Smiley face

ক্রিস্টোফার নোলান-দ্য ট্র‌্যাডিশনালিস্ট

1
‘ক্রিস্টোফার নোলান’ – হলিউডি সিনেমার দর্শকদের কাছে পরিচিত, প্রিয় একটি নাম। নন-লিনিয়ার স্টোরিটেলিঙের জন্য বিখ্যাত এই ব্রিটিশ চিত্র পরিচালক ‘ফলোয়িং’ দিয়ে পা রাখেন পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা জগতে। আর ব্যাটম্যান সিরিজকে ভেঙ্গে-চুড়ে নতুন ভাবে তৈরি করে নোলান আজকে হলিউডের সেরা পরিচালকদের কাতারে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে মেমেন্টো, ব্যাটম্যান ট্রিলজি, দ্যা প্রেস্টিজ, ইনসেপশন, ইন্টারস্টেলার। নোলানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই সাক্ষাৎকার সংকলনের আয়োজন, যেখানে নোলান কথা বলেছেন নিজের সিনেমা, ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে। অনুবাদ করেছেন আশিকুর রহমান তানিম।
কখন বুঝতে পেরেছিলেন পরিচালনাই আপনার সত্যিকারের Life Calling (মনোবাসনা)?
আমার বাবার একটা ৮ মিমি ক্যামেরা ছিল, যেটা দিয়ে আমি সারাক্ষণই এটা-সেটা ভিডিও করতাম। তখন থেকেই সিনেমার ধারাবাহিক সিক্যুয়েন্সের মত, আমার মনে ফিল্ম-মেকিং ব্যাপারটা চলতেই থাকে আর এটা কখনোই থামেনি। আর, ১৫ বছরের দিকেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, আমাকে সিনেমাই বানাতে হবে! আমি সারাক্ষণই এই ব্যাপারটা নিয়ে পড়ে থাকলেও, আমি কিন্তু কখনো ফিল্ম-স্কুলে যাই নি। আমি কলেজে ইংরেজী সাহিত্য পড়েছি এবং সেটা বেশ ভালো ভাবেই।
তখনও অবশ্য আমি নিজের ছবি বানাতাম আর এভাবেই আমি এবং বন্ধু-বান্ধব মিলে আমার প্রথম ফিচার ‘ফলোয়িং’ এর কাজ শুরু করি। যদিও ততদিনে আমরা পুরোদস্তুর চাকুরে। আমরা সারা বছর জুড়ে উইকেন্ড গুলোতে জড়ো হতাম। ১৫ মিনিটের মত র স্টক শ্যুট করতাম, যা থেকে হয়তো ৫ মিনিটের মত সিকুয়েন্স টেইক হত। পরে এটা নিয়ে স্যান-ফ্রান্সিসকো ফিল্ম ফেস্টে (১৯৯৮) যেতেই Zeitgeist Films এটা ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্ব নেয়, ফলে আমি ‘মেমেন্টো’ বানানোর জন্য ট্রাকভর্তি ডলার, ইউনিট, হেন-তেন সবই পাই… এরপর আমাকে আর পিছনে তাকাতে হয় নি।
ফিল্ম-স্কুলে না যেয়ে নিজে নিজে শেখাতে সুবিধা কি?
ঠিক সুবিধা না; সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, একেবারে নিজে নিজে শিল্পের আগা থেকে গোঁড়া বুঝতে পারা। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি। আমি ছবি বানানোর প্রত্যেকটা ব্যাপারেই আগ্রহী ছিলাম আর আমাকে সব করতেও হয়েছে, সাউন্ড রেকর্ডিং, এ ডি আর এডিটিং, মিউজিক… সব। আমি সম্ভবত সেই ভাগ্যবান জেনারেশনের শেষ ব্যাক্তি যে Steenback Flatbed (একরকমের এডিটিং সিস্টেম)-এ এডিটিং করেছি, কে এখন এসব ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে যায় হাজার হাজার ক্রু থাকতে ? নিজে নিজে শিখতে গিয়েই আমি বুঝেছি, একটা সিনেমার কোন কোন টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আর এসবই করা সিনেমার প্রতি আমার আকাশ্চুম্বী প্যাশন আর কৌতুহল থেকে। আপনি কোন ব্যাপারে শিশুর মত কৌতুহলী না হলে, ঐ ব্যাপারটা কখনোই ঠিকমত জানতে পারবেন না।
আপনি ডিটেকটিভ উপন্যাসের বড় ভক্ত (আগে বলেছিলেন কোথাও)। ফ্ল্যাশব্যাক, টাইম শিফটিং গোয়েন্দাকাহিনীর এসব ব্যাপারই কি আপনাকে নন-প্যারালাল গল্প-কথনে উদ্বুদ্ধ করেছে?
হুমম, আমার আসলে বেশ কিছু অনুপ্রেরণা ছিল। ১৬ বছর বয়সে পড়া Graham Swift এর Waterland-এ প্যারালাল টাইম লেভেলিং, মাল্টি ডাইমেনশন এরকম বেশ কিছু ব্যাপার-স্যাপার ছিলো। তখন আবার টিভিতে দেখাত Alan Parker-এর The Wall। এটাও এরকমই। তাছাড়া, Nicolas Roeg এর The Man Who Fell to Earth এবং Performance, Jacques Tourneur এর Out of the Past এর মত film-noir এর ও বড় ইনফ্লুয়েন্স আছে। তবে একটা কথা হল, পাল্প ফিকশন বের হওয়ার আগেই আমি সিনেমার স্ক্রিপ্টটা হাতে পেয়েছিলাম আর সত্যিই অবাক হয়ে ভেবেছিলাম, তারান্তিনো এটা কি করেছেন!
আপনি বহুবার বলেছেন ‘Blade Runner’ আপনার প্রিয় মুভি। কেন?
পিচ্চিকালে যখন সিনেমা দেখতাম, তখন ভাবতাম কোথা থেকে গান বাজে? ভাবতাম, অভিনেতারা বুঝি এভাবেই কথা বলে। মানে, স্ক্রিনের ভেতরের ঐ জগতটা কেমন অন্যরকম লাগতো। তো ওই সময়, Blade Runner এর মত ডিফরেন্ট একটা মুভি আমার মনে সত্যিই দাগ কেটে যায়, যেটা এখনো মুছে নি। আরেকটা ছিল Alien। পরে দুটোর মধ্যে একটা মিল পেয়েছি- সেটা হল রিডলি স্কট।
তবে, Blade Runner এর একটা ব্যাপার নিয়ে বলতেই হবে, সিনেমাটা আসলেই অন্যরকম ছিল। যেন আমাদের এই আটপৌরে জগত থেকে অন্যরকম। আর আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটা সিনেমারই নিজের একটা জগৎ থাকতে হয়, থাকতে হয় নিজের একটা দৃষ্টিভঙ্গি। তা সে ভুল হোক বা ঠিক হোক…তারপরেও নিজের এবং পুরোপুরি আলাদা জগৎ।
আচ্ছা, পরিচালনার সময় অভিনেতাদের হ্যান্ডেল করার ব্যাপারে আপনার মতটা কি? আপনি কিভাবে তাঁদের সাথে কাজ করেন?
আমি প্রতিটা সিনেমাতেই নতুন নতুন জিনিস শিখছি। কিন্তু, একটা ব্যাপারে এখনো সেই প্রথমবারের মতই আমার দৃষ্টিভঙ্গি আর সেটা হল অভিনেতাদের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমি তাঁদের যতটা ইচ্ছে টেইক নিতে দেই, দুই-এক মিনিটের হ্যাপাই তো! কিন্তু, আমার চেয়েও তাঁদের সন্তুষ্টিটাই বড় কথা। আর, একই ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন টাইপ অভিনেতা নিলে সেটাও একটা ঝামেলা হয়। যেমন ইনসমনিয়াতে আল পাচিনো একটা টেইকের জন্য বারবার রিহার্স করতে চাইতেন, অন্যদিকে রবিন উইলিয়ামস আবার উলটো। তবে, তাঁদের সাথে কাজ করে যা শিখেছি, তাঁর জন্য ছবিটা শ্যুট করতে ৭ বছর লাগলেও আমার আপত্তি ছিল না।
আচ্ছা, ব্যাটম্যান প্রসঙ্গে আসা যাক… (নোলান নড়ে-চড়ে বসেন)। ৪৫ মিলিয়ন বাজেটের ইনসমনিয়া থেকে তিন গুণ বেশি বাজেটের কাজ? আপনি জানতেন, সবকিছু ঠিক-ঠাক এগুবে?
নাহ! তবে জানতাম, আমি মানুষের এক্সপেকটেশনের বাইরের কিছুই করছি! যখন আপনার পিছনে টাকার এত ভারী ব্যাগ থাকবে, তখন তো একটু অস্বস্তি লাগবেই। কিন্তু, কিছু করার নেই। ঐ কাজটা আমার করা দরকার ছিল।
কেন ?
ব্যাটম্যান একটা কমিক হিরো। আমি যখনই ব্যাটম্যানের নাম শুনতাম, মনে হত অন্ধকারে একটা বিষণ্ণ মানুষ। একটু খ্যাপাটে। বাঁচার একটা, জাস্ট একটা কারণ খোঁজার জন্যই রাত-বিরাতে উড়ে উড়ে বেড়ায়। আমি আমার নিজের ছবিতে ব্যাটম্যানকে এভাবেই দেখতে চেয়েছি। এন্টারটেইনিং শব্দটার মিনিং একটা হলেও, ডেফিনিশন ভিন্ন। ব্যাটম্যানকে দিয়ে আমি সেই বিষণ্ণ এন্টারটেইনমেন্টটাই দিতে চেয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা হল, নিজের চিন্তা-ভাবনা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাটম্যানকে নিয়ে ছবি বানানোর চেয়ে ভালো আর কিই বা হতে পারতো!
ব্যাটম্যান এর ভিলেইন থেকে শুরু করে, আপনার সব ছবিতেই ভিলেইনরা একটু বেশিই বোধহয় প্রেফারেন্স পায়, কারণটা কি?
ভিলেইন কি আবার! আমি এরকম কিছু জানি না। জাস্ট চরিত্র আর অভিনেতা। দৃশ্য সাপেক্ষে, কেউ ক্লক-ওয়াইজ কেউ কাউন্টার ক্লক-ওয়াইজ।
জোকার চরিত্রটিই বোধহয় এখন পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে বেশি এক্লেইমেশন পাওয়া চরিত্র। আপনার হিথ লেজার সম্পর্কে কি মনে হয়?
জোকারের চরিত্রটি হিথকে দিয়েছিলাম ডার্ক নাইটের কোন স্ক্রিনপ্লে লেখার আগেই। আর সেও নিজের মত করে ব্যাপারটায় মানিয়ে নিয়েছিল বেশ। একদিন ওকে ফোন দিলাম, ‘আর ইউ প্রিপেয়ার্ড’? জবাব এলোঃ ‘আই এম অবসেসড’!
এই হল হিথ। সত্যিকারের একজন অভিনেতা, একজন ভালোমানুষ। সত্যি সত্যি বলছি, মানুষ হিসেবে হিথকে কাছের লোকেরা যতটা মিস করবে, তাঁর চেয়ে বেশি মিস করবে সিনেমা লাভাররা। কারণ হিথের আরও অনেক কিছু দেবার ছিল। তবে, ও কিন্তু কোন সুপারহিরো মুভিতে ঢুকতেই চায় নি। অনেক জোরাজুরি করতে হয়েছিল।
আরেকটা ব্যাপার, ব্যাটম্যান সিরিজের মাঝখানে প্রেস্টিজ নিয়ে কাজ করার পেছনের কারণটা কি ?
যেদিন আমি ক্রিস্টোফার প্রিস্টের প্রেস্টিজ বইটা পড়লাম, আমি সেদিনই জানতাম, আমাকে এরকম একটা ফিল্ম বানাতে হবে। যেখানে দুটো পক্ষ থাকবে: লজিক ভার্সেস ম্যাজিক। ব্যাটম্যান সিরিজের মাঝখানে বানালাম কারণ তখন করার কিছু ছিল না। আর সত্যি বলতে কি, আমি সিনেমাটা বানিয়ে দারুণ মজা পেয়েছি।
ব্যাটম্যান সিরিজের এন্ডিং সম্বন্ধে কি বলবেন? ব্যাটম্যানকে কি দর্শক আবারো দেখতে পাবে?
আমি জানি না। আমি যেভাবে চেয়েছি ব্যাটম্যান সিরিজের শেষটা ঠিক এভাবেই হয়েছে। তো, আর কি চাই? পার্সোনালি, আমার আর কোন চাওয়া-পাওয়া ছিল না এই সিরিজ থেকে। আর, মোটিভেশন না থাকলে কাজ করা কঠিন। একটা জিনিষের পেছনে লেগে থাকার মত মানুষ আসলে আমি নই (হাসি)। তারপরও, ব্যাপারটা DC Comics এর উপর। তারাই জানে এর ভবিষ্যৎ কি। তবে, আমাকে আর ব্যাটম্যানকে একসাথে দেখতে পাবেন না আপনারা।
আপনি তো এখনো ফিল্মে শ্যুটিং করেন। স্পিলবার্গ ছাড়া আর যেটা কেউ এখন করে না। কেন?
