Smiley face

এ শহর আজ আয়নাবাজির শহর

gallery5
আয়নাবাজি সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে ৩০ শে সেপ্টেম্বর। মুক্তির পর প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চলেছে, কিন্ত মানুষের উন্মাদনা বিন্দুমাত্র কমে নি।  কি এমন জাদু আছে  অমিতাভ রেজা পরিচালিত বহু প্রতীক্ষিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’-তে ?? ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখে এসে নিজ অনুভুতির কথা জানাচ্ছেন সুদীপ মজুমদার
আয়নাবাজি। এই শব্দটা কিন্তু বেশ শোনায়, কেমন যেন অদ্ভুত নেশা আছে এর মাঝে, মনে হয় বর্নগুলো  কত সযত্নেই না রহস্যময়তা লুকিয়ে রেখেছে নিজেদের মাঝে। শুধু সিনেমার নামটিই নয়, পোস্টার থেকে শুরু করে সবকিছু; ট্রেইলার, প্রোমো এমনকি শিরোনাম গানটির কথা-সুর সবকিছুই যেন সেই হেঁয়ালির এক একেকটা ইঙ্গিত দেয়। সেই ইঙ্গিত এক বিস্ফোরণের ইঙ্গিত, সেই ইঙ্গিত এক বিপ্লবের ইঙ্গিত। মুক্তির পর আয়নাবাজি তার সম্মোহনী ক্ষমতায় শাসন করছে রাজকীয় ঢংয়ে, মাতাল দর্শক বাড়ি ফিরছে মুগ্ধ নয়নে, তৃপ্ত হৃদয়ে। আর তাই শিরোনামের গানটির কথার সূত্র ধরেই বলা যায়, আয়নাবাজির ভেলকি তাক লাগিয়ে দিয়েছে, মাঝি অভিতাভ রেজার ভেলায় চড়ে কাস্টমাররা(দর্শক) অংকের হিসাবে লাভ খুঁজে পেয়েছে, আর তা হল অসাধারণ এক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।
অমিতাভ রেজা আমাদের দেশের বর্তমান সময়ের একজন অন্যতম প্রতিভাবান নির্মাতা। নাটক-সিনেমা কিংবা বিজ্ঞাপনতো অনেকেই বানায়, কিন্ত এতোটা গুছিয়ে আড়ম্বর করে, বৃত্তের বাইরে কেই বা বানাতে পারছে! আমরা টিভি পর্দায় যা দেখি সে নিছকই গৎবাঁধা ফরমায়েশি কাজ মনে হয়, ক্যামেরার পেছনের স্বাধীনতা কিংবা চিন্তার বিকাশ কয়জনাই বা করে দেখায়! অনিমেষ আইচ, অমিতাভ রেজা, মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এদের চেয়ে অন্যরকম। এদেরকে অন্য পাল্লায় মাপা লাগে। তাই যখন শুনি অমিতাভ রেজা বড় পর্দায় আসছেন, সেটা আমাদের মত সিনেমাপ্রেমীদের আলাদা করে উদ্বেলিত করে বৈকি। যখন শুনি, ক্যামেরার পিছনে থাকবেন আমাদের অতি প্রিয় রাশেদ জামান, তখন উত্তেজনার পারদ যেন সীমানা ছাড়িয়ে যায়। আমাদের মত দর্শকদের কাছে আয়নাবাজি ছিল বহু বছরের জমানো খায়েশের মতন, এক ফ্রেমে পছন্দের পরিচালক, পছন্দের সিনেমাটোগ্রাফার, পছন্দের অভিনেতা, পছন্দের মিউজিশিয়ান, সব কিছুর সন্নিবেশ। ব্যাপারটার একটা উদাহরণ দিই; প্রিয় সিনেমা ‘বার্ডম্যান’ এর পরিচালক ইনারিতু আর সিনেমাটোগ্রাফার ইমানুয়েল লুবেস্কির ডুয়ো কিংবা ‘নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান’ ছবিতে কোয়েন ব্রাদার্স আর রজার ডিকিন্সের ডুয়ো; এগুলো যেকোন সিনেমাপ্রেমী দর্শকের জন্য স্বর্গীয় সুখানুভূতি আনতে বাধ্য। অমিতাভ রেজা আর রাশেদ জামান ঠিক তেমনই এক অমৃত সুধার নাম।
আয়নাবাজি মুক্তি নিয়ে গোটা টিমের সংগ্রামের গল্প আমরা কমবেশি সবাই আঁচ করতে পারি। এরকম হাইপে থাকা চলচ্চিত্রের মাত্র বিশটি হল বরাদ্দ পাওয়াতে অতি বিস্মিত না হলেও কিছুটা দমে যাওয়ারই কথা। কিন্তু ঐ যে গানের কথাতেই আছে, আমার আল্লায় করবে, তোমার বিচার; মুক্তির দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আয়নাবাজির লাগ ভেলকি লাগ চলছে দুর্দান্ত দাপটের সঙ্গে। আর চলবেই না কেন? গৎবাঁধা জিনিস দেখতে দেখতে মানুষ  ক্লান্ত, যৌথ প্রযোজনা আর গতানুগতিক বাণিজ্যিক সিনেমার একঘেয়ে রেসিপিতে মানুষের রুচিতে একটু হলেও জং ধরে গিয়েছে। আয়নাবাজির হাওয়াঘরের মত খোলা আকাশের নীচে একটু দম নিতে উদগ্রীব সবাই যেন ছুট দিয়েছে কাছের সিনেমা হলগুলোতে। প্রথম থেকে আজ অবধি টিকেটের জন্য সারি সারি লাইন আর মানুষের উন্মাদনা এটাই প্রমাণ করে যে বাংলা সিনেমার দর্শক আজ কতটা পরিণত হয়ে উঠেছে। তারা ভালো সিনেমা বুঝে, কদর করে।
সিনেমার ইতিবাচক দিক অনেক। প্রথমেই মূলগল্পের ব্যাপারটা বলা যেতে পারে। খুবই আধুনিক, আর একবারে ফ্রেশ। শরাফত করিম আয়না (চঞ্চল চৌধুরী), দেখতে সাদামাটা, সহজ সরল কিসিমের। জাহাজে বাবুর্চির কাজ করে, মাঝে ছুটিতে এলাকায় বাচ্চাদের অভিনয়ের স্কুল চালায়। কিন্তু তার ভেতরের গল্প আসলে বেশ অন্যরকম। এই পৃথিবীটা  তার  কাছে  বিশাল এক  নাট্যমঞ্চ  আর তিনি সেই মঞ্চের  একজন সামান্য অভিনেতা। টাকার বিনিময়ে সে অন্যের হয়ে জেল খেটে দেয়, এই জিনিসটা তার কাছে নেশার মতোন, একটা চ্যালেঞ্জ। একদা এই অভিনয়ের জালেই এক বিশাল ফাঁদে পা বাড়ায় সে।
সিনেমার কাহিনী আর চিত্রনাট্যে গাউসুল আলম শাওন আর অনম বিশ্বাসকে আলাদা করে ধন্যবাদ দিতে হয়। যেহেতু, সাইকোলজিক্যাল স্টোরিলাইন, তাই ইচ্ছাকৃতভাবেই গল্পে প্রচুর হাসির খোরাক রেখেছেন। এটা বেশ ভালো কায়দা, তাতে করে ম্যাস অডিয়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনটা ভালো হয়। মানুষ হাসতে পছন্দ করে, তাই কমিক রিলিফের প্রয়োজন আছে। সিনেমায় প্রচুর হিউমার ছিল, পাঞ্চ লাইন ছিল, আবার খুবই ক্লিশে জোকও ছিল। সব শ্রেণীর মানুষকে বিনোদিত করার কৌশলটি যে ভালো কাজে দিয়েছে সেটা সিনেমা দেখতেই টের পাওয়া যায়। আশেপাশের মানুষ প্রচুর হেসেছে, গড়াগড়ি খেয়েছে। পার্থর বাসায় কাজের ছেলে জামিলের চরিত্রের কথাতেই আসা যাক, আঞ্চলিকতার টানে যাই বলেছে সবাই খুব উপভোগ করেছে। এই প্রসংগে অনেকেই হয়তো বলবেন, এর মাধ্যমে আঞ্চলিকতার টানকে উপহাস করা হয়েছে, অমিতাভ রেজা আউট অফ দ্যা বক্স ডিরেক্টর, তিনি কি এটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন কিনা! পয়েন্টটা আসলে এখানেই, যেহেতু সিনেমার মূলগল্প গতানুগতিক কিছু না, ভিন্নধর্মী, বেশ ভারী, তাই স্ক্রিপ্টে এই জিনিসটা রাখা হয়েছে ডেলিবারেটলি। আবার জর্জের একটা সংলাপের কথাই ধরুন, “সবাই তো আর স্ট্রেইট না……” –এই রেফারেন্স কিন্তু আমাদের জেনারেশানের কথা চিন্তা করেই করা।
alu-piyaj-er-kabbo-video-song-aynabaji-bangla-movie
আরেকটি পজিটিভ ( বলা যায় সবচেয়ে ডমিনেটিং) জিনিস হল, সিনেমার মূল চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী। চঞ্চল চৌধুরী কতটা প্রতিভাবান অভিনেতা সেটা বলার আর অপেক্ষা রাখেনা। নাটক, বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বড় পর্দাতেও সেই নমুনার স্বাক্ষর দিয়েছেন বহুবার। এরা মঞ্চে পোড় খাওয়া মানুষ। অভিনয় যে একটি সাধনা, তপস্যা তাদের দেখে পরিষ্কার বোঝা যায়। আড়াই ঘন্টার টাইম স্প্যানে চঞ্চলকে যে পরিমাণ জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন পরিচালক, চঞ্চল তার সুবিচার করেছেন নিখুঁতভাবে। শরাফত করিম আয়না ওরফে চঞ্চল চৌধুরী, আধুনিক বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উজ্জ্বলতম নক্ষত্ররূপে বিরাজমান থাকবেন বহুকাল। এই চরিত্রের পেছনে চঞ্চলের ডেডিকেশানের গল্প শুনে শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছি বহুবার। শুধু চঞ্চল চৌধুরীই নয়, ভীষণ রকম অবাক করেছে মাসুমা রহমান নাবিলার অভিনয়। দারুণ সাবলীল আর পারফেক্ট কাস্টিং। চরিত্র হিসেবে গল্পের সঙ্গে তার উঠাবসাটা ছিল খুবই সরলরৈখিক, কিন্তু মায়াবী চোখ আর অভিনয়ে বেশ মুগ্ধ হয়েছি। সিনেমার নায়িকা বলা যায়, কিন্তু পোষাক, আচার-আচরণে সেই কেতাবী ঢংকে কখনই পর্দায় আনতে দেননি। উপস্থাপনা আর টুকটাক মডেলিংযের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বড় পর্দায় এরকম অনবদ্য পারফরম্যান্স, নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। সিনেমার যাত্রাটা আগামীতে আরো সুগম হোক এটাই প্রত্যাশা রইলো।
14646812_10157595482100387_32389293_o
আরেকজন বেশ মুগ্ধ করেছে, তিনি হলেন লুৎফর রহমান জর্জ। এটি অবশ্যই তার  ক্যারিয়ারের  অন্যতম  সেরা  কাজ, একই সঙ্গে নিজের জাতটাও চেনালেন আসলেই কতটা শক্তিশালী অভিনেতা তিনি। চঞ্চলের সঙ্গে জর্জের সেই সিকোয়েন্সে, যেখানে চঞ্চল জর্জের মত করেই হাসছিল, রক্ত যেন টগবগ করছিল উত্তেজনায়। সিনেমার মিউজিক কম্পোজিশান নিয়েও বলা দরকার। অর্ণব, চিরকুট, ফুয়াদ আর হাবিব, বাংলাদেশের এই সময়ের সন্দেহাতীত সেরা একেকজন। তাদের নিয়ে গোটা আসরটাই হয়েছিল জমজমাট। সঙ্গে মুগ্ধ করেছে ইন্দ্রদীপ দাশ গুপ্তের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ইন্ট্রিগিং সিকোয়েন্সে সেই ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এখনো যেন কানে বাজে।

 

 

new

ডিওপি রাশেদ জামান একজন অসামান্য প্রতিভাধর মানুষ। আয়নাবাজির মাধ্যমে চিরচেনা ঢাকা শহরকে তিনি দেখিয়েছেন এক ভিন্ন রূপে। প্রাচীনতার মাঝে আধুনিক গল্প ফাঁদা এটা যেন তেন ব্যাপার নয়। তিনি বেছে নিয়েছেন পুরান ঢাকার অলিগলি, সদরঘাট, মৃত বুড়িগঙ্গাকে। ড্রোনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন এই জাদুর শহরকে। একজন মানুষ যা দেখতে চায়, তিনি যেন ক্যামেরা নিয়ে সেটাই হাজির করেন পর্দায়। নাবিলা আর চঞ্চলের কাঁচা বাজারের সেই সিকোয়েন্স, মনে হচ্ছিলো সুরের সঙ্গে সঙ্গে লাইটগুলো দুললে দারুণ হয়, একটু পর আসলেই দেখি লাইটগুলো দুলছে। হাওয়াঘরের জানালাগুলো খোলা, নীচের জানালা দিয়ে আকাশ দেখা যাচ্ছে, এমন একটি এংগেলে দেখিয়েছেন যে মুগ্ধ হয়ে গিলেছি। মনে হচ্ছিলো, যদি ঐ বাসার ছাদে যেতে পারতাম, মন ভরে দম নিতাম। বিভিন্ন সিকোয়েন্সের ডিটেইলিং ছিল তারিফ করার মত। নাবিলা কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছে আয়নার জন্য, গোটা রেলস্টেশন খালি, কারণ নাবিলার চোখে অন্যদের অস্তিত্ব ধরা পড়ে না, সে আয়নার সঙ্গে সিলেট যাবার স্বপ্নভঙ্গে কাতর; কিংবা নাবিলার বাবাকে এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেবার সময় গাড়ি সিগন্যালে আটকা পড়ে। সিগনাল ছাড়াতে নাবিলা রাস্তার নেমে পড়ে। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হতে থাকে, নাবিলা কাঁদতে থাকে অসহায়ের মত। তার চোখের কান্না চাপা পড়ে যায় বৃষ্টির জলে। ক্যামেরার মাধ্যমে নোংরা ঢাকা শহরকে দেখিয়েছেন অসম্ভব ভালোবাসার জায়গা থেকে। এর নাম রাশেদ জামান, যার চোখ আর কাজে অসাধারণ এক শিল্পীসত্তার ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়। যেন এক ম্যাজিশিয়ান!!!

1471765250-aynabaji-4

গল্প, চঞ্চল চৌধুরি, রাশেদ জামান। আরেকটি জিনিস বাদ পড়ে গেছে, তিনি হলেন পরিচালক অমিতাভ রেজা। আসল কুর্নিশটা তাকেই করা দরকার। দুই বছরের চেষ্টার ফসল এই আয়নাবাজি, প্রতিটি সিকোয়েন্সে সেই দুই বছরের কষ্টের ছোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়, এত যত্ন দিয়ে গড়া সেগুলো, মনে আলাদা করে দাগ কাটে। সিনেমার প্রোমো, ট্রেইলার, মার্কেটিং সবকিছুতেই পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট। সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশান আর টেকনিক্যাল কাজগুলো করেছেন পাশের দেশ ভারতে, এমনকি  মেকআপ  আর্টিস্টও (মোহাম্মদ আলী) এনেছেন সেখান থেকে। কারণ অমিতাভ রেজার কাছে আয়নাবাজি ছিল সন্তানের মতন। যত্ন করেছেন, খেয়াল নিয়েছেন। আর তার আউটপুট কেমন হয়েছে তাতো আমরা দেখতেই পারছি। পুরো স্টোরিটেলিংইয়ে ভীষনরকম পরিমিতিবোধ ছিল। চিরকুটের গানটি দেখানো হয়েছে জেলখানার আদলেই। নাবিলা আর চঞ্চলের রোমান্স দৃশ্য, যেন গজ ফিতা দিয়ে মেপে মেপে দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। ফোর্সফুল লাভ ইন্টারেস্ট মনেই হয়নি।
সিনেমার এত এত পজিটিভ ব্যাপার, এমন কিছু কি ছিল যেটা দর্শকদের ভোগায় নি! হুম, ছিল। ছোটোখাটো দু’একটি ব্যাপার। যেমন, গল্পের টাইমলাইন আর তার সঙ্গে চঞ্চলের চুল-দাড়ি, এটা মনে হয় মোটামুটি সবাইকেই পীড়া দিয়েছে। ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট হিসেবে পার্থ বড়ুয়ার তদন্তের ব্যাপারটা, সে কিভাবে চঞ্চলকে ন্যারো ডাউন করলো, নাবিলাকে ট্রেস করতে তার এত সময় কেন লাগলো, এসবের ক্লিয়ারকাট ব্যাখ্যা নেই। তবে পার্থ যে শুধু হাত গুটিয়ে বসে থাকে নি সেইটাও অবশ্য উঠে এসেছে। সে মাঝে চঞ্চলের ব্যাকগ্রাউন্ড জেনেছে, তাঁর মায়ের কাহিনী খুঁজে বের করেছে।
কিংবা সিনেমার শেষের জায়গাটুকু আসলেই কতটা পাওয়ারফুলি কনভিন্সিং ছিল! তবে ঠান্ডা মাথায় একবার চিন্তা করুন, দামী কালিবাউশ মাছ নিয়ে চঞ্চলের হেটে যাওয়া, নাটকের রিহার্সালের ছেলে মেয়েদের সেই দৃশ্যটি, কিংবা শেষ মুহুর্তে গার্ডের সাথে চঞ্চলের কথোপথন- সেগুলো কিন্তু চিন্তার পালে রেফারেন্স হয়ে বাতাস দেয় বৈকি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এইরকম নেতা যদি ফাঁসির আসামী হয় তার নিরাপত্তা কি এমনটা হতো? কিংবা বন্দী বিনিময়টি এতোটা পাবলিকলি দেখানোর কি দরকার ছিলো? এইরকম টুকটাক দুই একটা অসঙ্গতি চোখে পড়বেই! তবে হ্যাঁ, এটা অনস্বীকার্য, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এতটা অনবদ্য ফিনিশিং আর তেমন কেউই করে দেখাতে পারেনি; তুলনায় শুধু ‘টেলিভিশন’ ছবির সেই এন্ডিংযের কথা বলতে হবে।
আয়নাবাজি স্রেফ ধ্যানমুগ্ধ করেছে। আয়নাবাজিতে চঞ্চল শুধু ছয়টি পৃথক চরিত্রে অভিনয়ই করেননি, আমাদের চিনিয়েছেন ছয়টি আলাদা পৃথিবীকে, সবগুলোই আমাদের চিরচেনা জগত, যেখানে সাধারণ মানুষের ধারণা টাকাওয়ালা মানুষের কিংবা পলিটিক্যাল লিডারদের কখনো বিচার হয় না, যেখানে  অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি খবরটা ছাপার সাহস করে না কেউ, যেখানে টাকা-ক্ষমতার জোর আছে তাদের হাজারো নির্যাতন চোখ বুজে সহ্য করে যেতে বলা হয়। যেখানে দোষ করবে একজন, জেল খাটবে আরেকজন, সেই পৃথিবীতে সবাই যেন একেকজন জাত অভিনেতা। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে মানুষ রুপ বদলায়, অভিনয় করে যায় নিজের সঙ্গে।
আয়নাবাজির জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক। এই ধরণের সিনেমা আরো আসুক, মানুষ হলমুখী হোক। বাংলা সিনেমার জয় হোক।

maxresdefault

 

 

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com