suchona 1

 

মোরশেদুল ইসলামের “সূচনা” নিয়ে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

[কৈফিয়ত : ২০১৫-১৬-তে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের অধীনে আমি একটা গবেষণা করেছিলাম। শিরোনাম ছিল আমাদের চলচ্চিত্রে ’৫২-র উপস্থাপন : অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা। ২০১৮-তে গবেষণাকর্মটি ফিল্ম আর্কাইভ গ্রন্থাকারেও প্রকাশ করে। এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও অনুসিদ্ধান্তের (ফাইন্ডিংস) মধ্যে আছে- ঢাকায় এখনো ভাষা আন্দোলনকে উপজীব্য করে একটিও পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র নির্মিত না হওয়া, অল্প কিছু প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর প্রায় সবগুলোরই একবিংশ শতকে নির্মিত হওয়া, সরাসরি ও প্রসঙ্গক্রমে ভাষা আন্দোলনের উপস্থাপনের বিশ্লেষণ, উপস্থাপনের স্বল্পতার কারণ চিহ্নিতকরণ তথা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থা ও মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পে পেশাদারিত্বের অভাব প্রভৃতি। পাশাপাশি ঢাকার চলচ্চিত্রের উন্মেষ ও বিকাশে একুশের চেতনা যে অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, তাও দেখানো হয়েছে। যে সব চলচ্চিত্রে প্রসঙ্গক্রমে ভাষা আন্দোলনের উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোতে ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে ভাষা আন্দোলনের উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোরও বিস্তারিত আলোচনা করে দেখানো হয়েছে। এবং এটাই ঢাকার চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য নিরূপণের ও উপস্থাপনের স্বরূপ চিহ্নিতকরণের প্রথম ব্যাপকতর ও পরিকল্পিত প্রয়াস। এর আগে এ বিষয়ে হাতে গোনা কয়েকটি প্রবন্ধ লেখা হয়েছিল কেবল।

কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মোরশেদুল ইসলামের সূচনা (১৯৮৮) চলচ্চিত্রটিতে ভাষা আন্দোলনের উপস্থাপনের বিশ্লেষণ বিপুল কলেবরের এই গবেষণা থেকে বাদ পরে গেছে। গবেষণা ও গ্রন্থাকারে প্রকাশ মিলিয়ে টানা প্রায় দুই বছর এই বিষয়ে কাজ করলেও দুর্ভাগ্যক্রমে, ব্যক্তিগতভাবে আমার অত্যন্ত প্রিয় এই পরিচালকের চলচ্চিত্রটির কথা আমার নিজেরও মনে পড়েনি, তত্ত্বাবধায়ক-শুভাকাঙ্ক্ষী-পরামর্শদাতাদের কারোও আমাকে মনে করিয়ে দেয়ার কথা মনে পড়েনি। এই  ত্রুটির কথা আমি নতমস্তকে স্বীকার করছি। এই রইল প্রেক্ষিত বিশ্লেষণসহ সূচনায় ভাষা আন্দোলনের উপস্থাপনের বিস্তারিত আলোচনা।]

 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হলে, বাংলাদেশে স্বৈরশাসনের কালো অধ্যায় শুরু হয়। এরশাদের শাসনামলে মূলত ছাত্রদের হাত ধরে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে এই আন্দোলন বাড়তে থাকে এবং দশকের শেষ দিকে এসে তীব্রতর হয়ে ওঠে। সেই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সামরিক শাসক এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয় এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন ঘটে।

এই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, সেই সময়ে তখনকার তরুণ নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেন দীর্ঘ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সূচনা। এক ঘণ্টার একটু বেশি দৈর্ঘ্যের (৬৫ মিনিট) এই চলচ্চিত্রটিতে মূলত স্বৈরশাসনের ছায়াতলে স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্থান এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক স্বৈরশাসকদের সঙ্গে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের প্রকৃতিগত সাদৃশ্য বিষয়ক বক্তব্য বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম যে মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার শ্রেণি বৈষম্যের অবসান, তথা জমিদার-মহাজন প্রভৃতি ধনিক শ্রেণির শোষণের হাত থেকে আপামর সাধারণ জনতার মুক্তি, সেই বক্তব্যও ব্যক্ত হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রটিতে ছাত্র-জনতার দাবিকে উপেক্ষা করে সমসাময়িক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আপোষকামিতারও বিরোধিতা করা হয়েছে।

সূচনার কেন্দ্রীয় চরিত্র আক্কেল। তার বাড়ি সোনাকান্দি গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা-মা ও বোনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি তার চোখের সামনেই নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যা করে। পরে গ্রামের মহাজনের কাছে সে বড় হয়। মহাজন তাকে বড় করলেও, আদতে সে মোটেই ইতিবাচক চরিত্র নয়। সে মূলত আক্কেলকে তার ভৃত্যের মতো করেই বড় করে। তাকে দিয়ে বাড়ির সব কাজ তো বটেই, এমনকি তাকে নিজের লাঠিয়াল বাহিনিরও সদস্য করে নেয়। পরে আক্কেল তার বাপ-মার ভিটার অধিকার দাবি করলে, তাকে ধান চুরির অপবাদ দিয়ে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়।

suchona 2এরপর আক্কেল শহরে চলে আসে। সেখানে সে জীবিকার তাগিদে নানা কাজ করে- মাটি কাটে, জোগালির কাজ করে, ইট ভাঙে। একবার সে এমনি কোনো এক কাজ করছিল এক নির্মাণাধীন ভবনে। চলচ্চিত্রটিতে সোনাকান্দির মহাজন যেমন গ্রামীণ ধনিক শোষক শ্রেণির প্রতিভূ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তেমনি নাগরিক শোষক শ্রেণির প্রতিভূ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয় ওখানকার বড়সাহেব। এক শ্রমিক ভবনের নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে উপর থেকে পরে গিয়ে মারা যায়। তখন খবর পেয়ে এসে বড়সাহেব তার দায়িত্ব পালন করেন শ্রমিকের স্ত্রীকে স্রেফ শখানেক টাকা দিয়ে। আর পুলিশকে বলে দেন পোস্টমর্টেম করে লাশ তাড়াতাড়ি হ্যান্ডওভার করে দিতে।

সম্ভবত সমকালিন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই পরিচালক কেবল এই দুই চরিত্রকেই সূচনার মূল অ্যান্টাগোনিস্ট বা নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সাথে তিনি যে আরো একটি পক্ষ বা শক্তিকেও এই দলে রাখতে চেয়েছেন, তার পরিষ্কার ইঙ্গিত আছে চলচ্চিত্রটির বেশ কয়েক জায়গায়। চলচ্চিত্রটিতে তিনি প্রায়ই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নানা স্থিরচিত্র ব্যবহার করেছেন। পিঠে গণতন্ত্র মুক্তি পাক লেখা নূর হোসেনের বিখ্যাত স্থিরচিত্রটিও ব্যবহার করেছেন। এই স্থিরচিত্রগুলোর সাথে প্রায়ই জুড়ে দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনির বর্বরতার নানা স্থিরচিত্র। আর সবচেয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিতটি আছে একদম শেষে, চলচ্চিত্রটির চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সে। নিজের সঙ্গে নানা বোঝাপড়া শেষে আক্কেল যখন আবার গ্রামে ফিরে আসে, তখন।

