Smiley face

ইউনিভার্সাল স্টুডিও : সিংহপুরের স্বপ্নপুরী

top-universal-studios-singapore-travelling
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইউনিভার্সাল স্টুডিও’র বিশ্বব্যাপী চারটি থিম পার্ক রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড আর অরল্যান্ডোতে, একটি জাপান আর অপরটি সিঙ্গাপুরে। ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ২০১১ সালের ২৮ মে। এই থিমপার্কটি অবস্থিত সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপে। রিসোর্ট ওয়ার্ল্ড সেন্তোসার ১২০ একর জমির মধ্যে ৪৯ একর জায়গাই দখল করে আছে বিখ্যাত এই স্টুডিওর থিম পার্কটি। ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর ঘুরে এসে সেখানকার অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন কাউসার রুশো। ছবি তুলেছেন কাউসার রুশো ও সাদিয়া তাসনিম।
গেল রোজার ঈদের অনেকটা আচমকাই সিঙ্গাপুর যাওয়ার একটা সুযোগ এসে গেল। আমার স্ত্রী সিঙ্গাপুরে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের উপর একটা কনফারেন্স অ্যাটেন্ড করতে যাবে। বডিগার্ড হিসেবে তার সফরসঙ্গী হওয়ার দায়িত্ব বর্তালো আমার উপর। তাই দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে আমরা দু’জন উড়াল দিলাম সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে। যাওয়ার আগে নেট ঘেটে ব্যাপক পড়াশুনা করলাম। সিঙ্গাপুর নয়, ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর’ সম্পর্কে। অনেকদিনের একটা ইচ্ছে পূরণ হতে চলেছে যে! সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থাকায়, ইউনিভার্সাল স্টুডিও জীবনে একবার হলেও ঘুরে দেখবো এই অভিলাষ তো আর আজকের না! বছর পাঁচেক আগে ইউনিভার্সাল স্টুডিও থিম পার্কটি “বাড়ির কাছে” সিঙ্গাপুরে চালু হওয়ায় স্বপ্নের পালে আরো হাওয়া লাগে। তবে এভাবে আর এত দ্রুত এই স্বপ্ন পূরণ হবে, সেটা অবশ্য স্বপ্নেও ভাবিনি।
দুই দিনের ঝটিকা সফরের একদিন কনফারেন্সে পেপার প্রেজেন্টেশনের জন্য আগে থেকেই বরাদ্দ ছিল। ঐদিনই ছিল আবার সিঙ্গাপুরে ঈদ। আর অবশিষ্ট একটি দিন (ঈদের আগের দিন) আমি তুলে রেখেছিলাম মাদাম তুসো জাদুঘর আর ইউনিভার্সাল স্টুডিও দেখবো বলে। ঝামেলা এড়ানোর জন্য দেশে থাকতেই অনলাইনে এই দুই জায়গার টিকেট কেটে ফেলেছিলাম।
sam_1831ইউনিভার্সাল স্টুডিও আর মাদাম তুসো প্রতিদিন সকাল দশটায় দর্শনার্থীর জন্য তাদের প্রধান ফটক খুলে দেয়। ইচ্ছে ছিল মাদাম তুসো ঘুরে এগারোটার মধ্যেই স্টুডিওতে ঢুকে যাব এবং যতক্ষণ পর্যন্ত অর্ধচন্দ্র না দিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত স্টুডিওর ভেতর ঘুরে বেড়াবো। যতটা বেশি সময় ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে কাটানো যায় আর কি! এম্নিতেই অনেক বড় জায়গা। আর নেট ঘেটে যা বুঝেছিলাম একদিনে এই জায়গার পুরোটা ঘুরে দেখা সম্ভব না। কিন্তু বিধি বাম! কনফারেন্সের রেজিস্ট্রেশনের কাজ শেষ করে আর মাদাম তুসো ঘুরে স্টুডিওতে যখন পৌছালাম তখন ঘড়িতে বাজছে দুপুর একটা পনের। অনেক দেরি হয়ে যাওয়াতে মন আগেই ভেঙ্গে গিয়েছিল। তার উপর হাজারো দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় আর প্রতিটি রাইডের প্রবেশমুখে বিশাল লাইন দেখে খুব হতাশ হয়ে গেলাম। স্টুডিওর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সাই-ফাই সিটির ট্রান্সফরমার রাইডটি দিয়ে ভ্রমণ শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই রাইডটিতে চড়ার জন্য মানুষের লাইন এত দূর পর্যন্ত ঠেকেছিলো যে সেদিন আর ঐ রাইডটি উপভোগ করার সু্যোগ পাব কিনা তা নিয়ে সংশয়ে পড়ে গেলাম। তাই প্রথম এক ঘন্টা কাটলো মনমরা হয়ে, স্টুডিওয়ের ভেতর উদ্দেশ্যবিহীন হেঁটে বেড়িয়ে। বুঝতে পারছিলাম এভাবে হাল ছেড়ে না দিয়ে, যতটুকু সময় বেঁচে আছে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম সামনে যে রাইডটিই পাব, যত দেরিই হোক না কেন সেটা দিয়েই শুরু করবো। প্রায় এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে, অ্যানশিয়েন্ট ইজিপ্ট জোনের এনক্লোজড স্টিল রোলার কোস্টারের ‘রিভেঞ্জ অব দ্য মাম্মি’ রাইডটি চড়ে আমাদের ট্যুরের আমেজই পাল্টে গেল। আলো-আঁধারির খেলা আর ভয়ংকর সাউন্ড ইফেক্টে প্রচন্ড উত্তেজনাপূর্ণ এই রাইডটি চড়ার অভিজ্ঞতা হলো স্রেফ দুর্দান্ত। প্রথমে যখন রোলার কোস্টারটি হঠাৎ পেছন দিকে হ্যাঁচকা টানে খাড়া নীচের দিকে আমাদের ফেলে দিলো, তখন অবশ্য মনে হয়েছিলো রাইডটিতে উঠে মস্ত বড় ভুল বুঝি করেই ফেললাম। আমরা দু’জন বেশ ভয় পেলেও, রাইডটিতে চড়ে আদতে মনটা খুশি খুশি হয়ে গেল। এবার আমরা নতুন উদ্যমে ইউনিভার্সাল স্টুডিও ঘুরতে শুরু করলাম। আর যে রাইডগুলোতে তুলনামূলক ভীড় কম সেগুলোতে গিয়ে লাইন ধরলাম। পুরো স্টুডিওটিকে মোট সাতটি থিম জোনে ভাগ করা হয়েছে- হলিউড, নিউইয়র্ক, সাই-ফাই সিটি, অ্যানশিয়েন্ট ইজিপ্ট, দি লস্ট ওয়ার্ল্ড, ফার ফার অ্যাওয়ে ও মাদাগাস্কার।
প্রবেশমুখেই রয়েছে ইউনিভার্সাল স্টুডিওর সেই বিখ্যাত লোগো। ঘূর্ণায়মান ভূগোলকের চারপাশে ‘ইউনিভার্সাল’ লেখা। বিশাল গেট দিয়ে ঢুকে স্টুডিওর প্রবেশপথ পার হলেই দেখা মিলবে ছোট্ট এক টুকরো হলিউডের। হলিউডের আদলেই বানানো ‘ওয়াক অব ফেম’ আর অন্যান্য রাস্তাগুলোতে হলিউডের নায়ক-নায়িকাবেশে অনেককেই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। আমরা যেমন দেখা পেলাম ‘মেরিলিন মনরো’ আর ‘ডেসপিকেবল মি’ চলচ্চিত্রের মিনিয়নের। হলিউড থিয়েটারে একটা লাইভ শো’ দেখারও সুযোগ হয়ে গেল আমাদের। ‘সিসেমি স্ট্রিটঃ হোয়েন আই গ্রো আপ’ নামক শো’টি মূলত বাচ্চাদের জন্য হলেও সবার কাছেই বেশ উপভোগ্য ছিলো। এখানে উল্লেখ্য যে, সিসেমি স্ট্রিট এর বাংলাদেশি সংস্করণই হচ্ছে ‘সিসিমপুর’। ১৯৭৩ সালের জর্জ লুকাস নির্মিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘আমেরিকান গ্রাফিটি’র ‘মেল’স ড্রাইভ ইন’ রেস্টুরেন্টের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণও পাওয়া যাবে ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুরের হলিউডে।

20160705_125913

20160705_125948

20160705_175246-1

হলিউড পার হয়ে কিছুদূর হেঁটে যেতেই চোখে পড়বে নিউইয়র্ক সিটির। এখানেই বিশ্বখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘লাইট!ক্যামেরা!অ্যাকশন!’ শীর্ষক আয়োজনে একটি শুটিংয়ের অংশবিশেষ দেখার সুযোগ মিলে। নিউইয়র্ক সিটিতে প্রচন্ড এক ঝড় আঘাত হানায় কিভাবে সব ভেঙেচুরে পড়ে সেটিই সরাসরি দেখানো হয় এখানে। আর বড় পর্দায় ভিডিও বার্তায় স্টিভেন স্পিলবার্গের মুখে শোনা যায় শুটিংয়ের নেপথ্যের কিছু বিষয়। সময়ের অভাবে এই দারুন শো’টি দেখার সুযোগ হয়নি আমাদের। এখানকার আরেকটি প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ‘সিসেমি স্ট্রিট স্প্যাগেটি স্পেস চেজ’ ফ্যামিলি রাইডটি। এছাড়া নিউইয়র্কের বিখ্যাত লাইব্রেরির রেপ্লিকাও পাওয়া গেল এই জোনে।

20160705_130059

ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর এর সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় জোন হচ্ছে সাই-ফাই সিটি। এখানেই  রয়েছে ফোর ডি ডার্ক রাইড মোশন সিমুলেটরের ট্রান্সফরমার রাইডটি। অপ্টিমাস প্রাইম এবং বাম্বলবি এর দেখা মিলবে এই জোনে। তবে সাই-ফাই সিটির আরও ভয়ঙ্কর রাইড হল ব্যাটেলস্টার গ্যলাক্টিকার আদলে নির্মিত হিউম্যান আর সাইক্লোন নামের রোলার কোস্টার দু’টো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম ভয়ঙ্কর রোলার কোস্টার রাইড নাকি এগুলো। দুর্বল চিত্তের মানুষের জন্য এগুলোতে চড়া একদম মানা। আমরা লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত আর চড়ার সাহস করলাম না।

20160705_130752

20160705_130933

ভবিষ্যতের সাই-ফাই সিটি পেরোলেই দর্শনার্থীদের পা পড়বে অতীতের মিশরের উঠোনে। এই জায়গাটা এত সুন্দর করে সাজানো যে প্রচুর ছবি তুলেও মনে হচ্ছিলো পুরো জায়গাটাকে ঠিক ধরে রাখা গেলনা। আর মমি রাইডটার কথা তো আগেই বলেছি।

20160705_185832

20160705_190141

মিশরের পরেই রয়েছে ডাইনোসরের দুনিয়া দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড। স্টিভেন স্পিলবার্গের বিখ্যাত ‘জুরাসিক পার্ক’ চলচ্চিত্রের আদলে বিশাল বিশাল সব ডাইনোসরের অতিকায় মূর্তি, কৃত্তিম লেক আর গাছপালা দিয়ে এই অদ্ভুত সুন্দর জোনটি তৈরি করা। সেই সঙ্গে রয়েছে দারুন সব ওয়াটার রাইড। বিশেষ করে ‘জুরাসিক পার্ক র‍্যাপিডস অ্যাডভেঞ্চার’ রিভার রাইডটির কথা না বললেই নয়। জলপথে একটি নৌকা করে আমাদের নিয়ে যাওয়ার পথে ভয়ংকর সব ডাইনোসর আক্রমণ করে বসে। সব বাধা অতিক্রম করে যখন আমরা নিরাপদ স্থলে প্রায় পৌঁছে যাই তখনই ফাঁদে আটকা পড়তে হয়। এরপরই সবচেয়ে বড় ডাইনোসরটির আক্রমণ আর তা থেকে বাঁচতে পানির মধ্যে ভয়ংকর এক পতন! না ঘাবড়াবেন না। যতটা ভয়ের শোনাচ্ছে আসলে ততটা নয় বরং অনেক মজার একটা অভিজ্ঞতা। রাইডটির পুরো এনভাইরনমেন্টটাই এমনভাবে সৃষ্টি করা যেন জুরাসিক ওয়ার্ল্ডে আমরা হারিয়ে গেছি। এছাড়া এই জোনে কেভিন কস্টনারের ‘ওয়াটারওয়ার্ল্ড’ সিনেমার আদলে নির্মিত জল সেটে প্রদর্শিত লাইভ শো’টিও খুব জনপ্রিয়। যদিও এটাও দেখার সুযোগ হয়নি সময়ের অভাবে।

20160705_150000

20160705_150213

এরপরই ‘ফার ফার এওয়ে’ স্বপ্নরাজ্যে দর্শনার্থীদের জন্য অপেক্ষা করছে শ্রেক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। শ্রেক, ফিওনা, ডঙ্কি আর পুস ইন বুটকে নিয়ে রয়েছে থ্রিডি আর লাইভ শো। এই রাজ্যের চল্লিশ ফুট উঁচু রাজপ্রাসাদটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এখানকার ছোট ছোট রাইডগুলো মূলত বাচ্চাদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা।

20160705_164732

সব শেষে রয়েছে ড্রিম ওয়ার্কসের নামকরা অ্যানিমেশন ফ্রাঞ্চাইজি মাদাগাস্কার নিয়ে ‘মাদাগাস্কার’ থিম জোন। মাদাগাস্কারের মার্টি (জেব্রা), অ্যালেক্স (সিংহ), গ্লোরিয়া (জলহস্তি) আর মেলমান (জিরাফ) সাদরে সবাইকে বরণ করে নেয় তাদের বনানীতে। এখানকার ‘মাদাগাস্কার: এ ক্রেট অ্যাডভেঞ্চার’ নামক ওয়াটার বোট রাইডটি পুরো মাদাগাস্কারের গল্পটির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা দারুন উপভোগ্য এক বোটজার্নি। রাইডের শেষে যখন বেজে উঠে, ‘আই লাইক টু মুভ ইট, মুভ ইট’ তখন দর্শনার্থীদের উল্লাস বলে বোঝানো যাবেনা। সুরের তালে তালে একটুখানি নেচে নিতে কেউই ভুল করেনা।

20160705_162346

মোটামুটি পুরো জায়গাটা একবার চক্কর মেরে ফেললেও মনের মধ্যে একটা কষ্ট তখনও কাঁটার মত বিঁধছে। ট্রান্সফরমার রাইডটি যে এখনও চড়া হলোনা। এর মাঝে আরও বেশ ক’বার ঢুঁ মেরে এসেছি। প্রতিবারই লাইনের শুরু আর শেষের মাঝে তফাৎ দেখে হোঁচট খেতে হয়েছে। বউ সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলো, তাও মন মানেনা। আরেকবার শেষ চেষ্টা করবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। এবার গিয়েতো রীতিমত ঘাবড়ে গেলাম! ঘড়িতে তখন পাঁচটার একটু বেশি। কিন্তু ময়দান পুরো ফাঁকা! ঘটনা কি! রাইডটা কি আজকের মত বন্ধ করে দিলো নাকি! টিকেট চেকারও তো কেউ নেই। বউ বললো, চল ভেতরে গিয়ে দেখে আসি। বউয়ের নির্দেশ মত দুরুদুরু বুকে ভেতরে ঢুকলাম। যাচ্ছি তো যাচ্ছিই। আঁকাবাঁকা পথ আর ফুরোয় না। হঠাৎ সামনে এসে একজন আটকালো আমাদের। থতমত খেয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে গেলাম। লোকটি আমাদের অবাক করে দিয়ে স্মিত হেসে রাইডে বসিয়ে দিলো। আমি আর আমার বউ ঘটনার আকস্মিকতায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। কিন্তু আসল চমক তখনও বাকি। যা অনুভব আর উপভোগ করলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব। তাও বৃথা চেষ্টা করি।

20160705_171729-1

বেপরোয়া গতিতে ছুটছে আমাদের বাহন! আতংকে সবাই চোখ বুজে শক্ত হয়ে বসে আছি। দূর থেকে আক্রমণের জন্য ছুটে আসছে একটি দানবাকৃতির গাড়ি, অটোবট! আর আমাদের রক্ষাকর্তা হিসেবে হাজির অপ্টিমাস প্রাইম! দুই পক্ষের সংঘাতে আমাদের অবস্থা তখন তথৈবৈচ। সামনের সুউচ্চ ভবনগুলো ভেদ করে, সব ভেঙেচুরে দুর্বার গতিতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি! একটা পর্যায়ে মনে হলো আমরা উড়ছি! আর একটু পরই মনে হলো অনেক উপর থেকে নীচে পড়ে যাচ্ছি। পরাক্রমশালী দুই এলিয়েন গ্রুপের যুদ্ধের মাঝে রীতিমত ক্রসফায়ারে পড়ে যাওয়ার মত একটা ব্যাপার। অপ্টিমাস প্রাইম আমাদেরকে বাঁচানোর জন্য একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে যাচ্ছে। কিন্তু জনাব প্রাইমের নিরাপত্তা বেষ্টনী গলে একটি গোলা ঠিকই আমাদের উপর আঘাত হানলো। আগুনের একটা হলকা যেন ঠিক ঠিক আমাদের শরীরের উপর দিয়ে চলে গেল আর শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ভয়ের শীতল স্রোত। আতংকে সবাই চিৎকার করে উঠলাম। ফোরডি এই রাইডটি ভিজ্যুয়ালি এতটাই বাস্তবসম্মত যে, এটা একটা স্রেফ ভার্চুয়াল রাইড জানা সত্ত্বেও, চোখ কপালে উঠে যায়! এই রাইডটি সত্যিই লাইফ টাইম একটা এক্সপেরিয়েন্স দর্শকদের জন্য।

20160705_163931

রাইড শেষে বেরিয়েছি। তখনও ঘোর কাটেনি। এরই মাঝে দেখতে পেলাম রাইডটিতে চড়ার সময় হিডেন ক্যামেরায় তোলা আমাদের ছবিগুলো নিয়ে এক্সিট কাউন্টারের মনিটরে ডিসপ্লে হচ্ছে। এতক্ষণ ভয়ে জবুথবু হয়ে যাওয়া আমরা, ছবিতে নিজেদের এক্সপ্রেশান দেখে হেসেই কুটোকুটি। প্রত্যেকটি রাইডের শেষেই মজার এই ছবিগুলো ওরা ডিসপ্লে করে। চাইলে ফ্রেমে বাঁধাই করে কেউ কিনে নিতেও পারবে। তবে দাম একটু বেশি। আর প্রত্যেকটি রাইডের শেষে রয়েছে রিটেইল আউটলেট। রাইড রিলেটেড এই গিফট শপগুলোতে দারুন দারুন সব জিনিস পাওয়া যায়। ইচ্ছে করে সব কিনে ফেলি। কিন্তু এত্ত দাম! খুব বেশি কিছু কিনতে না পারলেও মন ভরে দেখে এসেছি। আর আছে নানান রকম ফুড কার্ট।
পুরো পার্কটি আসলেই এতো বড় যে, একদিনে পুরোটা ঘুরে দেখা সত্যিই কষ্টের। আর শনি এবং রোববার হলে তো কথাই নেই। ওই দু’দিন এবং বিশেষ দিবসে (যেমনঃ হ্যালোউইন) আরও বাড়তি চমক নিয়ে হাজির হয় এই থিম পার্কটি। ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে প্রবেশমূল্য ৫৫ ইউএস ডলার। এক টিকেট দিয়েই পুরো পার্কটি সারাদিন ঘুরে দেখা যাবে আর প্রত্যেকটি রাইড চড়া যাবে যতবার খুশি ততবার। পার্কে ঢোকার মুখেই ম্যাপ আর স্টুডিও গাইড সংগ্রহ করে নিলে, সারাদিনের ট্যুর প্ল্যান করতে সুবিধা হয়। দিনের বিশেষ প্রদর্শনীগুলো কোথায় ও কখন অনুষ্ঠিত হবে, সব বিস্তারিত স্টুডিও গাইডে দেয়া থাকে।
‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর’ সত্যিই স্বপ্নপুরী, এক মায়াবী জগত যেখানে ছেলে-বুড়ো সব্বাই এসে বিমোহিত হয় আর ফিরে যায় ঘোর লাগা অনুভূতি নিয়ে। এই ঘোর সহসা কাটে না বরং মিনিয়ন-শ্রেক-অপ্টিমাস প্রাইমদের জাদুনগরীতে বারবার ফিরে আসার তাগিদ দেয়। #

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com