snatch-5215c14f11168

গাই রিচি’র স্ন্যাচকে শক্ত হাতে পাকড়াও করেছেন জাহিদ হোসেন

 

Avi: Should I call you Bullet? Tooth?

 

Bullet Tooth Tony: You can call me Susan if it makes you happy.

 

গাই রিচির প্রথম ছবি লক, স্টক এ্যান্ড টু স্মোকিং ব্যারেলস দেখে নামজাদা মুভি ক্রিটিক রজার ইবার্ট মন্তব্য করেছিলেন “হাজারো জিন্দালাশের ভীড়ে ছবিটা ভীষণ জীবন্ত!” ব্রিটিশ পরিচালক গাই রিচির স্টাইলটাই আসলে ওরকম। তার মুভি ভয়ানক জীবন্ত। ওটাই তার সিগনেচার। অদ্ভুত ও বর্ণিল চরিত্র, উদ্ভট ও বাহারী সংলাপ (উপরের কোটেশন দ্রষ্টব্য) এবং জটিল ও প্রায় দুর্বোধ্য প্লট-এসবই গাই রিচির সিগনেচার। হাজারো ছবির ভীড়ে তাই তার ছবি ব্যতিক্রম, অনন্য ও আপন বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। ২০০০-এ মুক্তি পাওয়া রিচির দ্বিতীয় ছবি-স্ন্যাচ এর ব্যতিক্রম না।

 

স্ন্যাচে এ সবই আছে। প্রথম ছবি লক, স্টক এ্যান্ড টু স্মোকিং ব্যারেলস-এর মতো স্ন্যাচের কাহিনীও আবর্তিত ব্রিটিশ আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে। একই সমান্তরালে দুটি কাহিনী এগিয়ে গেছে স্ন্যাচে। কাহিনীর একদিকে আমরা দেখি এক চুরি যাওয়া ডায়মন্ড নিয়ে নরক গুলজার হচ্ছে, বেলজিয়াম-আমেরিকা-লন্ডনে শোরগোল জমছে খুব। তো আরেকদিকে দেখি এক স্যাডিস্টিক গ্যাংস্টারের ছায়াতলে হিমশিম খেতে থাকা অবৈধ বক্সিং প্রমোটার ও তার গোবেচারা সাগরেদের কমিকাল বেঁচে থাকা।

 

থিমের দিক দিয়ে কিংবা আইডিয়ার দিক দিয়ে দুটো ছবিই কিন্তু একই লেভেলে অবস্থান করছে। মোটাদাগে দেখতে গেলে দুটোই ক্রাইম কমেডি, দুটো কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দু ব্রিটিশ আন্ডারওয়ার্ল্ড। সংলাপ, চরিত্রায়ন, স্টাইলে মিল আছে। লক স্টকে রিচি অভিনব কায়দায় কাহিনী বলা শুরু করেছিলেন। স্ন্যাচ যেন সেই কাহিনীরই অনুবর্তন।

 

আবারো ইবার্টের দ্বারস্থ হতে হয়। স্ন্যাচ’কে কঞ্জুসের মতো চারে মাত্র দুই দেয়া ইবার্টের মতে- স্ন্যাচ পুরনো গানের পুনর্বিন্যাস ছাড়া আর কিছুই না, নতুন কিছু এখানে নেই। এখানে পুরনো গান বলতে লক, স্টক এ্যান্ড টু স্মোকিং ব্যারেলসকে বোঝাচ্ছেন ইবার্ট। কয়েকজন সমালোচক ছিলেন আরো নির্দয়। একাধারে সমালোচক, রেডিও হোস্ট ও লেকচারার এলভিস মিশেল এরকমই একজন। “রিচির সামনে এগুনো উচিত, কিন্তু তিনি পিছাচ্ছেন”- স্ন্যাচ দেখে এই-ই ছিল তার প্রতিক্রিয়া। আরো অনেকেরই কাছাকাছি অভিমত। তাদের মতে- স্ন্যাচে  সারবস্তু বলতে তেমন কিছু নেই। শুধু গাই রিচির অভিনব গল্প বলার কায়দা ছাড়া। স্ন্যাচ স্টাইলিশ ফিল্ম, এর বেশি কিছু না।

 

আসলেই কি তাই? অন্যের মুখে ঝাল না খেয়ে চলুন একটু ঘুরে আসা যাক স্ন্যাচের অলিতে-গলিতে, নিজেরাই চেখে দেখে নেই গাই রিচি কী বস্তু আমাদের জন্য রেঁধে রেখেছেন।

 

প্রথমেই ছবির কুশীলবদের সাথে একে একে পরিচিত হই। মনে আছে, ঐ যে বলেছিলাম গাই রিচির ফিল্ম মানেই বর্ণিল সব চরিত্র। নিজেই দেখে নিন-

 

  • ছবির ন্যারেটর টেকো মাথার টার্কিশ ছবির শুরুতেই তার নামের শানে নুযূল সবাইকে জানিয়ে দেয়। টার্কিশ এয়ারলাইন্সের নামে তার নামকরণ করা হয়েছে। ওই প্লেনে করে যাওয়ার সময় টার্কিশের বাপ-মা’র মোলাকাত হয়। প্লেনটা দুর্ঘটনায় পড়ে। তবে প্লেন দুর্ঘটনায় পড়লেও টার্কিশের বাপ-মা’র প্রেম গোত্তা খেয়ে উপরে উঠে। অডিয়েন্সের উদ্দেশ্যে সশব্দে একটা প্রশ্নও উত্থাপন করে বসে টার্কিশ-কয়জন মানুষের নামই বা প্লেন ক্র্যাশের নামে রাখা হয়? হাতেগোনা কজনই তো। টার্কিশ সেই হাতেগোনাদের মাঝে একজন। পেশায় সে অবৈধ বক্সিং প্রমোটার ও স্লট মেশিনের মালিক। বর্তমানে সে গ্যাংস্টার ব্রিক টপের সাথে ক্যাচালে পড়ে খুব বেড়াছেড়ার মাঝে আছে।

 

  • পেশাদার তস্কর ও জুয়াড়ি ফ্র্যাংকি ফোর ফিংগারস। বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পে ৮৬ ক্যারাট ডায়মন্ড চুরি করে ফ্র্যাংকিই আসলে খেলাটা শুরু করে। ফ্র্যাংকি স্মার্ট, বুদ্ধিমান, কাজে দক্ষ। কিন্তু ছোট্ট একটা সমস্যা আছে তার-জুয়া। জুয়া তার নেশার অন্য নাম। জুয়ার কথা শুনলেই ফ্র্যাংকি আবেগে উন্মাতাল হয়ে ওঠে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে উঠে রক্ত গরম করা তাক ধিনা তিন তিন। স্ন্যাচে ফ্র্যাংকির ভূমিকা যেমন অপরিহার্য, তেমনি জুয়ারও। ছবি দেখলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ডায়মন্ড চুরি করে ফ্র্যাংকি লন্ডনের ডায়মন্ড ডিলার ডগ দ্য হেডের সাথে দেখা করতে যায়।

snatch

  • জিপসি মুষ্টিযোদ্ধা মাইকি ও’নিল ওরফে ওয়ান পাঞ্চ মাইকি। তার নাম ওয়ান পাঞ্চ মাইকি কারণ সে এক পাঞ্চেই সবাইকে ফ্ল্যাট করে দেয়। এতটাই ক্যারিশম্যাটিক মুষ্টিযোদ্ধা সে। স্ন্যাচে আচমকাই অনুপ্রবেশ মাইকি’র। টার্কিশের সাইডকিক টমি গিয়েছিল জিপসিদের কাছ থেকে সস্তায় ক্যারাভান কিনতে। মওকা বুঝে মাইকিও তার প্রায় দুর্বোধ্য আইরিশ অ্যাকসেন্ট নিয়ে ফিল্মে ঢুকে পড়ে। তার অ্যাকসেন্ট এতটাই দুর্বোধ্য যে প্রথম দর্শনে কিংবা বলা উচিত প্রথম শ্রবণে কারো পক্ষে অর্থোদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। পরিচিত শব্দকে অবলীলায় অপরিচিত ভাবে উচ্চারিত হতে দেখে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক ভাষাটা আসলেই ইংরেজি কিনা। যেমনঃ ডগ’কে মাইকি’রা বলে ড্যাগ! ক্যারাভান কিনতে গিয়ে টমিদের ক্যাচাল বাঁধে জিপসিদের সাথে। ক্যাচাল মিটমাটের জন্য টবির সঙ্গী গর্জিয়াস জর্জ ও মাইকি বক্সিংয়ে নামে। যে জিতবে ক্যারাভান তার। বলাই বাহুল্য এক ঘুষিতে গর্জিয়াসের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয় মাইক। তার বক্সিং ক্যারিশমা দেখে টমি তাকে নিয়ে আসে পাতানো বক্সিং ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য।

 

  • এক্স-কেজিবি এজেন্ট বরিস দ্য ব্লেড ওরফে বরিস দ্য বুলেট ডজার। ধারণা করা হয় সে বুলেট ডজ করতে পারে। এজন্যই তার এমন অদ্ভুত নামকরণ। ফ্র্যাংকির ডায়মন্ডের ওপর তার লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। ডায়মন্ড চুরির জন্য সে দুজন ছিঁচকে চোর নিয়োগ করে- ভিনি ও সোল। জুয়ার আখড়ায় যখন ফ্র্যাংকি আসবে তখন তার ব্রিফকেস চুরি করাটাই হলো তাদের কাজ। ওই ব্রিফকেসের ভেতরেই আছে পরম আরাধ্য ৮৬ ক্যারেট ডায়মন্ড। ভিনি ও সোল কিন্তু জানে না ব্রিফকেসের ভেতরে কী আছে। কাজটা নির্বিঘ্নে ঘটানোর জন্য একজন অদ্ভুত কিসিমের ড্রাইভার নিয়ে আসে সোল-বিশালবপু টাইরন। ফ্র্যাংকির ব্রিফকেস চুরি করে টাইরনই ওদেরকে গাড়িতে করে ভাগিয়ে নিয়ে যাবে। এটাই ছিল প্ল্যান। কিন্তু প্ল্যান ভজকট বেঁধে যায়, তবে তারা ফ্র্যাংকি’কে কিডন্যাপ করতে সমর্থ হয়।

 

  • আমেরিকান গ্যাংস্টার/জুয়েলার আব্রাহাম ডেনোভিৎজ। ফিল্মে অবশ্য তাকে স্রেফ কাজিন এভি নামেই পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সে কার কাজিন, আদৌ তার কোন কাজিন আছে কিনা ব্যাপারটা পরিষ্কার না। ফ্র্যাংকির সাথে তার কী কানেকশন এটাও পরিষ্কার না। তবে তার পরামর্শেই ফ্র্যাংকি লন্ডনে যায় ডায়মন্ড ডিলার ডগ দ্য হেডের সাথে দেখা করার জন্য। ফ্র্যাংকিকে কাজিন এভি “বন্ধু” ভাবে। “বন্ধু” লন্ডনে গিয়ে জুয়ার নেশায় উন্মাতাল হবে, মহামূল্যবান ডায়মন্ড হারাবে এ দুশ্চিন্তায় সে আমেরিকা থেকে লন্ডন চলে আসে।

 

  • বুলেট টুথ টনি। কথিত আছে বুলেট টুথ টনিকে ছয়টা গুলি মারা হয়। সে গুলি স্বর্ণ দিয়ে গলিয়ে ফেলে সে। সেই গুলি-গলিত স্বর্ণ এখন বুলেট টুথের মাড়িতে শোভা পায়। এভাবেই তার নামকরণ। কাজিন এভি লন্ডনে এসে বুলেট টুথকে ভাড়া করে ফ্র্যাংকিকে খুঁজে বের করার জন্য।

 

  • দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার ব্রিক টপ। ব্রিক টপ শুধু দুর্ধর্ষ-ই না, স্যাডিস্টিকও বটে। ফিল্মে ব্রিক টপের লম্বা-চওড়া ডায়লগ আছে, কীভাবে ইংরেজি ফ্রেজ- As greedy as a pig কথাটা এল। কয়েক পাউন্ড মাংস কয়েক মিনিটে শেষ করে দিতে শুয়োরদের জুড়ি নেই। শুয়োরের এহেন মাংসপ্রীতি সম্বন্ধে ভালোই ওয়াকিবহাল ব্রিক টপ। তাছাড়া মৃতদেহ সাথে সাথে সরিয়ে ফেলা কিংবা গুম করে ফেলা তো অনেক ঝক্কি-ঝামেলার কাজ। ব্রিক টপ তাই লাশ সরানোর একটা এফিশিয়েন্ট মেথড বেছে নিয়েছে। পদ্ধতিটা হলো-মানুষদের মেরে কেটে কুটে শুয়োরের খাদ্য করা। যেজন্য আস্ত একটা শুয়োরের খোঁয়াড় বানিয়ে রেখেছে সে। খোঁয়াড় ছাড়াও ব্রিক টপের আছে জুয়ার আখড়া। সেই নির্ধারণ করে দেয় পাতানো ম্যাচে কে কখন হারবে। তার ইশারায় মাইকি ও’নিলের বক্সিং ম্যাচ হারার কথা। কিন্তু জিপসি মাইকি’কে তো এমনি এমনি ওয়ান পাঞ্চ মাইকি বলা হয় না। সে এক ঘুষিতেই তার প্রতিদ্বন্ধীকে কুপোকাত করে ফেলে এবং ব্রিক টপের বিরাগভাজন হয়। একটু আগে তো বিস্তারিতভাবে বলেছি, ব্রিক টপের বিরাগভাজন হওয়ার ফলাফল কী। ব্রিক টপ রাতের আঁধারে মাইকি’র ক্যারাভান পুড়িয়ে ফেলে। ক্যারাভানে তখন মাইকি’র মা ঘুমিয়ে ছিল। ক্যাচাল জমাট বাঁধে।

 

স্ন্যাচে আরো অনেক রঙ্গিলা চরিত্র আছে। শুধু মানুষই না, আছে যে কোন গোলাকার বস্তু দেখে গলাধঃকরণ করে ফেলা এক কুকুর। আছে দুর্দান্ত ডায়লগ, ডার্ক হিউমার ও মাথা নষ্ট করা সাউন্ডট্র্যাক। আছে ডায়মন্ডের পিছে ইঁদুর দৌড়ে মত্ত কিছু মানুষ, আছে যে কোন মূল্যে বক্সিং ম্যাচ পাতাতে মরিয়া এক গ্যাংস্টার। এ সবেরই যোগফল স্ন্যাচ । শেষ পর্যন্ত কী ডায়মন্ড হাতাতে সক্ষম হয় কেউ? বক্সিং ম্যাচেরই বা কী হয়? কে জেতে? কে হারে? সব উত্তরই মিলবে ফিল্ম শেষে।

 

স্ন্যাচের একটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর টোন। স্ন্যাচ গডফাদারের মত গুরুগম্ভীর গ্যাংস্টার ফিল্ম না। এ ফিল্ম হালকা মেজাজের। যে জন্য দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার, কেজিবি এজেন্ট, এক ঘুষিতে কুপোকাত করে ফেলা মুষ্টিযোদ্ধা আমাদের ভীত করে না। ভায়োলেন্স দেখে আমরা শিউরে উঠি না। গপগপ করে নরমাংস গিলে ফেলা শুয়োর দেখে আমাদের মনে ঘেন্না জাগে না। কারণ সবকিছুতেই যে এক ধরণের কমিক্যাল টোন। ঠোঁটের কোণে তাই অজান্তেই প্রসন্ন হাসি ফুটে উঠে।

 

তুলনার প্রসঙ্গ এসেই যাচ্ছে। মোটাদাগে দেখতে গেলে লক, স্টক ও স্ন্যাচ একই ধাঁচের। তবে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচার বিবেচনায় স্ন্যাচ আরো সংযত, নিয়ন্ত্রিত, ব্যাঙ্গাত্নক। ছবির পেসিংয়ের কথা বলতেই হচ্ছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই টোনে ও পেসে গল্প বলা মারাত্মক কঠিন। সে-ই কঠিন কাজটাই স্ন্যাচে অনায়াসে করে দেখিয়েছেন রিচি।

 

স্ন্যাচের রিচি আরো পরিণত, আরো অভিজ্ঞ। গল্প বলার যে অভিনব কায়দার প্রবর্তন তিনি লক, স্টকে করেছিলেন, স্ন্যাচে এসে তিনি সাধন করে ফেলেছেন পরম উৎকর্ষ। গল্প বলার স্কিলটাকেই তিনি ঘষে মেজে অন্য এক লেভেলে নিয়ে গেছেন স্ন্যাচে, যার জন্য এক মুহূর্তের জন্যও আমাদের মনে বিরক্তি আসে না।

স্ন্যাচের মাধ্যমে গাই রিচি এক নিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছেন, এক হিস্টিরিয়ার সূচনা করেছেন।

 

চলুন, ঘুরে আসি গাই রিচির হিস্টিরিক্যাল দুনিয়া থেকে। কথা দিচ্ছি, বোর হবেন না।

 

লেখক পরিচিতিঃ
জাহিদ হোসেন পেশায় একজন ব্যাংকার, কিন্তু প্যাশনের দিক দিয়ে একজন রাইটার। লিখতে ভালোবাসেন, পড়তে ভালোবাসেন, শুনতে ভালোবাসেন, দেখতে ভালোবাসেন। তার পছন্দ থ্রিলার, মিস্ট্রি, হরর, অকাল্ট, হিস্ট্রিক্যাল কন্সপিরেসি। বাতিঘর প্রকাশনী থেকে ঈশ্বরের মুখোশ ও ফিনিক্স সহ তার মোট চারটি মৌলিক উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *