Smiley face

সেলুলয়েড রোবটের একাল সেকাল : ফ্রম সুমাত্রা টু সুমেরু

c3po_v_r2d2_by_1darthvader
হলিউডের ইতিহাসে দেখা মিলেছে হরেক রকমের রোবটের। মুখ ও মুখোশের উদ্দেশ্য ছিল ছড়িয়ে থাকা রোবটের এসব টুকরোকে এন্ড ইফেক্টর দিয়ে কব্জা করার। সেই ভাবনা থেকেই এই লেখার জন্ম। অ্যাসেম্বল করেছেন সুদীপ মজুমদার
 
 
 
আইনস্টাইন বলেছিলেন, Logic will get you from A to B.
Imagination will take you everywhere.
মানুষের কল্পনার দৌড়কে কি আসলেই থামিয়ে রাখা সম্ভব! অদৃষ্টের দোষে দৃষ্টিশক্তিকে না হয় সেন্টিমিটার-গজ-ফুটের মতো নির্দিষ্ট দূরত্বের মাঝে বেঁধে ফেলা গেল; কিন্তু মানুষের চিন্তা-ভাবনা-আবেগ মাপবার একক কি? কল্পনার বিচরণ যে আলোকবর্ষ দূরে। মানুষ তার এই কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কতো কিছু যে আবিষ্কার করেছে, কতো গল্প-কবিতা-গান যে লিখেছে তার ইয়ত্তা নাই। কথাপ্রসঙ্গে মনে পড়ছে, '৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকস-এর কথা। রাশানরা সেবার অদ্ভুত এক নিরীক্ষায় মেতেছিল। রাশিয়া তাদের অ্যাথলেটদের চারটি ভাগে ভাগ করেছিল। গ্রুপ এ তে ব্যবহৃত হয়েছিলো ১০০% ট্র্যাডিশনাল শারীরিক অনুশীলন, গ্রুপ বি তে ৭৫% শারীরিক আর ২৫% মনস্তাত্ত্বিক, গ্রুপ সি তে দুটোই ৫০ ভাগ আর গ্রুপ ডি তে ৭৫% মনস্তাত্ত্বিক আর ২৫% শারীরিক। প্রতিযোগিতা শেষে দেখা গেল, গ্রুপ ডি সর্বাধিক সংখ্যক মেডেল অর্জন করেছে!
আবার প্রাচীন সভ্যতা, যেমন: চীন, গ্রীস কিংবা টলেমেইক ইজিপ্টের কথাই ধরা যাক, "পাওয়ার অফ ইমাজিনেশান" কাজে লাগিয়ে তারা সেলফ অপারেটিং ম্যাশিন মানে যাকে বলে কিনা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, সেটাও বানানোর কোশিশ করেছিলো। গ্রীক পুরাণেও যান্ত্রিক ক্রীতদাস, মাটির দৈত্য, ব্রোঞ্জের প্রহরীর উল্লেখ পাওয়া যায়। কাজেই পাওয়ার অফ ইমাজিনেশানকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ তো নেই-ই, বরং মর্ত্যের বাস্তবতার বৃত্তে আটকে থাকা মূর্তিমান মনের পক্ষে এর প্রকৃত শক্তি নিরূপণ করা রীতিমতো অসাধ্য।
সিনেমাতে কিংবা গল্প-উপন্যাসে পাওয়ার অফ ইমাজিনেশান বললেই যেই জনরার কথা অবধারিতভাবে চলে আসে, তা হলো সায়েন্স ফিকশান। চলতি ভাষায় আমরা যাকে বলি সাই-ফাই। স্পেস, টাইম ট্র্যাভেল, প্যারালাল ইউনিভার্স, নানানরকম বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অথবা তার অল্টারেশান, ফিউচারিস্টিক টেকনোলজি কিংবা এলিয়েন এসব নিয়ে হরহামেশাই গল্প-উপন্যাস-সিনেমা হচ্ছে। এদের কথা বলতে গেলে মোটাদাগেই এমন গাদাখানেক উদাহরণ উঠে আসবে, যেগুলো তৎকালীন সময়ের তুলনায় অভাবনীয় ছিলো। যেমন রোবটের প্রথম দেখা মিলে ১৯২১ সালে, চেক লেখক Karel Čapek-এর এক নাটক R.U.R এ। তখন রিমোট কন্ট্রোল্ড টর্পেডো কিংবা এয়ারক্র্যাফটই ছিলো সর্বশেষ আবিষ্কৃত প্রযুক্তি। তারও প্রায় সাত বছর পরে অর্থাৎ ১৯২৮ সালে লন্ডনে সর্বপ্রথম হিউম্যানয়েড রোবট প্রদর্শিত হয়। সময়ের সাথে সাথে এই রোবটিক্স প্রযুক্তি এগিয়েছে বহুদূর। এসেছে মেকানিক্যাল রোবট, এসেছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট, রোবট গিয়েছে মহাকাশে। সময়ের হাত ধরে গল্প সিনেমার রোবট-ও পাল্টেছে। আর সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক পারিপার্শ্বিকতা বজায় রেখে, রোবটের ভূমিকাতেও এসেছে পরিবর্তন। যেমন, ১৯৫০ এর স্নায়ু যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রোবটকে দেখানো হতো হুমকিস্বরূপ। আস্তে আস্তে সেটিকে মানুষ আর যন্ত্রের ধারাবাহিকতা অথবা সংঘর্ষ উভয় ভাবেই দেখানো হয়েছে।

 

 
চলচ্চিত্রে রোবটের ব্যাপারটি প্রথম আসে ১৯১৭ সালের সাইলেন্ট শর্টফিল্ম A Clever Dummy-এর মাধ্যমে। যদিও তখন এই রোবট টার্মটি বিদ্যমান ছিলো না। পরবর্তীতে ইতালিয়ান সাইলেন্ট সায়েন্স ফিকশান সিনেমা MV5BMTg3NzYwMjU3NF5BMl5BanBnXkFtZTgwNjQ1MTEwMzE@._V1__SX1303_SY547_The Mechanical Man এ আমরা দেখা পাই মানুষরূপী রিমোট কন্ট্রোলড এক রোবটের, যার ছিলো দ্রুত গতি আর প্রচণ্ড শক্তি। মূল সিনেমাটি ৮০ মিনিটের হলেও, বর্তমানে এর মাত্র ২৬ মিনিটের ফুটেজ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তবে সর্বপ্রথম যেই সিনেমার মাধ্যমে রোবট ব্যাপারটি সবচেয়ে গুরুত্ব বহন করতে সমর্থ হয়েছিলো, তা ছিলো অস্ট্রিয়ান-জার্মান পরিচালক ফ্রিৎজ ল্যাংয়ের Metropolis। সিনেমার গল্প, স্পেশাল ইফেক্টস কিংবা এলাবোরেট সেট ডিজাইনে এই Metropolis ছিলো ঐ সময়ের তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে। সিনেমাতে যেই রোবটটিকে দেখানো হয়েছিলো অর্থাৎ Maschinenmensch, (ইংরেজি করলে যার অর্থ দাঁড়ায় মেশিন-হিউম্যান), সেই Maschinenmensch কে বানানো হয়েছিলো বডি প্লাস্টার কাস্ট দিয়ে। এছাড়া প্লাস্টিক উড এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছিলো যাতে করে মেটালিক ভাবটি ফুটে উঠে। মেট্রোপলিসকে সাইলেন্ট যুগের অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে গণ্য করা হয়।
 
এরপর ডিসি কমিক্সের একটি অ্যানিমেটেড শর্ট ফিচার The Mechanical Monsters-এ সুপারম্যানকেimage005 দেখা যায় ম্যাড সায়েন্টিস্ট আর তার বানানো রোবট আর্মির সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় এটা ১৯৪১ সালের কথাতার দশ বছর পর, ১৯৫১ সালে মুক্তি পায় পরিচালক রবার্ট ওয়াইজের বিখ্যাত সাই ফাই সিনেমা The Day the Earth Stood Still এটি নির্মিত হয়েছিলো এডমন্ড নর্থের Farewell to the Master গল্প অবলম্বনে সিনেমায় আমরা দেখি Klaatu আর Gort কে Klaatu ছিলো হিউম্যানয়েড এলিয়েন আর Gort ছিলো আট ফুট লম্বা এক রোবট ক্লাটুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা মাইকেল রেনএখানে উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালের রিমেকে Klaatu চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কিয়ানু রিভস ১৯৫১ সালের সিনেমাতে Gort কে বানানো হয়েছিলো নমনীয় ধাতুর একটা টুকরো দিয়ে Gort চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন লক মার্টিন যার উচ্চতা ছিলো সাত ফুট সাত ইঞ্চি তার ক্লোজ-আপ শটের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিলো ফাইবারগ্লাসের মূর্তি আর ২০০৮ সালের রিমেকে স্বভাবতই Gort ছিলো পুরাদস্তুর সিজিআই ইফেক্টের ফসল
 এরপর ১৯৫৬ সালে মুক্তি পায় পরিচালক ফ্রেড উইলকক্সের Forbidden Planet যেখানে আমরা দেখা পাই রবি দ্যা রোবটের (Robby the Robot) এই রবি'র আপন শক্তিতে জ্বলে উঠতে প্রযোজকের পকেট থেকে খসেছিল এক লাখ পঁচিশ হাজার ডলারের মতোন বর্তমান হিসেবে যেটা কিনা ১ মিলিয়ন ডলারেরও উপরে রবি দ্যা রোবটকে বলা হয় ওয়ান অফ দ্যা মোস্ট পপুলার রোবোট আইকনস হিসেবে এই রোবটের আবিষ্কারক ছিলেন জাপানীজ-আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার রবার্ট কিনোসিটা এখানে বলে রাখা ভালো যে, Forbidden Planet সিনেমাটি সেবার অস্কারের আসরে সেরা স্পেশাল ইফেক্টস পুরস্কারও জিতেছিলো

https://www.youtube.com/watch?v=SKdTYaAY1V8

 
 

 

১৯৬৮ সালে মুক্তি পায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্ট্যানলি কুব্রিকের কালোত্তীর্ণ সিনেমা 2001: A Space Odyssey আর্থার সি ক্লার্কের ছোট গল্প দ্য সেন্টিনেল অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি সাই-ফাই দুনিয়ার ইতিহাসটাই পাল্টে দেয় যদিও মুক্তির পর বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলো, তবে সময়ের সাথে সাথে এটি সমালোচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয় এই সিনেমাকে বলা হয় ওয়ান অফ দ্যা গ্রেটেস্ট এন্ড মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ফিল্মস এভার মেইড এই সিনেমাতে অ্যালগোরিদমিক প্রোগ্রামেবল সুপার কম্পিউটার চরিত্রে আমরা দেখা পাই HAL 9000-এর image009
যার উপর দায়িত্ব ছিলো ডিসকভারি ওয়ান নভোযান আর তার মধ্যে থাকা নভোযাত্রীদের দেখভাল করা
সিনেমার শেষে যদিও তার হার্ডওয়্যারের একাংশ দেখানো হয়েছিলো, তবে বেশিরভাগ সময়েই HAL 9000 হিসেবে আমরা দেখতে পাই একটি ক্যামেরা লেন্স যার ভিতর রয়েছে একটি লাল বিন্দু সিনেমার স্টোরিলাইনের নানাবিধ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, সিনেমার নির্মানশৈলী, বিশেষ করে সেট ডিজাইন, ফার্নিশিং, প্রজেকশান, জিরো গ্র্যাভিটি ইফেক্ট, সাউন্ডট্র্যাক সব কিছু মিলিয়ে এটি ছিলো সময়ের তুলনায় বহু আলোকবর্ষ এগিয়ে স্টিভেন স্পিলবার্গ, জর্জ লুকাস এবং আরো যেসব বিখ্যাত পরিচালক সাই-ফাই জনরা নিয়ে অনেক কাজ করেছেন, তারা সবাই একবাক্যে কুব্রিককে ফিল্মমেকারদের ফিল্মমেকার আখ্যা দেন। এখানে দুটো মজার তথ্য শেয়ার করি কুব্রিক তার জীবনের একমাত্র অস্কারটি জিতেছিলেন স্পেস অডিসি সিনেমার স্পেশাল ইফেক্টসের জন্য দ্বিতীয় ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এক ফ্যান থিওরিকে ঘিরে অনেকের বিশ্বাস HAL নামটি এসেছে IBM থেকে কারণ I, B M এর পূর্ববর্তী অক্ষরগুলো হলো যথাক্রমে H, A এবং L যদিও লেখক আর্থার সি. ক্লার্ক সে ধারণা উড়িয়ে দিয়ে এক সাক্ষাৎকারে জানান দেন, HAL নামটি এসেছে Heuristic ALgorithmic থেকে

