Smiley face

৮৯ তম অস্কারে বিদেশী ভাষার সেরা তিন

remote.jpg.ashx
এ বছর অস্কারের বেষ্ট ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মের জন্য মনোনীত Land of Mine (Denmark), Toni Erdman (Germany) ও The Salesman (Iran) নিয়ে আলোচনা করেছেন তানিম নুর
Land of Mine (Denmark)
3
ডেনমার্কের হিস্টোরিক্যাল ড্রামা ‘ল্যান্ড অফ মাইন’ ইন্সপায়ার্ড হয়েছে একটি রিয়েল ইভেন্ট থেকে। ঘটনার প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ডেনমার্ক। দীর্ঘ ৫ বছর অন্যায় শাসনের অবসান ঘটিয়ে হার মেনে নিয়েছে জার্মান বাহিনী। পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদেরকে নিজ দেশে। যুদ্ধে অংশগ্রহন করা একদল বালক যখন যুদ্ধের বিভীষিকা ভুলে দেশে ফিরে গিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই তাদের নিয়ে যাওয়া হল ডেনমার্কের উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বিশাল সমুদ্র সৈকতে। যে সৈকতের বালুর নিচে লুকিয়ে আছে প্রায় ২ মিলিয়নের মতো ল্যান্ড মাইন যা খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেয়া হয় তাদের। ১৪ জন জার্মান বালক যাদের প্রত্যেকের বয়স ১৭-২০। যাদের মধ্যে দুই-এক জন বাদে কেউ ল্যান্ড মাইন কোনদিন চোখেও দেখেনি। বিন্দুমাত্র অসাবধানতার কারনে মুহূর্তে উড়ে যেতে পারে হাত, পা, মাথার খুলি, কিংবা পুরো শরীর। কাজের তত্ত্বাবধানে থাকা Sgt. Rasmussen পাথরের মত কঠোর মানুষ, জার্মানদের প্রতি যার চরম ঘৃণা। বীচের পাশে একটি পুরনো ঘরে অনাহারে আটকিয়ে রেখে বালকগুলোকে দিয়ে মাইন অপসারনের কাজ করিয়ে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি লাভ করছিলেন Sgt. Rasmussen। তবে শত্রুরও মন বলে একটা ব্যাপার আছে। কিছু ঘটনা পাথরের চোখেও পানি এনে দিতে পারে। আর সেখানেই মানবতার চরম পরীক্ষা।
মানবতা আর ক্ষমার সমন্বয় ঘটানো অসাধারন এক সিনেমা ‘ল্যান্ড অফ মাইন’।
Toni Erdmann (Germany)
toni-erdmann
এবারের অস্কারে জার্মানীর অফিশিয়াল সাবমিশন হচ্ছে Toni Erdmann. বাবা মেয়ের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে খুবই সিম্পল বাট পাওারফুল ফিলোসফির কমেডি-ড্রামা Toni Erdmann. ডিভোর্সি মিউজিক টিচার বাবা উইনফ্রেড, যিনি বুড়ো বয়সেও অনেকটা বাচ্চাসুলভ আচরণে অভ্যস্ত। ছদ্মবেশ ধারন, উদ্ভট ঠাট্টা- মশকরা, দুষ্টুমিতে মেতে উঠতে মজা পান তিনি। এমনকি একমাত্র মেয়ে ইনেজ এর সাথে মজা করার জন্য পকেটে সবসময় একপাটি নকল দাঁত নিয়ে ঘুরে বেড়ান। নিঃসঙ্গ বাবা উইনফ্রেড একমাত্র সঙ্গীর (একটি বুড়ো কুকুর) মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন রাজধানীতে যাবেন মেয়ে ইনেজের সাথে কিছুদিন সময় কাঁটাতে।
ইনেজ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সে ভয়ানক ব্যস্ত। বাবার সাথে সময় কাটানোর জন্য বিন্দুমাত্র অবসর নেই তার।তার জীবনযাপন, খাওয়া- দাওয়া, চলাফেরা থেকে শুরু করে সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকলের মধ্যে আবদ্ধ। যেই প্রোটোকল মানতে গেলে তার উদ্ভট স্বভাবের বাবাকে অনেক ক্ষেত্রেই ইগনোর করতে হবে। এমনকি পরিচয়টাও চেপে যেতে হবে। মেয়ের সাথে সময় কাটাতে এসে বাবা উইনফ্রেড এসব ব্যাপার ফেইস করতে থাকে যার ফলে সে বুঝতে পারে, এখানে তার উপস্থিতি কাম্য নয়। বুঝতে পারে চলে যায় সে। কিন্তু সে ফিরে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে। মেয়ের কাছাকাছি থাকার জন্য এক উদ্ভট পন্থা অবলম্বন করতে হয় তাকে। আর এখানেই মূল গল্প...
চমৎকার কনসেপ্ট, দুর্দান্ত মেকিং, বাবা মেয়ের চরিত্রে Peter Simonischek আর Sandra Hüller এর সাবলীল অভিনয় ছিল প্রশংসা করার মতোই।
মোরালিটিকে আঘাত করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা, ফিলোসফি চোখের সামনে কিভাবে তুলে ধরতে হয় তার চমৎকার একটি উদাহরন Toni Erdmann.
ইতোমধ্যে বেশ কিছু পুরষ্কার জিতে নিয়েছে এই মুভিটি । খুব শীঘ্রই হলিউডে রিমেক করা হবে চলচ্চিত্রটির। যেখানে বাবার চরিত্রে অভিনয় করবেন স্বয়ং জ্যাক নিকলসন।  এখন পর্যন্ত বেষ্ট ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ ক্যাটাগরিতে অস্কার জেতার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে Toni Erdman এর।
The Salesman (Iran)
maxresdefault
২০১২ সালে আসগার ফারহাদির নির্মিত 'এ সেপারেশন' বেষ্ট ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম বিভাগে অস্কার জিতেছিল। চার বছর পর আবারো নিজেকে অস্কারের শর্টলিস্টে নিয়ে এলেন ফারহাদি।
দ্যা সেলসম্যান মুভির গল্প একজন স্কুল টিচার (এমাদ) এবং তার স্ত্রীকে (রায়না) নিয়ে। থিয়েটারে নাটক করতে ভালোবাসে তারা। সেই ধারাবাহিকতায় আর্থার মিলার এর ট্র্যাজেডি ড্রামা 'ডেথ অফ অ্যা সেলসম্যান' এর মঞ্চায়ন চলছিল। ঘটনাক্রমে বাসা পরিবর্তন করতে হয় তাদের। সহ নাট্যকর্মী 'বাবাক' তাড়াহুড়োর মাঝে একটি অ্যাপার্টমেন্টের খোঁজ দেয় তাদের।
অ্যাপার্টমেন্টের পূর্বের ভাড়াটিয়া ছিলেন একজন মহিলা যিনি তার আসবাবপত্র, জামা-কাপড়, কোন কিছুই নিয়ে যাননি। সব রেখে গেছেন। তিনি কি আবার ফিরে আসবেন কি না এই ব্যাপারে 'বাবাক' কিছু বলতে পারেনা। দ্রুত মাথা গোজার ঠাই দরকার ছিল, সেটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর বেশি জেনে লাভ কী! এমাদ এবং তার স্ত্রীও কথা না বাড়িয়ে দিন কাটাচ্ছিলো নিজেদের মত। একদিন অ্যাপার্টমেন্টে একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ঘটে যায় রায়নার সাথে। কারন ঘাটতে গিয়ে বেরিয়ে আসে অ্যাপার্টমেন্টের পূর্বের ভাড়াটিয়া সেই অজ্ঞাত মহিলার আসল চরিত্র। যার কারনেই মূলত দুর্ঘটনার স্বীকার হয় রায়না। বলা যায়না, সহ্যও করা যায়না এমন একটি দুর্ঘটনা যা কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই। পরস্পরের মাঝে দানা বাঁধতে থাকে সন্দেহ আর হতাশা। থিয়েটারের নাটকেও যার প্রতিফলন ঘটতে থাকে প্রতিনিয়ত। নাটকের মাঝেই বাস্তবতায় ডুবে যাচ্ছে তারা। এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে দ্যা সেলসম্যান এর কাহিনী।
ইতোমধ্যে 'কান ফেস্টিভ্যালে' বেষ্ট স্ক্রিনপ্লে, বেষ্ট অ্যাক্টর এর পুরষ্কার জিতেছে মুভিটি। শাহাব হুসেইনি, তারানেহ আলিদোস্তির অভিনয়ের সাথে আগে থেকেই পরিচিত। অসম্ভবরকম সাবলীল অভিনয়ে দক্ষ দুজনেই। এই মুভিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ক্ষোভ, লালসা, ক্ষমার অভূতপূর্ব সমন্বয় আসগার ফারহাদির দ্যা সেলসম্যান। সাসপেন্স আর আনকমফোর্টেবল সিচুয়েশন তৈরি, মোরালিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় পারদর্শী ফারহাদি সাহেবের দুর্দান্ত এই মুভিটি যে এই বছর অস্কার দৌড়ে একদম প্রথম দিকে থাকছে, এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

 

 
লেখক পরিচিতি:
তানিম নুর, লিমিটেড লাইফে মুভির সংখ্যা আনলিমিটেড, তাই ছেঁকে মুভি দেখার অভ্যাস। দুই ঘণ্টার একটা গার্বেজ দেখা মানে একটা মূল্যবান মাস্টারপিস মিস করা। ক্ল্যাসিক এবং ইরানি মুভির পাঁড় ভক্ত। সত্যজিৎ রায়ের নির্মাণশৈলী দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত। তার মতে- বৃষ্টিস্নাত রাত মুভি উপভোগ করার পারফেক্ট সময়। বর্তমানে Game of Thrones-এর Sansa Stark এর প্রেমে নিমজ্জিত। প্রিয় উক্তি: We think too much and feel too little- Charles Chaplin (The Great Dictator)
অস্কার ট্রিভিয়াঃ
বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র ক্যাটাগরীতে সর্বোচ্চ ১৪ বার অস্কার নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে আছে ইতালি।

 

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com