Smiley face

২০১৬’র সামার মুভি সিজন আমাদের যা শিখিয়ে গেল

summer-movies-copy
বিখ্যাত রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন কিছুদিন আগে হলিউডে ২০১৬ সালের সামার মুভি সিজন নিয়ে একটি সালতামামি প্রকাশ করেছে। কি শিখিয়ে গেল এবারের সামার মুভি সিজন, তা জানান দিয়েছে পত্রিকাটি। ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে ছিলেন আশিকুর রহমান তানিম
এই মুহূর্তে যারা যারা এই লেখাটি পড়ছেন, এখনই একটি লম্বা শ্বাস ছাড়ুন আর নিজেদের অভিনন্দন জানান- কারণ, আমরা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস আর রক্তাক্ত সামার মুভি সিজন পার হয়ে এসেছি! আমরা ‘গোস্টবাস্টারস’ এর যুদ্ধ, ‘ওয়ারক্র্যাফট’ এর যুদ্ধ, ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ এর ভয়াবহ যুদ্ধ, – এক গ্রীষ্মেই এতগুলো যুদ্ধ দেখেও বেঁচে আছি! এমনকি আমরা এমন সিনেমা দেখেও বহাল তবিয়তেই বেঁচে আছি, যেখানে কেভিন স্পেসি সবাক বিড়ালের চরিত্র করেছেন!
প্রচুর ফ্লপ সিনেমা, একের পর এক মানহীন কাজের প্রতি ফ্যানদের বিতৃষ্ণা, সিক্যুয়েল আর রিমেকের ছড়াছড়ি ছিলো পুরো গ্রীষ্ম জুড়ে- তারপরেও বলা যায়, মে থেকে সেপ্টেম্বর (সিনেমা গ্রীষ্ম) এই সময়টায় কিছু সুখময় ব্যাপারও ছিলো। শরৎ কালীন সিনেমা সিজন শুরু হওয়ার অর্থাৎ প্রেস্টিজিয়াস ও পুরস্কারের দৌড়ে থাকবার মত সিনেমাগুলো মুক্তি পাওয়ার প্রাক্কালে আমরা গ্রীষ্মের বিধ্বস্ত সিনেমাগুলো নিয়ে একটা ময়নাতদন্ত কিন্তু করতেই পারি। এই হচ্ছে আমাদের সেই ময়নাতদন্ত রিপোর্টঃ
১।  ব্লকবাস্টার হতে হলে টিকতে হবে :
একটা সিনেমার “লাভজনক” ক্যাটাগরি থেকে খাঁটি ব্লকবাস্টার সিনেমার কাতারে ঢুকতে হলে, শুধুমাত্র একটা দুর্দান্ত প্রথম সপ্তাহই যথেষ্ট না! যেমন, ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যানঃ ডন অফ জাস্টিস’ এর কথাই ধরা যাক। মুক্তির অনেক আগে থেকে আলোচিত এই সিনেমা প্রথম সপ্তাহেই ১৬৬ মিলিয়ন পকেটে পুরলেও, পরের সপ্তাহে কামিয়েছে মাত্র ৫১ মিলিয়ন। ফলাফলঃ মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে। একই ব্যাপার ঘটেছে সুইসাইড স্কোয়াডের ক্ষেত্রেও। সমালোচকদের ভয়াবহ বাজে রিভিউর শিকার হওয়া আরেকটি সিনেমা। এই সিনেমাটিও নতুন দর্শক টানতে কিংবা একবার দেখা কোন দর্শককে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার হলমুখী করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যা কিনা কোন সিনেমার ব্লকবাস্টার হওয়ার অন্যতম শর্ত! এবার বেশিরভাগ সিনেমাই মুক্তির আগে অনেক গর্জালেও, প্রত্যাশা মাফিক বর্ষাতে পারেনি।
২।  প্রশংসায় চিড়ে ভিজে না :
সমালোচকরা যেসব সিনেমাকে আশাব্যঞ্জক ভাবেন, সেগুলোর ইতিবাচক প্রশংসাও  আগের মত আর দর্শক টানতে পারে না। ‘পপস্টারঃ নেভার স্টপ নেভার স্টপিং’ নামক মিউজিক মকুমেন্টারির কথাই ধরা যা। এই মুভিতে অ্যান্ডি স্যামবার্গ জাস্টিন বিবারের ভবিষ্যত প্রতিচ্ছবি দেখিয়েছেন, যেটা কিনা মুক্তির পর নিজ দেশে ১০ মিলিয়নও কামাতে পারেনি। ‘নেইবরস ২’ মুক্তির আগে নারী চরিত্রদের পাগলামি গোছের কাজ দেখিয়ে প্রেসে বেশ আলোচনা তুললেও, আগের পর্বের অর্ধেকও তুলতে পারেনি ঘরে। যদিও, শেইন ব্ল্যাকের লস এঞ্জেলেস নয়্যার ‘দ্যা নাইস গাইজ’ মুক্তির আগে সমালোচকদের নেগেটিভ রিভিউর শিকার হওয়া স্বত্বেও ফ্যানদের সুনজরে পড়েছিলো, ৫৭ মিলিয়ন বাজেটের বেশিই ঘরে তুলতে পেরেছে তা। ইন্টারনেট কিংবা সমালোচক বনে যাওয়া সব ইন্টারনেট ইউজারদের উপরে দোষ চাপাতে পারেন, কিন্তু সত্যি বলতে সমালোচকদের মন্তব্য এবার গ্রীষ্মে খুব কমই প্রভাব রাখতে পেরেছে।
৩। সুপারহিরোদের গাঁথা-শেষ হয়েও, হচ্ছে না শেষ:
এই গত বছরেও কোন সেলিব্রিটি গায়ে কস্টিউম চাপিয়ে আমেরিকার বড় বড় শহর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সময়, তার হিরোইক চেহারা দেখালেই বিশাল আয়ের একটা সুনিশ্চিত পথ দেখা যেত! কিন্তু, এই বছর, হলিউডের আয়ের সবচেয়ে নিশ্চিত উৎস কপালে একটু ভাঁজ ফেলে দিয়েছে নির্মাতাদের। আগেই বলা হয়েছে ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান কিংবা সুইসাইড স্কোয়াডের ব্যর্থতার কথা, সেইসঙ্গে ‘এক্সম্যানঃ অ্যাপোক্যালিপ্স’ এরও মাত্র ১৫৫ মিলিয়ন কামানোও আপাতদৃষ্টিতে হতাশাজনকই। যদিও মার্ভেলের সিভিল ওয়্যার এই ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে ঠিকই বিলিয়নিয়ার ক্লাবের সদস্য হয়েছে (কিন্তু, আয়ের সিংহভাগই এসেছে আমেরিকার বাইরে থেকে। আমেরিকায় কামিয়েছে কেবল ৪০৭ মিলিয়ন!)। সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে, যদিও সুপারহিরোদের সাম্রাজ্যপতনের আরো দেরি আছে ঠিকই, কিন্তু সব সুপারহিরোই আর ইচ্ছেমতন বক্স অফিসে রাজত্ব করতে পারবে না।
৪। রিমেক আর সিক্যুয়েলের চর্বিত চর্বণ মানেই টাকার স্রোত নয়ঃ
বেশ ভালো আয়ের গ্রিন সিগন্যাল দেখে যাত্রা শুরু করা হলিউডের অনেক সিনেমাই কঠিনভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে এই গ্রীষ্মে। হলিউডের অলস স্টুডিও এক্সিকিউটিভদের জন্য বেশ ভালো রকমের সতর্কবার্তাই বলা যায়। ভেবে দেখুন নিচের কতগুলো সিনেমার নাম আপনি করতে পারছেন (যদি গিয়ে দেখে থাকেন আর ভুলে যান তাহলে তো কথাই নেই)- অ্যালিস থ্রু দ্যা লুকিং গ্লাস, বেন-হার, দ্যা হান্টসম্যানঃ উইন্টার’স ওয়্যার, টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টেলসঃ আউট অফ দ্যা শ্যাডোস, নাউ ইউ সি মি ২, ইন্ডিপেন্ডেন্স ডেঃ রিসার্জেন্স, দ্যা লেজেন্ড অফ টারজান, আইস এইজঃ কলিশন কোর্স, স্টার ট্রেক বিয়ন্ড এবং জেসন বর্ন। এই সবগুলো সিনেমাই হতাশ করেছে দর্শকদের। বেশিরভাগ তো এস্টিমেট করা আয়ের ধারেকাছেও যেতে পারেনি- সিক্যুয়েল কিংবা রিমেকের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্বেরই ইঙ্গিত দিয়েছে শুধু। এমনকি ভালো রিমেকগুলো, যেমন গোস্টবাস্টারস কিংবা পিট’স ড্রাগনসও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলো। হলিউড এই ধারা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে হয়তো সামনে আরও বাজে অভিজ্ঞতাই অপেক্ষা করছে সবার জন্য।
৫। অ্যানিমেটেড সিনেমার জন্য ভালো একটি বছরঃ
স্টুডিওগুলো আধাসেদ্ধ স্পিন-অফ আর রিমেকের পেছনে কোটি কোটি ডলার গচ্চা দিলেও অন্তত এটা ভেবে একটু শান্তি পেতে পারে যে, অ্যানিমেশন প্রজেক্ট গুলো বেশ ভালো করেছে এই বছর। ‘অ্যাংরি বার্ডস’ মুভিটি গেইমের মত সর্বত্র এত ব্যাপক সাড়া ফেলতে না পারলেও, ঠিকই ৩৪৬ মিলিয়ন আয় করেছে বিশ্বব্যাপী! তার চেয়েও আশ্চর্যজনক ব্যাপার এইযে, এই বছর ডোমেস্টিক মার্কেটে সবচে বেশি আয় করা সিনেমার নাম ফাইন্ডিং ডোরি। যা কিনা সিভিল ওয়্যারকেও পিছনে ফেলেছে। তাছাড়া ‘দ্যা সিক্রেট লাইফ অফ পেটস’, বিলিয়নিয়ার ‘জুটোপিয়া’ও আছে সেরা দশের লিস্টিতে। লাইকার সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র ‘কুবো অ্যান্ড দ্যা টু স্ট্রিংস’ এর বক্স অফিসের পার্ফরম্যান্স খুব আহামরি না হলেও,  সৃষ্টিশীলতা ও শৈল্পিক দিক বিচারে এই সিনেমাটি অনন্যসাধারণ। এবং, সত্যি বলতে, শুধু শিশুতোষ ছবিই নয়- (সমালোচকদের বাজে আক্রমণের শিকার) সসেজ পার্টিও ৮২ মিলিয়ন ঘরে তুলে ফেলেছে ইতোমধ্যে। কারণ, আমরা আসলে কোনদিনই কার্টুন দেখার আগ্রহ হারাবো না!

abigsummer

 

৬। মধ্যম-বাজেটের সিনেমা গুলোর মুমূর্ষু অবস্থাঃ
প্রায় এক দশক ধরেই মোটামুটি বাজেটে বানানো ছবিগুলো কোনমতে টিকে আছে। কিন্তু এই বছর এটি মোটামুটি নিশ্চিতই যে, মধ্যম বাজেটের ছবিগুলোর জন্য ২০০ মিলিয়ন আর ২ মিলিয়ন এর মাঝের শ্রেণীতে পড়বার সুযোগ খুব কম! ভালোবাসার অসাধ্য সাধনের ক্ষমতা মিষ্টি প্রেমের গল্প ‘মি বিফোর ইউ’ কে ১৬৯ মিলিয়ন এনে দিলেও, জোডি ফস্টারের ডিরেক্টোরিয়াল ডেব্যু সিনেমা ‘মানি মনস্টার’ খুব অগোছালো কাজ ছিলো; বক্স অফিসেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। ম্যাথু ম্যাককোনাহে’র ‘ফ্রি স্টেট অফ জোনস’ ভীষণভাবে ব্যর্থ আর কেভিন স্পেসি’র বিড়ালে পরিণত হওয়ার ছবি ‘নাইন লাইভস’ কে সত্যিকারের কৌতুকের চে ‘থার্টি রক’ এর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্যই মনে হয়েছে! এবং, ‘ফ্লোরেন্স ফস্টার জেনকিন্স’ স্ট্রিপের মত প্রভাবশালী অভিনেত্রী থাকা স্বত্বেও আয় করেছে মাত্র ২০ মিলিয়ন! এই রকম মোটামুটি বাজেটের সিনেমাগুলোর অগভীরতা সিনেমার জন্যই খারাপ।
৭। মৌলিক কনসেপ্ট সর্বদা বিশ্বজয় না করলেও, জয়ীই হয়েছেঃ
সমালোচক এবং দর্শক সব্বাই এই ব্যাপারে একমত যে, হলিউড সৃষ্টিশীলতার একটা সঙ্কটের মাঝ দিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য আশার ব্যাপার হল, এই বছর মৌলিক গল্পের সিনেমাগুলো রেকর্ড-টেকর্ড করে না ফেললেও, সন্তোষজনক ব্যবসাই করেছে। ব্লেক লাইভলি তার ‘দ্যা শ্যালোজ’ সিনেমার সঙ্গে স্লিপার হিট তকমা (প্রমোশন ছাড়াও যে সিনেমা ভালোই ব্যবসাসফল) জুটিয়ে ফেলেছেন। নির্দোষ টেকনোথ্রিলার ‘নার্ভ-ও দর্শকের নার্ভ স্পর্শ করতে পেরেছে, ৪৭ মিলিয়ন কামাই করাই তার প্রমাণ। তাছাড়া, ‘ব্যাড মমস’ অবিশ্বাস্যভাবে আয় করেছে ৯৭ মিলিয়ন! তার উপর স্মার্টলি স্ক্রিপ্টেড নিও-ওয়েস্টার্ন ইন্ডি সিনেমা ‘হেল অর হাই ওয়াটার’ সমালোচকদের কোনরকম ব্যাকআপ ছাড়াই ১০ মিলিয়ন আয় করেছে। সুতরাং, সৃষ্টিশীল গল্পের সিনেমা নিয়ে একদমই আশা হারানোর কিছু নেই।
৮। হরর সিনেমা যেন অবিনশ্বর!
এই গ্রীষ্মে অনেকরকম নতুন-অনন্য ট্রেন্ড চললেও, একটা ব্যাপার নিয়মমাফিকই হয়েছে- হরর সিনেমার বক্স অফিস জয়! হরর ছবির কোন ‘এ-লিস্টার’ সেলিব্রিটি দরকার পড়ে না, সস্তায় বানানো যায়, প্রচারণাও সহজ। তাই গত কয়েক মাসে বাজারের পড়তি অবস্থায়ও, হরর ছবিগুলোর কিছু যায় আসেনি। ‘ডোন্ট ব্রিদ’ দর্শকের দম বন্ধ করে ৩৩ মিলিয়ন বাগিয়েছে। ‘দ্যা ডার্কনেস’ বেশ ভালোই আয় করেছে আর ‘দ্যা কনজ্যুরিং’ ফ্র্যাঞ্চাইজও দ্বিতীয় ইনিংসের হিসেবে অন্যান্য সব ফ্র্যাঞ্চাইজের চেয়ে বহুদিক দিয়ে এগিয়ে ছিলো। তবে, ছক্কা পিটিয়েছে ‘লাইটস আউট’; ৪.৯ মিলিয়ন বাজেটের এই সিনেমা ১২৬ মিলিয়ন আয় করেছে বিশ্বব্যাপী। পার্জ ফ্র্যাঞ্চাইজও এর তৃতীয় কিস্তি দিয়ে ডোমেস্টিক বক্স অফিসে ৭৯ মিলিয়ন ঘরে তুলেছে। ট্রেন্ড মরে যেতে পারে, তারকারাও হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু ভীতি যে চিরঞ্জীব!
৯। ইন্ডি সিনেমার উত্থান কিন্তু কিছুটা অস্পষ্টতার উপস্থিতিঃ
স্টুডিওগুলো যখন মে থেকে শুরু হওয়া সিনেমা গ্রীষ্মের শুরুতেই পিছিয়ে গিয়েছে আর বাকি অংশ খেলায় সমতা ফেরাতে ফেরাতেই কাটিয়েছে, তখন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমাগুলো বছরের অন্যতম সেরা কিছু সিনেমা মুক্তি দিয়েছে। তারা টাইটানিকের মত বিশাল যাত্রা না করতে পারলেও, গল্পকেন্দ্রিক সিনেমা যেমন উডি অ্যালেনের ‘ক্যাফে সোসাইটি’, গ্রীক নির্মাতা ইয়োর্গোস ল্যান্থিমস এর ইংরেজি ছবি ‘দ্যা লবস্টার’ এই সময়ের আয় করা সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফিলোসফিক্যাল-ফার্ট ড্রামা ‘সুইস আর্মি ম্যান’ একটু বিচ্যুতি ঘটালেও ভালোই আয় করেছে আর সমালোচক নন্দিতও হয়েছে। ‘ডোন্ট থিংক টোয়াইস’ বেশ কিছু থিয়েটারে ভালো সাড়া ফেলেছে, নিউজিল্যান্ডের নির্মাতা তাইকা ওয়াতিতি থরের তৃতীয় কিস্তি মুক্তির আগে ‘দ্যা হান্ট ফর দ্যা ওয়াইল্ডারপিপল’ দিয়ে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অনবদ্য এক ইন্ডি সিনেমা। যতই দুর্দশা চলুক না কেন, যারা ভালো ছবি খোঁজেন, তাদের জন্য সবসময়ই কিছু না কিছু আছেই!
১০। সিনেপ্লেক্সগুলো এখন যুদ্ধের ময়দানঃ
একসময় একটু-আধটু কন্ট্রোভার্সির জন্য সিনেমাগুলোতে দেখানো লাগতো যীশুখ্রীস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে রক্তারক্তি করা হচ্ছে কিংবা খুব ব্যঙ্গাত্মক কোন অন্ধকার চরিত্রকে। আর এখন? মানুষজনকে একটু উস্কে দিলেই হল! নার্ডরা তো এগুলো লুফে নেয়ার জন্য বসেই থাকে! পল ফিগ তার গোস্টবাস্টারে নারী চরিত্র করেছে! নারী! এতে কিছু মানুষের মনে আঘাত লেগে গেছে। ঠিক এরকম কারণে সুইসাইড স্কোয়াড সমালোচক নিন্দিত হয়েছে।
এখনকার দিনে মুক্তি পাওয়া সব সিনেমাই এখন এমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রচার কিংবা কোন আদর্শ প্রতিফলনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। সিনেমার জন্য কবে আবার কোন ধর্মযুদ্ধ লেগে যায় কেই বা জানে! ভাগ্যিস, নির্দোষ বিনোদন প্রদায়ক ‘পিট’স ড্রাগন’ এর মত সিনেমাও আছে। নাহলে কি যে হত খোদা মালুম!

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com