Smiley face

পোস্ট সিভিল ওয়ার এমসিইউঃ দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ

2
সিনেমা নাকি মাত্র তিনটা জিনিসের কারণে চলে- এন্টারটেইনমেন্ট, এন্টারটেইনমেন্ট আর এন্টারটেইনমেন্ট! মার্ভেলের মুভিগুলো এতটা সমাদৃত এবং ব্যবসাসফল হওয়ার মূল কারণও ছিল তাই- হাই এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু। কিন্তু এন্টারটেইনিং হবার পরেও, মার্ভেলের সিনেমাগুলোর বিরুদ্ধে দুটো অভিযোগ বরাবরই ঘুরেফিরে এসেছে- স্ট্রং ভিলেন আর স্ট্রং স্টোরি লাইনের অভাব। গল্পের গভীরতার কথা কথা চিন্তা করলে মার্ভেল বরাবরই পিছনে থাকতো, কখনো পপকর্ন ফ্লিকের ওপারে যেতে পারেনি। ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা: সিভিল ওয়ার (নাকি অ্যাভেঞ্জার্স ২.৫?) এই অভিযোগের জবাব দিতে পারে কিনা, তা দেখতেই সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলো। সেই অপেক্ষা ফুরিয়েছে অবশেষে। স্নিগ্ধ রহমানের সঙ্গে আপনিও সেই উত্তর খুঁজতে নেমে যান। তবে তাঁর আগে সাবধান ! ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা : সিভিল ওয়ার না দেখে থাকলে অনুগ্রহপূর্বক এই লেখাটি পড়বেন না।
ক্যাপ্টেন অ্যামরিকার তৃতীয় পর্বে আমরা দেখি সোকোভিয়া অ্যাকর্ড নিয়ে অ্যাভেঞ্জার্সদের মাঝে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। অ্যাভেঞ্জার্সরা তাদের মিশনগুলোতে বিভিন্ন বিপদ এড়াতে পারলেও, তাদের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানিও ঘটছে। এখন ইউএন চাচ্ছে শিল্ড-এর বদলে অ্যাভেঞ্জার্স তাদের অধীনে কাজ করুক। এখানে আমরা বেশ ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার ডিসিশনস দেখি। ড্যামকেয়ার, নিয়মের পরোয়া না করা টনি স্টার্কের জাতিসংঘের কথা মেনে চলতে আপত্তি নাই। আর গুড বয় স্টিভ রজার্সের মতে অ্যাভেঞ্জার্স স্বাধীনভাবে কাজ করলেই ভালো। এখান থেকেই আসলে বিভক্তি শুরু হয়। এরই মাঝে ভিয়েনায় ওয়াকান্ডার রাজা মারা যায় আর সেটার দায় গিয়ে পড়ে, উইন্টার সোলজার বাকি বার্নস’র ঘাড়ে। কিন্তু বাকি এই কাজটা করেনি। ক্যাপ্টেন চায় বাকিকে বাঁচাতে আর টনি স্টার্ক চায় গ্রেফতার করে ফেলতে। সেখান থেকে দ্বন্দ্বটা আরো বাড়ে। কিন্তু পরিপূর্ণতা লাভ করে যখন টনি জানতে পারে, তার বাবা-মাকে উইন্টার সোলজার মেরে ফেলেছে। আর তা জানার পরেও, ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা সেটা গোপন করে গিয়েছে। ক্যাপ্টেন এটা কিভাবে জানলো, সেটা স্পষ্ট না। হতে পারে বাকি তাকে বলেছে (“I remember everyone”) অথবা হাইড্রা’র ড: জোলার কথা থেকে অনুমান করেছে; কিংবা দ্বিতীয় পর্বের শেষে নাতাশা যে ফাইলটা তাকে দিয়েছিলো, সেখানে এ বিষয়ে কিছু লেখা ছিলো।
এ কথা জানার পরে, টনি স্টার্ক বেশ বড় একটা ধাক্কা খায়। কারণ সে যাকে সবচেয়ে কাছের বন্ধু মনে করতো, সেই ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা কিনা এমন একটা কথা লুকিয়েছে। তার উপর বন্ধুদের মাঝে বাকিকে ক্যাপ্টেন প্রায়োরিটি দিয়েছে, তাও কিনা বাবা-মাকে মেরে ফেলার মতো একটা ঘটনায়। বাকি কোন পরিস্থিতিতে এমনটা করেছে সেটা স্বাভাবিকভাবেই টনির কাছে বিবেচ্য হবার কথা না। এতক্ষণ যে বিভক্তিটা মূলত আদর্শিক ছিল, সেটা পরিণত হলো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে। এই বিষয়টা বেশ দারুনভাবে সিনেমাতে তুলে ধরা হয়েছে। এমন চলচ্চিত্রে সাধারণত দেখা যায় প্রথমে একে অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ছোটখাটো লড়াই করতে, পরে আরো বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে যুদ্ধে নামতে। জিমো আর পাঁচ সুপার সোলজার তেমন একটা সমাপ্তির ইঙ্গিতই দিচ্ছিল। কিন্তু জিমো সেই পাঁচজনকে মেরে ফেলায় খুব ভিন্ন ধরণের একটা সমাপ্তি পাওয়া গেল। আয়রন ম্যান আর ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকার দ্বন্দ্ব মুভির প্রয়োজনে আরোপিত কোন দ্বন্দ্ব না, যেটা একটু পরই ভুলে যাওয়া যাবে। এটা সিরিয়াস একটা ইস্যু এবং এখান থেকে ফিরতে হলে একটা “এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” টাইপ ভিলেন লাগবে। যার সূত্র অ্যাভেঞ্জার্স টু-এর মিড ক্রেডিটস সিনে ছিলো, থানোস আসছে!
সিভিল ওয়ার ছবির গল্প বেশ ভালো। কোন চরিত্রের উপর লেখকরা তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি। প্রত্যেক চরিত্রের সিদ্ধান্ত নেবার পিছনে যৌক্তিক ও নিজস্ব মোটিভ ছিল। অ্যাকশন প্রেমীদের কাছে মুভির ফার্স্ট হাফ বোরিং লাগতে পারে। কিন্তু সেকেন্ড হাফ পুরাই রেসিং কারের মতো। খুবই এন্টারটেইনিং, ফানি। অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো তো দুর্দান্ত!

1

 

ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকার মুভি হবার পরেও, এই মুভির বেশিরভাগ “মোমেন্ট” গিয়েছে রবার্ট ডাউনির সাইডে। হোয়েন ইউ আর আ ড্যুড ইন অ্যান আয়রন স্যুট; যার কিনা সময়ে সময়ে পাঞ্চ লাইন আর সারকাস্টিক কমেন্ট ডেলিভারি দিতে হচ্ছে, তার অভিনয় করার বেশি সুযোগ থাকে না। অতিরিক্ত এক্সপ্রেশন দিলে সেটাই বরং হাস্যকর ঠেকবে। কিন্তু পরিমিত এক্সপ্রেশনের মাঝে রবার্ট ডাউনি রবার্ট ওয়াজ সুপার্ব। টনি স্টার্কের হাতে আগে থেকেই স্টার্ক ইন্ডাস্ট্রীর মালিক হবার সুবাদে ব্লাড মানির দাগ ছিলো। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে অ্যাভেঞ্জার্স-এর মিশনগুলোলোতে হওয়া প্রাণহানির গিল্ট, সোকোভিয়া অ্যাকর্ড নিয়ে দুই ভাগে হয়ে যাওয়া, ব্যক্তিগত জীবনে চলছে পেপার পটসের সঙ্গে ঝামেলা। এর মাঝে আসলো বাবা-মা’র খুনী, এক বন্ধুর বিট্রেয়াল আর আরেক বন্ধুর প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া। সব কয়টা সিনে RDJ-এর কাজ দারুন হয়েছে।
নাতাশা রোমানফকে এখন খুব ক্লান্ত দেখায়, যেমনটা স্পেক্টারে ড্যানিয়েল ক্রেইগকে লেগেছিলো। স্যাম উইলসন আর স্কারলেট উইচ ক্যারেক্টার দু’টো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি স্ক্রিনটাইম পায়। তাও ভালো কুইকসিলভারকে মেরে ফেলা হয়েছে। কারণ এক্সমেন ইউনিভার্সের কুইকসিলভারের পরে, এই কুইকসিলভারটা ঠিক জমছিলো না। এই পর্বে ব্ল্যাক প্যান্থারকে পরিচিত করিয়ে দেয়া হলো। কোন রকম ভূমিকা ছাড়াই ওয়াকান্ডার রাজা আর তার ছেলেকে দেখলো দর্শকরা। ওয়াকান্ডা যেহেতু সত্যিকারের কোন দেশ নয়, এখানে একটা ছোট্ট পরিচিতি থাকলে ভালো হতো। কারণ, এমসিইউ (MCU)-এ ওয়াকান্ডা’র প্রভাব আর গুরুত্ব সিভিল ওয়ার দেখে বোঝা যায় না। ওয়াকান্ডা ইকোনমিক্যালি ইম্পরট্যান্ট একটা রাষ্ট্র (হুঁ, কিছু হিসাব মতে ব্ল্যাক প্যান্থারের নেট ওর্থ ৫০০ বিলিয়ন! যেখানে, টনি স্টার্ক ১০০ বিলিয়ন আর ব্রুস ওয়েইন ৮০ বিলিয়ন)। যদিও ব্ল্যাক প্যান্থারকে লাফ-ঝাঁপের চেয়ে খুব বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি। তারপরেও, দর্শকরা ব্ল্যাক প্যান্থারকে খুব পছন্দ করেছে। আশা করি, ব্ল্যাক প্যান্থারের স্ট্যান্ড অ্যালোন মুভিতে এই সমস্যার সমাধান হবে।
পল রাড অ্যান্ট-ম্যানেই সবার ভালোবাসা পেয়েছিল। আর জায়ান্ট ম্যান হিসেবে তো সবাইকে স্রেফ ফ্যান বানিয়ে ছেড়েছে।
Ironman : Who’s speaking?
Ant Man : It’s your conscience.
We don’t talk a lot these days
অ্যান্ট-ম্যানের সিক্যুয়েলে ওয়াস্পকেও পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে তারা অ্যাভেন্জারেও আসবে বলে মনে হয়। কারণ ওয়াস্পের বাবা-মা মানে Pym দম্পতি কমিক্সের অরিজিনাল অ্যাভেঞ্জার্স টিমের মেম্বার ছিলো।
ব্ল্যাক প্যান্থার আর স্পাইডি অ্যাভেঞ্জার্স দলে নতুন সংযোজন হলেও, খুব দ্রুত তাদেরকে মূল গল্পের অংশ মনে হয়েছে। স্পাইডারম্যানের কাস্টিং নিয়ে অনেকের মনেই কিছুটা সন্দেহ ছিলো। তবে, মুভিতে স্পাইডারম্যানের অংশটাই সবচেয়ে মজার। আর আন্ট মে-তো পুরাই লা-জওয়াব! স্পাইডারম্যান হোমকামিং নিশ্চিতভাবেই সবার ওয়াচলিস্টে ঢুকে গিয়েছে। ড্যানিয়েল ব্রুল গুডবাই, লেনিন থেকে আর রাশ মুভিতেই নিজের প্রতিভার কথা জানান দিয়েছেন। কিন্তু এখানে তাকে যেমন মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখানো হলো, চরিত্রায়ণ ততটা বিশ্বাসযোগ্য ছিলো না। ড্যানিয়েল ব্রুল আর মার্টিন ফ্রিম্যানকে হয়তো সিক্যুয়েলে আরও স্পেস দেওয়া হবে। ওদিকে মুক্তি পাচ্ছে ড: স্ট্রেন্জ। শার্লক আর ওয়াটসনকে ভবিষ্যতের কোন মার্ভেল মুভিতে একসঙ্গে দেখলে অবাক হবেন না যেন।
একজনের কথা আলাদা করে বলতে হয়, যাকে নিয়ে তেমন আলোচনাই হয় না- ভিশন। এই চরিত্রটার ঐশ্বরিক ক্ষমতা কিন্তু মনোযগত যন্ত্রের মতো, যার কিনা অনুভূতির তেমন একটা জায়গা নেই। সেই চরিত্রটাই কিনা স্কারলেট উইচের প্রেমে পড়ে গিয়েছে। অদ্ভুত পরিস্থিতি! পল বেটানির পোর্ট্রেয়াল ছিল স্পট অন।

 

ক্রিস ইভান্স প্রতি ছবিতেই নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন। ক্যাপ তার বন্ধু-স্বজন সব হারিয়েছে, তার ভালোবাসার মানুষটা এখন মৃতপ্রায়। এমন একটা পৃথিবীতে এসে থেমেছে যেখানে তাল মিলাতেই তার খবর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে অতি দ্রুত মানিয়েও নিচ্ছে। সিভিল ওয়ারে এসে এক এজেন্ট কার্টার মারা গেলো এবং ক্যাপ্টেনের সঙ্গে আরেক এজেন্ট কার্টারের (শ্যারন) রোম্যান্সও আমরা দেখলাম। স্টিভ রজার্সকে আর কতোদিন ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকার চরিত্রে দেখা যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সিভিল ওয়ারের কমিক্সে স্টিভ রজার্স মারা যায়। হয়তোবা অ্যাভেঞ্জার্স ইনফিনিটি ওয়ারে স্টিভ রজার্স মারা যাবে আর বাকি বার্নস এসে ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকার শিল্ড মানে দায়িত্ব তুলে নিবে। এর একটা ফোরশ্যাডোয়িং আমরা ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকার প্রতিটি মুভিতেই দেখেছি। তিনটি মুভিতেই স্টিভ রজার্সের হাত থেকে শিল্ড পড়ে যায়, আর প্রতিবারই বাকি সেটা তুলে নেয়।

tumblr_inline_o70o60om2n1t0ijhl_1280

আরেকটি কারণে বাকি বার্নসকে পরবর্তী ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা মনে করা হচ্ছে। ক্রিস ইভান্স অনেকদিন থেকেই অভিনয় ছেড়ে পরিচালক হয়ে যাবার কথা ভাবছেন। তাছাড়া, মার্ভেলের সঙ্গে তার কন্ট্র‌্যাক্টও শেষের পথে। অপরদিকে সেবাস্টিয়ান স্ট্যান (বাকি বার্নস) মার্ভেলের সঙ্গে মোট নয়টি মুভির জন্য চুক্তিবদ্ধ, যার তিন ভাগের একভাগ মুক্তি পেয়েছে। ডেয়ারডেভিলও মার্ভেলের সঙ্গে দুটি মুভির জন্য কন্ট্র্যাক্ট সাইন করেছে। তাই ভবিষ্যতে তাকেও দেখা যেতে পারে। এছাড়া থাকবে-গার্ডিয়ান্স অফ দ্য গ্যালাক্সি। আয়রনম্যান আর রকেটের কথোপকথন চিন্তা করেই মুখে হাসি চলে আসার কথা।
এমসিইউ এখন স্রেফ (মিথলজ্যিক্যাল) গড পিটানো, এলিয়েন তাড়ানো কোন ইউনিভার্স নয়। এখানকার অতিমানবরা সুপার হিউম্যান অ্যাবিলিটি সম্পন্ন মানুষ। যাদের নিজস্ব আবেগ আছে, বেদনা আছে, ভালো লাগা-মন্দ লাগা আছে। ক্যাপ্টেন আমেরিকা তার তৃতীয় কিস্তিতে এসে চেষ্টা করেছে, সেই মানবিক দিকটাই তুলে ধরার। চেষ্টা করেছে ওয়াটারপ্রুফ, ড্যামেজপ্রুফ, অলমোস্ট প্ল্যাস্টিক ইমেজ ভেঙে ক্যারেক্টারদের সঙ্গে দর্শকদের সংযোগ তৈরি করার। মুভিতে আমরা নতুন কিছু সুপারহিরো পেয়েছি, যারা অ্যাভেঞ্জার্সে আগে ছিল না।
সিভিল ওয়ারে সোকোভিয়া অ্যাকর্ডে ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা সাইন করতে রাজি হয়নি। স্টিভ রজার্সের এমন ভাবনাটা বিস্ময়ের জন্ম দেয়। কারণ ক্যাপ একজন ট্রু সোলজার এবং প্রো-অ্যামেরিকান (জাস্টিস লিগে যে ভূমিকাটা সুপারম্যান সামলায় এবং এটার জন্য নিয়মিত ব্যাটম্যানের খোঁটা খায়)। প্রথম মুভিতে কিন্তু এই চরিত্রটাকে দেখানো হয়েছে আঙ্কেল স্যামের মডেল ওয়ার হিরো হিসেবে। কিন্তু সেকেন্ড মুভিতে গিয়ে আমরা পলিটিক্যাল থ্রিলারের স্বাদ পাই। সেই সঙ্গে ভিজিল্যান্স, ব্লাইন্ড প্যাট্রিওটিজম, রাইজ অফ নিও নাজি অ্যালায়েন্স-এর মতো বিষয়গুলোও উঠে আসে। তবে সবচে বেশি করে ফুটে উঠছে আরেকটি চরিত্র। অ্যাভেঞ্জার্সরা যেন মার্কিন বাহিনীর প্রতিভূ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মুভিতে এমন সব পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে, যেটা কিনা সেই দেশ (পড়ুন পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য আর আফ্রিকা) সামলাতে পারছে না। তাই প্রয়োজন পড়ছে ম্যাজিক্যালি পাওয়ারফুল বাহিনীর (পড়ুন অ্যামরিকান ফোর্স। অন্ততপক্ষে ন্যাটো)। মার্কিন সৈন্যবাহিনীর মতো তারাও বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যেতে “বাধ্য” হচ্ছে। আর আল্ট্রন তো অ্যামেরিকার নজরদারি ব্যবস্থা আর ড্রোন কালচারের হয়ে সাফাই গাইলো। “আমাদের উদ্দেশ্যটা ভালো ছিলো, কিন্তু ব্যাপারটা একটু আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে গেল, সরি!” তাই ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা যখন বলে, This isn’t freedom. This is fear। নিক ফিউরি জবাব দেয় : S.H.I.E.L.D. takes the world as it is, not as we’d like it to be। আর আমাদের সাইকোলজিতে এটা ঢুকিয়ে দিচ্ছে, “ফর দ্য গ্রেটার গুড, আমরা এই কাজগুলো করছি। তাতে করে হয়তো কিছু মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই বলে তো অ্যাভেঞ্জার্স বা মিশন ইমপসিবল ফোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিৎ না” ইঙ্গিতটাও স্পষ্ট : “ক্যাজুয়াল্টিস অফ ওয়ার” তো থাকবেই!

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com