আমি জানি না, সবাই কেন শুধু ভিডিও শ্যুট করতে বলে। ফিল্মে শ্যুট করাটা বরং সস্তা বেশি। আর এটা এতদিন ধরে চলে আসছে, নিশ্চয়ই নির্ভরযোগ্য বলে। আমি একটু ট্র্যাডিশনালিস্ট, সনাতনী। যেমন ডার্ক নাইট রাইজেস থ্রিডিতে মুক্তি দিতে চেয়েছিল ওয়ার্নার ব্রাদার্স। আমি রাজি হইনি। মুভির টেকনিক্যাল ইস্যু সম্পর্কে আমার ভিন্নমত আছে। মুভির টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো হওয়া উচিত বিহাইন্ড দ্যা স্ক্রিন। দর্শকের কাছে যেন সেটা অরগানিক ভাবেই পৌঁছে। সিনেমার সাথে ‘থ্রিডি’ ট্যাগ লাগিয়ে দর্শক টানার কোন মানেই হয় না। তাই বলে, আমাকে আবার প্রযুক্তিবিদ্বেষী ভেবে বসবেন না। TDNR কিন্তু আমি আইম্যাক্স ক্যামেরা দিয়ে শ্যুট করেছি।
ইনসেপশন প্রসঙ্গে আসি। গল্পটার পেছনে অনুপ্রেরণা কি? এরকম জটিল বিষয়ে কাজ করাটা চ্যালেঞ্জিং নয় কি?
ওয়েল, আমি সবসময়ই স্বপ্ন নিয়ে ভীষণ আগ্রহী ছিলাম। স্বপ্ন ভীষণ মজার একটা জিনিস। এখানে আপনি যা চাইবেন, বাস্তব-অবাস্তব সবই সম্ভব। এরকম ভাবনা থেকেই আসলে ইনসেপশনের ইনসেপশন (সূচনা)। আর জিনিসটা যতটুকু মজার, ততটুকু জটিল হলেও আমি কেয়ার করি না। হোক না!
দর্শকের দৃষ্টিকোণ থেকে একটা প্রশ্ন, আপনার সিনেমার জটিলতাটা কি ইচ্ছেকৃত?
(হাসি) না, এটা গল্পের সাথেই চলে আসে। আর জটিলতা ব্যাপারটাই তো খুব সরল। আপনি যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই নিতে পারছেন। আপনি যা দেখতে চান, তাই দেখলেন। ইনসেপশনে কব মারা গেল কিনা বা প্রেস্টিজে অ্যাঞ্জিয়ার মারা গেল কিনা, এটা দর্শকদের ব্যাপার।
আর এটা তাঁদের হাতে ছেড়ে দেয়ার জন্যই সিনেমার এই স্টাইলটা বেছে নেয়া। এখানে জটিলতার কিছু নেই। এমনতো নয়, নন-লিনিয়ার জনরা বা এরকম ছবি আগে হয়নি। তবে একটা ব্যাপার কি, যেদিন থেকে টিভি সিনেমা দেখার একটা অনুষঙ্গ হয়ে গেল, সেদিন থেকেই বোধহয়, সবাই অপেক্ষাকৃত সোজা পথটা বেছে নিল। সিনেমার সময় আপনি যেন টেলিফোনে কথা বলে, ১০ মিনিট এদিক-সেদিক ঘুরে এসেও গল্পের কোন অংশ থেকে সরে না যান (হাসি)।
শেষ প্রশ্ন। এখনকার ক্যাজুয়াল ডিরেক্টররা যেখানে বেইসবল ক্যাপ, শর্টস পড়ে শ্যুটিং করেন। আপনি সেখানে কোট-টাই পড়ে সবসময় কেতাদুরস্ত হয়ে থাকেন, কারণটা কি?
(হাসি) আমি ছোটবেলায় বোর্ডিং স্কুলে পড়তাম, যেখানে এরকম ইউনিফর্ম ছিল। তখন থেকেই বেশি পকেটওয়ালা জ্যাকেটে আমার অভ্যস্ততা তৈরি হয়ে যায়। কেননা, পকেটভর্তি ঐ জিনিসগুলোর দরকার পড়ে যায় সবসময়ই। আর, এটা কেন জানি বেশি আরামদায়ক-ও লাগে।

 

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com