unnamed
১৪ টি মনোনয়ন নিয়ে এবারের অস্কারের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা 'লা লা ল্যান্ড' নিয়ে লিখেছেন  স্নিগ্ধ রহমান
রায়ান গসলিং এক জ্যাজ পিয়ানিস্ট, এমা স্টোন অ্যাক্ট্রেস। তারা দুজনেই নিজস্ব স্বপ্ন নিয়ে বিচরণ করছে লস অ্যান্জেলসে বা লা লা ল্যান্ডে। কিন্তু এই "সিটি অফ স্টারস" বড্ড নিষ্ঠুর। প্রতিদিন দুজনের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। পরেরদিন তারা আবার "অ্যানাদার ডে অফ সান" গেয়ে স্বপ্ন পূরণের অভিযানে নামে। এই অভিযানের ফাঁকে বসন্তের এক "লাভলি নাইটে" দেখা হয় দুজনের। মৌসুম পালটায়, সেই সঙ্গে পালটায় এই দুজনের জীবন। চলচ্চিত্রটিতে চরিত্রগুলোর অবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে লস এঞ্জেলস শহরের ঋতু বদল ছবিটির সঙ্গে খুব প্রাসঙ্গিক ও শৈল্পিক ভাবে উঠে এসেছে।
এখনকার মুভিগুলো রোম্যান্স দেখাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে যায়। লা লা ল্যান্ড যেন প্রেমের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে ভাবায়। ভালোবাসা, সংগীত আর প্যাশনের মাঝে যে জাদু লুকিয়ে আছে, সেটার জানান দেয়। সেজন্য চরিত্রগুলো কনটেম্পোরারি হয়েও, তাদের পোশাক আর আচরণে অল্টারনেটিভ রিয়ালিটি আভাষ দেয়। আবার কখনোবা ম্যাজিক রিয়ালিজমের।
এই চলচ্চিত্রটি পরিচালক ড্যামিয়েন শ্যাজেলের ড্রিম প্রজেক্ট । ২০১০ সালে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখে রাখলেও প্রযোজকের অভাবে ছবিটি বানাতে পারেননি তিনি। ২০১৪ সালে ড্যামিয়েনের  ‘হুইপল্যাশ’ চলচ্চিত্রটি দর্শক ও সমালোচক মহলে বহুল প্রশংসিত হবার পর তিনি লা লা ল্যান্ড নির্মানের জন্য অর্থ যোগানদাতা খুঁজে পান।
হলিউডে তিনজন অভিনেতার স্ক্রীপ্ট চয়েস দুর্দান্ত। তাদের একজন রায়ান গসলিং (অন্য দুজন হলো জোসেফ গর্ডন-লেভিট আর পল ডেনো)। মজার ব্যাপার সেবাস্টিন চরিত্রটির জন্য পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলো হুইপ্ল্যাশ এর মাইলস টেলার। কিন্তু টেলারের শিডিউল জটিলতায় কাজটি পেয়ে যান রায়ান গসলিং। আর এখন এই ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেতার অস্কারটি বগলদাবা করলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা। আর এমা স্টোন ওয়াজ গর্জিয়াস অ্যান্ড ফ্যাবুলাস। আর পর্দায় রায়ান-এমার রসায়ন ছিলো এক কথায় অনবদ্য!
চলচ্চিত্রটির প্রতিটা ফ্রেমই ত্রিশ থেকে ষাট দশকের মিউজিক্যালগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো বারবার। ছবির এন্ডিংটাও ১৯২৭ সালে তিনটি অস্কারজয়ী ক্লাসিক ‘সেভেন্থ হেভেন’ থেকে ইন্সপায়ার্ড। ড্যামিয়েন অকপটে জানিয়েছেন তার ইন্সপিরেশানের কথা। সিঙ্গিন’ ইন দ্য রেইন , ওয়েস্ট সাইড স্টোরি, এন আমেরিকান ইন প্যারিস, দি আম্ব্রেলাজ অফ শেরবার্গ , টপ হ্যাট, শ্যাল উই ড্যান্স, দি ব্যান্ড ওয়াগন ইত্যাদি ক্ল্যাসিক মিউজিক্যালগুলোকে দারুন স্মার্ট ওয়েতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি। বিশেষ করে নাচ আর গানে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব সিঙ্গিন’ ইন দ্য রেইন ছবিটির। পরিচালক সহ ছবির কলাকুশলীরা প্রায় প্রতিদিনই মুভিটা দেখতেন।
এবার মোট ১৪টি অস্কারের জন্য মনোনয়ন মিউজিক্যাল মুভি লা লা ল্যান্ড। আর এর মধ্য দিয়ে এই ছবি উঠে এসেছে অল অ্যাবাউট ইভ (১৯৫৯) ও টাইটানিক (১৯৯৭) ছবির কাতারে। সবচেয়ে বেশি অস্কার মনোনয়ন পাওয়া তৃতীয় ছবি এটি। ইতোমধ্যেই এটি ভেঙ্গে দিয়েছে গোল্ডেন গ্লোব এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ এওয়ার্ড জয়ের রেকর্ড (মোট ৭টি পুরষ্কার) ।
মুভির ন্যারেটিভ, হিউমার, মিউজিক, কোরিওগ্রাফি, ক্যামেরাগ্রাফি (ক্যামেরা-যে কিনা নিজেও এই মুভির একটা চরিত্র) সব কিছু টপ নচ। ড্যামিয়েন শ্যাজেলের লা লা ল্যান্ড যেন ঘন্টা দুয়েকের জন্য অদ্ভুত এক ভুবনে নিয়ে গিয়েছিল- অন্য এক ওয়ান্ডারল্যান্ডে!
 
লেখক পরিচিতঃ
স্নিগ্ধ রহমান, চলচ্চিত্রপ্রেমী একজন সাধারন দর্শক।
অস্কার ট্রিভিয়াঃ
২০১০ সালে বিগিনার্স মুভির জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে অস্কার জিতে নেন ৮২ বছর বয়স্ক Christopher Plummer. এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্কার জয়ের রেকর্ড।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *