maxresdefault
অস্কার নমিনেটেড ভিন্নধর্মী ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র  'হেল অর হাই ওয়াটার' নিয়ে লিখেছেন হাসান জাকারিয়া
এ পৃথিবীতে দারিদ্র এক ভয়াবহ ব্যাধির নাম। আর এই ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষেরাই বুঝে এর যন্ত্রণা। ট্যানার এবং টবি হাওয়ার্ড নামের দুই ভাইয়ের জন্ম টেক্সাসের এক দরিদ্র পরিবারে। একজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আরেকজন মাত্র এক বছর আগে দশ বছর জেল খেটে বের হয়ে এসেছে।
ছবি শুরু হয় ছোটখাটো দুইটা ব্যাংক ডাকাতি দিয়ে। নিজেদের রেঞ্চ বাঁচাতে টেক্সাসের মিডল্যান্ড ব্যাংকের দু’টো ব্রাঞ্চ লুট করে ট্যানার আর টবি। লুটের অংক দেখে এফবিআই কেইস নিতে তেমন আগ্রহ না দেখালে কেইসটি চলে যায় দুই প্রবীণ টেক্সান রেঞ্জারের হাতে। তৃতীয় ডাকাতির পর, পুরোদস্তরভাবে দুই ভাইয়ের পেছনে লাগে এই দুই রেঞ্জার- মারকাস হ্যামিল্টন এবং আলবার্তো পারকার। অপেক্ষা করতে থাকে পরবর্তী ডাকাতির।
গতবছর সিকারিও দিয়ে বাজিমাত করার পর এবার আরও একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন চিত্রনাট্যকার টেইলর শেরিডান। আর চলচ্চিত্র পরিচালনায় ছিলেন ব্রিটিশ চিত্র পরিচালক ডেভিড ম্যাকেনজি। এই দুইয়ে মিলে ভিন্নধর্মী এক ওয়েস্টার্নের স্বাদ দিলো দর্শকদের।
এ ছবির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে দারিদ্রের বিষাদ আর তা অতিক্রম করার জন্য একটি পরিবারের লড়াই আর আত্মত্যাগ। স্বল্প পরিসরের ছবিতে চেষ্টা করা হয়েছে সামাজিক রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরার। পুরো ছবি জুড়েই যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝানো হয়েছে তা হল আধুনিক পশ্চিমা সমাজের আসল খলনায়ক হচ্ছে ব্যাংকগুলো। লুট হওয়া প্রথম ব্যাংকের দেয়ালে স্প্রে করে লেখা ছিল ‘ইরাকে তিনটা ট্যুর অথচ মুক্তি নেই আমাদের মতো মানুষেরও’। ঋণের কঠিন মারপ্যাঁচে পরে ভূমিহীন সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা  বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ সমসাময়িক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপর। তাই ব্যাংক ডাকাতদের শনাক্ত করতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে তেমন কোন সহযোগিতা পায়না রেঞ্জাররা; সেই দৃশ্যে এক মধ্যবয়স্ক লোক বলে  ‘গত ত্রিশ বছর ধরে ব্যাংকইতো আমাদের লুট করে যাচ্ছে’।
সিনেমাটি টেক্সাস কেন্দ্রিক হওয়া সত্তেও এর একটা দৃশ্যও ধারণ করা হয়নি টেক্সাসে, চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে নিউ মেক্সিকোতে । তাও ছবির প্রত্যকেটা দৃশ্যের ওয়েস্টার্ন ল্যান্ডস্কেপ গুলো ছিল সজীব এবং প্রাণবন্ত। ছবির চিত্রনাট্য, সিনেমাটোগ্রাফি এবং শব্দগ্রহন ছিল চমৎকার। আর ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে চমৎকার সব সাউন্ডট্র্যাক। টেইলর শেরিডানের চিত্রনাট্য তথাকথিত কপট সংলাপের পরিবর্তে মানুষের কথা বলার বাস্তব রূপকে ফুটিয়ে তুলেছে যা কিনা একই সঙ্গে শ্রুতিমধুরও। সংলাপগুলো খুব সাধারণ হয়েও ছিল মনে রাখার মতো অসাধারণ।
ছবিটি মুলত চারটি চরিত্রকে ঘিরেই। বাকি চরিত্রগুলো ছিল অনেকটা ক্যামিওর মতো। তবে প্রত্যেকটি চরিত্রের অভিনয়ই দারুন ছিল। ট্যানারের চরিত্রে বেন ফস্টার আর মার্কাসের চরিত্রে জেফ্রি ব্রিজেস অভিনয় ছিল অসাধারণ। আমি বেন ফস্টারকে যতো দেখছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম, সে আসলেই আন্ডাররেটেড একজন এক্টর। আর ড্যুডখ্যাত জেফ ব্রিজেসের কথা আর কি বলবো! চমকপ্রদ অভিনয়! তিনি হলিউডের চমৎকার অভিনেতাদের মধ্যে একজন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে সবচেয়ে অবাক করেছে টবি চরিত্রে অভিনয় করা ক্রিস পাইন। ইন্ডি ফিল্ম গুলোতে অভিনয় করার ক্ষমতাও যে তার আছে সে ব্যাপারটা ভালো করে দেখিয়ে দিয়েছেন। বেন আর জেফের সঙ্গে অভিনয় করছেন পাল্লা দিয়ে। যদিও পাননি, কিন্তু অস্কারের নমিনেশান পাওয়ার মতই কাজ দেখিয়েছেন।
 
লেখক পরিচিতিঃ
হাসান জাকারিয়া, ভালোবাসেন সিনেমা, মিউজিক আর কম্পিউটার গেইম। কোন সিনেমা খুব ভালো লেগে গেলে দু' কলম লিখতে পিছপা হননা।
অস্কার ট্রিভিয়াঃ
সবচেয়ে কম বয়সে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার জয় করেন Adrien Brody, The Pianist ছবির জন্য।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *