Smiley face

দ্যা স্লেন্ডার ম্যানঃ নিছক ছবি থেকে খুন !!!

150220_wn_muir0_16x9_992
রহস্যময় চরিত্র দ্য স্লেন্ডার ম্যানের আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন সুদীপ মজুমদার 
স্বপ্ন-কল্পনা কিংবা ইচ্ছাশক্তি যাই বলি না কেন, এটি আসলে আমাদের মনের গন্ডীর ভিতরেই অবস্থিত। মানুষ তাদের তাড়া করে বেড়ায়, কখনোবা এড়িয়ে চলে। আমাদের কল্পনাশক্তির মাত্রা এতোটাই প্রখর যে, নিমিষেই অসম্ভবের আকাশ ছাড়িয়ে বহুদূর চলে যায়। আবার কিছু কিছু স্বপ্ন থাকে হাতের নাগালেই। সেগুলো পূরণ করতে আমাদের খুব একটা বেগ পেতে হয় না। মানুষ সারাজীবনই কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করতে পছন্দ করে। কারণ ঐযে আকাশ ছোঁয়ার স্বাধীনতা পেতে কে না চায়!
এখন মনে করুন, সেই অসম্ভবের আকাশ থেকে আপনি একটি স্বপ্ন পেড়ে আনলেন। কিছুদিন পরে দেখলেন দুনিয়ার প্রাত্যহিক নিয়ম ব্যত্যয় করে সেই ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ নিলো। যেমন ছোটবেলায় আমরা ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট কার্টুন দেখতাম, যেখানে আংটির ভিতরে লুকিয়ে থাকতো দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ slenderman-2-784777সব শক্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা (পানি, মাটি, বাতাস, আগুন ইত্যাদি)। একদিন ঘুম ভেংগে উঠে দেখলেন আপনার হাতে সেই আংটিগুলো, তখন কেমন অনুভূতি হবে?  বিশ্বাসই করতে চাইবেন না, এটি বাস্তব!
২০০৯ সালে সামথিং অওফুল নামে একটি অনলাইন ফোরামের মাধ্যমে একটি মিম খুব জনপ্রিয় হয়, যেটির উদ্ভব হয় একটি ফটোশপ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে। প্রতিযোগীতার নিয়ম ছিলো, দৈনন্দিন জীবনে তোলা সাধারণ কোনো ছবিকে এডিটিং করে আধিভৌতিক রূপ দিতে হবে। সেই প্রতিযোগিতায় ভিক্টর সার্জ নামে এক ইউজার দুইটি ছবি জমা দেন। প্রথম ছবিতে ভিক্টর একদল শিশুর সাথে একটি স্যুট পরিহিত লম্বা, শুকনো স্বাস্থ্যের মানুষের মতোন একটি অবয়ব জুড়ে দেন, যার মুখের কোনো আদল ছিলো না। একটি ছবিতে কোটেশান ছিলো, “We didn’t want to go, we didn’t want to kill them, but its persistent silence and outstretched arms horrified and comforted us at the same time…”। আরেকটি ছবিতে সেই লম্বা ফেসলেস ফিগারকে আখ্যা দেয়া হয় দ্যা স্লেন্ডার ম্যান হিসেবে। সেই থেকে দ্যা স্লেন্ডার ম্যান চরিত্রটি ভাইরাল হয়ে যায়। ক্রমেই বিভিন্ন ফ্যান আর্ট, কোস্প্লে আর অনলাইন ফিকশানে দ্যা স্লেন্ডার ম্যান ছড়িয়ে পড়ে। মূল ঘটনা থেকে দ্যা স্লেন্ডার ম্যানের মোটিভ কিংবা অ্যাবিলিটি সম্পর্কে বেশ পরিষ্কার একটি ধারণা পাওয়া যায়। আর তা হলো, মানুষ বিশেষ করে শিশুদেরকে অনুসরণ করা, এক পর্যায়ে অপহরণ করা কিংবা তাদের মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা। দ্যা স্লেন্ডার ম্যান ওঁত পেতে থাকে একটু গাছ-গাছালিতে ঘেরা কোনো জায়গায়, কিংবা পরিত্যক্ত নির্জন কোনো স্থানে। তার ক্ষমতা কিংবা আইডেন্টিটির যে রহস্যময়তা রয়েছে তাই এই চরিত্রটিকে বেশ সাফল্য ও জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।
তবে এই জনপ্রিয়তার মধ্যেই এমন একটি দূর্ঘটনা ঘটে যায়, যা ছিলো একদমই আকস্মিক, অনভিপ্রেত এবং সত্যিকার অর্থেই ভয়ংকর। 31291382-img-slenderman-stabbing-suspects-return-to-court২০১৪ সালে আমেরিকার উইস্কন্সিনে দুইজন বারো বছরের কিশোরী তাদের আরেক বান্ধবীকে ১৯ বার ছুরিকাহত করে। তারা এই ঘটনাটি ঘটায় দ্যা স্লেন্ডার ম্যানের প্রতি আত্মত্যাগ স্বরূপ। তারা মনে করে, এতে করে তারা দুইজন স্লেন্ডার ম্যানের বিশাল বড়ো বাড়িতে থাকতে পারবে। তারা হয়ে যাবে স্লেন্ডার ম্যানের “প্রক্সি”। তারা পুলিশকে এও জানায়, যদি তারা খুন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে স্লেন্ডার ম্যান তাদের উভয়ের পরিবারকেই মেরে ফেলবে। স্লেন্ডার ম্যান নাকি তাদের মনের কথা পড়তে পারতো, সারাক্ষণ নজরে রাখতো এবং টেলিপোর্ট ক্ষমতার অধিকারী ছিলো। বর্তমানে সেই দুই কিশোরীই ফার্স্ট ডিগ্রী এটেম্পটেড হোমিসাইড মামলায়  বিচারাধীন। তবে এখন তারা নিজেদের মানসিক ভারসাম্যহীন দাবী করে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এই অভিনব দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এইচবিও একটি ডকুমেন্টারী নির্মাণ করেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে। নাম রাখা হয়েছে, “বিওয়ার দ্যা স্লেন্ডার ম্যান”। অতি সম্প্রতি তার প্রথম ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে। এবং স্বভাবতই ট্রেইলার দেখে আরেক দফা হইচই পড়ে গিয়েছে।  তাছাড়া আগামী বছরেই দ্যা স্লেন্ডেরম্যানকে নিয়ে  একটি ফিল্ম এডাপ্টেশান হওয়ার কথা।
আপাত দৃষ্টিতে দ্যা স্লেন্ডার ম্যান নিঃসন্দেহে একটি কাল্পনিক চরিত্র ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু উইস্কন্সিনের ঘটনায় তার প্রভাবের কথাটা মাথায় আনলে কপালে একটু ভাঁজ পড়ে বৈকি। নাহলে সুস্থ সবল দুইজন কিশোরী কেন তার বান্ধবীকে ১৯ বার ছুরি দিয়ে আহত করবে! এ যেনো আকাশ থেকে সেই স্বপ্ন পাড়ার ব্যাপারটির মতোই।

DERMAN – Official Trailer (2016)

 

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com