গ্রামে ঢোকার পথেই আক্কেল মহাজনের বাড়ি থেকে আনুর আর্তনাদ ও তাকে বাঁচানোর জন্য আর্তি শুনতে পায়। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখতে পায়, মহাজন আনুকে ধর্ষণ করতে উদ্যত। এরই মধ্যে শহরে আক্কেলের মধ্যে নানা পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল। ছাত্রনেতাদের সাথে থেকে সে প্রতিবাদ করা শিখেছে। অন্যদিকে আনুকে সে বরাবরই বেশ পছন্দ করে। সেই পছন্দটাকে প্রেমই বলা উচিত। সব মিলিয়ে এই দৃশ্য আক্কেলের মধ্যে একটি চূড়ান্ত বদল বা উদ্বোধন ঘটায়। আজীবন যে আক্কেল মহাজনের সকল অন্যায়-অত্যাচার নিরবে মুখ বুজে সয়ে এসেছিল, সে এবার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এবং সে যে এই প্রতিরোধ করতে পারে, তার কারণ সে এবার শত্রুকে চিনতে পেরেছে। আর স্বৈরশাসকদের প্রকৃতিগত সাদৃশ্যের সবচেয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিতটি এই শত্রু চিনতে পারার প্রতীকী সিকোয়েন্সেই। পরপর কতগুলো দৃশ্য জুড়ে দিয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি যেমন বাংলার সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছিল, এবং ফলশ্রুতিতে বাংলার মানুষ তাদের প্রতিরোধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল, নিজেদের দেশে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, তেমনি সমসাময়িক কালে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে গ্রামের-নগরের শোষক ধনিক শ্রেণি এবং ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে। স্বৈরশাসকের প্রতিনিধি বা প্রতীক হয়ে সেখানে দেখা দেয় মিছিলে আক্রমণ করে আক্কেলকে প্রহার করা পেটোয়া পুলিশ বাহিনির এক সদস্যকে। এবং এই প্রতিরোধ যে চূড়ান্ত প্রতিরোধ হতে হবে, তাও আখ্যানের সমাপ্তিতে প্রতীকীভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, যখন আক্কেল দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে, মহাজনেরই রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করে মহাজনকে হত্যা করে এবং আনুকে নিয়ে নতুন জীবনের পথে যাত্রা শুরু করে।

suchona 4

চলচ্চিত্রটিতে ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে আক্কেল যখন ঢাকা আসে, তারপরেই। গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পর দেখানো হয়, আক্কেল একটি শহরে এসেছে। প্রথমে কিছু ছোট ছোট সিকোয়েন্স ও শটের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় যে শহরটি রাজধানী ঢাকা। তারপরই একুশের গানের সাথে শুরু হয় প্রভাতফেরি। প্রভাতফেরির গান শুনে হাই কোর্টের সামনে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা আক্কেলের ঘুম ভাঙে। তারপর সে দুচোখে কৌতূহল নিয়ে দেখতে থাকে প্রভাতফেরি, শহিদ মিনার, শহিদ মিনারে দলবেঁধে মানুষের ফুল দিতে যাওয়া ইত্যাদি। সে কিন্তু এগুলোর কিছুই বুঝতে পারে না; কারণ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সে জানে না। সাহস করে একজন ভদ্রলোককে (একজন ছাত্রনেতা) সে জিজ্ঞেস করেই বসে। তার কাছ থেকেই সে, এবং দর্শকও, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের একটা সংক্ষিপ্ত বয়ান শুনতে পায়, শোনো, এটা হচ্ছে শহিদ মিনার। … অনেক দিন আগে, ১৯৫২ সালে, এখানে ছাত্ররা বাংলা ভাষার জন্য মিছিল করেছিল। তো পাকিস্তানি গভর্নমেন্ট সেই মিছিলের উপর গুলি চালায়। সেই গুলিতে বহু লোক মারা যায়। … এই গল্প শুনে আক্কেল এক নতুন জাগরিত বিস্ময়-মাখা দৃষ্টিতে শহিদ মিনারের দিকে তাকায়। অস্ফুটে উচ্চারণ করে, শহিদ মিনার। তারপর সে শহিদ দিবস পালনের অংশ হিসেবে প্রদর্শিত প্রতিবাদী চিত্রকর্মগুলো দেখে। একটি ব্যঙ্গচিত্র দেখে আশেপাশের সবাইকে চমকে দিয়ে হা হা করে হেসেও ওঠে।

suchona 3সূচনায় প্রভাতফেরি, শহিদ মিনার প্রভৃতি তথা শহিদ দিবস পালনের যে চলচ্চিত্রায়ন করা হয়েছে, তার অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত, স্বৈরাচারি শাসনামলে, যখন ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে একরকম অস্বীকারের প্রবৃত্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে জারি ছিল, শহিদ দিবস পালনের বিস্তারিত চলচ্চিত্রায়ন তার এক ভীষণ কৌশলী বিরুদ্ধাচরণ। দ্বিতীয়ত, এই চলচ্চিত্রায়ন আশির দশকে শহিদ দিবস পালনের এক গুরুত্বপূর্ণ চালচ্চিত্রিক দলিল। তৃতীয়ত, আশির দশকের শুরুতে শহিদ মিনার সম্প্রসারণের যে কাজ করা হয়, ১৯৮৪-তে শেষ হয়, এই উপস্থাপন সেই সম্প্রসারিত শহিদ মিনারের সমসাময়িক এক প্রামাণ্য চিত্র ধারণ করে রেখেছে।

উপরের তিনটি তাৎপর্যের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখেও চতুর্থ তাৎপর্যটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। অন্য যে সকল চলচ্চিত্রে প্রসঙ্গক্রমে ভাষা আন্দোলনের উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোতে মোটা দাগে এই প্রসঙ্গ এসেছে মুক্তিযুদ্ধের উৎসারক আন্দোলন হিসেবে। অর্থাৎ সেগুলোতে মূলত ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উপস্থাপিত হয়েছে। চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও একই বক্তব্য প্রযোজ্য; বেশিরভাগ চলচ্চিত্রেই মুক্তিযুদ্ধের কিছু ঐতিহাসিক সত্য এবং কিছু কিংবদন্তির উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বা মর্মবাণীর উপস্থাপন সেই তুলনায় বিরল। ’৫২ থেকে ’৭১ পর্যন্ত বাঙালির যে পর্যায়ক্রমিক আন্দোলন-সংগ্রাম, সেগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলায় বিদ্যমান বিপুল শ্রেণি বৈষম্য হ্রাস করার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন ও শোষক শ্রেণির হাত থেকে আপামর বাঙালির মুক্তি। যুদ্ধবিধ্বস্ত অস্থিতিশীল বাংলাদেশে এই বৈষম্য হ্রাস কঠিন হলেও, নিতান্ত অসম্ভব ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে, দেশে সামরিক স্বৈরশাসন শুরু হয়ে যায় এবং বৈষম্য হ্রাসের সকল সাময়িক সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। সেই স্বৈরশাসন ধারাবাহিকভাবে চলে আশির দশকের শেষ পর্যন্ত। সেই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে, আশির দশকের শেষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং স্বাধীনতাবিরোধী ও স্বাধীনতার চেতনার বা মর্মবাণীর বিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধাচরণ করেই মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেন সূচনা। আর সেই দীর্ঘ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে, রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে মুক্তিযুদ্ধকে বড় পরিসরে উপস্থাপন করতে না পারলেও, দীর্ঘ উপস্থাপন করেন ভাষা আন্দোলনের অনুষঙ্গগুলোর-শহিদ মিনার, প্রভাতফেরি, প্রতিবাদী চিত্রপ্রদর্শনীসমেত শহিদ দিবস পালনের। সঙ্গে সংক্ষেপে অল্প কয়েকটা সংলাপের মাধ্যমে ব্যক্ত করেন শহিদ দিবসের ইতিহাস। অর্থাৎ এই উপস্থাপন মূলত বাঙালির অর্থনৈতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির যে চেতনা তাদের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ বলিদানের দৃপ্ত শপথে বলীয়ান করে তুলেছিল, তারই সপক্ষের সাক্ষ্য।

 

 

লেখক পরিচিতি :

লেখক ও চলচ্চিত্র গবেষক। পারিবারিক নাম নাবীল আল জাহান। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। পেশায় সাংবাদিক।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *