image001
অভিনেতা হিসেবে পরিচিত লিজেন্ড রবার্ট ডি নিরো দু’টো চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। যার একটি সিআইএ’র জন্মের পটভূমি নিয়ে দা গুড শেফার্ড। ছবিটি আদতে সিআইএ’র জন্মের পটভূমি ও তাদের বীরত্বের শো-অফ নিয়ে আলোকপাত করেছে নাকি সিআইএ এর কর্মধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এন্টি-সিআইএ কনসেপ্টকে জাস্টিফাই করেছে সেই জবাব খোঁজার চেষ্টা করেছেন মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আদনান
প্রথমে এই “দা গুড শেফার্ড” নামকরণের পিছনে কিছু কথা বলা দরকার। একই নামে বাইবেলেই একটা গল্প আছে। গল্পটা মোটামুটি এমন- ডেভিড একজন শেফার্ড (মেষপালক)। এমনিতে সে খুবই ভালো মনের একজন মানুষ, তার ভেড়াদের প্রতি সে খুবই সদয়। তবে জীবনে কিছু খারাপ কাজ সে করে ফেলেছে, এমনকি একজন মানুষকে খুন পর্যন্ত করেছে- এ জন্যে সে অনুতপ্ত। সে ভালো গানও লিখতো- গডকে খুশি করতে সে একটা গান লিখলো। গানের কথা হলো- “গড, আমি তোমার কাছে একটা ভেড়া, আর তুমি আমার শেফার্ড। আমি খুবই অসহায়, তুমি আমায় আগলে রাখো”। তো এতে খুশি হয়ে গড তাকে উপহার হিসেবে এক পুত্রসন্তানের প্রতিশ্রুতি দেয়- যে কিনা ভবিষ্যতে রাজা হবে। ভেড়াদের মতই জনগণকে আগলে রাখবে- আর সেই সন্তানকে সবাই “দা গুড শেফার্ড” বলবে। এই গল্প আর সিনেমার আদ্যোপান্ত মিলে যা বলা যায় তা হলো সিআইএকে গ্লোরিফাই করতেই হয়তো এটি বানানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে।
এই চলচ্চিত্রটির কাহিনী লিনিয়ার না হয়ে দুই সময়ের- বর্তমান মানে ১৯৬১ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু সময়কালের। সিনেমার সমান্তরালে বিভিন্ন ঘটনাগুলোর পিছনের কিছু কথা নিয়ে আগে আলোচনা করা যাক।
টাইমলাইন ১৯৬১- সিনেমার শুরুতেই যে যুগলের কথোপকথন- সেটা খুব একটা আলোচনায় আনার প্রয়োজন নেই । পরক্ষণেই যে কিউবা আক্রমণ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট কেনেডির বক্তব্য জানতে চাওয়া হয় সেটা থেকেই মূলত সিনেমাটা নিয়ে মনে খটকা লাগার শুরু। বক্তব্যে কেনেডি জানায় কিউবায় আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী বা কোনো আমেরিকান জড়িত হয় এমন কোনো অন্যায় সে প্রশ্রয় দেবেনা। কেনেডিকে যতটুকু জানা যায়- আমেরিকার আদতেই যে অল্প ক’জন ভালো প্রেসিডেন্ট ছিলেন তাঁদের একজন তিনি। এবং এই মুভিটাতে সিআইএ-র যত গোপন অপারেশন তথা কুকর্মের রেফারেন্স দিবে প্রায় সবগুলোর সাথেই আসলে কেনেডি হত্যাকান্ডের যোগসূত্র পাওয়া যায়, কিছু আবার বাস্তবায়ন শুরু হয় এক্কেবারে কেনেডির হত্যাকান্ডের পরমূহূর্ত থেকেই।
কেনেডির এই বক্তব্যের পিছনে জানামতে যে কয়টা অপারেশন আছে তার মধ্যে অপারেশন যাপাটা, অপারেশন নর্থউডসআর বে অফ পিগস ইনভেশন অন্যতম। অপারেশন যাপাটা’র উদ্দেশ্যে ছিলো কিউবান নাগরিকদেরকে সিআইএ’র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোকে উৎখাত করা। যাপাটা নামটা এসেছে যাপাটা অয়েল (বর্তমানে হারবিঞ্জার গ্রুপ)থেকে, যার প্রতিষ্ঠাতা জর্জ বুশ সিনিয়র- যিনি আবার সিআইএ’র ডিরেক্টরও ছিলেন। এই যাপাটা অয়েলের কর্মচারীদের কিছু ছিলো কিউবান- তাদেরকেই মূলত দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একই সময়ে কিউবায় একটা যুদ্ধে জড়ানোতে মার্কিন জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্যে পরিকল্পনা নেয়া হয় অপারেশন নর্থউডস–এর। কমিউনিজমের সাথে জড়িত লোকদেরকে দিয়ে মার্কিনদের উপরেই নৃশংস কিছু হত্যাকান্ড ঘটানো, প্রকাশ্য রাস্তায় সিআইএ-র ট্রেনিংপ্রাপ্ত লোকদের দিয়ে গোলাগুলি-মানুষহত্যা করে একটা আইওয়াশ দেয়া হবে- কমিউনিজমের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে। জনগণতো এমনিতেই কমিউনিজমের উপরে ক্ষেপে যাবে এতে, কাস্ত্রো ও কিউবার প্রতিও আর কোনো দয়ামায়ার অবকাশ থাকবেনা- আর "আমেরিকা ইজ ইন গ্রেট ডেঞ্জার" বলে ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্যে অন্য দেশে হামলাও ততক্ষণে জায়েজ হয়ে যাবে।
image002পরের দৃশ্যে বাসে এক বাচ্চাকে দিয়ে ডলার ভাংতি করতে পাঠায় তার মা, সেই ডলার থেকে এডওয়ার্ড(ম্যাট ডেমন)- এর সেক্রেটারি কোড পায়, বলে- “কার্ডিনাল আগ্রহী”। এই কার্ডিনাল বলতে আসলে সিআইএর হয়ে কাজ করা রাশিয়ান এক গুপ্তচর-এর কথা বলা হয়েছে, যে কিনা ৩০ বছর ধরে রাশিয়ার বিভিন্ন গোপন সরকারি নথিপত্র সিআইএ’র কাছে পাচার করেছে। এই সিনেমার পরবর্তী অংশগুলোতেই দেখা যায় রাশিয়ান এক গুপ্তচরের সাথে ম্যাট ডেমনকে আলাপ করতে। সেক্রেটারি টাকার বান্ডিল দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট থেকে বন্ধুদের কথা জানায়, সেটা আর কিছুই না- সিআইএ আমেরিকার বড় বড় ধনকুবেরদের হয়ে কাজ করে এরই ইঙ্গিত। কে না জানে- আমেরিকার যে রাষ্ট্রপতি সে একটা পুতুল মাত্র- আমেরিকার আসল ক্ষমতাতো আসলেই গুটিকয়েক ব্যবসায়ীদের হাতে। কিছুক্ষণ পরে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা রিচার্ড হায়েস (লি পেইস) জানায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে এল কমান্দান্তে’র বেডরুমে চা চা নাচার কথা, বিচে যাওয়ার কথা। এইটা বে অফ পিগস ইনভেশনের ইঙ্গিত। কিউবার দক্ষিণে সমুদ্র উপকূল এলাকা বে অফ পিগস- সেটাতে সশস্ত্র হামলার প্ল্যান করে সিআইএ, হামলার জন্যে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করবে গুয়াতামালাকে। গুয়াতামালার একটা কথা জানিয়ে রাখা দরকার- আমেরিকা গুয়াতামালাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলো ফল কোম্পানির জন্যে- তখনকার বিশ্বের শীর্ষ ধনী রকফেলারের ফলের ব্যবসার সব ফলই আসতো সেখান থেকে।
কিছু পরেই সিআইএ’র ব্যর্থ অপারেশনের কথা জানতে পারা যায়, জানা যায় সিআইএ’র হয়ে কাজ করা কিউবানদের কথা, আর এডওয়ার্ডের কাছে বার্তা পৌঁছে নিজেদের মধ্যেই একজন গুপ্তচরের কথা যে কিনা কাস্ত্রোর কাছে কথা পাচার করেছে। এই গুপ্তচর আর সিনেমার একেবারে প্রথমদিকে যুগলের কথোপকথন একই সূত্রে গাঁথা।
টাইমলাইন ১৯৩৯- এর পরের দৃশ্যগুলোতে স্কাল এন্ড বোনস সোসাইটি’র মাধ্যমে কিভাবে এডওয়ার্ড সিআইএ’র সাথে জড়িয়ে পড়ে তা দেখানো হয়, সাথে একটি মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, এফবিআই’কে সাহায্য করা এসব বিষয়ও আসে। এফবিআই’র হয়ে নিজের প্রফেসরের উপর নজরদারি করে সে- একই সময়ে জার্মানিতেও আমেরিকান সরকারের কিছু মিশন থাকে, সে সূত্রেই প্রফেসরের উপর সন্দেহ আর নজরদারি।
টাইমলাইন ১৯৬১- এডওয়ার্ডের কাছে সহকর্মী হায়েস জানায় বে অফ পিগস ইনভেশনের মিশন ব্যর্থতার পিছনে তাদের মধ্যকার কোনো একজনের তথ্য ফাঁস নিয়ে। এই অংশটার সাথেও সেই যুগলের কথোপকথনের সম্পর্ক আছে।
টাইমলাইন ১৯৪০- এখানে স্কাল এন্ড বোনসের সদস্যদের বাস্তবেই যে মিলনস্থল- ডিয়ার আইল্যান্ড এ কিভাবে এডওয়ার্ড এই সিক্রেট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সিনেটর রাসেলের সাথে সাক্ষাত করে, আর সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা জেনারেল সুলিভান (রবার্ট ডি নিরো) –এর কাছ থেকে নতুন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস(সিআইএ)-এ যোগদানের আমন্ত্রণ পায় তা দেখানো হয়। মজার একটি ব্যাপার লক্ষণীয়- সিআইএ’র গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে শুধু ক্যাথলিকদেরকেই নেয়া হয়।
টাইমলাইন ১৯৪১- আমেরিকা-ইংল্যান্ড-জার্মানির মধ্যেকার গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে বিষয়গুলো আলোচনা হয় এখানে। সিআইএ’র প্রধান এলেন’র বক্তব্য এখানে দৃষ্টি আকর্ষণ করে- “Intelligence is their mother's milk, and they don't like sharing the royal tit with people that don't have titles.” একটা ব্যাপার বুঝা গেলো- ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্সও আমেরিকান গোয়েন্দাদের নিয়ে সাবধান থাকতো। একটা পর্যায়ে ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্সের কর্মকর্তা, এডওয়ার্ডের শিক্ষককে মেরে ফেলে তারা নিজেরাই- কারণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জেনে ফেলেছিলেন তিনি। কারণ তিনি এডওয়ার্ডকে সময় থাকতে থাকতে এই বিপজ্জনক পেশা ছেড়ে দিতে পরামর্শ দেন।
টাইমলাইন ১৯৪৫- জার্মানি যুদ্ধে পরাজিত; কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধ মাত্রই শুরু- সিআইএ প্রধান এলেন ইঙ্গিত করেন একটা নতুন মিশনের-অপারশন পেপারক্লিপের। তৎসময়ে আমেরিকা-ব্রিটেন আর রাশিয়ার মধ্যে কাড়াকাড়ি লেগে গেলো জার্মান বিজ্ঞানী-গবেষকদেরকে নিজেদের দখলে নিতে। সিআইএ’র এই গোপন মিশনের নামই অপারেশন পেপারক্লিপ। একটা পর্যায়ে দেখা যায় এক জার্মান এসে জানায় লুকিয়ে থাকা কিছু বিজ্ঞানীর খোঁজ দেয়ার বিনিময়ে তাকে শিকাগোতে অভিবাসনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরক্ষণেই সহকর্মীকে জানিয়ে দেয়- সায়েন্টিস্টদের অবস্থান জানানোর পরপরই তাকে নাজি হান্টারদের কাছে তুলে দিতে। একই সময়ে রাশিয়ান গুপ্তচর কার্ডিনাল(মুভিতে বলে উলিসেস)-এর সাথে সাক্ষাত ও পারষ্পরিক সহযোগিতা নিয়েও কথা হয়।
পরবর্তী কিছু টাইমলাইনে দেখা যায় মূলত সিআইএ’তে যোগদানের ফলে এডওয়ার্ডের পারিবারিক জীবন কিভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে, কিউবায় সিআইএ’র ব্যর্থ অভিযান, আর প্রথম দৃশ্যতে পাওয়া যুগলের টেপের মর্মোদ্ধারের ব্যাপারগুলো।
টাইমলাইন ১৯৬১: এদিকে সিআইএ’র প্রধান এলেনের উপর নজরদারি শুরু হয়, আগের টাইমলাইনেই দেখানো হয়েছিলো সুইজারল্যান্ড থেকে চকলেট আনায় এলেন- আর এখানে দেখানো হয় সুইস ব্যাঙ্কে এলেনের একাউন্টের হিসাব। এর সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তাকে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেয়া হবে সিআইএ থেকে। বাস্তবেই তৎকালীন সিআইএ প্রধান এলেন ডুলেস’কে ১৯৬১ সালে যেদিন প্রেসিডেন্ট কেনেডি রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার দেন ঠিক পরের দিনই তার স্বেচ্ছাপদত্যাগের খবর আসে।
সিআইএ-কেজিবি’র সংঘাতঃ কেজিবি’র গুপ্তচরের হেয়ারএইডিং ডিভাইস তার কর্মকর্তার চায়ের কেতলিতে, আর সিআইএ গুপ্তচরের কাটা আঙ্গুল কফি’র কন্টেইনারে।

সিআইএ-কেজিবি’র সংঘাতঃ কেজিবি’র গুপ্তচরের হেয়ারএইডিং ডিভাইস তার কর্মকর্তার চায়ের কেতলিতে, আর সিআইএ গুপ্তচরের কাটা আঙ্গুল কফি’র কন্টেইনারে।

কিছু পরে দেখানো হয় রাশিয়ান কেজিবি’র এক গুপ্তচরকে নিয়ে কিছু দৃশ্য- প্রথমে একজন নিজেকে মিরোনোভ নামের একজন দাবি করে- পরে আরেকজনও একই দাবি করে। এই ২ জনের সাথে ঘটনাগুলো খুবই কনফিউজিং ছিলো। কোনটা যে আসল বুঝার উপায়ই ছিলোনা- এমনকি সিআইএ’যে কতটা অসহায় হয়ে পড়েছিলো কেজিবি’র কাছে এইটা একটা ইঙ্গিত হতে পারে। এর মধ্যে ২য় যে জন নিজেকে মিরোনোভ বলে দাবি করে এবং সিআইএ অফিসারদের দ্বারা নির্যাতিত হয়- সেখানে এলএসডি-র কথা আসে। এলএসডি ড্রাগটা মূলত সিআইএ’রই একটা প্রজেক্টের আবিষ্কার- আসামী/গুপ্তচরদের কাছ থেকে কথা বের করার জন্যে এক মোক্ষম অস্ত্র- এডওয়ার্ডের কাছেই একজন এসে একে “ট্রুথ সিরাম” নামে একে অভিহিত করে। আর এক পর্যায়ে শ্রান্ত-নির্যাতিত মিরোনোভ যে আত্মহত্যা করে বসে- এইটাও কিন্তু এই এলএসডি ব্যবহারের সাইড ইফেক্ট। এলএসডি দিয়ে মানুষকে কাবু করার ব্যপারটা এতই বাজে অবস্থায় পৌঁছে যে একসময় আমেরিকান চার্চ কমিটি থেকে পর্যন্ত এটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে শেষে সিআইএ’কে এর ব্যবহার কমাতে বাধ্য করা হয়।জনপ্রিয় ব্যান্ড নির্ভানা’র সদস্য কার্ট কোবেইন, গায়িকা হুইটনি হ্যুস্টন, অভিনেতা ফিলিপ সিমোর হফম্যানসহ নামিদামি অনেককেই যখন হোটেল রুমে বা নিজের ঘরে মৃত হিসেবে পাওয়া যায়- কিছুদিন পরেই বের হয়ে আসে তাদের এলএসডি নেয়ার কথা। শুধু এলএসডি সুইসাইড আর হলিউডের আশপাশের কিছু বিখ্যাত ব্যাক্তি যারা আত্মহত্যা করেছেন তাদের নিয়ে ঘাঁটলেই সিআইএ’র এলএসডি ইস্যু নিয়ে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যাবে।
এরই মাঝে একজন ইতালিয়ান-আমেরিকানকে কিভাবে সিআইএ আমেরিকা থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নিজেদের কাজ করিয়ে নিতে বাধ্য করে সেটা দেখা যায়। এখানের উক্তিগুলো খুব হেঁয়ালিপূর্ণ মনে হয়-
Joseph Palmi: Let me ask you something... we Italians, we got our families, and we got the church; the Irish, they have the homeland, Jews their tradition; even the niggers, they got their music. What about you people, Mr. Wilson, what do you have?
