dracula-57c900f4c7380v1-1050x1248

ব্রাম স্টোকারের অমর সৃষ্টি ড্রাকুলার জন্ম ও সেলুলয়েড জীবন নিয়ে লিখেছেন স্নিগ্ধ রহমান

 

পশ্চিমা দেশগুলোতে অক্টোবর মাস এলে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। নোবেল পুরস্কারের জন্য নয়, হ্যালোউইনের জন্য। এই যেমন খুশী তেমন সাজো’র উৎসবে শত বছর পরেও হরদম যে চরিত্রটির দেখা মেলে, তা হলো কাউন্ট ড্রাকুলা। ব্রাম স্টোকারের হরর উপন্যাস “ড্রাকুলা”-এর মূল চরিত্র এই নিশাচর ভদ্রলোক। স্টোকারের ড্রাকুলা ভ্যাম্পায়ার ফিকশন ঘরানাকে জনপ্রিয় করে। যার ফলে টুয়ালাইট, ট্রু ব্লাড, হোটেল ট্রান্সসিলভ্যানিয়া দেখতে হচ্ছে দর্শকদের।

 

ড্রাকুলার স্রষ্টা ব্রাম স্টোকারের জন্ম আয়ারল্যান্ডে। ছোটবেলায় স্টোকার অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। ঠিক মতো হাঁটতে পারতেন না। তার সময় কাটতো ঘরে বসে মায়ের কাছে বিচিত্র সব গল্প শুনে। পরে অবশ্য তার শারীরিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ট্রিনিটি কলেজে স্নাতক করার সময় তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা অ্যাথলেট। পাস করার পর স্টোকার “ডাবলিন ইভনিং মেইল”-এ নাট্যসমালোচনা লিখতে শুরু করেন। এই পত্রিকার মালিক ছিলেন জেমস শেরিডান লা ফানু। যার লেখা “Carmilla” ড্রাকুলার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া স্টোকারের লেখায় জন পলিডোরির “The Vampyre”-এর ছায়া পাওয়া যায়। পলিডোরি ছিলেন ইংরেজ কবি বায়রনের চিকিৎসক। Dtky2CZW4AEhN_S১৮১৬-তে সস্ত্রীক জেনেভা বেড়াতে গিয়েছিলেন বায়রন, সঙ্গে ডাক্তার পলিডোরি। তাদের সাথে এসে যোগ দেন শেলী দম্পতি। একবার টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে মুখে মুখে ভুতুড়ে গল্প বানানোর খেলায় মেতে ওঠেন তারা। যার ফলে, পলিডোরি জেনেভাতে বসেই দ্য ভ্যাম্পায়ার লেখেন আর সেই অবকাশ শেষে মেরী শেলী লিখতে শুরু করেন ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন।

স্টোকারের ড্রাকুলা লেখার পেছনে আরেকটি কারণ সম্ভবত নাট্যকার অস্কার ওয়াইল্ড। ডাবলিনের এক আড্ডায় স্টোকারের পরিচয় হয় ডাকসাইটে সুন্দরী ফ্লোরেন্স ব্যালকোম্বের সাথে। অস্কার তখন ফ্লোরেন্সের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। কিন্তু ফ্লোরেন্স গিয়ে মালা পড়ালেন স্টোকারের গলায় (এই ফ্লোরেন্স নামটি মনে রাখুন। তার প্রসঙ্গ ফের আসবে)। ভগ্নহৃদয় অস্কার প্রথমে বেশ ক্ষেপে গিয়েছিলেন, পরে স্টোকার তার সাথে মিটমাট করে নেন। এই অস্কারের বিরুদ্ধে ১৮৯৫ সালে সমকামীতার অভিযোগ ওঠে। আদালতের রায়ে অস্কার দু বছর জেল-ও খাটেন। সেই মামলাকান্ডের হপ্তাখানেক পরে স্টোকার ড্রাকুলা লেখায় হাত দেন। সমালোচকদের মতে, অস্কারের ঘটনায় স্টোকার প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে ড্রাকুলা উপন্যাসে এমন “হোমোএরোটিক” আবহ পাওয়া যায়।

 

ব্রাম স্টোকার তার উপন্যাসে ড্রাকুলার নিবাস হিসেবে ট্রান্সসিলভানিয়ার কথা লিখেছেন। এটি বর্তমানে রোমানিয়ার অন্তর্ভুক্ত। যদিও এখন ড্রাকুলা আর ভ্যাম্পায়ার সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় ড্রাকুলা নামে একজন সত্যিকারের মানুষের অস্তিত্ব আছে। স্টোকার তার মূল চরিত্রের নামকরণ করেছিলেন রোমানিয়ান শাসক ভ্লাদ ড্রাকুলার নামানুসারে। স্লোভাক ভাষায় ড্রাকুলা শব্দটির অর্থ হলো ড্রাগনের সন্তান। ওসমানী সাম্রাজ্যর বিস্তার ঠেকাতে রোমান সম্রাট গঠন করেছিলেন অর্ডার অফ দ্য ড্রাগন। ভ্লাদের বাবা সেই সংগঠনে যোগদান করায় তাকে ডাকা হতো ড্রাগন নামে। আর তাই তার সন্তান ভ্লাদ বনে যান ড্রাগনের সন্তান বা ড্রাকুলা।

 

রাজনৈতিক বশ্যতার অংশ হিসেবে ড্রাকুলা থাকতেন তুরস্কে। ড্রাকুলা সেখানে তুর্কী ভাষা ও অত্যাচার করার তুর্কী তরিকা রপ্ত করেন। এ দুটো বিদ্যেই পরবর্তীতে Vlad_Tepes_002তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন। ড্রাকুলা একসময় রোমানিয়ায় ফিরে ওয়ালাহিয়ার শাসকের পদে বসেন। ততদিনে কন্সট্যান্টিনোপলের পতন ঘটেছে, মসনদে তখন দ্বিতীয় মেহমেত (সুলতান মেহমেতের এই বিজয় নিয়ে নির্মিত হয়েছে তুর্কী চলচ্চিত্র “ফেতিহ ১৪৫৩”। আর তার প্রপৌত্র সুলতান সুলায়মানকে তো বাংলার দর্শকেরা একনামে চেনে)। জিজিয়া কর নিয়ে ড্রাকুলার সাথে মেহমেত-এর মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ড্রাকুলা (যিনি অনর্গল তুর্কী ভাষা বলতে পারতেন) তুর্কী সৈন্যের বেশ ধরে মেহমেতের এক দুর্গে আক্রমণ করে বসেন। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। ড্রাকুলার সবচে কাছের বন্ধু বিশ্বাসঘাতকতা করে আর ড্রাকুলা ১৪৭৭ সালে যুদ্ধরত অবস্থায় মারা যান।

ড্রাকুলার মৃত্যুর পর তার অত্যাচারের গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তাকে নিয়ে লেখা বই পরিণত হয় ইউরোপের প্রথম বেস্টসেলারে। গরীবদের ঘৃণা করতেন দেখে, একবার নাকি তিনি রাজ্যের সব ভিক্ষুকদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসে পুড়িয়ে মেরেছিলেন। পাগড়ি না খোলার অপরাধে সুলতান মেহমেতের দূতদের মাথায় পেরেক দিয়ে পাগড়ি গেঁথে দিয়েছিলেন। তবে তার সবচে পছন্দের পদ্ধতি ছিলো শূলে চড়ানো (Impaling)। ড্রাকুলার নিজের জবানীতে জানা যায়, মেহমেতের দুর্গ অধিকার করার পর তিনি ২৩,৮৮৪ জন বেসামরিক নারী ও শিশুকে শূলে চড়ান। তার নাম হয়ে যায় দ্য ইম্পেলার।

 

ড্রাকুলা উপন্যাসটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো। এক রক্তচোষার হাত (নাকি দাঁত বলবো?) থেকে জোনাথান আর মিনা হার্কারের মুক্তিলাভ করার কাহিনী স্টোকারের জীয়নকালে মাঝারি মানের পরিচিতি পেয়েছিলো। দৃশ্যপট পাল্টে যায় ১৯২২ সালের এক নির্বাক জার্মান চলচ্চিত্রের কারণে। ফ্রেডরিখ মারন্যাও নির্মিত “নসফেরাতু” ছিলো স্টোকারের গল্পের এক পরিমার্জিত সংস্করণ। এই ছবির প্রযোজক অ্যালবিন গ্রাও ব্যক্তিগত জীবনে একজন অকালটিস্ট ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সার্বিয়া গিয়ে তিনি ভ্যাম্পায়ার সম্পর্কে জানতে পারেন। যার থেকে জন্ম নেয় নসফেরাতু। এই ছবিতে তিনি বেশ কিছু আলকেমি 0a4c1aac371e0c42f790d30d740e748e5a9a4836প্রতীক লুকিয়ে রেখেছিলেন। নসফেরাতু নির্মাণের টুকটাক বিবরণ পাওয়া যায় শ্যাডো অফ দ্য ভ্যাম্পায়ার চলচ্চিত্রে। যে ছবিতে ম্যারন্যাও-এর চরিত্রে ছিলেন জন ম্যালকোভিচ। আর ড্রাকুলারূপী ম্যাক্স শ্রেকের ভূমিকায় অভিনয় করে উইলিয়াম ডিফো অস্কার মনোনয়ন পান। ডিফো’র কাজ দেখে স্যাম রেইমি তাকে স্পাইডারম্যানে গ্রীন গবলিনের চরিত্রে নেন।

মুক্তির পর নসফেরাতু সাড়া ফেলে দেয়। কিন্তু বিধি বাম! মামলা ঠুকে দেন স্টোকার পত্নী ফ্লোরেন্স। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েন গ্রাও। নসফেরাতু ছিলো তার প্রযোজিত প্রথম ও শেষ চলচ্চিত্র। আদালতের সিদ্ধান্ত ফ্লোরেন্সের পক্ষে যায়। রায় মোতাবেক নসফেরাতুর সকল প্রিন্ট পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে একটা প্রিন্ট বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পৌঁছায়, পায় সকলের অকুণ্ঠ প্রশংসা। সর্বসম্মতভাবে নসফেরাতু নির্বাক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র।

 

ভবিষ্যতে নসফেরাতুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে ভিন্ন পথ বেছে নেন ফ্লোরেন্স স্টোকার। ড্রাকুলা মঞ্চায়নের অনুমতি দেন এক থিয়েটার দলকে। সেই নাটক তুমুল ব্যবসা করলে, ১৯৩১ সালে ইউনিভার্সাল স্টুডিও গল্পটিকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। ড্রাকুলা হিসেবে নেওয়া হয় রোমানিয়ান অভিনেতা বেলা লুগোসিকে। লুগোসি মঞ্চেও একই চরিত্রে অভিনয় করতেন। শাদা-কালো সেই ড্রাকুলা 610677b5decd3f3e8f727be7bd859f66দেখে নাকি দর্শকেরা ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো। এতে ছবিটির ব্যবসা আরো বেড়ে যায় আর বছর শেষে ইউনিভার্সালের ব্যাংকে অ্যাকাউন্টে সবচে বেশি টাকা আনে ড্রাকুলা। তবে কপাল পোড়ে লুগোসির। বেচারা বাকি জীবন ড্রাকুলার ছায়া থেকে বের হতে পারেননি। ১৯৯৪ সালে এডউড ছবিতে বেলা লুগোসির ভূমিকায় অভিনয় করেন মার্টিন ল্যান্ডাও। সে বছর পাল্প ফিকশনের স্যামুয়েল জ্যাকসনকে হারিয়ে অস্কার জিতে নেন মার্টিন।

 

১৯৭৯ সালে জার্মান পরিচালক ওয়ার্নার হেরজগ নির্মাণ করেন Nosferatu the Vampyre। সর্বকালের সেরা তথ্যচিত্র নির্মাতাদের একজন হেরজগ ‘২২ সালের নসফেরাতুর ভক্ত ছিলেন। তাই n o হেরজগের ছবিটিতে স্টোকারের চেয়ে মারন্যাও-এর প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় বেশি। কুরাসাওয়া যেভাবে প্রকৃতিকে তার গল্পে নিগমবদ্ধ করেন, ড্রাকুলার দুর্গকে হেরজগ তেমনি স্বপ্নভাবালুতায় দেখিয়েছেন। সেখানকার কতটুকু সত্যি আর কতটুকু ভ্রান্তি, বোঝা যায় না। বতিচেল্লি যেমন বার্থ অফ ভেনাসকে ছায়াশূন্য করে ফ্যান্টাসীর স্বাদ এনেছেন; হেরজগ মাটি, পাহাড় আর আকাশের রং নিয়ে খেলা করে কল্পনার রেশ রেখেছেন। হেরজগ যেহেতু তথ্যচিত্র নির্মাণ করতেন, ক্যামেরার চলনেও সেই ছাপটা পাওয়া যায়।

এই ছবিতে জোনাথান হার্কারের চরিত্রে ছিলেন জার্মান অভিনেতা ব্রুনো গাঞ্জ। তিনি পরবর্তীতে উইঙ্গস অফ ডিজায়ারে দেবদূত ও ডাউনফলে হিটলারের চরিত্র করেছিলেন। তার বিপরীতে ছিলেন ফরাসী সুন্দরী ইসাবেলা আজানি। যদিও এখানে তার চরিত্রটির নাম মিনা নয়, লুসি। আর কাউন্ট ড্রাকুলার চরিত্রে ছিলেন ক্লাউস কিন্সকি। আর দশটা ড্রাকুলার চেয়ে এ কিছুটা ভিন্ন। ভ্যাম্পায়ার জীবনের অমরত্ব তার কাছে অভিশাপ আর বাঁচার জন্য রক্ত খেতে হয় দেখে সে যেন লজ্জিত। যারা ড্রাকুলা গল্পটির সাথে আদৌ পরিচিত নয়, হেরজগের পুনর্বয়ান তাদের কাছে বেশ দুর্বোধ্য লাগতে পারে। কারণ এখানে বিশদ ব্যাখ্যা নেই। এক ভ্যাম্পায়ারের বেঁচে থাকা আর এক শহরের মৃত্যুর কাব্যিক আখ্যান এই ছবির মূল গল্প।

 

১৯৯২ সালে ড্রাকুলা আবারো রূপালী পর্দায় ফিরে আসে। এবারের পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা। নাম ভূমিকায় ছিলেন গ্যারি ওল্ডম্যান। যদিও চরিত্রটির জন্য কপোলার প্রথম পছন্দ ছিলো অ্যান্টনিও ব্যান্ডারাস। এখানে ভ্যান হেলসিঙের চরিত্র করেন অ্যান্থনি হপকিন্স। মিনা আর জোনাথান ছিলেন যথাক্রমে উইনোনা রাইডার ও কিয়ানু রিভস। এছাড়া “ড্রাকুলা’স ব্রাইড” হিসেবে মনিকা বেলুচিরও দেখা মেলে।

 

ভ্যান হেলসিংকে এখানে একটু পাগলাটে স্বভাবের দেখা যায়। অথচ পুরো উপন্যাসে প্রফেসর আব্রাহাম ভ্যান হেলসিং ত্রাণকর্তার ভূমিকায় ছিলেন। এই চরিত্রটাকে স্টোকার বেশ যত্ন নিয়ে লিখেছিলেন। ভ্যান হেলসিং বিজ্ঞান ও অতিপ্রাকৃতিক দু’বিষয়েই বিশ্বাস ও জ্ঞান রাখে (এখানে বলে রাখা ভালো, ব্রাম স্টোকারের নিজেরও নাম ছিলো আব্রাহাম)। ভ্যান হেলসিঙের এই বিচিত্রতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে Manichitrathazhu চলচ্চিত্রের ড. সানি জোসেফ চরিত্রটি লেখা হয়, যার হিন্দি সংস্করণ Bhool Bhulaiyaa-তে ছিলেন অক্ষয় কুমার।

 

1_-fPG8oQ_G5DSrOj0VfhVzA
কপোলার ছবিটি গোথিক হরর স্বরে ভরপুর। বলা হয়, টিম বার্টন যে গোথিক ঢঙে ব্যাটম্যান বানিয়েছিলেন, তা কপোলার বেশ মনে ধরে (ড্রাকুলাও কিন্তু নিজের আকৃতি পরিবর্তন করে বাদুড়ের রূপ নিতো)। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্টোকারের মূল উপন্যাসটিই ছিলো গোথিক উপকরণে পরিপূর্ণ। এছাড়া সেখানে ভালোবাসা আর আনুগত্যর যে মানসিক দ্বন্দ্ব ছিলো, সেটাও কপোলা ফুটিয়ে তুলেছেন। এই চলচ্চিত্রকে তাই গোথিক হররের চেয়ে এরোটিক গোথিক রোম্যান্স বলাটাই শ্রেয়। ড্রাকুলাকে নিয়ে নির্মিত মার্কিন ছবিগুলোর মাঝে এটিই সবচেয়ে সমাদৃত। সে বছর তিনটি অস্কার ঘরে নিয়ে আসে ড্রাকুলা।

 

মোটা দাগে হিসেব করলেও, ড্রাকুলাকে নিয়ে নির্মিত ছবির সংখ্যা অনায়াসে ত্রিশ ছাড়িয়ে যাবে। এখানে মাত্র চারটি ছবি নিয়ে কথা বলা হলো। যার মাঝে চলচ্চিত্র হিসেবে সবচে এগিয়ে থাকবে ফ্রেডরিখ মারন্যাওয়ের নসফেরাতু। ফিল্ম স্কুলগুলোর পাশাপাশি অকালটিস্টরাও পরিচালক মারন্যাওকে ভুলতে পারেনি। জার্মানিতে তার সমাধিতে বার কয়েক হানা দিয়েছে তারা। সর্বশেষ ২০১৫ সালে মারন্যাওয়ের মাথার খুলি চুরি যায়। অকুস্থলে মোমের উপস্থিতি থেকে ধারণা করা হয়, কবর খোঁড়ার পূর্বে সম্ভবত কোন আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়েছিলো।

 

ড্রাকুলা উপন্যাসে কোন নির্দিষ্ট কথক নেই। পুরো গল্পটি বলা হয়েছে দিনলিপি, চিঠি, রেকর্ডিং কিংবা পত্রিকার রিপোর্টের মাধ্যমে। শোনা যায়, এই বর্ণনাভঙ্গি (এপিসটোলারি ফরম্যাট) সত্যজিতকে খুব আকৃষ্ট করায় তিনি প্রফেসর শঙ্কুও একইভাবে লিখেছিলেন। ড্রাকুলা স্টোকারকে নাম বা যশ কিছুই দেয়নি। কিন্তু তার সৃষ্টি ড্রাকুলা দর্শকদের দৌলতে অমরত্ব পেয়েছে।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *