92061798_2530134983906437_5932381319416774656_n
গানটি প্রথমে পরিচিতি পায় লা কাসা দে পাপেল-এর সৌজন্যে। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় এই টিভি সিরিজটির ইংরেজী নাম মানি হাইস্ট। বস্তুতপক্ষে এই গানটি সিরিজের অলিখিত থিম সং বনে যায়। কিন্তু গানটি ছিলো আদতে ইতালির। আর গানটির সুর ভারত ও বাংলাদেশের গানেও পাওয়া যায়। কথা হচ্ছে Bella Ciao গানটি নিয়ে।

Bella Ciao (Goodbye beautiful) গানটি জন্ম নিয়েছিলো ইতালীর কৃষকদের মুখে। ধান চাষে নিয়োজিত এই ক্ষেত মজুররা ছিলো মূলত নারী এবং সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ। ধান ক্ষেতের কাজের অবস্থা ও মজুরি দুটোই ছিলো মানবেতর। ফলস্বরূপ তারা এই গানটি গাইতে শুরু করে। গানের ভাষায় তারা জানান দেয়, সকাল থেকে মশা-মাকড় আর মালিকের চাবুক সয়ে তারা ধান ক্ষেতে কাজ করে। বারংবার ঈশ্বরকে ডেকেও কোন কিনারা পাচ্ছে না। তাদের যৌবনের সুন্দর দিনগুলো অত্যাচার আর পরাধীনতায় পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এমন একদিন আসবে, যখন তারা মুক্তভাবে কাজ করতে পারবে।

১৯৪৩ সালে Bella Ciao গানটি আবার নতুন রূপে ফিরে আসে। তৎকালীন ফ্যাশিস্ট ও নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগীত হিসেবে। ততদিনে গানের কথা পাল্টে গিয়েছে। এবারের গানে বলা হয়, ঘুম থেকে উঠে তারা মৃত্যু আর অনুপ্রবেশকারীদের পায়ের আওয়াজ পেয়েছে। বিপ্লবের পথে তার মৃত্যু হলে, তাকে যেন ফুলের নীচে কবর দেওয়া হয়। যার সৌন্দর্য দেখে সবাই বলে উঠবে, “এই পুষ্প স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছে”।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ফুটবল মাঠেও গানটি শোনা যেতে থাকে। তবে এরপরের দৃশ্য ২০১২ সালের তেলেগু চলচ্চিত্র Businessman। মহেশ বাবু অভিনীত এই ছবির ছয়টি গানে সুর দিয়েছিলেন S. Thaman। তার মাঝে একটি হলো Pilla Chao। আশা করি বুদ্ধিমান পাঠককে বলে দিতে হবে না, Pilla Chao গানের মূল অনুপ্রেরণা কোথা থেকে নেওয়া। ক্ষোভ আর বিপ্লবের Bella Ciao হয়ে পড়ে নায়িকার তরে মান ভাঙানির বাণী। এছাড়া এই ছবির একটি চরিত্রকে ফিস্টফুল অফ ডলারস’র থিম মিউজিক বাজাতে দেখা যায়।

২০১৩ সালে মুক্তি পায় সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত “প্রেম প্রেম পাগলামি”। বাপ্পী ও আঁচল অভিনীত এই সিনেমার গীতিকার ছিলেন কবির বকুল আর সুরকার আলী আকরাম শুভ। এই দুজনের ছোঁয়ায় জুলায়ী চলচ্চিত্রের তেলেগু “ও মাধু” গানটি বাংলায় হয়ে যায় “ও যাদু”। আর Bella Ciao পরিণত হয় “২৪টা ঘণ্টা” নামের এক রোম্যান্টিক গানে।

গুগল করলে এই গানের আরো অনেকগুলো সংস্করণ পাওয়া যাবে। যদিও মূল গানের গীতিকার আর সুরকারের নাম অজানা, কিন্তু তাদের সুর আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। হোক তা মিছিলের ভাষায় কিংবা ভালোবাসার কথায়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া ও ফিল্ম কম্প্যানিয়ন

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *