Smiley face

ড: স্ট্রেঞ্জ অর হাউ আই লার্নড টু স্টপ নিটপিকিং এন্ড লাভড দ্যা মুভি

doctor_strange_2016-hd
গতকাল মুক্তি পেয়েছে মার্ভেলের নতুন সুপারহিরো মুভি ‘ড: স্ট্রেঞ্জ’। সিনেমাটি দেখে তাৎক্ষণিক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন স্নিগ্ধ রহমান
ড: স্টিভেন স্ট্রেঞ্জ এক নিউরোসার্জন-সফল, আত্মবিশ্বাসী ও ধনী। কিন্তু এক কার অ্যাক্সিডেন্টের পরে অপারেশনের ছুরি তো দূরে থাক, শেভ করার জন্য ক্ষুর ধরাটাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ালো তার জন্য। নিজের চিকিৎসার জন্য সে খরচ করতো থাকলো দেদারসে। তার টাকা কমতে থাকলো, কিন্তু লাভের লাভ হলো না কিছুই। অবশেষে ড: স্ট্রেঞ্জ খোঁজ পেলো নেপালে তার হাতের চিকিৎসা হতে পারে। কিন্তু সেখানে গিয়ে স্ট্রেঞ্জ দেখা পেল এক অন্য ভুবনের। জানতে পারলো, এই পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য যেমন রয়েছে অ্যাভেঞ্জার্স, তেমনি মিথিক্যাল ইউনিভার্সকে রক্ষা করতে লড়ছে আরেক বাহিনী-এক দল যাদুকর! আর তাদের এই অদ্ভুত দলে ভীড়ে গেল ড: স্ট্রেঞ্জ।
আপনি যদি বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের ফ্যান হন, দেন ইউ আর ইন ফর আ ট্রিট! প্রি-অ্যাক্সিডেন্ট ড: স্ট্রেঞ্জ অসম্ভব অহংকারী, স্বার্থপর। আর কে না জানে, এ ধরণের অ্যারোগ্যান্ট অ্যাসের ক্যারেক্টার করতে কাম্বারব্যাচ সিদ্ধহস্ত! যার প্রমাণ আমরা এর আগে শার্লক, ফিফথ এস্টেট, স্টারট্রেক, ইমিটেশন গেইমে দেখেছি। পুরো মুভিটাই কাম্বারব্যাচের কাঁধে ভর করে ছিলো আর কাম্বারব্যাচ সামলেছেনও দারুণ। অ্যারোগ্যান্স, ওভার কনফিডেন্স, ফ্রাস্টেশন, কনফিউশন, হিউমার প্রতিটা জায়গায় কাম্বারব্যাচ স্রেফ তুখোড় ছিলেন।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন স্কট ডেরিকসান। তার আগের বেশিরভাগ কাজ হরর ঘরানার। মার্ভেলের এই বিষয়টি আমার বেশ ভালো লাগছে। মোটামুটি অপরিচিত পরিচালকদের ধরে এনে, তাদের বিগ বাজেট মুভি আর কাজ করার স্বাধীনতা দুটোই দিচ্ছে। বিভিন্ন ইন্টারভিউয়ে ডেরিকসান যেভাবে গল্পটা এনভিশন করেছেন, তাতে আমি বেশ ইমপ্রেসড ছিলাম। কিন্তু সিনেমায় তার পরিচালনা প্যাসিভ প্যাটার্নের লাগলো। সবাই নিজের মতো ভালো কাজ করছে, কিন্তু তাদের অভিনয়টা একসূত্রে গাঁথা না। অ্যানশিয়েন্ট ওয়ান আর মর্ডোর অভিনয় ভালো ছিল। র‌্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস এমন “ক্যারেক্টারলেস” চরিত্রেও যতটা সম্ভব ভালো করেছেন। সিনেমায় ভিলেন ম্যাডস মিকেলসেন ওরফে কাইসেলিয়াস আরেকটু বেশি সময় থাকলে ভালো লাগতো। লোকির পরে এই মার্ভেল ভিলেনের মোটিভ অনেক র‌্যাশনাল ছিল।

doctorstrangeart

এবার যে বিষয়গুলো অতটা যুতসই হয়নি সে প্রসঙ্গে আসা যাক। যারা ড: স্ট্রেঞ্জের অ্যানিমেটেড মুভিটা দেখেছেন, তাদের জন্য গল্পে  নতুন কোন চমক অপেক্ষা করছে না।
মানছি এটা অরিজিন স্টোরি, কিন্তু স্ক্রীপ্টের ট্রিটমেন্ট অতটা জমেনি। ড: স্ট্রেঞ্জ বাদে অন্য ক্যারেক্টারগুলোর কোন ডেভেলপমেন্ট নেই। ন্যারেটিভ অনেকটা টিভি সিরিজের পাইলট এপিসোডের মতো। ভাবখানা এমন, এ সপ্তাহে ক্যারেক্টার বিল্ড-আপ করে নেই, আগামী সপ্তাহ থেকে মূল গল্প শুরু হবে। র‌্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামসকে দেখে মনে হয়েছে আরেকটা পেপার পটসকে দেখছি। সিনেমায় একটা “নায়িকা” রাখার দরকার, তাই আছে। ফিফথ এস্টেটের পর এবারও কাম্বারব্যাচের উইগটা বড্ড চোখে লেগেছে। যেহেতু এটা নতুন এক ইউনিভার্স, তাই অনেক বিষয়ের সাথে দর্শককে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়েছে। এই পরিচয় পর্বটা মাঝে মাঝে যতটা না মুভি, তার চেয়ে বেশি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ডকুমেন্টারির মতো লেগেছে। আর ফার্স্ট হাফে প্রোডাক্ট প্লেসমেন্টের ছড়াছড়ি একটু দৃষ্টিকটু ছিল।
এই মুভির একটা বড় প্লাস পয়েন্ট হলো, এমসিইউ-এর অন্য মুভির সাথে এর কোন সংযোগ নেই। সুতরাং এই ইউনিভার্সের সব মুভি দেখা না থাকলেও চিন্তা করবেন না, কাহিনী বুঝতে কোন সমস্যা হবে না। ড: স্ট্রেঞ্জের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর অসাধারণ ছিল। মার্ভেল মুভির মাঝে ওয়ান অফ দ্য বেস্ট (ইফ নট দ্য বেস্ট) স্কোর পেয়েছে ড: স্ট্রেঞ্জ। বিভিন্ন রেফারেন্সেরও প্রশংসা করতে হয়। আর কিছু না জাস্ট লন্ডনের একটা স্ট্রীটের নাম আর কাম্বারব্যাচের আধ খাওয়া আপেল দেখলেই, তার আরো বিখ্যাত দুটো কাজের কথা মনে পড়ে যাবে। ড: স্ট্রেঞ্জের প্রথম মাইন্ড ট্রিপের সময় সে একটা প্রজাপতি দেখতে পায়। এটা কিন্তু মুভির একটা ইম্পর্ট্যান্ট প্লট পয়েন্ট। কারণ ক্লাইম্যাক্সের একটা ক্লু এখানে দেওয়া আছে। মুভির অ্যান্টি-ক্লাইম্যাটিক ফিনিশিং বেশ ভালো লেগেছে। ওভারঅল টোন কিছুটা ম্যাচিউরড দর্শকদের জন্য। মার্ভেলের পক্ষ থেকে বেশ বোল্ড মুভই বলতে হবে।
কাম্বারব্যাচের পরে এই সিনেমার সবচে বড় আকর্ষণ বলবো এর সিজিআই। অ্যামেইজিং, সিমপ্লি অ্যামেইজিং! মুভির বাজেট ১৬৫ মিলিয়ন ডলার। এই থেকেই বোঝা যাবার কথা সিজিআইয়ের পিছে কতটা টাকা খরচ করা হয়েছে। মুভির সাইকেডেলিক কালার টোন আর ইন্টারডিমেনশনাল এলিমেন্ট কিন্তু ডিটকোর মূল কমিকসেই ছিলো। পারসোনালি অ্যাভাটার, লাইফ অফ পাইয়ের পরে ড: স্ট্রেঞ্জ  জীবনের বেস্ট থ্রিডি এক্সপেরিয়েন্স ছিল। অন্তত থ্রিডি ইফেক্টের জন্যই এই মুভিটা আবারও দেখতে চাই। আর সবচে ভাল লেগেছে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস কোঅর্ডিনেটর হিসেবে আমাদের দেশের ওয়াহিদ ইবনে রেজার নাম দেখে।
এক কথায় ড: স্ট্রেঞ্জ যেন ইনসেপশন মিটস হ্যারি পটার। মার্ভেল ক্যাশ কাউ ছাড়াও এখন ইন্টারেস্টিং সব সুপার হিরোর দিকে ঝুঁকছে। ফলস্বরূপ, অ্যান্ট-ম্যানের পরে আরেকটা ডিফরেন্ট সুপারহিরো পাওয়া গেলো। তবে, ভাবছি অন্য কথা। সামনে সিভিল ওয়ারের মতো আরেকটা লড়াই না বেঁধে যায়। মার্ভেল ইউনিভার্সে এখন শার্লক দুইজন হলেও, আইরিন অ্যাডলার যে একটাই!

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com