Smiley face

দি উডি অ্যালেন ইন্টারভিউ (হুইচ হি ওন্ট রীড)

thr_woody_allen_20160420_hr_woody_allen_s01_021-darker_embed
কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রাক্কালে বিখ্যাত পরিচালক উডি অ্যালেন দেখা দিয়েছিলেন স্টিফেন গ্যালোওয়েকে। ৪ঠা মে, ২০১৬-তে দ্য হলিউড রিপোর্টারে প্রকাশিত হয় তার সাক্ষাৎকারটি। সেখানে উডি জানান দিয়েছেন তার ব্যক্তি জীবনের আশা, আশঙ্কা আর ভালোবাসার কথা। অনুবাদ করেছেন স্নিগ্ধ রহমান।
“মানুষ প্রায়শই আমাকে বলে, ‘তুমি কখনো নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে যাও না, ইউ লিভ ইন আ বাবল’, আর কথাটা সম্ভবত সত্যি” নিজের আর্মচেয়ারে বসতে বসতে স্বীকার করে নিলেন উডি অ্যালেন। আমরা বসেছি নিউ ইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে, উডির ব্যক্তিগত স্ক্রিনিং রুমে। গত পঁয়ত্রিশ বছর ধরে উডি এখানে বসেই মুভি দেখেন আর মিটিংগুলো সারেন।
“আমি সকালে উঠি”, উডি বলে চলেছেন,”বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাই, ট্রেডমিলে দৌড়াই। তারপর কাজ শুরু করি, লাঞ্চ করি, ফাকতলে ক্ল্যারিনেট প্র্যাকটিসটাও সেরে নেই। বন্ধুদের সাথে আড্ডা thr_woody_allen_20160420_hr_woody_allen_s02_003-darker_embedদেই অথবা বাস্কেটবল ম্যাচ দেখতে যাই।  এটা অতিশয় মধ্যবিত্ত-ব্যুর্জোয়া শ্রেণীর জীবনযাপন। কিন্তু এটাই আমাকে এত বছর ধরে কার্যক্ষম রেখেছে।”
“কার্যক্ষম” শব্দটি আসলে উডির কর্মক্ষমতার প্রতি সুবিচার করছে না। হোক সেটা Manhattan-এর মতো ক্ল্যাসিক নিউ ইয়র্ক কমেডি অথবা Interiors-এর মতো বার্গম্যানিয় ড্রামা, উডি অ্যালেন প্রায় প্রতি বছরই একটি করে ছবি উপহার দিয়েছেন। এমনকি সেই নব্বইয়ের দশকে, বান্ধবী Mia Farrow-এর সাথে বিচ্ছেদের সঙ্কটময় সময়ও তাকে দমাতে পারেনি (মিয়া ফ্যারো অভিযোগ এনেছিলেন, উডি নাকি তাদের সাত বছরের মেয়ে ডিলানকে ফিজিক্যালি অ্যাবিউজ করেছেন। যদিও তদন্ত করে পুলিশ এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ খুঁজে পায়নি)। ব্যক্তি উডির বিক্ষুব্ধ জীবনের খুব সামান্য আঁচই, পরিচালক উডির কাজে প্রভাব ফেলেছে। আশি বছরের উডি নিভৃতচারী সেই কমিক জিনিয়াস; যে কিনা মাইকেল’স পাবে ক্ল্যারিনেট বাজানোতে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, অ্যানি হলের জন্য অস্কারটা পর্যন্ত নিতে যাননি।
আপনার শুরুর দিকের কাজগুলোয় ঘুরে-ফিরে নশ্বরতার বিষয়টা এসেছে। এখন তো আপনার আশি চলছে। মৃত্যু কি এখনো আপনাকে ভাবায়?
পাঁচ বছর বয়স থেকেই মৃত্যচিন্তা আমাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল আর এই ভয় সারা জীবন ধরেই আমাকে তাড়া করছে। হ্যাঁ, অবশ্যই এসব ভাবনা এখনো আমাকে হয়রান করে তোলে। আমার মতে এর একমাত্র সমাধান হলো, এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা আর নিজের কাজে মন দেয়া। মৃত্যুচিন্তায় সর্বদা বুঁদ হয়ে থাকলে, জীবনের পাশা খেলায় হেরে বসবেন যে।
আপনি তো সারাটা জীবন নিউ ইয়র্কেই বসবাস করেছেন। এখনো কি লস অ্যাঞ্জেলসকে ঘৃণা করেন?
না, না। এটা একটা সর্বজনবিদিত ভুল ধারণা। আমি মোটেও লস অ্যাঞ্জেলস ঘৃণা করি না। ক্যালিফোর্নিয়ায় আমার অনেক বন্ধু আছে। আর সেখানে ঘুরতে যেতেও আমার ভালো লাগে। আমি শুধু সেখানে থাকতে চাই না। কারণ আমার রোদেলা আবহাওয়া আর গাড়ির উপর নির্ভর করতে ভালো লাগে না। আমি গাড়ি চালাতে জানি, কিন্তু আমার ড্রাইভ করতে ভালো লাগে না। আমার নিউ ইয়র্কের মতো শহর ভালো লাগে; যেখানে ঘর থেকে বেরোলেই শহুরে প্রাণ-চাঞ্চল্যের দেখা মিলবে, মেঘাচ্ছন্ন দিন আর তুষার পাবো।
ক্যাফে সোসাইটি তো পিরিয়ড ড্রামা। এমন ছবির জন্য গবেষণার প্রয়োজন পড়ে। রিসার্চের অংশ হিসেবে কি কি পড়েছিলেন? আপনি কি এমনিতে অনেক পড়াশোনা করেন?
পুরনোwasp2015_day_01-0433.CR2 কিছু গসিপ কলাম পড়েছি। এমনিতে আমি একদমই পড়ুয়া না। আঠারো বছর পর্যন্ত কমিক্স পড়তাম আর তারপর থেকে অন্য অনেক কিছু পড়েছি। কারণ বাঁচতে হলে, পড়তে হবে। কিন্তু পড়াটা কখনো উপভোগ করিনি। এর চে খেলা বা সিনেমা দেখেতে কিংবা গান শুনতে বেশি ভালো লাগে।
পত্রিকা পড়া হয় কি? অথবা নিজেকে নিয়ে কোন নিউজ?
ছোটবেলা থেকেই নিউ ইয়র্ক টাইমসটা পড়ছি, এখনো অভ্যাসবশত সেটাই পড়া হয়। এছাড়া আমার ড্রাইভার গাড়িতে কিছু ট্যাবলয়েড রাখে। সেগুলোতেও মাঝে মাঝে চোখ বুলাই। কিন্তু আমি কখনোই নিজের সম্পর্কে কিছু পড়িনি। না আমার কোন ইন্টারভিউ, আর না আমাকে নিয়ে রটানো কোন কেচ্ছা-কাহিনী।
আমি কখনোই, ভুলেও আমার কোন ছবির রিভিউ পড়ি না। যদিও শুরুর দিকে ব্যাপারটা এমন ছিলো না। কিন্তু এখন আমি শুধু নিজের কাজেই মন দেই। আমার ভাবনার দখল নিতে পারে, এমন যে কোন কিছু খুব সতর্কতার সাথে এড়িয়ে যাই। আমি কতটা অসাধারণ অথবা কত বড় বোকার হদ্দ, সেটার হদিস রাখি না। কাজ থেকে আপনার আনন্দ পেতে হবে।
সকালে উঠে স্ক্রীপ্ট হাতে নিয়ে, সেটে গিয়ে প্রতিভাবান সব মানুষের সাথে কাজ করার মজাই আলাদা। যখন এটা শেষ হয়েছে আর আপনি নিজের সেরাটা দিয়ে ফেলেছেন, এগিয়ে যান। আমি না আমার কোন ছবির দিকে ফিরে তাকাই, আর না সেগুলো নিয়ে কিছু পড়ি।
নব্বই দশকের শুরুতে, যখন Soon-Yi এর সাথে সম্পর্ক নিয়ে আপনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছিলেন তখনো আপনি এমন ছিলেন? এগুলো সম্পর্কে কি কিছুই জানতেন না? (মিয়া ফ্যারো ও উডি অ্যালেন দম্পতির দুটি সন্তান দত্তক সহ মোট তিন সন্তান ছিলো। এর আগে ১৯৭৮ সালে মিয়া ফ্যারো ও তার তৎকালীন স্বামী আন্দ্রে প্রেভিন কোরিয়া থেকে Soon-Yi-কে অ্যাডপ্ট করেন। ১০ দত্তক সন্তান সহ ফ্যারো’র মোট সন্তানের সংখ্যা চৌদ্দ। ১৯৯২ সালে  Soon-Yi-এর সাথে অ্যালেনের সম্পর্কের কথা জনসম্মুখে চলে আসে। ফলস্বরূপ ফ্যারো আর অ্যালেনের ১২ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটে। ১৯৯৭ সালে অ্যালেন  Soon-Yi কে বিয়ে করেন)
American comedian, actor, and film director Woody Allen (left) and his partner, actress Mia Farrow pose under an awning with their children, from left, Misha, Dylan (in Farrow's arms), Fletcher, and Soon Yi, New York, New York, 1986. Soon-Yi later married Allen. The man in center background is unidentified. (Photo by Ann Clifford/DMI/The LIFE Picture Collection/Getty Images)
হুঁ, এমনটাই ছিলাম। দেখতেই পাচ্ছেন, পুরোটা সময় জুড়ে আমি একই গতিতে কাজ করেছি যেভাবে আগে করতাম। আমি এভাবেই কাজ করি। আমার ভাবনার জগৎ গোছানো ও সরলরৈখিক।
আপনার স্ত্রী Soon-Yi কি আপনার মাঝে কোন পরিবর্তন এনেছে?
ওহ, সে আমার জীবনের অসাধারণতম অভিজ্ঞতাগুলোর মাঝে অন্যতম। জানেন কি, কোরিয়ায় কিন্তু ওর খুব কষ্টকর এক ছোটবেলা কেটেছে। সে ছিলো অনাথ, মাত্র ছয় বছর বয়সে ক্ষুধা আর অভাবের তাড়নায় তাকে থাকতে হতো ডাস্টবিনে। তারপর ওর জায়গা হয়েছিল এক অনাথ আশ্রমে।
আমার মনে হয় আমি তার জীবনে ভালো একটা পরিবর্তন আনতে পেরেছি। আমি তাকে বিভিন্ন সুযোগ দিয়েছি আর সে স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠেছে। সে পড়াশোনা করেছে, গ্র্যাজুয়েট স্কুলে গিয়েছে। সব মিলিয়ে সে যেন ভিন্ন এক মানুষ। ওর জীবনে আমি যতটুকু অবদান রাখতে পেরেছি, তা আমাকে আমার সকল ছবির চেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে।
পরিচালক উডির মাঝে কি কোন পরিবর্তন এসেছে?
আমার ধারণা, আমার শৈল্পিকসত্ত্বার বিবর্তন হয়েছে। আমি যখন ছবি বানাতে শুরু করলাম, আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কৌতুক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমি উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠলাম আর গভীর অথবা ভালো কাজের দিকে মন দিলাম।
আপনি এখনো প্রচুর ছবি দেখেন? শেষ কোন ছবিটা ভালো লেগেছে?
আইসল্যান্ডের ছবি Rams ভালো লেগেছে। এখন খুব বেশি অ্যামেরিকান মুভি দেখা হয় না। আমার মনে আগ্রহ সৃষ্টি করবে, এমন ছবি খুব বেশি নেই। ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগে যখন স্ক্রিনিং রুমটা বানিয়েছিলাম, তখন প্রতি শনিবার বন্ধুদের সাথে বসে একটা করে ছবি দেখতাম। এখন আর সেটা করা হয় না।
ছোটবেলায় প্রতি সপ্তাহে দেখবার মতো ডজনখানেক মুভি থাকতো। ষাটের দশক থেকে পরিচালকেরা ছবির প্রাণপুরুষে পরিণত হলেন আর অসাধারণ সব মুভির জন্ম হলো। এরপর সবাই বুঝতে পারলো ব্লকবাস্টার মুভি বানালে প্রচুর পয়সা কামানো যায়। কিন্তু সেসব ছবি কখনোই আমাকে টানেনি।
কোন সুপারহিরো মুভি দেখা হয়? কিংবা নিজের পুরনো কোন মুভি?
না এবং না। আমি আটষট্টি সালের দিকে Take the Money and Run বানিয়েছিলাম। সেটা আর কখনো দেখিনি, আমার কোন ছবিই আর দ্বিতীয়বার দেখিনি।
নিজের কোন ছবি গায়েব করে দিতে বললে, কোনটার নাম বলবেন?
আমার নিজের কোন ছবি? উমম, আমি সম্ভবত হাতেগোনা কয়েকটি রেখে বাকি সব গায়েব করে দিতাম (হাসি)। খুব বেশি হলে ছয় থেকে আটটা রাখবো। Purple Rose of Cairo রাখবো, Match Point আর Husbands and Wives-ও রাখবো। সম্ভবত Zelig আর Midnight in Paris। লিস্টিটা বানানো এখন একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে…
অ্যানি হল, ম্যানহাটান?
অ্যানি হল, ম্যানহাটান এতই আগে বানিয়েছি যে, এদের কথা American actress Diane Keaton and American film director and actor Woody Allen talk in still from the film 'Annie Hall,' written and directed by Allen, 1977. (Photo by United Artists/Courtesy of Getty Images)ঠিকমতো মনেও নেই। তাছাড়া এরা দর্শকদের যতটা ভালোবাসা পেয়েছে, আমার কাছে কিন্তু ততটা প্রিয় নয়। বিশেষ করে ম্যানহাটান দেখার পরে আমি খুবই হতাশ হয়েছিলাম আর তখনি প্রযোজক আর্থার ক্রিম (ইউনাটেড আর্টিস্টের প্রধান)-এর সাথে কথা বলেছিলাম। তাকে বলেছিলাম, “যদি ম্যানহাটান সিনেমাটা মুক্তি না দেন, তবে আমি বিনে পয়সায় আপনাকে আরেকটা ছবি বানিয়ে দেব”।
জবাবে উনি বললেন, “তুমি কি পাগল হয়েছ! ছবিটা আমাদের ভালো লেগেছে আর তাছাড়া আমরা এটাতে টাকাও লাগিয়েছি। আর সে টাকা যোগাড় করতে গিয়ে আমাদের ধার-কর্য করতে হয়েছে।” তাই তারা ম্যানহাটান মুক্তি দিলেন আর ছবিটা দারুণ ব্যবসা করলো। এটা স্রেফ কপালে ছিল। আর আমি প্রায়শই বলি, মানুষ সবসময় তাদের সাধ্যাতীত বিষয়ের জন্য বাহবা নেয়।

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com