, স্ত্রী (রীনা দত্ত)-ও ছিলেন। স্ক্রীপ্ট রিডিং শেষে আমির জানালেন তিনি শুধু অভিনয় নয়, ছবিটা প্রযোজনায়ও করবেন। কারণ অন্য কেউ ছবিটা প্রযোজনা করলে, অবশ্যই বাজেট কমানোর চেষ্টা করবে। এবং তাতে করে ছবিটা পরিপূর্ণভাবে নির্মিত হবে না।
মাঠ ও খেলোয়াড়ের সন্ধানে
শুরু হলো লোকেশনের খোঁজ। আশুতোষের প্রয়োজন ছিলো এমন একটা লোকেশনের, যেটা দেখলে মনে, হবে এখানে গত তিন চার বছর কোন বৃষ্টিই হয়নি। এছাড়া সেখানে সভ্যতার চিহ্ন, যেমন : কারেন্টের তার, বিল্ডিং এসব কিছুই থাকবে না। অবশেষে ১৯৯৮-এর শেষ দিকে পাওয়া গেল মন মতো লোকেশন- গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভূজ শহরের নিকটবর্তী এক গ্রাম কুনারিয়ায়। সব পেশার সবচে সেরা মানুষটিকে বেছে নেওয়া হলো কাজের জন্য। গীতিকার জাভেদ আখতার, সুরকার এ.আর.রহমান, চিত্রগ্রাহক অনিল মেহতা, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অপূর্ব লাখিয়া, কস্টিউম ডিজাইনার অস্কার বিজয়ী ভানু আথাইয়া, মেক-আপ ডিজাইনার কানাডার নিকোল ডেমার্স যুক্ত হলেন লাগান টিমের সাথে। আমির ততদিনে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসারের দায়িত্ব সঁপে দিয়েছেন স্ত্রী রীনার হাতে। তবে শুধু পেশাদারী ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব তাদের নিয়োগের প্রধান পরিমাপক ছিলনা। আমির ও আশুতোষ তাদেরই নিয়েছেন, যাদের স্বপ্ন দেখার সাহস ও "উচ্চাভিলাষ" দুটোই ছিলো।
লোকেশনের কথা শুনে আৎকে উঠলেন প্রোডাকশন হেড শ্রীনিবাস রাও। ভূজ এতটাই প্রত্যন্ত অঞ্চল যে সেখানে থাকা তো দূরের কথা, পৌঁছানোও মোটামুটি একটা কঠিন কাজ। একমাত্র সূর্যবাড়ি ব্রিজের মাধ্যমে সেখানে যাওয়া যায়, সেটাও কিনা একশো বছর আগে এই ইংরেজরাই বানিয়ে গিয়েছিল। ভূজের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৭-৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকে। তিনি হিসাব করে দেখালেন, সেখানে শুটিং করলে খরচ সরাসরি দ্বিগুণে গিয়ে দাঁড়াবে। নিশ্চিত ফ্লপ যে ছবিটা মুম্বাইয়ের কেউ ফাইন্যান্সই করতে চাচ্ছে না, অযথা সেটার খরচ ডাবল করার কোন যুক্তি রাও খুঁজে পেলেন না। তিনি পরামর্শ দিলেন মুম্বাই ফিল্ম সিটিতে কম খরচে মুভিটা শেষ করতে। কিন্তু আমির রাজি হননি। তার এক কথা, "Think big! Think cinemascope!! Think David Lean!!!"
স্ক্রীপ্ট নিয়ে আমির আর আশুতোষ গেলেন জাভেদ আখতারের কাছে। জাভেদ আখতার শুধুমাত্র গীতিকারই নন, একসময়কার সবচে দামী স্ক্রীপ্ট রাইটারদের একজনও বটে (বিখ্যাত স্ক্রীপ্ট রাইটিং জুটি সেলিম-জাভেদের একজন ছিলেন জাভেদ আখতার। অন্যজন সালমান খানের বাবা সেলিম খান)। জাভেদ আখতার স্ক্রীপ্ট শুনে বললেন, মূলধারার হিন্দি সিনেমার কিছু নিয়ম (Don'ts) আছে। পিরিয়ড ড্রামা বা ঐতিহাসিক সিনেমা বানানো যাবে না (লাগানের সময়কাল ১৮৯৩), খেলা নিয়ে সিনেমা হবে না (লাগানের মূল লড়াইটাই খেলার মাঠে) নায়কের হেয়ার স্টাইল পাল্টে তাকে অন্য পোশাকে দেখানো যাবে না (পুরো সিনেমায় আমিরের ধূতি পড়ে থাকার কথা), আর যাই হোক আঞ্চলিক ভাষা তো একদমই ব্যবহার করা যাবে না (লাগানের বেশিরভাগ সংলাপ আভধী, ভোজপুরি ও ব্রজ ভাষার সংমিশ্রণ)।  এত কিছুর পরও, আমির আর আশুতোষের ভাবনা জাভেদ আখতারের ভালো লাগলো। তিনি গান লিখতে রাজি হয়ে গেলেন।
কাস্টিং শুরু হয়ে গেল। আশুতোষ ঘোষণা দিলেন সবাইকে অডিশন দিতে হবে। তখন শুধুমাত্র নবাগত আর নবিশদেরই স্ক্রীন টেস্ট নেওয়া হতো। স্বাভাবিকভাবেই সিনিয়র শিল্পীরা ক্ষেপে গেলেন। কিন্তু লাভ হলো না, image004আশুতোষ অনড়। প্রতিটি চরিত্রের জন্য হাফ ডজন করে প্রায় দুইশ শিল্পীর টেস্ট নেওয়া হলো। টেস্ট মানে শুধু সংলাপ আওরানো নয়। পোশাক, মেক-আপ তো বটেই চরিত্র অনুযায়ী ঢাক, কুমোরের চাক নিয়ে বসতে হলো সবাইকে।
ভারতের কাস্টিং শেষে আশুতোষ, আমির, রীনা ত্রিরত্ন হাজির হলো ইংল্যান্ডে। উদ্দেশ্য খোদ ইংল্যান্ড থেকে অভিনেতা নেওয়া। কাস্টিং ডিরেক্টর ড্যানিয়েল রফ'র কাছে রিকয়ারমেন্টের লিস্ট ধরিয়ে দিলেন তারা। সেই লিস্টের চাহিদা এমন যে, সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ সজ্ঞানে তাতে রাজি হবার কথা না। তারপরও এক মহিলাসহ বারোজন পাগলের খোঁজ পেয়ে গেলেন তারা। অভিনেতাদের পছন্দ করার জন্য, তাদের দিয়ে সত্যিকারের একটা ম্যাচও খেলানো হয়েছিল।
এদিকে আশুতোষ তার মন মতো নায়িকা (গৌরীকে) খুঁজে পাচ্ছেন না। আমিষা, নম্রতা, নন্দিতা কাউকেই তার মনে ধরছে না। এমন সময় নতুন এক মেয়েকে পাওয়া গেল স্ক্রীন টেস্টের জন্য। মেয়েটা খুবই চুপচাপ আর অসম্ভব লাজুক-গৌরী চরিত্রটার ঠিক বিপরীত। অথচ ক্যামেরা চালু হওয়ার সাথে সাথে প্রথমবারেই সে মিশে গেল চরিত্রে, তাও আবার ছোটবেলার ক্রাশ আমির খানের সাথে। যে চরিত্রটার জন্য তারকা অভিনেত্রী খোঁজা হচ্ছিলো, সেখানে নেওয়া হলো অপরিচিত গ্রেসি সিংকে।

image006

 
ভূজে গিয়ে দেখা গেল আরেক বিপদ। সেখানে সাকুল্যে হোটেল আছে তিনটি, যাতে মাত্র জনা পঞ্চাশেকের জায়গা হবে। অথচ তাদের ৩০০ লোকের থাকার জায়গা দরকার। তাই শাজানন্দ টাওয়ার্স নামে একটা আস্ত সাত তলা বিল্ডিং ভাড়া করা হলো। আমির তার ছোটবেলার বন্ধু সত্যজিৎ ভাটকালকে দায়িত্ব দেন একমাসের মাঝে বিল্ডিংটাকে হোটেলে রূপান্তরের। সত্যজিৎ, যিনি কিনা পেশায় একজন সফল আইনজীবী, সব ছেড়ে-ছুঁড়ে লাগান টিমের সাথে যোগ দেন (তিনি লাগানের মেকিং নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানান। তার ডকুমেন্টারিটি পরবর্তীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। সত্যজিত আর কখনই ওকালতিতে ফিরে যাননি। তিনি বর্তমানে আমির খানের টক শো Satyamev Jayate-এর পরিচালক)। এছাড়া এই মুভির ইংরেজ অভিনেতা ক্রিস ইংল্যান্ড "Balham to Bollywood" নামে একটি বই লিখেন।
২০০০ সালের ৬ জানুয়ারিতে এক ফ্লপ ডিরেক্টর, অচেনা নায়িকা আর একদল স্বল্প পরিচিত অভিনেতাদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে ১২ কোটি রূপী (এখনকার হিসেবে ৩৪ কোটি) বাজেটের লাগানের কাজ শুরু হলো। একমাত্র তারকা আমির খান, যিনি নিজেই তার সাম্প্রতিক ছবিগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট না।
 
যত কাণ্ড শুট্যিং ইউনিটে
আমির প্রথমে ভেবেছিলেন তার চরিত্রটির (ভুবন) গোঁফ থাকলে ভালো হবে। কারণ একেতো এখনো গ্রামের পুরুষরা গোঁফ রাখে আর এটাতো ইংরেজ আমলের ছবি। image007তাছাড়া পানির সঙ্কট আছে এমন গ্রামের একজন রোজ শেভ করছে, এটা অস্বাভাবিক। কিন্তু পরিচালক রাজি হননি। আমির অবশ্য ইংরেজ শাসনামল নিয়ে নির্মিত আরেক পিরিয়ড ড্রামায় সে ইচ্ছা পূরণ করেছেন (Mangal Pandey: The Rising)। আমির তার ভুবন চরিত্রের স্টান্স ঠিক করেছিলেন যে, ভুবন সব সময় মেরুদণ্ড সোজা করে, বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে। এটায় ভুবনের ইনার স্ট্রেংথ প্রকাশ পাবে। কিন্তু ভুবনের মাঝে একটা ইনোসেন্সও আছে। এই ইনোসেন্সটা কিভাবে ফুটিয়ে তুলবেন, বুঝতে পারছিলেন না। শেষে তার এক মেকআপম্যান বন্ধুর পরামর্শে, আমির চোখের পাপড়ি বড় করেন এবং এই লুকটি তার পছন্দ হয়। এছাড়া তাকে কানে পরার জন্য যে দুল দেওয়া হয়েছিল, সেটা আমিরের পছন্দ হয়নি। তিনি দেখেন লাগানের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের কানে এমন দুল আছে, যেমনটা তিনি খুঁজছিলেন। তিনি সেই দুলজোড়া ধার নেন এবং সিনেমায় সেটাই ব্যবহার করেন। ২০০৫ সালে আমির সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর কিরণ রাওকে বিয়ে করেন।
সকাল পাঁচটায় বাসে উঠে, সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত শুট্যিং করেও তারা বাহাইন্ড স্ক্যাজুয়েল ছিলেন। এমন না যে, টাইম ঠিকভাবে মেইনটেইন করা হচ্ছিলো না। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অপূর্ব ইতোপূর্বে হলিউডে কাজ করেছেন। তাই তার সব কাজ হতো ঘড়ি ধরে। প্রতিদিন সকাল পাঁচটায় বাস লোকেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত। ১৩৮ দিনের শুট্যিঙের মাঝে মাত্র একদিন আমির ৫ মিনিট দেরি করেছিলেন। সেদিন পাঁচটা পাঁচে বিল্ডিঙের নীচে এসে প্রোডিউসার আমির খান দেখেন, বাস তাকে রেখেই চলে গিয়েছে।
শুট্যিং হয়তো খুব মানসম্মত হচ্ছিলো, কিন্তু প্রতিদিন খুব অল্প কাজ তারা শেষ করতে পারছিলেন। দিনে যে তাপমাত্রা ৪০ পেরোত, রাতে তা নেমে তিন ডিগ্রিতে গিয়ে ঠেকতো। সেই সাথে ছিল পারিপার্শ্বিক সমস্যা। শুট্যিং হচ্ছিলো সিঙ্ক সাউন্ডে, আলাদা করে ডাবিং হবে না। অপ্রচলিত ভাষায় ডায়লগ ডেলিভারি দিতে গিয়ে ভুল করা তো ছিলই, বাড়তি উপদ্রব ছিলো প্লেন। কাছের মিলিটারি এয়ারবেইজ থেকে প্লেন গেলে, কুড়ি মিনিটের জন্য শুট্যিং বন্ধ থাকতো। রোজ তিন-চার বার এমন হতো। এছাড়া মেঘ করলেও শুট্যিং বন্ধ রাখতে হতো। দেখা যেত বিশাল শুট্যিং ইউনিটের সবাই ক্রিকেট খেলেই দিনটা পার করছে।
এমন করে প্রায় একমাস যাবার পর, ভূজে এলেন এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার রীনা। জানালেন, লাগানের শুট্যিং স্ক্যাজুয়েলের এতটা পেছনে রয়েছে আর প্রোডাকশন কস্ট এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, আর কিছুদিন এভাবে চললে সিনেমার কাজ বন্ধ করে দিতে হবে। পরে আমির সহ প্রোডাকশন টিমের সবাই তাকে বুঝিয়ে ঠাণ্ডা করেন। শুট্যিঙের পুরোটা সময়ই আমির এভাবে ব্যালান্স করে চলেছেন। রীনাকে সমঝে চলেছেন, তেমনি প্রতিদিন শুট্যিং শেষে আশুতোষকে গিয়ে বলেছেন "ঠিক সেই ছবিটাই বানাও, যেটা তুমি বানাতে চাও। make the film, the way you want to make it"।
 
ক্লাইম্যাট অ্যান্ড ক্লাইম্যাক্স
ক্লাইম্যাক্স অর্থাৎ খেলার শেষ দিনের জন্য মাঠের দর্শক হিসেবে দশ হাজার লোকের প্রয়োজন ছিল। কচ্ছের প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে বাঁচতে, যাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে সবাই এলাকা ছেড়ে মুম্বাই বা অন্য দেশে নিবাস গেড়েছে। আশেপাশের এলাকার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাড়িই স্থায়ীভাবে বন্ধ। কিছু এলাকা এতটাই প্রত্যন্ত যে, সেখানকার মানুষ ফিল্ম দেখেনা এবং আমির খানকেও চিনে না। যেহেতু কচ্ছ তেমন ঘনবসতিপূর্ণ না, তাই ৪৫হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা থেকে লোক জোগাড়ের আশায় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন আমির। খাবার, টাকা পাওয়া যাবে জানার পরেও, মাত্র শখানেক লোক সে বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়েছিল। বাধ্য হয়ে আমির খান স্থানীয় এক প্রভাবশালী কন্ট্রাক্টর দানাভাই রামজী'র কাছে সহায়তা চাইলেন। দানাভাই আমিরের কথা ফেলতে পারলেন না।
পরের দুই সপ্তাহ দানাভাই নব্বইটি গ্রামে গেলেন এবং সেখানকার মোড়লদের কাছ থেকে লোক পাঠাবেন বলে কথা আদায় করলেন। সেই সাথে মাইকিংও করা হলো। শুটিঙের দিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে শতাধিক ট্রাকে করে লোকজন এলো। লোক তো জোগাড় হলো; কিন্তু দেখা গেল, সিনেমায় নিজেকে দেখা যাবে এই আশায় সবাই তাদের সবচে ভালো পোশাক, ঘড়ি আর স্যান্ডেল পড়ে হাজির হয়েছে। প্রোডাকশন টিমও তৈরী ছিল, সবার জন্য ধুতি রেডি করে রেখেছিল তারা। পাঁচটা ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে করে মাঠের কোন না কোন অংশ যেন সব সময় কাভার করা যায়। image008ইউনিটের সবাইকেও ধুতি পড়তে হয়েছিল। যাতে ক্যামেরায় তারা এসে গেলেও, ভিড়ের মাঝে আলাদা করে চোখে না পড়ে।
দশ হাজার লোককে দিয়ে অভিনয় করানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। আর তারা সবাই প্রফেশনাল অভিনেতাও নয়। কিভাবে তাদের কাছ থেকে উল্লাসের অভিনয় আদায় করা যায়? প্রোডাকশন টিম একটা অভিনব উপায় বের করলো। আমির খান মাইক হাতে মাঠের মাঝখানে গিয়ে তার Ghulam সিনেমার অতি বিখ্যাত Aati Kya Khandala গাইতে শুরু করলেন। দর্শকদের আর পায় কে! তারাই গানের সাথে সাথে লাফ আর নাচ জুড়ে দিল। এই উল্লাসের দৃশ্যগুলোই পরবর্তীতে খেলা শেষের পর, দর্শকদের আনন্দের দৃশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ক্রিকেট খেলার শট নিতে গিয়েও কম ঝামেলা হয়নি। চাম্পানীড় ইলেভেনের সবাই প্রফেশনাল অভিনেতা, খেলা তারা একদমই পারেন না। তাদের শুট্যিং করতে গিয়ে কখনো দিনভর টেক নিতে হয়েছে তো, আবার কখনো image009কৌশলে ক্লোজ শট নেওয়া হয়েছে। ইংরেজ দলের সবাই কম-বেশি ক্রিকেট খেলতে পারতো। দুর্ভাগ্যবশত এই "কম-বেশি"-এর মাঝে সবচে কম পারতেন সেই মানুষটি, স্ক্রীপ্টে যার কিনা সবচে বেশি শট খেলার দৃশ্য ছিল, ক্যাপ্টেন রাসেল!  এভাবে অনেক সময় নিয়ে অভিনেতাদের শট  নিতে হয়েছে। ফিল্মের খরচ ততদিনে ১২ কোটি থেকে ২০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর মাঝে মড়ার উপর খাড়ার ঘা। পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকারের পিঠে সমস্যা (স্লিপড ডিস্ক) দেখা দিল। ডাক্তার ঘোষণা দিলেন, তিন সপ্তাহ সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে হবে। ইউনিটের সবার মাথায় হাত। কিন্তু আশুতোষ এই পিঠ ব্যথা নিয়ে শুট্যিং শুরু করলেন, পরিচালনা করতে থাকলেন বিছানায় শুয়ে শুয়ে।
দিনে গরম, রাতে ঠাণ্ডা আর দুপুরে কুড়ি কিলোমিটারের হাওয়া সহ্য করতে করতে, সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই ইউনিটের সবার মোরাল ঠিক রাখতে একেক সময় একেক রকম পদ্ধতি অবলম্বন করা হতো। যেমন: কে নিজের কস্টিউম সবার আগে পড়বে, এমন প্রতিযোগিতা রাখা হতো। ইউনিটের ইংলিশ কাস্ট একদিন দাবি করলো, তাদের সাথে একটা সত্যিকারের ম্যাচ খেলতে হবে। সিনেমায় তারা হরে গেলেও, এই ম্যাচটি কিন্তু তারা জিতেছিল। মজার ব্যাপার হলো, এটা ছিলো বিশ ওভারের ম্যাচ। এর তিন বছর পরে ইসিবি (England and Wales Cricket Board) প্রথমবারের মতো অফিশিয়ালি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের আয়োজন করে।
 

 

শুট্যিঙের শেষ দিন সবাই একসাথে শেষবারের মতো ক্যামেরার সামনে আসলেন। ঐ শটটি সিনেমার জন্য নয়, নেওয়া হয়েছিল তাদের নিজেদের জন্য, স্মৃতি হিসেবে।
image010
 
 
গান-এর কথা
 গান লিখতে গিয়ে জাভেদ আখতারের মাথা এলো-মেলো হয়ে গিয়েছিল। তার ভাষায় : "এটা আবার কেমন স্ক্রীপ্ট! প্রতি গানেই শ-দুয়েক লোক এসে হাজির হয়ে যাচ্ছে। এটা গান নাকি পঞ্চায়েতের মিটিং!" গান লেখা শেষ হয়েছে। এ আর রহমান মিউজিক করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু তার কাজ শুরু করার কোন লক্ষণ নেই। আমির এ আর রহমানের চেন্নাইয়ের বাসায় গেলেন। সরাসরি জানালেন, আট মাসের মাঝে মিউজিক করতে না পারলে, এ আর রহমান যেন সিনেমাটা ছেড়ে দেয়। আমিরের কথায় রহমান কিছুটা অবাক হলেন। কারণ তখন প্রোডিউসার আর ডিরেক্টররা আক্ষরিক অর্থেই রহমানের বাসার সামনে ভোর থেকে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যেন সকাল হলেই রহমানের দেখা পাওয়া যায় আর তাকে দিয়ে ফিল্মের সুর করানো যায়। আর সেই রহমান রাজি হবার পরেও তাকে বলা হচ্ছে, না পারলে ছেড়ে দাও। আমির তাকে বোঝালেন, একবারে পুরো মুভিটার শুট্যিং হবে। তাই সব গানগুলো আগে থেকে রেডি চাই। পুরো পৃথিবী যখন নতুন মিলেনিয়াম বরণে ব্যস্ত, রহমান তখন দিন-রাত এক করে সব গানের রেকর্ডিং শেষ করলেন।
Ghanan Ghanan গানের শুট্যিং করতে গিয়ে দারুণ ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল ডিরেক্টরকে। কারণ আমির বাদে ইউনিটের কেউ আর কখনো গানের সাথে লিপ সিঙ্ক image011করা তো দুরের কথা, নাচেওনি। তার উপর এই গানের কথাগুলোও একটি কঠিন ছিলো। পুরোদিন শুট্যিং হলো, কিন্তু একটা শটও ওকে হয়নি। আশুতোষ নতুন এক বুদ্ধি বের করলেন। রাতের খাওয়া শেষে সব অভিনেতাদের বললেন, গানটা গলা ফাটিয়ে গাইতে। আস্তে আস্তে সবাই গানটায় অভ্যস্ত হয়ে গেলেন।
এই সিনেমার গান হঠাৎ করে শুনলে মনে হবে, স্রেফ মুভির সামান্য একটা সিকোয়েন্সের জন্য গানটি লেখা। কিন্তু অন্তত দুটো গান (Mitwa, Chale Chalo) সেই ফিলোসফির উপর ভিত্তি করে লেখা, যেই ফিলোসফি থেকে মুভিটার জন্ম। এখানে প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষদের জেগে ওঠার ও একতাবদ্ধ হবার আহবান আছে। দুটো লাইন থেকেই সেটা পরিষ্কার বোঝা যাবে, "পথ যতই লম্বা হোক, ক্লান্ত হয়ো না, তুমি চলে আসো" আর "পাঁচ আঙুল এক হলে মুষ্টি হয়ে যায়"। আশুতোষ যখন নতুন গল্প খুঁজছিলেন, তখন দাবুল পাওয়ার কোম্পানি আর নর্মদা বাঁধকে ঘিরে গ্রামবাসী ও আদিবাসীদের সংগ্রাম তার নজর কাড়ে। তার মনে হয়েছে এ লড়াই যেন, আধুনিক যুগের ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই। তিনি চেষ্টা করেছিলেন একটু ভিন্ন আঙ্গিকে এই লড়াইটা ফুটিয়ে তুলতে। সেখান থেকেই লাগানের জন্ম।
পোস্ট-প্রোডাকশন
লাগানের ন্যারেটর হিসেবে অমিতাভ বচ্চনকে বেছে নেওয়া হয়। যদিও, জাভেদ আখতার এবং এমনকি অমিতাভ নিজেও তাকে ন্যারেটর হিসেবে নিতে নিষেধ করেন। কারণ, অমিতাভ যে সব মুভির ন্যারেশন করেছেন, তার কোনটাই ব্যবসা করেনি (এই লিস্টে তিন বাঙালী পরিচালকের একটি করে হিন্দি মুভিও আছে। মৃণাল সেনের "ভুবন সোম", হৃষিকেষ মুখার্জ্জীর "বাবুর্চি" আর সত্যজিৎ রায়ের "শাতরাঞ্জ কি খিলাড়ি")।
 
পোস্ট প্রোডাকশনের সময় গুজরাটে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। ৭.৭ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে কমপক্ষে তের হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। লাগান টিমের আবাস শাজানন্দ টাওয়ার্সও ধ্বসে পড়ে। আশুতোষের পক্ষে আর এডিটিং করা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ, সিনেমার প্রতিটি মুখ দেখেই তার মনে হচ্ছিল, এই মানুষটা হয়তো আর বেঁচে নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাগান ইউনিটের দুই জন নিহত হয়েছে। লাগান টিম প্রাথমিকভাবে ২৫ লক্ষ রুপী ডোনেট করে।
 
ছবির সব কাজ শেষ, যে কোন দিন মুক্তি পাবে। সবাই সিনেমাটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমির মুম্বাইয়ের কোন পশ মাল্টিপ্লেক্সে এটির প্রথম প্রদর্শনী করেননি। কোন ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালেও প্রিমিয়ার করেননি (যদিও লাগান পরবর্তীতে লোকার্নো, সানড্যান্স, টরেন্টো সহ সব বড় ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিল)। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আমির লাগানের প্রথম স্ক্রিনিং করেন ভূজে। সেদিন এত লোক হয়েছিল যে, ব্রিটিশ কাস্ট সহ পুরো ইউনিট মাটিতে বসে সিনেমাটি দেখে। ভুজে অতি শুষ্ক অঞ্চল, কিন্তু Ghanan Ghanan গানটির সময় সত্যিই বৃষ্টি শুরু হয়। কারেন্ট চলে গেলে বাকি সিনেমাটি জেনারেটর চালিয়ে দেখাতে হয়।
 
মুক্তি ও সাফল্য
লাগান অফিশিয়ালি মুক্তি পাওয়ার সময় এর খরচ দাঁড়ায় ২৫ কোটি রুপীতে। aamirrdb_634770840255366956ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি দেওয়ার আগে, আমির তার বন্ধু ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের জন্য একটা প্রাইভেট স্ক্রীনিঙের আয়োজন করেছিলেন। আমির এক পর্যায়ে লক্ষ্য করেন, শচীন ক্লাইম্যাক্সের সময় বসে বসে দাঁত দিয়ে নখ কাটছেন। আমিরের মনে হয়, যে সিনেমা শচীনের পর্যায়ের ক্রিকেটারের মনে এক্সাইটমেন্ট তৈরী করছে, সে ছবি দর্শক নিশ্চয়ই ভালোবাসবে। আমির ভুল ভাবেননি। মুক্তির পর ছবিটি দর্শক আর সমালোচক সবার নজর কাড়ে। ব্যবসা করে ৭৫ কোটি রূপীর মতো। বিখ্যাত সমালোচক রজার ইবার্ট একে চারে সাড়ে তিন দেন। লাগান ৭৪ তম অস্কারে বিদেশী ভাষার ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে নমিনেশন পায়। মাত্র তিনটি ভারতীয় ছবি এ সম্মান অর্জন করে Mother India, Salaam Bombay! আর Lagaan। তবে চূড়ান্ত পর্বে বসনিয়ার "নো ম্যান'স ল্যান্ড"-এর কাছে হেরে যায়। লাগানের পরে আজ পর্যন্ত (২০১৬) অন্য কোন ভারতীয় ছবি আর নমিনেশন পায়নি।
লাগানের সময়কার অভিজ্ঞতা সবার মাঝে জন্ম দেয় এক নতুন সম্পর্কের। লাগান টিম আজও প্রতি দীপাবলির সময় আমির খানের বাসায় জড়ো হয়। গত ১৪ বছরে এর ব্যত্যয় ঘটেনি। আর লাগানের পর থেকে শুরু হয় আমির খানের প্রথাবিরোধী ভিন্ন ধারার মুভিযাত্রা। মান আর মেলা গোত্রের মুভি থেকে সরে গিয়ে করেন দিল চাহতা হ্যায়, রাং দে বাসান্তি, থ্রি ইডিয়টসের মতো মুভি। জন্ম হয় এক নতুন আমির খানের।
 
লাগান-রেবেল উইথ আ কজ
লাগানের গল্পটা মোটামুটি সবারই জানা। ইংরেজ শাসনামলে ভারতের এক গ্রাম চাম্পানীড়ের গল্প এটা। লাগান (ট্যাক্স) মাফ করার জন্য সেখানকার কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন অ্যান্ড্রু রাসেল এক অদ্ভুত প্রস্তাব দেন। তাদেরকে ক্রিকেট ম্যাচে হারাতে পারলে তিন বছরের কর মওকুফ করে দেবেন। মাথায় হাত পড়ে গ্রামবাসীর, যারা খেলা তো দূরের কথা, আগে কখনো ক্রিকেট খেলাটাও দেখেনি। তাদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয় ক্যাপ্টেন অ্যান্ড্রুর বোন এলিজাবেথ।
 
ঢুলি হয়ে যায় পিঞ্চ হিটার আর হাতের সমস্যা নিয়ে কেউবা স্পিনার। লাগানের ভুবন আদতে কিন্তু একজন বিদ্রোহী। সে প্রচলিত শোষণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরোধী। সে ক্ষমতাবানদের অবৈধ প্রাণী হত্যা রুখতে চায়। সবার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন চায়। সমাজে সাম্যাবস্থা চায়। যাদেরকে ধার্মিক বা আর্থিক কারণ দেখিয়ে অচ্ছুৎ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাদের হাত ধরে আপন করে নেয়। মনে করিয়ে দেয় গণতন্ত্রের সেই মৌলিক কথা যেটা কিনা সবাই ভুলতে বসেছে, সব মানুষ সমান!
 
এই স্ক্রীপ্টে গল্পোচ্ছলে আশুতোষ সেই সমস্যাগুলো নিয়ে এসেছেন, যেগুলো এই উপমহাদেশে আজও সদর্পে বিদ্যমান। রাজতন্ত্র গিয়েছে, ইংরেজরা চলে গিয়েছে, সবাই স্বাধীনতা পেয়েছে। কিন্তু সমাজের তলানীর মানুষের দিন-বদল হয়নি, একদমই না। তারা এখনো রোগে-শোকে-অভাবে মরে, এখনো দু মুঠো ভাতের জন্য দালান চাপা পড়ে।
 lagaan-xi
লাগান তাই জানান দেয়, মানুষ যদি একটা টিম বানায় (এক হয়), তবে যে কোন অজানা খেলায় (আর্থিক ব্যবস্থায়) শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে (পুঁজিবাদী শ্রেণী বা রাষ্ট্রযন্ত্র) হারিয়ে দিতে পারে। ডাক দেয় এই বলে- বন্ধু তোমার ভয় কিসের, এই ধরিত্রী আর আকাশ সবই যে আমাদের!
 

 

 

তথ্যসূত্র : ১. ডকুমেন্টারি: ম্যাডনেস ইন ডেজার্ট
 ২. বই : দ্য স্পিরিট অফ লাগান-সত্যজিৎ ভাটকাল
 ৩. প্রেস কনফারেন্স উইথ আমির খান (বলিউড এক্স)
 ৪. টক শো- আমির অ্যান্ড ইউ
 
লেখক পরিচিতিঃ
স্নিগ্ধ রহমান :  একজন অতি সাধারণ দর্শক।

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com