Edward Wilson: The United States of America. The rest of you are just visiting.

 

সিনেমার বাকি ঘটনাপ্রবাহ মোটামুটি সরল। নিজের ছেলের কারণে কিভাবে কিউবায় পূর্ববর্তী মিশনগুলো ব্যর্থ হয়ে যায় সেই তথ্য সিআইএ, কেজিবি-র মাধ্যমে জানতে পারে এডওয়ার্ড। স্ত্রী’কে কথা দিয়েছিলো যে কোনো মূল্যে ছেলেকে রক্ষা করবে- আর এভাবেই নিজেকে এডওয়ার্ড “দা গুড শেফার্ড” হিসেবে প্রমাণ করে।

সিআইএ’র দপ্তরের দরজা’র উক্তি

সিনেমার একেবারে প্রথমদিকেই প্রথমবারের মতন এডওয়ার্ডের সিআইএ’র সদরদপ্তরে ঢুকার দৃশ্য দেখানো হয়- তখনকার একটা দৃশ্য খুব চোখে লেগে আছে- দরজায় লেখা থাকে “NOT AN EXIT”। সিনেমাটার ট্যাগলাইনই বলা যায় এটাকে। কিংবা প্রথমবারের মতন যখন ম্যাট ডেমনের সাথে এঞ্জেলিনা জোলির সাক্ষাত হয়, তার কিছু পরে খাবার টেবিলে জোলি বলে- “Bonesmen First, God Second” – এইটা সিআইএসহ আমেরিকার ক্ষমতাসীনদের সিক্রেট সোসাইটি স্কাল এন্ড বোনসের প্রতি তীব্র একটা শ্লেষ ছাড়া কিছুই নয়। তাই শেষ পর্যন্ত এটা এন্টি-সিআইএ সিনেমাই ।

 

লেখক পরিচিতিঃ
মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আদনান। সিনেমা দেখতে ভালোবাসি, তার চেয়ে বেশি ভালবাসি সেটা নিয়ে চা হাতে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ জমাতে, আইডিয়া-থিম-ডিপ মিনিং শেয়ার করতে - প্রথমে একা একা দেখি, তারপরে সবাই মিলে দেখতে পছন্দ করি। যখন হাতের কাছে কাউকে পাইনা - ছটফট করতে থাকি, নিরুপায় হয়ে তখন সেটা লিখে রাখি। একেকটা লেখা হয়তো ৬ মাস ধরেও লিখি, লিখতে লিখতে নিজের কাছে বিরক্ত লাগলে ফেলে দিই; আর নিজের কাছে ভালো লাগলে চেষ্টা করি অন্যদের সাথেও শেয়ার করতে। ভাল লাগে প্রায় সব রকম মুভি - মুডের উপর ডিপেন্ড করে। সবচেয়ে প্রিয় চলচ্চিত্রকার - কুব্রিক, কিয়েসলোস্কি আর সত্যজিত।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *