Smiley face

বলিউডের এ বছরের সেরা ১০

26195980_780777445442647_6877858973122520474_n

মীর অর্ণব কবির

২০১৭ সাল বলিউডের জন্য তেমন সৌভাগ্যজনক বছর ছিলো না। একই সাথে ব্যবসাসফল এবং ভালো সিনেমা পেতে পেতে লেগে গিয়েছিলো চার মাস। শাহরুখ খান পারেননি বছরের শুরুটাকে দারুন করে তুলতে তবে রইস মাঝালি মানের হলেও যাব হ্যারি মেট সেজালের কথা তিনি ভুলে যেতেই চাইবেন। সালমান খানও প্রথমে টিউবলাইট দিয়ে ব্যর্থ, সদ্য রিলিজ পাওয়া টাইগার জিন্দা হ্যায় নিয়ে এখনি মতামত জানানো সমীচিন হবে না। আমির খানতো কোন সিনেমাই করেন নি, ক্যামিও রুপে একবারই আবির্ভাব হয়েছিলেন সিক্রেট সুপারস্টার দিয়ে। তবে এঁদেরকে পেছনে ফেলে বছরটাকে একদম নিজের করে নিয়েছেন অন্য কেউ, তিনি রাজকুমার রাও। আয়ুষ্মান খুরানার জন্যও স্মরণীয় একটি বছর গিয়েছে।
১০. Bareilly Ki Barfi
পরিচালক : অশ্বিনী তিওয়ারী
গত বছর নিল বাট্টে সান্নাটার পর এ বছর অশ্বিনি তিওয়ারী বারেলি কি বরফি বানিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিলেন। bareilly-ki-barfiগল্পটা বিট্টি কে নিয়ে, যার একের পর এক বিয়ের প্রপোজাল ফেরত যায়। বিট্টি মেয়েটাও ভিন্ন! ব্রেক ড্যান্স করে, সিগারেট খায়। একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে গিয়ে স্টেশনে বই এর দোকানে খুজে পায় প্রিতম বিদ্রোহীর লেখা বই “বারেলি কি বরফি”। হুট করে আবিষ্কার করে, আরেহ, গল্পতো তার জীবনের সাথে অনেক মিলে যায়! রোমান্টিক, ড্রামা ঘরনার এ সিনেমায় আয়ুশ্মান খুরানা, ক্রিতি শ্যানন ও রাজকুমাও রাও অভিনয়টা করেছেন খুবই সহজাত ভঙ্গিমায় ।
Tumhari Sulu
পরিচালক : সুরেশ ত্রিবেণী
সুলোচনা স্বামী, সন্তান নিয়ে মুম্বাইতে থাকে। পাকচক্রে সে বনে গেল রেডিও জকি, তাও আবার রাটএর এক শো-তে। সুলুর মাধ্যমে বিদ্যা বালান অনেক দিন পর হিট সিনেমা দিলেন।
৯. Ittefaq
পরিচালক: অভয় চোপড়া
দুইটা খুন, দুইজন সাসপেক্ট এবং রহস্য উদঘাটন করার জন্য সময় তিনদিন। চোর পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া নয়, ইত্তেফাক হলো একদম পুরোদস্তুর মার্ডার মিস্ট্রি থ্রিলার। রিমেক হলেও ইত্তেফাক ছিলো বছরের অন্যতম সারপ্রাইজিং সিনেমা। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও সোনাক্ষী সিনহার মত ফ্লপ তারকার দুর্দান্ত অভিনয় এবং অভয় চোপড়ার মত একদম আনকোড়া পরিচালক যে এতো দারুন সিনেমা বানাবেন সেটা কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিলো। অনেকদিন পর অক্ষয় খান্নার আবির্ভাব তার জাত চিনিয়ে দিয়েছে। এ বছরের বেস্ট মিস্ট্রি, থ্রিলার সিনেমা।
Lipstick Under My Burkha
পরিচালক: অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তব
বছরের অন্যতম বিতর্কিত সিনেমা। বিতর্কিত হবার কারন সিনেমাতে এমন অনেক কিছুই দেখানো হয়েছে যা সচারচর সিনেমার পর্দায় দেখা যায় না। কাহিনী চারজন ভিন্ন বয়সী নারীর ভিন্ন জীবনকে কেন্দ্র করে। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসা এদের বেঁচে থাকার জীবন, মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া, সমাজের রীতি নীতিকে অমান্য করে চলা, তাদের অধিকার, দুস্কর্ম এসব টানাপোড়নের গল্প নিয়েই এগিয়েছে সিনেমার কাহিনী। সত্যি বলতে এ সিনেমা দেখতে গিয়ে অনেকেই বিরক্ত হবে, কিন্ত গল্প হলেও সত্যি যে এমন কিন্ত আসলেই ঘটছে আমাদের সমাজে। পরিণত দর্শকদের অবশ্যই এ সিনেমা দেখার প্রয়োজনীয়তা আছে, সিনেমা থেকে অনেক কিছু শেখা ও বোঝার মত উপাদান আছে।
৮. Shubh Mangal Saavdhan
পরিচালক: আর.এইচ প্রসন্ন
২০১৩ সালের তামিল সিনেমার রিমেক এটি, দুটি সিনেমার পরিচালক একজনই। এ বছরের সবচেShubh-Mangal-Saavdhan-2 এন্টারটেনিং সিনেমাগুলোর একটি। সিনেমাটি এমন এক সমস্যাকে কেন্দ্র করে, যা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলাটাও সকলের চোখে অসমীচীন। মুদিত ও সুগন্ধার বিয়ে ঠিক হয়ে গেলেও পরে বিয়েটা জটিল হয়ে যায় একটা বিশেষ কারনে (মুদিতের ভাষায় জেন্টস প্রবলেম)। এই কারন ও তাদের দুজনকে কেন্দ্র করেই সিনেমাটি। একটা সুন্দর গল্পকে সংলাপ আর অভিনয় দিয়ে কতটা দারুণ করে নির্মান করা যায় তার সেরা উদাহরণ এ সিনেমা। অায়ুষ্মান খুরানা এবং ভুমি পেডনেকার এর অভিনয় ছিলো দারুন।
Qarib Qarib Single
পরিচালক : তনুজা চন্দ্র
এক জুটির ভালোবাসা পুনরাবিষ্কারের গল্প কারিব কারিব সিঙ্গেল। মূল ভূমিকায় ছিলেন পার্বতী ও ইরফান খান।
৭. Dear Maya
পরিচালক: সুন্যেয়না ভাটনাগার
পরিচালকের প্রথম সিনেমা এটি। প্রথম সিনেমাতে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন মণিষা কৈরালাকে। অনেক দিন পর সিনেমায় ফিরে এসে দারুন অভিনয় করেছেন তিনি। এ্যানা এবং ইরা এক লোকাল মহিলাকে চিঠি লিখে উত্যক্ত করতো। বিষয়টা সিরিয়াস হয়ে যায় যখন ঐ মহিলা হুট করে গায়েব হয়ে যায়। তবে ড্রামা, রোমান্স জনরার সিনেমা ডিয়ার মায়া এর গল্প আরও কিছু। পরিচালনা ও বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সুন্দর ছিলো। ব্যাতিক্রমধর্মী ভালো সিনেমা।
Anaarkali of Aarah
পরিচালক : অবিনাশ দাস
বিহারের এক নর্তকীর গল্প এটি। যখন আইন তার নির্যাতন দেখে মুখ ফিরিয়ে নিল, সে ঠিক করলো প্রতিকার করবে। মূল চরিত্রে ছিলেন স্বরা ভাষ্কর।
৬. Trapped
পরিচালক: বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানি
কাহিনীটা খুবই সাধারণ। একজন মানুষ কোন খাবার, কোন পানি, কোন সাহায্য ছাড়াই একটা ফ্ল্যাটে আটকে যায়। সেখান থেকে সারভাইভ করে বেরোনোর গল্পই ট্র্যাপড। মনে হতে পারে এই প্রযুক্তির যুগে একটা ফ্ল্যাটে কেউ আটকে যায় নাকি! পরিচালক সবকিছুর সুন্দর বর্ননা দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। সিনেমা দেখে আপনি অবশ্যই বলতে বাধ্য, এমন তো হতেই পারে। নিঃসন্দেহে বছরের সবথেকে সেরা এ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার সিনেমা এটি। বিক্রমাদিত্য মোত্যয়নের দারুণ পরিচালনার পাশাপাশি ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় করেছে রাজকুমার রাও।
৫. A Death in the Gunj
পরিচালক: কঙ্কনা সেন শর্মা
কঙ্কনা সেন শর্মার পরিচালিত প্রথম সিনেমা। গল্পটা কয়েকজন তরুন তরুনীর। ৬০ দশকের কথা, ঝাড়খন্ডের এক বাগান বাড়িতে বাঙলি এক বুড়ো বুড়ি থাকেন। সেখানেই বেড়াতেই আসা ও তারপরের সাতদিনের গল্প সিনেমাটি। সেক্স, ভালোবাসা, ডিপ্রেশন, ইমোশন যেমন গল্পের মধ্যে ছিলো, তেমনি ছিল সবার দুর্দান্ত অভিনয়। সুন্দর ক্যামেরার কাজ, দারুণ সিনেমেটোগ্রাফি ও সঙ্গীতের দারুণ ব্যবহার।
৪.Poorna
পরিচালক: রাহুল বোস
২০১৪ সালে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠে সর্বকনিষ্ঠ এভারেস্ট জয়ী হিসেবে নাম লেখান ভারতের মালাভাত পুর্না। সাউথ ইন্ডিয়ার মত এলাকা থেকে দরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়া পুর্না কিভাবে এই অসাধ্য সাধন করেন তার সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই সিনেমা। এ সিনেমা নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। দারুন সিনেমা, দারুন উপস্থাপনা এবং ইন্সপায়ারেশনাল। তবে কম বাজেট এর ছাপ বেশ কিছু জায়গায় ফুটে উঠেছে, বাজেট বেশি থাকলে হয়তো আরেকটু ধার বাড়তো।
toilet-ek-prem-katha
৩. Toilet: Ek Prem Katha
পরিচালক : শ্রী নারায়ণ সিং
এটা এমন এক দম্পতির গল্প যাদের ভালাবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে টয়লেট। অক্ষয় কুমারের এই বছরটা দারণ কাটলো। শুরু হয়েছিলো জলি এল.এল.বি দিয়ে। আর টয়লেট তো তার স্থান অন্য এক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।
২. Mukti Bhawan
পরিচালক: সুভাশীষ ভূটিয়ানী
মৃত্যুর আগে বুড়ো বাবার ইচ্ছা, তিনি বিশেষ একটি জায়গায় গিয়ে মরতে চান। এটা যতটুকু ইচ্ছা তার থেকে বেশি জেদ। জীবনের শেষ স্তরে চলে যাওয়া বাবার জেদের কাছে ছেলের হার মানতেই হলো। পিতা ও পুত্র এবং পরিবার নিয়ে রওনা দিলো গন্তব্যে। দুরত্বের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে আবিষ্কার হলো অনেক কিছু। সাধারনত্বের মাঝেও অসাধারন কিছু এর সুন্দর একটি উদাহরন এ সিনেমা। পরিচালকের ক্যামেরার কাজ, গল্প বলবার ধরণটাও মনকাড়া। সাথে আদিল হুসেইন এর দুর্দান্ত অভিনয়। দারুণ এক পারিবারিক সিনেমা মুক্তি ভবন।
১. Newton
পরিচালক: অমিত মসুরকর
অস্কারের আসরে পাঠানো এ বছরের ভারতীয় সিনেমা। সিনেমার জনরাতে বলা আছে কমেডি। tumblr_owa6by4EOA1tv8z3oo1_r1_500তবে কমেডি ছাপিয়েও এটা পলিটিক্যাল স্যাটায়ার হিসেবে বেশি গ্রহণযোগ্য। সিনেমায় কাহিনী ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটিং সিস্টেম নিয়ে। কমেডির সাথে বেশ দারুণভাবে সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাতে। অভিনয়ে ছিলেন রাজকুমার রাও, পঙ্কজ ত্রিপাঠী ও অঞ্জলি পাতিল। সিনেমার গল্প সুন্দর। এর পাশাপাশি পরিচালনা ভালো, ক্যামেরার কাজ আকর্ষনীয় আর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সুন্দর। মজাদার অভিনয়ের পাশাপাশি যে নির্মম কঠিন সত্য পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছেন, তার প্রশংসা করতেই হবে। নিউটন সন্দেহাতীত এই বছরের সেরা সিনেমাগুলোর একটি।
এ ১০ সিনেমা বাদেও বেশ কিছু ভালো সিনেমা আছে এ বছরের। সিক্রেট সুপাস্টার, শাদি মে জরুর আনা, হারামখোর, জলি এলএলবি টু, মম, ব্যাংক চোর আসতে পারে এই তালিকায়। কিংবা নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দীকির মুনসুন শুটআউট এবং বাবুমশাই বন্দুকবাজ। সব মিলিয়ে সুপারস্টার নয়, গল্প কেন্দ্রীক ছবির জয় হয়েছে এ বছর।

POST YOUR COMMENTS

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লোগো ডিজাইন - অন্তর রায়

ওয়েব ডিজাইন - এইচ ২ ও

অনলাইনে চলচ্চিত্র বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন 'মুখ ও মুখোশ' । লেখা পাঠাতে ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ mukhomukhoshcinemagazine@gmail.com