Smiley face

বলিউডের সেরা দশ রোম্যান্টিক সিনেমা

52fbc2302cf94-Untitled-25
বলিউডের অন্যতম সেরা দশটি প্রেমের ছবি নিয়ে লিখেছেন হৃদয় সাহা
১. মুঘল-ই-আজম (১৯৬০)
পাঁচ যুগ পেরিয়ে গেছে, তারপরও এখনো অম্লান মুঘল-ই-আজম। শুধু সেরা প্রেমের ছবি হিসেবে নয়, বলিউড ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ছবির নাম নিলেও এ ছবিকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। ভারতজুড়ে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালক কে আসিফের একমাত্র সার্থক এই সৃষ্টি। মুঘল সম্রাট আকবর-পুত্র সেলিমের সঙ্গে সাধারণ নর্তকী আনারকলির প্রেমকাহিনী নিয়ে নির্মিত এই ছবির অসাধারণ সেট, ধ্রুপদী নৃত্য, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গানগুলো আজও প্রযোজক-পরিচালক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকদের সমানভাবে দোলা দেয়। ক্ল্যাসিক এই ভালোবাসার গল্পে অভিনয় করেছিলেন পৃথ্বীরাজ কাপুর, দিলীপ কুমার, মধুবালা প্রমুখ।
২. সিলসিলা (১৯৮১)
প্রেম এবং পরকীয়া নিয়ে সিলসিলা ছবিটি নির্মাণ করে হিন্দি ছবির জগতে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিলেন প্রযোজক-পরিচালক যশ চোপড়া। অমিতাভ-রেখার প্রেমময় সম্পর্ক নিয়ে তখন বাস্তবে বেশ গুঞ্জন চলছিল। রেখার কারণে অমিতাভ-জয়ার দাম্পত্য জীবনে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। যশ চোপড়া ঠিক সেই সময়ে ত্রিভুজ সম্পর্কের অদ্ভুত এক প্রেমের গল্প নিয়ে সিলসিলা ছবিটি নির্মাণ করেন।
৩. দেবদাস (১৯৫৫)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর প্রেমকাহিনী দেবদাস অবলম্বনে বিমল রায় পরিচালিত এই ছবি হিন্দি ছবির ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অবস্থানে রয়েছে। এই ছবিতে দেবদাস চরিত্রে দিলীপ কুমারের অপূর্ব অভিনয়ের কথা দর্শক কখনোই ভুলতে পারবে না। ছবিটিতে পার্বতী চরিত্রে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। চন্দ্রমুখী চরিত্রে বৈজন্তী মালা।
৪. কেয়ামত সে কেয়ামত তাক (১৯৮৮)
আশির দশকের শেষে এক নতুন রেকর্ডের সূত্রপাত করে আমির খান ও জুহি চাওলা অভিনীত কেয়ামত সে কেয়ামত তাক। এই ছবি দিয়েই রাতারাতি তারকা হয়ে যান আমির খান। মনসুর খান পরিচালিত এ ছবিতে সেই সময়ের সম্পূর্ণ নতুন মুখের নায়ক-নায়িকা আমির খান ও জুহি চাওলা তাঁদের ‘ফ্রেশ লুক’ এবং চমৎকার সাবলীল রোমান্টিক অভিনয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবেই সবার হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন।
৫. দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (১৯৯৫)
আদিত্য চোপড়া পরিচালিত এ ছবিতে শাহরুখ খান ও কাজলের মিষ্টি প্রেমের অভিনয় ছবিটিকে চির অমর করে রেখেছে। এ ছবির শেষ দৃশ্যে রেলস্টেশনে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় কাজল আর শাহরুখের দৃশ্যটিকে বিবেচনা করা হয় বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা রোমান্টিক দৃশ্য হিসেবে। ছবিটি ১০টি ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।
৬.ম্যাায়নে পেয়ার কিয়া (১৯৮৯)
এই ছবির প্রতিটি গানই ছিল তখনকার সময় সুপার ডুপার হিট, বিশেষ করে ‘কবুতর যা যা’ গানটি ছিল সবার মুখে মুখে। মিষ্টি প্রেমের কাহিনী নিয়ে নতুন নায়ক-নায়িকা সালমান খান আর ভাগ্যশ্রী তখন বলিউডে নতুন জুটির আগমনী বার্তা শুনিয়েছিলেন। ধনী-গরিবের সামাজিক বৈষম্য ও প্রেম ভালোবাসা নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে শিল্পীদের অভিনয়, গান, নাচ—সবকিছুতেই ছিল ভালো লাগার মতো বেশ কিছু নতুনত্বের ছোঁয়া।
৭.হাম দিল দে চুকে সনম (১৯৯৯)
সঞ্জয় লীলা বানসালির হাম দিল দে চুকে সনম ছবিটি সুপারহিট হয়। অভিনয়-প্রতিভা দিয়ে ঐশ্বরিয়া বলিউডকে নিজের জাত চেনান এই ছবি দিয়েই। সালমান খান, ঐশ্বরিয়া রাই ও অজয় দেবগণ অভিনীত এ ছবির নির্মাণেও ছিল অপূর্ব চমক।
৮.জাব উই মেট (২০০৭)
বিষণ্ণ এক ব্যবসায়ীর জীবনই পাল্টে গেল যখন তার সঙ্গে প্রাণোচ্ছল এক মেয়ের দেখা হলো। দেখা থেকে বন্ধুত্ব এবং প্রেম। ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত বলিউডে সাড়া জাগানো ছবি ‘জাব উই মেট’-এর মূল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন শহীদ কাপুর ও কারিনা কাপুর।
৯.লামহে (১৯৯১)
রোমান্সের কারিগর যশ চোপড়া পরিচালিত ছবি ‘লামহে’। ছবিটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনিল কাপুর ও শ্রীদেবী। দু’জনের প্রেমের মধ্যকার সুন্দর স্মৃতি, মুহূর্ত, সহনশীলতা ও সম্মানবোধের বিষয়টি ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে।
১০.ববি (১৯৭৩)
টিনএজ প্রেমের ছবি ববি বলিউড ছবির ইতিহাসে নতুন এক ধারার সূচনা করেছিল। ঋষি কাপুর-ডিম্পল কাপাডিয়া অভিনীত এ ছবি হিন্দি সিনেমায় আধুনিক প্রেমকাহিনীর সার্থক উপস্থাপনা ছিল। তরুণ বয়সী দর্শক তো বটেই, পরিণত বয়সের দর্শকেরাও ববির প্রেমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন সেই সময়।
 
লেখক পরিচিতিঃ
হৃদয় সাহা, চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শক

Trivia

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com