 

 

 
সাই ফাই জনরার সবচেয়ে জনপ্রিয় মুভি ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম বললে অবিসংবাদিতভাবেই উঠে আসবে স্টার ওয়ার্সের নাম
যদিও স্টার ওয়ার্স আদতে এপিক স্পেস অপেরা এটি কিন্তু ভবিষ্যতেকালের এই ছায়াপথের গল্প নয়, অতীতকালের অন্য এক ছায়াপথের গল্প image011
এজন্য মুভির শুরুতেই বলে দেওয়া হয়
, "A long time ago, in a galaxy far far away" ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত এই সিরিজের সর্বমোট সাতটি পর্ব বের হয়েছে ১৯৭৭, ১৯৮০ আর ১৯৮৩ সালে বের হয় অরিজিনাল ট্রিলোজি আর ১৯৯৯, ২০০২ আর ২০০৫ সালে বের হয় প্রিক্যুয়েল ট্রিলোজি সর্বশেষ ২০১৫ সালে মুক্তি পায় Star Wars: The Force Awakens ১৯৭৭ সালে মুক্তির পরপরই এটি বক্স অফিসে তুমুল আলোড়ন তোলে, এবং অতি দ্রুতই স্বীকৃতি পায় ব্লকবাস্টার হিসেবে পরিচালক জর্জ লুকাসের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিলো না এই সিনেমাটি এতোখানি ব্যবসায়িক সাফল্য পেতে পারে এই স্টার ওয়ার্স ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নানান আইকনিক চরিত্রের মাঝে আমরা পরিচিত হই দুই এপিক রোবটের, C-3PO আর R2-D2 এই দুই রোবটের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার পিছনে মূল কারণ ছিলো তাদের চরিত্রায়ন আর বিশেষ করে গল্পের ন্যারেটিভ কাঠামোর সাথে দুর্দান্ত সব ডায়ালগ আর কমিক রিলিফের জন্য মজার ব্যাপার হচ্ছে, কেবলমাত্র এই দুইটি চরিত্রই স্টার ওয়ার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির সবকটি পর্বে উপস্থিত ছিলো C-3PO আর R2-D2 এর কালচারাল ইনফ্লুয়েন্সের কথা বলে শেষ করা যাবে না Sesame Street, Family Guy থেকে শুরু করে গত বছরের অস্কারের আসরেও এদের দেখা গেছে আমেরিকান নেভি ২০১২ সালে Autonomous Shipboard Humanoid নামে একটি রোবট ডিজাইন করেছিলো, যার মাঝে C-3PO এর অনুরূপ মডেল এবং বডি মুভমেন্টের প্রত্যক্ষ প্রতিফলন ছিলো
 ১৯৮২ সালে আরেক বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রিডলি স্কটের পরিচালনায় মুক্তি পায় সাই ফাই মুভি Blade Runner মুক্তির পর এটিও দর্শক আর সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়, তবে সময়ের সাথে সাথে এটিকেও গণনা করা হয় ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট সায়েন্স ফিকশান মুভিজ হিসেবে ব্লেড রানারে আমরা দেখা পাই রয় ব্যাটির যে ছিলো নেক্সাস সিক্স রেপ্লিক্যান্ট তার ছিলো তীব্র বুদ্ধি, দ্রুতগতি আর সেই সাথে কমব্যাটে পারদর্শীতা সুপারহিউম্যান লেভেলের শারীরিক শক্তি আর জিনিয়াস লেভেলের আইকিউ তাকে অন্যান্য রেপ্লিক্যান্ট থেকে আলাদা করেছিলো স্কটের আরেক সাই-ফাই মাস্টারপিস Alien সিনেমাতেও এক হিউম্যানয়েড অ্যান্ড্রয়েডের দেখা মিলে
 ১৯৮৪ সালে জেমস ক্যামেরুন হাজির হন আরেক বিখ্যাত সাই ফাই ফ্র্যাঞ্চাইজি The image015Terminator নিয়ে যেখানে আমরা পরিচিত হই এক দুর্ধর্ষ সাইবর্গ অ্যাসাসিন দ্যা টার্মিনেটরের, যার ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন আর্নল্ড শোয়ার্জনিগার প্রথম পর্বের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এই পর্যন্ত চারটি সিক্যুয়েল এবং একটি টিভি সিরিজ হয়েছে প্রথম পর্বে টার্মিনেটরের মডেল ছিলো টি-৮০০ ১৯৯১ সালে যখন দ্বিতীয় পর্ব বের হয় ঐটির ব্যবসায়িক সাফল্য ছিলো আরও অনেক বেশি এই পর্বে টি-১০০০ মডেলের প্রোটোটাইপ অ্যাসাসিন চরিত্রে অভিনয় করেন রবার্ট প্যাট্রিক
 
স্টার ওয়ার্সের মতো Star Trek টিভি সিরিজ ফ্র্যাঞ্চাইজিও ছিলো সমান জনপ্রিয় আর320x240
যেহেতু সাই ফাই এন্টারটেইনমেন্ট
, কাজেই স্পেসশিপ আর রোবট তো থাকবেই যেমন Star
Trek: The Next Generationসিনেমায় ডেটা (Data) নামক এক লিউটেন্যান্ট কমান্ডারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ব্রেন্ট স্পাইনার এই ডেটা প্রকৃতপক্ষে ছিলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ১৯৯৯ সালে এনিমেশন ফিচার The Iron Giant-এ আমরা দেখতে পাই, একটি ছোট্ট ছেলেকে বহির্বিশ্ব থেকে আগত এক রোবটের সাথে বন্ধুত্ব পাতাতে পরিচালক ব্র্যাড বার্ডের এই সিনেমাটি ব্যাপক সমাদৃত ও জনপ্রিয় হয়েছিলো এবং বাফটা চিল্ড্রেন্স পুরষ্কারও জিতেছিলো ঐ একই বছর সাড়াজাগানো সাই ফাই অ্যাকশান মুভি The Matrix মুক্তি পায় সেইখানে এক সেন্টিয়েন্ট প্রোগ্রামের দেখা মিলে, যা ছিলো প্রকৃতপক্ষে এক কিলিং মেশিন

 

 ২০০১ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত সাই ফাই মুভি A.I. Artificial Intelligence-এর কাহিনীই ছিলো image018মানুষ আর রোবটের সম্পর্কের টানাপোড়নকে ঘিরে সেখানে অনেক রোবটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় চরিত্র ডেভিড এর ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন ১৩ বছরের হেইলি জোল অসমেন্ট পরের বছরে মুক্তি পাওয়া স্পিলবার্গের আরেক মুভি Minority Report-এ দেখা যায় রোবোটিক পুলিশ আর স্পাইডার রোবটের মতো ফিউচারিস্টিক টেকনোলজি ইউএস মিলিটারি বর্তমানে এই সিনেমার স্পাইডার রোবটের মতো ইনসেক্ট রোবট বানানোর চেষ্টা করছে ২০০৪ সালে আজিমভের ছোট গল্প অবলম্বনে মুক্তি পায় উইল স্মিথ অভিনীত I, Robot নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে রোবট নিয়েই কারবার সিনেমায় দেখা যায়, রোবট আসলে ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষদের সহায়ক শক্তি হিসেবে যদিও তা পরবর্তীতে বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ২০০৫ সালে The Hitchhiker's Guide to the Galaxy-তে আমরা পরিচিত হই মারভিন নামের এক ছোটোখাটো এন্ড্রয়েড রোবটের সাথে ঐ একই বছর টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স স্টুডিওর প্রোডাকশানে মুক্তি পায় রোবটস নামের একটি এনিমেশান মুভি। অবাক করা বিষয় হলেও, ওয়েস্টার্ন জনরাতেও কিন্তু রোবট এসেছে ১৯৭৩ সালে নির্মিত Westworld সিনেমায় দেখা যায় ফিউচারিস্টিক এক বিনোদনমূলক পার্কে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রোবট দর্শনার্থীদের হত্যা করা শুরু করে ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের সিক্যুয়েল ফিউচারওয়ার্ল্ডের গল্পেও রোবট ছিলো। 
এছাড়া সাতাশি সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডাচ পরিচালক Paul Verhoeven-এর সাইবারপাঙ্ক মুভি RoboCop এর কথাও বলতে হয়। এখানে আমরা পাই অ্যালেক্স মার্ফি নামের সাইবর্গ পুলিশ অফিসারকে। আশির দশকে টিভির সবচে জনপ্রিয় রোবট ছিল Small Wonder-এর ছোট্ট ভিকি। বাংলাদেশেও কিন্তু রোবট নিয়ে নাটক হয়েছে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের ছোটগল্প কপোট্রনিক ভায়োলেন্স অবলম্বনে নির্মিত "এবং লিওনার্ডো" নাটকে রোবটের চরিত্রে অভিনয় করেন আজিজুল হাকিম।
রোবট নিয়ে আর্টিকেল আর ট্রান্সফরমার্সের কথা থাকবে না, সে কি হয়? হিরোরূপে অটোবট আর ভিলেইনরূপে ডিসেপ্টিকনস, এই দুই পরাশক্তির লড়াইটা কম্পিউটার অ্যানিমেশান আর লাইভ একশানে মিলে এখনো যেন চোখে লেগে থাকবার মতোন image020
জাপানীজ খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
Takara Tomy (বর্তমানে শুধু  Takara) আর এর অ্যামেরিকান মালিক Hassenfeld Brothers (বর্তমানে Hasbro) এর ট্রান্সফরমার্স টয় লাইনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয় সিনেমাটি ২০০৭ সালে প্রথম পর্ব মুক্তির পর সেটি ছিলো ঐ বছরের অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল মুভি ট্রান্সফর্মার্সের রোবটদের মধ্যে মজাদার একটি ব্যাপার রয়েছে, যা তাদের অন্য যেকোনো রোবটের থেকে আলাদা করেছে আর তা হচ্ছে, এরা রোবট থেকে গাড়িতে রূপান্তরিত হতে পারতো যার কারণে দর্শকদের কাছে, বিশেষ করে ছোটদের কাছে এদের গ্রহণযোগ্যতা ছিলো আর আট-দশটা রোবটের চাইতে অনেক বেশি অটোবটদের মধ্যে অপটিমাস প্রাইম আর বাম্বলবি সহ অন্যান্যরা এতোটাই জনপ্রিয় যে, তাদেরকে নিয়ে নিয়মিত ভিডিও গেম, টি শার্ট-কস্টিউম, খেলনা-একশন ফিগার বের হচ্ছে এমনকি চীনের ইউনান প্রদেশে অপটিমাস প্রাইমের ৪০ ফিট উঁচু একটি মূর্তিও রয়েছে

 

 

 

 
২০০৮ সালে ডিজনি পিক্সারের যৌথ প্রযোজনায় মুক্তি পায় এনিমেটেড ফিচার WALL•E মুক্তির পরপরই বক্স অফিসে বাজিমাত করে ঐ বছর সেরা অ্যানিমেশান মুভির অস্কারওimage022
জিতে নেয়
গল্পে আমরা দেখি রোবট ওয়াল-ই কে আরেক রোবট ঈভের প্রেমে রীতিমতো হাবুডুবু খেতে পুরো সিনেমা জুড়ে সীমিত ডায়ালগ, বরং তার চেয়ে শারীরিক ভাষা আর রোবোটিক সাউন্ড দিয়ে পুরো সময়টুকু পরিপূর্ণ ছিলো সেরা এনিমেশান মুভিতে পুরষ্কার জয় ছাড়াও এটি সর্বমোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলো ২০১৪ সালে Big Hero 6 নামে আরেকটি এনিমেশান মুভি মুক্তি পায়, যেখানে আমরা দেখি Baymax নামের এক নরম-সরম এক ফ্রেন্ডলি রোবটকে এটিও অস্কার জিতেছিল
 

 

 

সর্বশেষ এই ২০১৫-তে এলেক্স গারল্যান্ডের সাই ফাই থ্রিলার Ex Machina-তে আমরা দেখি হিউম্যানয়েড রোবটের ভূমিকায় অ্যালিসিয়া ভিকান্ডারকে অনবদ্য অভিনয় করতে।image024
মজার ব্যাপার হচ্ছে, অন্যান্য ব্লকবাস্টার মুভির ধারেকাছেও ছিলো না এর বাজেট। সর্বসাকুল্যে সিনেমার বাজেট মাত্র পনেরো মিলিয়ন ডলার। এবং সেই বাজেটের মধ্যে যেই অসাধারণ মাপের ভিজ্যুয়াল আমরা দেখতে পাই; তাতে করে ম্যাড ম্যাক্স কিংবা স্টার ওয়ার্সকে পিছনে ফেলে বেস্ট ভিজ্যুয়াল ক্যাটাগরিতে এক্স মাকিনার অস্কার জয়টা খালি চোখে অঘটন মনে হলেও, পরে এটিকে নিয়ে কিন্তু তেমন একটা বিতর্ক হয় নি। ঐ একই বছরAvengers: Age of Ultron সিনেমাতে আলট্রন চরিত্রে আমরা দেখি এক রোবোটিক সুপারভিলেইনকে।
 
মেট্রোপলিস থেকে শুরু করে এই সময়ের এভেঞ্জার্স কিংবা স্টার ওয়ার্সের BB-8 রোবটের মধ্যে কতোটা না পরিবর্তন এসেছে! সিজিআই টেকনোলজি কতোই না উন্নত হয়েছে, আমাদের জীবনধারাতে কতো নতুন নতুন জিনিস যোগ হচ্ছে! রোবট এখন আর সেই তথাকথিত এলিয়েন ফোর্স কিংবা আর্থ থ্রেটেনিংয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ নাই, বরং আস্তে আস্তে এই যান্ত্রিক জীবনের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে সামনে উঠে আসছে। তাই গল্পের প্রয়োজনে সিনেমাতেও রোবটের ভূমিকাতেও পরিবর্তন আসছে। এক্স মাকিনার কথাই ধরুন, রোবটের মাঝে সেক্সুয়ালিটির ব্যাপারটি উঠে এসেছে এই সিনেমাতে (অথবা A.I.-এর জুড ল। যে রোবটটি কিনা আদতে এক মেল প্রস্টিটিউট)। তাই আজ আর নিছক বিনোদনই নয়, বরং রোবট ব্যাপারটিকে ঘিরে হয়তো আরো গুরুতর দিকও উঠে আসবে সময়ের হাত ধরে। হাজার হোক, সাই ফাই সিনেমা মানেই যে ফিউচারিস্টিক কল্পনার জয় জয়কার !!!
 
 

 

  লেখক পরিচিতি :
সুদীপ মজুমদার ভালো নির্মাণ শৈলীর ভক্ত। ভালো লাগে ক্ল্যাসিক মুভি দেখতে। তবে ফাকতলে পপকর্ন মুভি চিবুতেও ভুল করেন না। কেউ Game of Thrones-এর স্পয়লার দিলে পারলে খালিসি'র কাছ থেকে ড্রাগন ধার নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সিনেমার সুরতহাল করতে ভালো লাগে তার। পছন্দের টিভি সিরিজের মাঝে আছে   Death Note, Sherlock, Dexter, Game  of Thrones. Friends, The Big Bang Theory, The Tonight Show Starring Jimmy Fallon আর সবচেয়ে প্রিয় মুভি এ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ। পছন্দের পরিচালক স্ট্যানলি কুব্রিক আর অবশ্যই অবশ্যই আলফ্রেড হিচকক।

 

1 Comment

  1. Nabinur
     /  Reply

    রোবট নিয়ে এত তথ্য ভাল লাগল।
    ধন্যবাদ

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com