tehrantaboo01

চেনা ইরানের বাইরে এক অজানা ইরানের ছবি তুলে ধরেছে চলচ্চিত্র তেহরান ট্যাবু। সেই ট্যাবু ভাঙতে বসেছেন হাসান মাহবুব

 

 

আমি জানি আপনি ইরানি চলচ্চিত্র পছন্দ করেন। পছন্দ না করে উপায় কী! তাদের কাহিনী, নির্মাণ, অভিনয় সবই তো বিশ্বমানের। ইরান যে বিশ্ব চলচ্চিত্রের পাওয়ারহাউজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এটা বেশ বিস্ময়ের! এত এত সীমাবদ্ধতা এত এত চোখ রাঙানির পরেও সে দেশে প্রতিবছর অসাধারণ সব চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে, বিশ্ব চলচ্চিত্রের ক্ল্যাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অবাক করা ব্যাপার আসলেই! আমরা দেখেছি চিলড্রেন অফ হেভেনে ভাই-বোনের সম্পর্কের মর্মস্পর্শী বিবরণ, আমরা দেখেছি কালার অফ প্যারাডাইসে অন্ধ ছেলের চোখে পৃথিবীর রঙ, আমরা দেখেছি সং অফ স্প্যারোতে একজন বাবার বর্ণাঢ্য জীবন সংগ্রাম, দেখেছি টেস্ট অফ চেরিতে বিষণ্ণ একজন মানুষের নীরব প্রয়ান। ক্লাসিক ছবির তালিকাটা বড় দীর্ঘ! কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখেছেন ইরানি ছবিতে আপনি প্রেমিক প্রেমিকাদের দেখেন কি না! আমার তো মনে পড়ে না! প্রেম নিয়ে একটা সিনেমাই দেখেছি, ‘বারান’। তাও আবার সেখানে প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ‘প্রেম’টা ঠিক হয় না। তারা দূরে দূরেই থেকে ছহি উপায়ে ভালোবাসে একে অপরকে। এরকম কেন হয়? কারণটা আপনি এবং আমি ভালো করেই জানি। ইরানে এসব দেখানো অনুমোদিত না। সেখানকার চলচ্চিত্রকারদের হাত পা বেঁধে দেয়া থাকে অনেক ক্ষেত্রে। তাই ইরানি ছবিতে কখনও প্রেমিক মেলে না প্রেমিকার সাথে, চুম্বন করে না একে অপরকে, কেউ মদ্যপান করে না। কারণ এগুলো হারাম। ইরানি ছবি সবাই পছন্দ করে, ক্রিটিক থেকে মোল্লা সকলেই। কারণ ইরানি ছবির কন্টেন্ট ভালো এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতে পারেন। কিন্তু ইরানের নাগরিকেরা কি এমন কিছু করে না, যা আপনাকে চুপিচুপি দেখতে হবে, মুরুব্বীরা এলে না দেখার ভান করে অন্য কাজে ব্যস্ত হতে হবে? না করার কোনো কারণ নেই। এই অদেখা, অজানা, নিষিদ্ধ ইরানের চলচ্চিত্ররূপ হলো তেহরান ট্যাবু।

 

এখানে বলে রাখা ভালো, এটা ইরানের কাহিনী হলেও প্রোডাকশন ইরানের না। তা সম্ভবও না। ছবিটি নির্মাণ হয়েছে জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া থেকে। পরিচালক এবং কলাকুশলীরা অবশ্য ইরানি। আরেকটি কথা, ছবিটি কিন্তু অ্যানিমেটেড। হতাশ হলেন? হতাশ হবার কিছু নেই। অন্যরকম স্বাদ পাবেন। আর এটা কিন্তু সাধারণ অ্যানিমেশন না। এটি করা হয়েছে ‘রোটোস্কোপ’ পদ্ধতিতে। ফলে সাধারণ অ্যানিমেশনের চেয়ে এটি অনেক বেশি বাস্তব এবং শিল্পগুণসম্মত লাগবে।

 

সিনেমাতে তিনটি সমান্তরাল গল্প বলা হয়েছে। প্রথম গল্পটি পারি নামের একজন নারী এবং তার নির্বাক পুত্রের। পারির স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে জেলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। সহসা যে মুক্তি পাবে সে সম্ভাবনা নেই। তাই নারীটি ডিভোর্স চায়। কিন্তু মাদকাসক্ত স্বামী জেলে সারাজীবন পচলেও তার স্ত্রীকে স্বাধীন জীবনযাপন করতে দেবে না। ইরানের নিয়ম অনুসারে স্বামীর স্বাক্ষর ছাড়া ডিভোর্স নেয়াও সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে তাকে পেট চালাতে পতিতাবৃত্তি করতে হয়।

 

দ্বিতীয় গল্পের চরিত্র ডোনিয়া এবং তার অ্যাক্সিডেন্টাল বয়ফ্রেন্ড বাবাক। একটি নাইটক্লাবে তাদের হঠাৎ দেখা হয়ে যায় (জ্বী, ইরানেও নাইটক্লাব আছে এবং সেখানে আপনার চাহিদামত সবই পাবেন), তারা একসাথে নাচে, ড্রাগস নেয় এবং শারীরিকভাবে মিলিত হয়।

 

তৃতীয় গল্পে আছে একটি ধনাঢ্য পরিবারের লক্ষ্মী স্ত্রী সারা এবং তার স্বামীর পরিবার। সারার আগে দুটো “মিসক্যারিজ” হওয়ার পর সে আবারও সন্তানসম্ভবা হয়েছে। এজন্যে তারা একইসাথে আনন্দিত এবং সতর্ক।

 

সিনেমার শুরুতেই দেখা যায় তেহরানের রাস্তায় পারি তার ছেলেকে নিয়া দাঁড়িয়ে আছে রোজগারের আশায়। গাড়ি করে ধর্মপ্রাণ ভদ্রলোকেরা যাচ্ছেন, হয়তো বাড়িতে, হয়তো মসজিদে। তাদেরকে ক্ষণিক আনন্দ দিলে, বিনিময়ে সে একবেলা খেতে পারবে। পারিকে বেছে নিলো একজন পড়ন্ত বয়সের লোক। পারি তার ছেলেকে নিয়ে উঠে পড়লো গাড়িতে। কিন্তু পারি যত টাকা চাচ্ছে,তত টাকা আবার বুড়ো দিতে পারবে না। তাই শেষ পর্যন্ত ঐ টাকায় পারি তাকে মুখমেহন করতে সম্মত হলো। ছেলেকে একটি চুইংগাম দিয়ে পেছনের সিটে বসিয়ে রেখে সামনে বুড়োর কাছে যেয়ে তাকে সুখ দিতে থাকলো। কী একটা দমবন্ধ করা পরিস্থিতি না? এর মধ্যে আবার বুড়ো দেখলো যে তার কন্যা কোনো এক যুবকের সাথে হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে ফুটপাথ ধরে। দেখে গেলো তার মাথা গরম হয়ে! এই অনাচার সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলো না! শুরু করলো অভিসম্পাত আর হুমকি ধামকি। জ্বী, দর্শক তেহরানের এমন রূপ সামনে আরো দেখতে পাবেন আপনি এই ছবিতে। এটা তো কেবল শুরু!

সিনেমার মূল চরিত্র পারি। অন্য চরিত্রগুলোর সাথে সেতুবন্ধনে সেই অগ্রণী ভূমিকা রাখে। চরিত্রটি বেশ এনগেজিং। এই বিষণ্ণ এবং ধূসর শহরের দৃশ্যপটে তার চপল চলাফেরা, ভয়-ডরহীন কথাবার্তা এবং আচরণ কিছুটা রিলিফ দিবে। পারির জীবনদর্শনটা গুরুত্বপূর্ণ। তার জীবিকা অসম্মানজনক এবং হীন। কিন্তু এ নিয়ে সে হতাশ হতে চায় না। তার এই ভয়াবহ জীবনযাপনের জন্যে তাকে খুব বেশি দায় দেয়া যায় না। যেখানে বছরের পর বছর মাদকাসক্ত স্বামী জেলে থাকার পরেও তার থেকে মুক্তি মেলে না, ওদিকে রাষ্ট্র তার দায়ভারও নেবে না, উলটো তাকে সতী হয়ে জীবনযাপন করার জন্যে চোখ রাঙাবে, সেই সিস্টেমকে সে থোরাই  কেয়ার করে! ডিভোর্স পেপারে সই না দেয়ায় সে স্বামীর কাছে নিজেকে বর্গা রাখবে কেন? এরে চেয়ে বিচারকের রক্ষিতা হয়ে থাকলে থাকার জায়গা আর মাসোহারা পাওয়া যাবে, সেই তো ভালো! ছেলেটাকে মানুষ করতে হবে না? ছেলেটা আবার কথা না বলতে পারলেও শুনতে পারে। তাই সে তো ভালো একটা স্কুলে ভর্তি হতেই পারে। পারি পৃথিবীর অন্য সব মায়ের মতই তার সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। নিজের সকল অসম্মান সয়ে যায় সন্তানের জন্যে। মন খারাপ হলে সে নিজের ঘরে বসে মদ্যপান করে, ট্যাক্সিচালক অশ্লীল আচরণ করলে কাঁটা দিয়ে তার ব্যাকসিটে লিখে দেয় ‘মাদারফাকার’।

 

দ্বিতীয় গল্পের চরিত্র দুটি, ডোনিয়া এবং বাবাক। তাদের ঘটনাটা বেশ জটিল। নাইটক্লাবের সেই উন্মাতাল সঙ্গম তাদের জীবনে ভজকট এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ডোনিয়ার আর কদিন পর বিয়ে হবে। ইরানে আবার কনে যদি কুমারী না হয়, তাহলে বিপদ আছে। সঙ্গমের সময় যদি রক্তপাত না হয়, যদি সতীচ্ছদ পর্দা না ছেড়ে, তাহলে ধরেই নেয়া হবে মেয়েটি অসতী। ডোনিয়া তো আর কুমারী নেই, এখন উপায়? ডোনিয়ার হবু স্বামীটি কিন্তু মানুষ মোটেও ভেতো বাঙালী মানে ইরানি নয়, বিশালদেহী এক গুণ্ডা। সে যদি জানতে পারে যে বাবাকের কাছেই ডোনিয়ার সতীত্ব নষ্ট হয়েছে, তাহলে সে দুজনের কাউকেই ছাড়বে না। এর কী কোন সমাধান সম্ভব? জ্বী, এরও সমাধান আছে। একটি সমাজ যত আবদ্ধ, সেখানে নিয়ম ভাঙার নিয়মও তত বেশি। চীন থেকে আমদানীকৃত নকল হাইমেন লাগিয়ে দিলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু এর জন্যে যে অপারেশন করতে হবে, তাতে লেগে যাবে অনেক টাকা। সে টাকা বাবাককেই যোগাড় করে দিতে হবে বলে ডোনিয়া চাপ দিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। বাবাক হলো একজন স্ট্রাগলিং মিউজিশিয়ান। খুব চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজের ক্যারিয়ারটাকে ঠিকঠাক করার। কিন্তু সুযোগ পাচ্ছে না। এত টাকা সে কোথায় পাবে? স্থায়ী কোন ইনকামের বন্দোবস্ত না থাকলে এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি না থাকলে ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া যায় না।

 

এদিকে পারি যে এপার্টমেন্টে উঠেছে, সেখানে থাকে সিনেমাটির তৃতীয় গল্পের চরিত্ররা। সন্তানসম্ভবা সারা, তার ব্যাংকার স্বামী, ডায়াবেটিস আক্রান্ত শ্বশুর (যে সারাক্ষণ বসে বসে টিভি দেখে আর মিষ্টি খাওয়ার মওকা খোঁজে, অ্যাডাল্ট চ্যানেল যার খুবই প্রিয়) আর শাশুড়ি। সারা শিক্ষিত এবং সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়ে হলেও তার সাথে কি পারির খুব বেশি পার্থক্য আছে? পারির শরীর চুষে খায় চরিত্রহীন পুরুষেরা আর সারার জীবনের সব আশা আকাঙ্ক্ষা ঠুকড়ে মরে শ্বশুরবাড়ির চার দেয়ালের কারাগারে। তার বাইরে কাজ করার অনুমতি নেই, তার কোনো বন্ধু নেই, সে নিজের ইচ্ছায় গর্ভধারণ করতে পারে না। সারার মুখে আপনি কখনও হাসি দেখবেন না। সারাদের মুখে হাসি থাকে না। তারা অন্যদের মুখে হাসি ফোটানোকেই জীবনের সার্থকতা মনে করে।

teh

 

তাই পারির সাথে পরিচয় হলে সারা যে পারির বেপরোয়া মনোভাবের প্রতি আকৃষ্ট হবে, তার সাথে এক ঘরে দুটো সুখ-দুঃখের আলাপ, একটু দুষ্টুমী করবে, এ আর এমন কী! কিন্তু ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত আর সামান্য থাকলো না। এই সিনেমার প্রতিটি গল্পের পরিণতিই ট্র্যাজিক, খুব মন খারাপ করা। সেটা আর ভাঙছি না।

 

একটা দেশ কেমন আছে, এর উত্তর পাওয়া যায় সে দেশের নারীদের প্রতি কেমন আচরণ করা হয় তা দেখলে। ইরানের নারীরা ভালো নেই। ভালো থাকার কথা নয় দেশটিরও। ইরান যে ভালো নেই, এটাই সেই সিনেমার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করেন, তিনি অত্যন্ত সৎ, ইরান একটি ছহি ইসলামী রাষ্ট্র, এসব নিয়ে অনেকেই আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু যারা এসব নিয়ম বানায়, তারাই সবচেয়ে বেশি নিয়ম ভাঙে। তাদের এক স্ত্রীতে হয় না, রক্ষিতা লাগে। স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হলে যেতে হয় পতিতার কাছে। এখানে হাত ধরে তরুণ-তরুণী হেঁটে যেতে পারে না, এখানে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফাঁসি দেয়া হয় পলিটিকাল প্রিজনারদের। মানুষ যে এসব থেকে বাঁচতে মাদকের কাছেই আশ্রয় খুঁজবে তাতে আর বিস্ময়ের কী আছে?

 

এই সিনেমার পরিচালক আলি সোজানদেহ বলেছেন, “আমি যা দেখাতে চেয়েছি, তা ইরানে শুট করা সম্ভব ছিলো না। চাইলেই মরক্কো বা জর্ডানে করা যেতো, কিন্তু তাতে কি আর সত্যিকারের তেহরানের দেখা মিলবে? প্রতিটি শহরের একটি নিজস্ব শব্দ আছে, সুর আছে, রং আছে। অন্য শহরে তা পাওয়া যাবে না। তাই রোটোস্কোপ এ্যানিমেশনেই বানিয়ে ফেললাম ছবিটি”।

 

তেহরান ট্যাবু এ্যানিমেটেড সিনেমা হলেও এর নান্দনিক উৎকর্ষতা এবং সিনেমাটিক এ্যাপিল আপনাকে মুগ্ধ করবে। পুরো সিনেমাটিতে চরিত্রগুলোর জীবনের পালাবদল দেখতে পাই একজন ফটোগ্রাফারের ছবি তোলার সময় পেছনের পর্দার রং পাল্টানোর মাধ্যমে।

 

-কীজন্যে ছবি তুলতে এসেছেন?

-বিয়ে করবো বলে

-ঠিক আছে আমি একটা উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ড দেই।

 

-কীজন্যে ছবি তুলতে এসেছেন?

-পাসপোর্টের জন্যে।

-তাহলে একটু ধূসর ব্যাকগ্রাউন্ড দেই।

 

-কীজন্যে ছবি তুলতে এসেছেন?

-কোর্টের জন্যে।

-তাহলে কালো ব্যাকগ্রাউন্ড লাগবে।

 

এভাবে জীবনের পর্দা নামে, পর্দা ওঠে, ধূসর শহরে জমতে থাকে বিষণ্ণতার বিষবাষ্প। বর্তমান ইরানের মর্মবেদনা বুঝতে হলে তেহরান ট্যাবু অবশ্যই দেখতে হবে।

 

 

 

লেখক পরিচিতি :

 

হাসান মাহবুব পড়েছেন ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে, কুয়েট থেকে। কিন্তু তার পেশা, নেশা কোনোটাতেই ইঞ্জিনিয়ারিং নেই। এখন কাজ করছেন অন্যরকম ইলেক্ট্রনিক্সে ছোটদের সায়েন্স কিট “বিজ্ঞানবাক্স” নিয়ে। তবে এই কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখা, বই পড়া এবং খেলা দেখাকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা হলে মিস দেন না। ফুটবলে বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনা অন্তঃপ্রাণ। এক্সট্রিম সিনেমার প্রতি ফ্যাসিনেটেড। প্রিয় পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক, ফেলিনি, সত্যজিৎ রায়, মিখেল হ্যানেকে, মার্টিন স্করসেসি, অনুরাগ কাশ্যপ। পছন্দের জনরা- এক্সট্রিম হরর, সাইকোলজিকাল থ্রিলার এবং উদ্ভট যেকোন কিছু।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *